আপডেট :

        ওয়াক অব ফেমে স্থান পেলেন বেকহ্যাম

        মেয়র নির্বাচনে হেরে ক্ষোভ ঝাড়লেন স্পেন্সার প্র্যাট, বললেন: ‘এখন যুদ্ধ শুরু’

        টেক্সাসে বন্দুক হামলায় নিহত ১, আহত অন্তত ১০

        স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে অভিষেক, বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক

        ওয়ার্নার ব্রাদার্স কিনতে প্যারামাউন্টের ১১১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে মার্কিন অনুমোদন

        যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ভেনেজুয়েলার কুখ্যাত গ্যাং নেতা নিহত: ট্রাম্পের দাবি

        ক্যালিফোর্নিয়ায় সম্ভাব্য সিরিয়াল কিলার, চার হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত

        ধর্মীয় নেতার ছদ্মবেশে ধর্ষণ-নির্যাতন, ২২৫ বছরের কারাদণ্ড

        ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হলে ‘কমন সেন্স’ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি স্টিভ হিলটনের

        নাইট্রোজেন গ্যাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে আলাবামার আবেদন খারিজ

        যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে হামলা-সংশ্লিষ্ট অভিযানে টরন্টো পুলিশের কর্মকর্তা নিহত

        কংগ্রেসের আপত্তির মুখে নতুন গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে জে ক্লেটনকে মনোনয়ন দিলেন ট্রাম্প

        দাবানলে বাড়ি হারিয়ে সিটির বিরুদ্ধে মামলায় মেয়র ব্যাসের ভাই

        ফেটিশ সাক্ষাতে মৃত্যুর ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়ার ওনলি ফ্যানস নির্মাতার ৪ বছরের কারাদণ্ড

        বাবাকে নির্যাতন করে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ ব্যক্তির যাবজ্জীবন

        ক্যালিফোর্নিয়ায় সাগরের স্রোতে ভেসে নিখোঁজ কিশোরী, উদ্ধার মা ও ভাইবোন

        এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না, কংগ্রেসে দাবি বিল গেটসের

        মধ্যপ্রাচ্যে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ ফুটেরও বেশি উঁচু ঢেউ, সার্ফারদের ভিড় নিউপোর্ট বিচে

        ৪ বছর বয়সী শিশুহত্যা মামলায় পুরস্কার বেড়ে ৮৫ হাজার ডলার

প্রায় এক বছর পর নিউ মেক্সিকোর বনে ল্যাবকর্মীর মরদেহ উদ্ধার

প্রায় এক বছর পর নিউ মেক্সিকোর বনে ল্যাবকর্মীর মরদেহ উদ্ধার

ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস

নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে প্রায় এক বছর আগে নিখোঁজ হওয়া এক ল্যাবকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত মাসে একটি বনাঞ্চল থেকে উদ্ধার হওয়া মানবদেহের অবশিষ্টাংশ নিখোঁজ কর্মী মেলিসা কাসিয়াসের বলে শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

৫৩ বছর বয়সী মেলিসা কাসিয়াস নিউ মেক্সিকোর লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে প্রশাসনিক সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের জুন মাসে তিনি নিখোঁজ হন। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়া নিয়ে ছড়িয়ে পড়া নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বেরও অংশ হয়ে ওঠে।

গত ২৮ মে কারসন ন্যাশনাল ফরেস্টে হাঁটতে গিয়ে এক ব্যক্তি মানবদেহের অবশিষ্টাংশ দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি হ্যান্ডগানও উদ্ধার করা হয়।

নিউ মেক্সিকোর মেডিক্যাল ইনভেস্টিগেটর দপ্তর পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে যে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি মেলিসা কাসিয়াসের। তবে মৃত্যুর কারণ ও ধরন এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মেলিসার পরিবার এক ফেসবুক বার্তায় জানিয়েছে, “এ ঘটনা মেনে নেওয়া আমাদের জন্য খুবই কঠিন। আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত। আমরা সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচারের জন্য উত্তর খুঁজে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

পরিবারের দাবি, যে এলাকায় মরদেহ পাওয়া গেছে, সেখানে আগে একাধিকবার তল্লাশি চালানো হয়েছিল।

নিখোঁজ হওয়ার আগে কাসিয়াস লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে কাজ করতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র এই গবেষণাগারেই তৈরি হয়েছিল এবং বর্তমানে সেখানে প্রতিরক্ষামূলক পারমাণবিক গবেষণা পরিচালিত হয়।

পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ২৬ জুন মেয়ের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি আর কর্মস্থলে যাননি এবং বাসায়ও ফেরেননি। পরে পরিবারের সদস্যরা তার পার্স, পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোনসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বাড়িতেই পড়ে থাকতে দেখেন। এরপরই তাকে নিখোঁজ ঘোষণা করা হয়।

চলতি বছরের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্বে কাসিয়াসসহ অন্তত ১০ জন বিজ্ঞানী ও গবেষণা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে একসঙ্গে যুক্ত করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, তাদের গবেষণা কাজের সঙ্গে এসব ঘটনার সম্পর্ক থাকতে পারে।

তবে ওই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের পেশা ছিল ভিন্ন ভিন্ন। তাদের মধ্যে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিমান বাহিনীর এক জেনারেল, একজন প্রকৌশলী, একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মী। এছাড়া ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) এক পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপকও ছিলেন, যিনি পরে সাবেক এক সহপাঠীর হাতে খুন হন।

এই গুজব এতটাই ছড়িয়ে পড়ে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের তদারকি কমিটি এবং এফবিআইও ঘটনাগুলো পর্যালোচনার ঘোষণা দেয়। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিষয়টিকে “গুরুতর ঘটনা” বলে মন্তব্য করেছিলেন।

তবে নিহত ও নিখোঁজদের স্বজনরা বারবার এসব গুজব খণ্ডনের চেষ্টা করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ঘটনার পেছনে স্বাভাবিক কারণ ছিল। একজন গবেষক হৃদরোগে মারা যান, আরেকজন পারিবারিক শোকের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হয়।

এদিকে কার্ল গ্রিলমায়ার নামের আরেক গবেষকের মৃত্যুর ঘটনায় তার এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে হত্যা ও চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

কার্লের স্ত্রী লুইস গ্রিলমায়ার আগে বিবিসিকে বলেছিলেন, “এসব ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সত্য ঘটনা সবার সামনেই আছে।”

অন্যদের স্বজনরাও এসব গুজবকে “জঘন্য” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, এমন গুজব শুধু বিভ্রান্তিই ছড়ায় না, শোকাহত পরিবারগুলোর কষ্টও আরও বাড়িয়ে দেয়।

  এলএবাংলাটাইমস/ওএম  

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত