ক্যালিফোর্নিয়ার সমুদ্রে সার্ফিং করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন অভিজ্ঞ সার্ফার
কয়লা খাতে ৭০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ট্রাম্পের
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের কয়লা শিল্প পুনরুজ্জীবিত করতে ৭০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, এই অর্থের বড় অংশ যুদ্ধকালীন বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে বরাদ্দ করা হবে।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা আজ এমন একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিচ্ছি যা জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে। এর জন্য আমরা পরিচ্ছন্ন ও শক্তিশালী কয়লার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।”
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি খরচ থেকে সুরক্ষা দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এই পরিকল্পনার অর্থায়নে ট্রাম্প ব্যবহার করেছেন ‘ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট’, যা শীতল যুদ্ধের সময় প্রণীত একটি আইন। এর মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতকে সহায়তা দিতে প্রেসিডেন্ট বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, ৭০০ মিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগে ১৪টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ৪২টি কয়লাখনি সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি দুটি নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি বড় রপ্তানি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে।
এর মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখতে এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন একটি কয়লা রপ্তানি টার্মিনাল নির্মাণে। বাকি ২০০ মিলিয়ন ডলার দেবে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ, যা আলাস্কা ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যবহার হবে। ২০১৩ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে এটিই হবে প্রথম নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ।
ট্রাম্পের দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে নির্মিতব্য রপ্তানি টার্মিনাল ১,৪০০-এর বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। পুরো প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১৪ হাজার কর্মসংস্থান হবে।
বিনিয়োগ পাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো কেনটাকি, নর্থ ক্যারোলাইনা, ইন্ডিয়ানা, টেনেসি, আরকানসাস, অ্যারিজোনা, ওকলাহোমা, নর্থ ডাকোটা, উইসকনসিন ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত।
ট্রাম্প বলেন, সফল দেশগুলো এখনো কয়লার ওপর নির্ভরশীল। এ সময় তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে বায়ুশক্তিতে বিনিয়োগকারী দেশগুলোর সমালোচনা করেন।
তার মতে, এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে, যা অন্যথায় গ্রাহকদের ওপর উচ্চ বিদ্যুৎ বিল হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হতো।
উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারেও।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় মূল্য ৪.২৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা ইরানে হামলা শুরুর সময় ছিল ২.৯৮ ডলার। এছাড়া মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল পর্যন্ত এক বছরে ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানির দাম ১৭.৯ শতাংশ বেড়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন