ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন কর্মসংস্থান শর্ত চালু, খাদ্য সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে লাখো মানুষ
ট্রাম্পের ১৮০ কোটি ডলারের তহবিল বাতিলের দাবি পেন্সের
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রস্তাবিত ১৮০ কোটি ডলারের ‘অ্যান্টি-ওয়েপোনাইজেশন ফান্ড’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। তিনি এ উদ্যোগকে “শুরু থেকেই ভুল সিদ্ধান্ত” আখ্যা দিয়ে তা বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন একটি বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা দেয়, যার মাধ্যমে আগের প্রশাসনগুলোর সময় অন্যায় আচরণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা ব্যক্তিরা ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবেন। প্রশাসনের ভাষায়, এটি “আইনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের শিকারদের” জন্য তৈরি করা হচ্ছে।
তবে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাইক পেন্স বলেন, এই তহবিল “অত্যন্ত আপত্তিকর”। বিশেষ করে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা যদি এ তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ পান, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থকরা ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফলকে “চুরি করা হয়েছে” দাবি করে ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালায়। সে সময় পেন্স ক্যাপিটলের ভেতরে ছিলেন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় অনুমোদনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলার ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৭৫ জনের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বা বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার কিংবা পুলিশ কর্মকর্তাদের গুরুতর আহত করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। হামলায় প্রায় ১৪০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পেন্স বলেন, “যারা পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বা ক্যাপিটল ভবনে ভাঙচুর করেছে, তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মতো কোনো তহবিল থাকতে পারে—এ ধারণাই আমার কাছে গভীরভাবে আপত্তিকর। আমি মনে করি অধিকাংশ রিপাবলিকান ও অধিকাংশ আমেরিকানও একই মত পোষণ করেন।”
এই তহবিলের পেছনের অর্থ আসছে ট্রাম্প ও মার্কিন কর বিভাগ (আইআরএস)-এর মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা চুক্তি থেকে। নিজের কর-সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্প যে মামলা করেছিলেন, সেটি প্রত্যাহারের বিনিময়ে আইআরএস ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং এই তহবিল গঠনের ব্যবস্থা করা হয়।
তবে তহবিলটি নিয়ে শুধু ডেমোক্র্যাট নয়, রিপাবলিকান দলের মধ্যেও ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সিনেটে রিপাবলিকান নেতা জন থুন বলেছেন, তিনি এ ধারণার “বড় ভক্ত নন”। সাবেক সিনেট নেতা মিচ ম্যাককনেল এটিকে “সম্পূর্ণ বোকামি” বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে নর্থ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস একে “চরম হাস্যকর” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এদিকে পেনসিলভানিয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক জানিয়েছেন, তিনি এমন একটি আইন প্রস্তাব আনতে চান, যা কার্যত এই তহবিলের কার্যক্রম বন্ধ করে দেবে।
তবে কিছু রিপাবলিকান নেতা আবার এ উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আলাবামার সিনেটর টমি টিউবারভিল দাবি করেছেন, ৬ জানুয়ারির তদন্ত ও মামলাগুলোর কারণে “শত শত নির্দোষ দেশপ্রেমিক আমেরিকান” গত পাঁচ বছর ধরে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
এদিকে শুক্রবার এক ফেডারেল বিচারক ১২ জুনের শুনানি পর্যন্ত সাময়িকভাবে তহবিল গঠনের কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তারা তহবিলটির বৈধতা নিয়ে “অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী” এবং এটি প্রতিষ্ঠার পক্ষে পর্যাপ্ত আইনি নজির রয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন