যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 04:21pm

|   লন্ডন - 11:21am

|   নিউইয়র্ক - 06:21am

  সর্বশেষ :

  চাকরি করেন স্ত্রী, ৩ বছর ধরে অফিস করেন স্বামী   দারিদ্র্য বিমোচনের গবেষণায় অর্থনীতির নোবেল   রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ৫ গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ   জেরুসালেমের গভর্নরকে ধরে নিয়ে গেছে ইসরাইলি পুলিশ   সীমান্তে স্থলমাইন স্থাপনের তথ্য অস্বীকার করেছে মিয়ানমার   দেশ থেকে ৯ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে : মেনন   ভারতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ১২ জন নিহত   প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করল আবরারের পরিবার   ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে পরোয়ানা হাইকোর্টে স্থগিত   রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড পেল ন্যাশনাল ও নেক মানি এক্সচেঞ্জ   র‍্যাব পরিচয় দেয়ার পরও নির্যাতন চালায় ভারতীয় বিএসএফ!   আল-আকসায় ইহুদিদের প্রার্থনার অনুমতি দিতে যাচ্ছে ইসরাইল   ভাইরাল আবরারের সেই ফেসবুক স্ট্যাটাস   কারাগারে অনিককে পেঠালো কয়েদিরা   সৌদি-ইরান মধ্যস্থতায় ছুটছেন ইমরান খান

মূল পাতা   >>   টুকিটাকি

ভারতের নির্বাচনে গরু নিয়ে গোঁয়ার্তুমি

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৪-০৮ ১৪:৫২:২১

নিউজ ডেস্ক: ভারতে ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর এখন আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে ঘিরেও জাতীয়তাবাদের প্রতীক বলতে সবার মুখে একটাই নাম ‘গো-মাতা’। কীভাবে ছড়াচ্ছে এই চিন্তা?

আগে ছিল রাম
নব্বইয়ের দশকে হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রতীক বা আদর্শিক মূলে ছিল অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের প্রকল্প, যাকে ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে শক্তিশালী হতে থাকে ভারতীয় জনতা পার্টি, বিজেপি। এখন রাম মন্দির নির্মাণের আন্দোলন মূলস্রোতের রাজনীতিতে হারিয়ে গেলেও তার জায়গা নিয়েছে ‘গো-রক্ষা’ ও ‘গো-মাতা’র মতো নতুন ইস্যু।

গরুর গুরুত্ব
সনাতনধর্ম প্রচলনের বহু আগে থেকেই দক্ষিণ এশিয়ায় গবাদি পশু ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ধার্মিক আচারের মধ্যে এই প্রাণীর পবিত্রতার কথা উল্লেখ থাকায় ভারতে তার গুরুত্ব বেড়েছে কয়েকগুণ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন উৎসবে গরুকে আরাধ্য হিসাবে দেখা হয়। গরুর বহু গুণের জন্য তাকে অনেকে পুজো করেন ‘মাতা’ হিসাবে।

গরু বাঁচাতে যা হলো...
২০১৪ সালে যখন বিজেপি ক্ষমতায় আসে, তখন তাদের নির্বাচনি ইশতাহারের অনেকটা জুড়ে ছিল ‘গো-রক্ষা’র প্রচার। বলা হয়েছিল যে, ক্ষমতায় আসলে প্রতিটি রাজ্যে গো-রক্ষা কমিটি গঠন করা হবে। গো-মাংস ভক্ষণ করে যারা, তাদের হাত থেকে ‘গো-মাতা’কে বাঁচাতে বেশ কয়েকটি রাজ্যে তা গঠিতও হয়েছে।

গরুর জন্য খুন!
২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে গো-রক্ষার নামে ভারতে এখন পর্যন্ত ২৮০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। বেশ কয়েকজন প্রাণও হারিয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে, গরুকে বাঁচানোর নামে কি তবে ভারতে চলছে মানুষ মারার উৎসব? শুধু তাই নয়, যারা হিন্দু নন তাদের বিরুদ্ধে হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা গো-মাংস ভক্ষণের অভিযোগ তুলছে, যা হিন্দুত্ববাদীদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করে বলে জানিয়েছেন উত্তর প্রদেশের ‘গো-রক্ষা বাহিনী’র সদস্য কমল।

নিষিদ্ধ গো-মাংস
২০১৪ সালে সরকার গঠনের পর ভারতীয় জনতা পার্টি ভারতের একাধিক রাজ্যে গো-মাংস নিষিদ্ধ করে। একই সাথে রাজ্যগুলিতে বাড়তে থাকে বিভিন্ন গো-রক্ষা বাহিনীর তৎপরতা, যারা প্রায়ই গো-রক্ষার নামে সংখ্যালঘু মানুষদের নানাভাবে হেনস্থা করে। উল্লেখ্য, গো-মাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ হলেও বর্তমানে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গো-মাংস রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় দ্বিতীয়।

আইন বড়, না গরু?
নরেন্দ্র মোদী একটি কমিটি গঠন করেন, যার উদ্দেশ্য ভারতের আদি নিবাসী যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা, তা প্রমাণ করা। এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রকের আধিকারিক অভিনব প্রসূন বলেন, ‘‘এটি রাজনৈতিক বিষয়।’’ এভাবেই হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীদের তালে তাল মিলিয়ে বদলাচ্ছে আইন, সরকারি কর্মসূচি। গো-রক্ষা থেকে হিন্দুত্ববাদী কমিটি- সবখানেই স্পষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা। গরু হয়ে উঠছে জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের প্রতীক।

ভোটের বাজারে গরু
ভারতে গো-রক্ষার নামে যে সহিংসতা চালু হয়েছে গত কয়েক বছরে, তা সবারই জানা। আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থীত্ব লাভ করেছেন এমন দু’জন ব্যক্তি যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে গো-রক্ষার নামে মানুষ খুনের অভিযোগ! গরুকে জাতীয়তাবাদের প্রতীক বানিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভয়ের পরিবেশ। কিন্তু এবারও কি নির্বাচনে গো-রক্ষার জয়যাত্রা অব্যাহত থাকবে?

এলএবাংলাটাইমস/টি/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৪৬০ বার

আপনার মন্তব্য