আপডেট :

        সান্তা মনিকার অ্যাপার্টমেন্টে নারীর মরদেহ উদ্ধার, একজন আটক

        মিশিগানে বাড়িতে আগুনের পর ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার, কয়েকজনের শরীরে গুলির চিহ্ন

        সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুথিদের, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

        হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা নৈশভোজে গণমাধ্যমকে কটাক্ষ ট্রাম্পের

        লস এঞ্জেলেস মেট্রোকে ভাড়ামুক্ত করার পরিকল্পনা মেয়র কারেন ব্যাসের

        সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর যুক্তরাষ্ট্র, নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা

        দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় তাপপ্রবাহ, কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ১১৪ ডিগ্রি

        নতুন পানির পাইপে লিক, আবারও জলাবদ্ধতা পশ্চিম হলিউডে

        হুথিদের হামলায় সৌদি ট্যাংকারে আগুন, ইরানে নতুন মার্কিন হামলা

        ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই সৌদির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি: ট্রাম্প

        ট্রাম্পকে অপছন্দ করলেও আমাকে ভোট দিন: হিলটন

        মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি: বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি

        সংকটাপন্ন অবস্থায় বিগ বিয়ারের ঈগল ‘জ্যাকি’, বাসায় সঙ্গীকে খুঁজে ডাকছে ‘শ্যাডো’

        শিশুদের বিরল ক্যানসারের রহস্য: তদন্তের দাবিতে অরেঞ্জ কাউন্টিতে বিক্ষোভ

        ৭৪ বছর পর সমুদ্রের তলদেশে মিলল বিধ্বস্ত প্যান অ্যাম বিমানের ধ্বংসাবশেষ

        ইরান যুদ্ধে ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার, নতুন অর্থ চাইল পেন্টাগন

        ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে উত্তর আয়ারল্যান্ডের রপ্তানি ১৫% কমতে পারে: গবেষণা

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজিটাল ড্রাইভিং লাইসেন্স কর্মসূচি বড় পরিসরে সম্প্রসারণ

        মাদক সম্রাট ‘এল মায়ো’ জাবাম্বাদার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানাও

        মার্কিন হামলা অব্যাহত, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

প্রায় এক বছর পর নিউ মেক্সিকোর বনে ল্যাবকর্মীর মরদেহ উদ্ধার

প্রায় এক বছর পর নিউ মেক্সিকোর বনে ল্যাবকর্মীর মরদেহ উদ্ধার

ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস

নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে প্রায় এক বছর আগে নিখোঁজ হওয়া এক ল্যাবকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত মাসে একটি বনাঞ্চল থেকে উদ্ধার হওয়া মানবদেহের অবশিষ্টাংশ নিখোঁজ কর্মী মেলিসা কাসিয়াসের বলে শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

৫৩ বছর বয়সী মেলিসা কাসিয়াস নিউ মেক্সিকোর লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে প্রশাসনিক সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের জুন মাসে তিনি নিখোঁজ হন। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়া নিয়ে ছড়িয়ে পড়া নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বেরও অংশ হয়ে ওঠে।

গত ২৮ মে কারসন ন্যাশনাল ফরেস্টে হাঁটতে গিয়ে এক ব্যক্তি মানবদেহের অবশিষ্টাংশ দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি হ্যান্ডগানও উদ্ধার করা হয়।

নিউ মেক্সিকোর মেডিক্যাল ইনভেস্টিগেটর দপ্তর পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে যে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি মেলিসা কাসিয়াসের। তবে মৃত্যুর কারণ ও ধরন এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মেলিসার পরিবার এক ফেসবুক বার্তায় জানিয়েছে, “এ ঘটনা মেনে নেওয়া আমাদের জন্য খুবই কঠিন। আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত। আমরা সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচারের জন্য উত্তর খুঁজে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

পরিবারের দাবি, যে এলাকায় মরদেহ পাওয়া গেছে, সেখানে আগে একাধিকবার তল্লাশি চালানো হয়েছিল।

নিখোঁজ হওয়ার আগে কাসিয়াস লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে কাজ করতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র এই গবেষণাগারেই তৈরি হয়েছিল এবং বর্তমানে সেখানে প্রতিরক্ষামূলক পারমাণবিক গবেষণা পরিচালিত হয়।

পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ২৬ জুন মেয়ের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি আর কর্মস্থলে যাননি এবং বাসায়ও ফেরেননি। পরে পরিবারের সদস্যরা তার পার্স, পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোনসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বাড়িতেই পড়ে থাকতে দেখেন। এরপরই তাকে নিখোঁজ ঘোষণা করা হয়।

চলতি বছরের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্বে কাসিয়াসসহ অন্তত ১০ জন বিজ্ঞানী ও গবেষণা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে একসঙ্গে যুক্ত করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, তাদের গবেষণা কাজের সঙ্গে এসব ঘটনার সম্পর্ক থাকতে পারে।

তবে ওই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের পেশা ছিল ভিন্ন ভিন্ন। তাদের মধ্যে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিমান বাহিনীর এক জেনারেল, একজন প্রকৌশলী, একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মী। এছাড়া ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) এক পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপকও ছিলেন, যিনি পরে সাবেক এক সহপাঠীর হাতে খুন হন।

এই গুজব এতটাই ছড়িয়ে পড়ে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের তদারকি কমিটি এবং এফবিআইও ঘটনাগুলো পর্যালোচনার ঘোষণা দেয়। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিষয়টিকে “গুরুতর ঘটনা” বলে মন্তব্য করেছিলেন।

তবে নিহত ও নিখোঁজদের স্বজনরা বারবার এসব গুজব খণ্ডনের চেষ্টা করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ঘটনার পেছনে স্বাভাবিক কারণ ছিল। একজন গবেষক হৃদরোগে মারা যান, আরেকজন পারিবারিক শোকের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হয়।

এদিকে কার্ল গ্রিলমায়ার নামের আরেক গবেষকের মৃত্যুর ঘটনায় তার এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে হত্যা ও চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

কার্লের স্ত্রী লুইস গ্রিলমায়ার আগে বিবিসিকে বলেছিলেন, “এসব ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সত্য ঘটনা সবার সামনেই আছে।”

অন্যদের স্বজনরাও এসব গুজবকে “জঘন্য” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, এমন গুজব শুধু বিভ্রান্তিই ছড়ায় না, শোকাহত পরিবারগুলোর কষ্টও আরও বাড়িয়ে দেয়।

  এলএবাংলাটাইমস/ওএম  

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত