মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি: বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি
ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে উত্তর আয়ারল্যান্ডের রপ্তানি ১৫% কমতে পারে: গবেষণা
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক (ট্যারিফ) নীতির কারণে উত্তর আয়ারল্যান্ডের যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতি বিভাগের (ডিপার্টমেন্ট ফর দ্য ইকোনমি) কমিশনে পরিচালিত এই গবেষণা করেছে আয়ারল্যান্ডভিত্তিক ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ESRI)।
গবেষণায় বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ওষুধ শিল্প। শুল্ক না থাকলে যে পরিমাণ ওষুধ রপ্তানির সম্ভাবনা ছিল, তার তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ কম রপ্তানি হতে পারে। এছাড়া বিমানযন্ত্রাংশসহ পরিবহন সরঞ্জাম উৎপাদন খাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এই খাতের রপ্তানি সম্ভাব্য ১৪ শতাংশ কমে যেতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া বেশিরভাগ পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ ভিত্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে আপাতত যুক্তরাজ্যে উৎপাদিত ওষুধের ওপর শূন্য শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৯ সালের পর এই ছাড় প্রত্যাহার করা হলে উত্তর আয়ারল্যান্ডের উৎপাদন শিল্পের ওপর দীর্ঘমেয়াদে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি নেই, সেসব দেশ থেকে আমদানি করা জেনেরিক ওষুধের ওপর ২০২৮ সাল থেকে ১০০ শতাংশ এবং ২০২৯ সালে তা বাড়িয়ে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। জেনেরিক ওষুধ হলো পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়া বা ব্র্যান্ডবিহীন ওষুধ, যার বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্র আমদানি করে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সব ধরনের পণ্য মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উত্তর আয়ারল্যান্ডের রপ্তানি দীর্ঘমেয়াদে ১৫ শতাংশ কমে যেতে পারে। এর ফলে দেশটির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.৪ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী কাওইমে আর্চিবাল্ড বলেন, নতুন এই গবেষণা স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন বাধা সৃষ্টি হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তিনি বলেন, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকার কারণে উত্তর আয়ারল্যান্ড বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তনের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার সঙ্গেও বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদ্যপ পানীয়ের ক্ষেত্রে ‘অসাম্যপূর্ণ আচরণের’ অভিযোগ তুলে কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। নতুন এই শুল্ক ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
তবে জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং মাছের মতো কয়েকটি প্রধান রপ্তানি পণ্য এই শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা আরও জোরদার করতে তার সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন