নিখোঁজের রহস্যের মধ্যেই প্রাইমারিতে জয়ী কংগ্রেসম্যান, পাশে ট্রাম্প
নিখোঁজের রহস্যের মধ্যেই প্রাইমারিতে জয়ী কংগ্রেসম্যান, পাশে ট্রাম্প
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
মাসের পর মাস জনসমক্ষে না দেখা গেলেও রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টম কিন জুনিয়র নিউ জার্সিতে দলের প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হয়ে পুনর্নির্বাচনের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছিলেন, “পুনর্নির্বাচনের জন্য টম কিনের প্রতি আমার পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন রয়েছে। তিনি কখনো আপনাদের হতাশ করবেন না।”
টম কিন জুনিয়র রিপাবলিকান প্রাইমারিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হননি। ফলে তাকে ভোটের জন্য প্রচারণাও চালাতে হয়নি। তবে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি কয়েক মাস ধরে কংগ্রেস থেকেও অনুপস্থিত এবং ১০০টিরও বেশি ভোটাভুটিতে অংশ নেননি।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে (মিডটার্ম) তার প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রেবেকা বেনেট। সাবেক নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার পাইলট বেনেট মঙ্গলবার নিজের দলের প্রাইমারিতেও জয় পেয়েছেন।
টম কিনকে সর্বশেষ প্রকাশ্যে দেখা যায় ৫ মার্চ। তার কার্যালয় এপ্রিল মাসে জানিয়েছিল, তিনি একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে দায়িত্ব থেকে দূরে আছেন। তবে এরপরও তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কৌতূহল ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্প তার সমর্থন বার্তায় কিনকে “আমেরিকা ফার্স্ট এজেন্ডার শক্তিশালী সমর্থক” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি “নিরলসভাবে কাজ করছেন”।
মার্চে কংগ্রেসে শেষবার ভোট দেওয়ার পর থেকেই তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। সহকর্মী, রিপাবলিকান নেতারা এবং সংবাদমাধ্যম বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাননি। এমনকি সাক্ষাৎকারের অনুরোধও উপেক্ষিত হয়।
একজন সহকারী নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, “টম যেখানে আছেন, সেখানে কোনো ক্যামেরা নেই।”
গত ২৭ এপ্রিল তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিন বলেন, চিকিৎসকেরা তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং খুব শিগগিরই কাজে ফিরবেন।
তিনি বলেন, “আমি আশা করছি দ্রুতই পূর্ণ কর্মসূচিতে ফিরতে পারব এবং শতভাগ সক্ষমতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করব।”
এর প্রায় এক মাস পর নিউ জার্সি গ্লোবকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে কিন পুনর্নির্বাচনে লড়ার এবং জনজীবনে ফেরার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, “জনসাধারণের কাছে স্বচ্ছতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আমি বুঝি। আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
তিনি আরও জানান, “আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমি ভোটাভুটি এবং নির্বাচনী প্রচারণায় ফিরব বলে আশা করছি।”
তবে মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শুরু হলেও তাকে কোথাও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বলে গণমাধ্যম জানিয়েছে।
টম কিন যে আসনটির প্রতিনিধিত্ব করেন, সেটি একটি ‘সুইং ডিস্ট্রিক্ট’ হিসেবে পরিচিত। অর্থাৎ, প্রতি নির্বাচনে আসনটি রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে হাতবদল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই আসনটি রিপাবলিকানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে এটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা আসনটি নিজেদের দখলে নিয়ে ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ধাক্কা দিতে চায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসনটির গুরুত্ব বিবেচনায় ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিতর্কিত বা আলোচিত প্রার্থীদের সমর্থন জানাতে ট্রাম্প অতীতেও দ্বিধা করেননি।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন