যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা উদযাপনের কেন্দ্রে নিজেকে তুলে ধরছেন ট্রাম্প
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনকে ঘিরে নানা আয়োজনের মধ্যে নিজেকে কেন্দ্রীয় আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সম্প্রতি কয়েকজন সংগীতশিল্পী স্বাধীনতা উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্ট থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেন বা জানান যে তারা কখনও অংশগ্রহণে সম্মতি দেননি। এর জবাবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, তিনি এমন শিল্পীদের চান না যারা সবসময় অসন্তুষ্ট। বরং তিনি সফল, বুদ্ধিমান ও বিজয়ী মানুষদের সঙ্গেই থাকতে চান।
এ মাসে ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে অনুষ্ঠিতব্য ১৬ দিনের “গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার”-এ নিজেকে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রাখার বিষয়েও তিনি তার প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও এখনও নিশ্চিত নয় যে বাদ পড়া শিল্পীদের পরিবর্তে ট্রাম্পের সমর্থনে বড় ধরনের সমাবেশ আয়োজন করা হবে কি না।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প বিভিন্ন ঐতিহাসিক জাতীয় আয়োজনের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে আসছেন। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ, ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমস এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন।
এই উদযাপন তদারকির জন্য এক দশক আগে কংগ্রেস “আমেরিকা ২৫০” কমিশন গঠন করেছিল। তবে ট্রাম্প-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো আলাদাভাবে ব্যক্তিগত অর্থায়নে “ফ্রিডম ২৫০” নামে একটি কমিটি গড়ে নিজেদের অনুষ্ঠান আয়োজন করছে।
বর্তমান পরিকল্পনায় রয়েছে ন্যাশনাল মলে স্টেট ফেয়ার, হোয়াইট হাউসে একটি ইউএফসি লড়াই, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে শারীরিক সক্ষমতা প্রতিযোগিতা, আগস্টে ওয়াশিংটনের রাজপথে গ্র্যান্ড প্রিক্স রেস এবং ৪ জুলাই বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতশবাজি প্রদর্শনের আয়োজন।
ট্রাম্প নিয়মিত এসব আয়োজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছেন। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবিতে তাকে রেস শুরুর সংকেত দিতে ও হোয়াইট হাউসের সামনে লড়াইয়ের রিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে “আমেরিকা ২৫০” কমিশনের আয়োজন তুলনামূলকভাবে ছোট পরিসরের। তারা মূলত শিল্প প্রদর্শনী ও দেশজুড়ে সমন্বিত কমিউনিটি অনুষ্ঠান আয়োজন করছে।
উদযাপনকে সামনে রেখে ওয়াশিংটন শহরের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পেও জোর দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পার্ক ও ফোয়ারা সংস্কার করা হয়েছে, রাস্তাঘাট পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর উন্নয়ন চলছে। এমনকি কিছু ভাস্কর্যে স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
নির্মাণ ও সংস্কার কাজ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প অনেক সময় একজন নগর প্রশাসকের মতোই শোনান। গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি প্রায় ২০ মিনিট ধরে এসব উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে কথা বলেন এবং মন্তব্য করেন, “ওয়াশিংটন এখন অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে।”
এদিকে স্বাধীনতা উদযাপন ঘিরে ট্রাম্পকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার নানা উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে। মার্চে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ট্রাম্পের ছবি সংবলিত একটি স্মারক স্বর্ণমুদ্রা অনুমোদন করে। এছাড়া ট্রেজারি বিভাগ ট্রাম্পের প্রতিকৃতি সম্বলিত বিশেষ ২৫০ ডলারের নোট তৈরির বিষয়েও কাজ করছে বলে জানা গেছে। তবে জীবিত কোনো প্রেসিডেন্টের ছবি মুদ্রায় বা নোটে ব্যবহারের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট দলের নেতা হাকিম জেফ্রিজ বলেন, “৪ জুলাইয়ের এই উদযাপন কোনো রাজা হওয়ার স্বপ্ন দেখা ব্যক্তিকে ঘিরে নয়; এটি আমেরিকার দীর্ঘ যাত্রাকে উদযাপনের জন্য।”
তবে ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসব সমালোচনাকে দেশপ্রেমবিরোধী বলে উল্লেখ করছেন। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, আর সে অনুযায়ীই আয়োজন করা হচ্ছে।
ফলে যে উদযাপন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হওয়ার কথা ছিল, তা এখন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান রাজনৈতিক বিভাজনের আরেকটি বিতর্কিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন