হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিরাপদে আছেন পাইলটরা: ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিরাপদে আছেন পাইলটরা: ট্রাম্প
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন সেনাবাহিনীর অ্যাপাচি আক্রমণকারী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এতে থাকা দুই পাইলট নিরাপদে আছেন এবং কেউ আহত হননি বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার রাতে নিউইয়র্কে এনবিএ ফাইনাল খেলা দেখার পর জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, “পাইলটরা ভালো আছেন। কেউ আহত হননি। আগামীকাল এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।”
তবে কী কারণে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কাছে অজ্ঞাত কারণে হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত হয়। এ বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং প্রতিরক্ষা দপ্তর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী বর্তমানে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন বাহিনীর অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলো ইরানের তেল পরিবহন কার্যক্রমের ওপর নজরদারি ও অবরোধ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতও এসব হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
এদিকে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি হওয়ার ব্যাপারে নতুন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।”
তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি “শক্তিশালী ও কার্যকর” চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সহজেই আরও কয়েক সপ্তাহ বোমা হামলা চালাতে পারে, কিন্তু তাতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটবে এবং হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময়ের জন্য অচল হয়ে যেতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, “যদি আমরা বোমা হামলা চালাই, অনেক মানুষ মারা যাবে। আমি তা চাই না।”
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার জন্য কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তানের নেতৃত্বে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশ কাজ করছে। তবে দুই পক্ষই এখনো নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করুক। অন্যদিকে ইরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তির আগেই এসব দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানালেও ট্রাম্প প্রশাসন তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন