যুক্তরাষ্ট্রে আজ বুধবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 08:38am

|   লন্ডন - 02:38am

|   নিউইয়র্ক - 09:38pm

  সর্বশেষ :

  চট্টগ্রামে আমীর খসরুর গণসংযোগকালে হামলা   নির্বাচন কমিশন থেকে ফেরার পথে বিএনপি নেতা আটক   ব্রাজিলে গির্জায় গোলাগুলি, নিহত ৫   ২৪ ডিসেম্বর মাঠে নামছে সেনবাহিনী   আটকে গেল ২ বিএনপি নেতার নির্বাচন   নেতৃত্ব হারাতে পারেন থেরেসা মে   টুঙ্গিপাড়া থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু শেখ হাসিনার   অনুমোদন পেল বেঙ্গল গ্রুপের নতুন ব্যাংক   দাবানলে সর্বহারা মার্কিন মাহিলার পাশে বাফলা   নিসচা নিউজার্সি শাখার উদ্যোগে ইলিয়াস কাঞ্চনকে নাগরিক সংবর্ধনা   ইতালি বিএনপি’র তীব্র নিন্দা   আজ মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী   জেলে যেতে পারেন ট্রাম্প   দলকে নয় গণতন্ত্রকে সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র: রাষ্ট্রদূত   কিসমিসের উপকারিতা

মূল পাতা   >>   স্বদেশ

কোটা সংস্কার আন্দোলন: তিনজনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, অবশেষে মুক্তি

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৪-১৬ ১৩:২৮:০১

নিউজ ডেস্ক: আমরা রিকশায় ছিলাম। আকস্মিক ৭/৮টি বাইক এবং দুটি মাইক্রোবাস এসে আমাদের টেনে তুলে গাড়িতে উঠায়। এরপর গামছা দিয়ে আমাদের তিনজনের চোখ বেঁধে ফেলা হয়। বলা হয়, চুপ থাক, কথা বলবি না।

১৬ এপ্রিল সোমাবার দুপুুুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে থেকে গোয়েন্দা পুুুলিশ (ডিবি) এভাবে তুলে নেয় বলে অভিযোগ করেন কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনে নেতৃেত্ব দেয়া তিনজন। তুলে নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হলে বিকাল তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তারা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হোসেন ও নুরুল হক নুর। এ ছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা।

এ সময় তারা সরকারের কাছে তাদের এবং পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা চেয়েছেন।

নুরুল হক নুর বলেন, ‘ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করতে এসে আজ একদিকে আমরা হত্যার হুমকি পাচ্ছি, অন্যদিকে পুলিশও আমাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজে আহত আন্দোলনকারীদের দেখতে গেলে অনেক মানুষের সামনে থেকে তুলে নেওয়ায় হয়তো আমরা বেঁচে ফিরতে পেরেছি। তবে, এরপর অন্য কোনো জায়গা থেকে তুলে নিয়ে গেলে আমাদের কে বাঁচাবে?’

ঘটনার বর্ননা দিয়ে নুরুল হক বলেন, ‘গুলিস্তানে নিয়ে আমার চোখ বেঁধে ফেলা হয়। আমরা সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা করেছি। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তও মেনে নিয়েছি। তারপরও নাটকীয়ভাবে আমাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চোখ খোলার পর দেখি আমরা ডিবি কার্যালয়ে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের এই যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ‘আমাদেরকে বলা হয়েছে- তোমাদের ওপর হামলা হতে পারে তাই তোমাদের এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। তোমাদের একটা ভিডিও দেখাব। তবে ভিডিও দেখানো হয়নি।’

নুরুল হক আরও বলেন, ‘আমি পানি চাইলে এক গ্লাস পানিও দেয়া হয়নি। পরে আমাদেরকে বলে তোমরা চলে যাও। পরে দরকার হলে তোমাদের আবার আসতে হবে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের এই সংগঠক বলেন, ‘অধিকার আদায়ের পক্ষে কথা বলার জন্য শিক্ষার্থীদের গর্জে ওঠার আহ্বান জানাই। কারণ আমাদের কাউকে এখন মেরে ফেলাও অসম্ভব কিছু না। তাই বলছি, ন্যায়ের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের মৃত্যু হলেও তোমরা ন্যায়ের পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’

নুরুল হক বলেন, ‘সরকারের কাছে অনুরোধ কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের এবং তাদের পরিবার-পরিজনদের নিরাপত্তা দেয়া হোক। আমরা ১০০ ভাগ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছি।’

যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সবার হাতে রিভলবার ছিল। তাদের সঙ্গে ছিল ৭/৮টি বাইক এবং দুটি কালো গ্লাসের হায়েস গাড়ি। আমাদের কাছে তথ্য চাইলে আমরা তাদের সঙ্গে গিয়ে তথ্য দিয়ে আসতাম। কিন্তু এভাবে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো কেন?’

রাশেদ খান বলেন, ‘আমার আব্বাকে (নবাই বিশ্বাস) তুলে নেয়া হয়েছে এবং বিশ্রী ভাষায় গালাগাল দিচ্ছে পুলিশ। তাকে জোর করে এটা বলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে, তার ছেলে (আমি) জামায়াত-শিবিরের লোক। আজ আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই বলেই কি আমাকে জামায়াত-শিবিরের ট্যাগ দেয়া হচ্ছে?’

রাশেদ খান আরও বলেন, ‘আমাকে এবং আমার আত্মীয়-স্বজনকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমি আশঙ্কা করছি তাদের ওপর আক্রমণ হতে পারে। সরকারের কাছে আমার আব্বার গ্রেফতারের বিচার চাই। বর্তমানে তিনি ঝিনাইদহ সদর থানায় আছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছি বলেই কি আমাদেরকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে?

সংবাদ সম্মেলন শেষে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবন্দকে আটকের প্রতিবাদে ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে এক প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৮২২ বার

আপনার মন্তব্য