মাংসখেকো পরজীবীর হানা যুক্তরাষ্ট্রে, টেক্সাসে আক্রান্ত বাছুর শনাক্ত
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
গবাদিপশুর জীবন্ত মাংস খেয়ে বেঁচে থাকা ভয়ংকর পরজীবী নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম (NWS) যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত হয়েছে। দেশটির কৃষি বিভাগ (USDA) জানিয়েছে, টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি বাছুরের শরীরে এ পরজীবীর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
গত এক বছর ধরে পরজীবীটি মেক্সিকো জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছিল। মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকায় সংক্রমণ বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই এর প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত বাছুরটি টেক্সাসের লা প্রাইর শহরে শনাক্ত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
স্ক্রুওয়ার্ম হলো এক ধরনের পরজীবী মাছি। স্ত্রী মাছিগুলো প্রাণীর খোলা ক্ষত বা শরীরের আর্দ্র অংশে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বের হওয়া শত শত লার্ভা ধারালো মুখ দিয়ে জীবন্ত মাংসের ভেতরে ঢুকে তা খেতে শুরু করে। দ্রুত চিকিৎসা না হলে আক্রান্ত প্রাণী মারা যেতে পারে।
এ পরজীবী মানুষ ও পোষা প্রাণীকেও আক্রান্ত করতে পারে, তবে মানুষের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি খুবই কম এবং এমন ঘটনা বিরল। এছাড়া এটি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি তৈরি করে না।
সর্বশেষ ঘটনায় মাত্র তিন সপ্তাহ বয়সী একটি বাছুরের নাভির অংশে লার্ভাগুলো পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত পশু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়ার মাধ্যমেই পরজীবীটি সবচেয়ে বেশি ছড়ায়। তাই যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ ও টেক্সাস কর্তৃপক্ষ আক্রান্ত এলাকা ঘিরে ২০ কিলোমিটারব্যাপী নজরদারি ও কোয়ারেন্টিন জোন ঘোষণা করেছে।
পরজীবী দমনে কর্তৃপক্ষ লাখ লাখ বন্ধ্যা স্ক্রুওয়ার্ম মাছি ছাড়ার পরিকল্পনাও নিয়েছে। কারণ স্ত্রী মাছি জীবনে মাত্র একবার মিলিত হয়। বন্ধ্যা পুরুষ মাছির সঙ্গে মিলিত হলে তাদের ডিম নিষিক্ত হবে না এবং সেগুলো থেকে নতুন লার্ভা জন্মাবে না।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার প্রস্তুতি তারা অনেক আগে থেকেই নিচ্ছিল। তাদের দাবি, এসব পদক্ষেপের কারণে পরজীবীটির যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ অন্তত এক বছর বিলম্বিত হয়েছে।
মার্কিন কৃষিমন্ত্রী Brooke Rollins বলেছেন, দক্ষিণ টেক্সাসে ইতোমধ্যে কৃষি বিভাগের কর্মীরা পৌঁছে গেছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন। তিনি গবাদিপশু খামারিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে টেক্সাসের কৃষি কমিশনার Sid Miller ফেডারেল সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, কৃষি বিভাগ যথেষ্ট দ্রুত ব্যবস্থা নেয়নি এবং শুধুমাত্র বন্ধ্যা মাছি ছাড়ার মতো আংশিক সমাধানের ওপর নির্ভর করেছে, যার পূর্ণ ফল পেতে দীর্ঘ সময় লাগে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে গবাদিপশুর সংখ্যা কমে যেতে পারে, গরুর মাংস উৎপাদন হ্রাস পেতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের জন্য মাংসের দাম বেড়ে যেতে পারে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন