আপডেট :

        দাবানলে বাড়ি হারিয়ে সিটির বিরুদ্ধে মামলায় মেয়র ব্যাসের ভাই

        ফেটিশ সাক্ষাতে মৃত্যুর ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়ার ওনলি ফ্যানস নির্মাতার ৪ বছরের কারাদণ্ড

        বাবাকে নির্যাতন করে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ ব্যক্তির যাবজ্জীবন

        ক্যালিফোর্নিয়ায় সাগরের স্রোতে ভেসে নিখোঁজ কিশোরী, উদ্ধার মা ও ভাইবোন

        এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না, কংগ্রেসে দাবি বিল গেটসের

        মধ্যপ্রাচ্যে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ ফুটেরও বেশি উঁচু ঢেউ, সার্ফারদের ভিড় নিউপোর্ট বিচে

        ৪ বছর বয়সী শিশুহত্যা মামলায় পুরস্কার বেড়ে ৮৫ হাজার ডলার

        ক্যালিফোর্নিয়ায় নার্সের বিরুদ্ধে ৭৭ ফৌজদারি অভিযোগ

        ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সহপাঠীকে হত্যার দায়ে কিশোরের ৩৫ বছরের কারাদণ্ড

        ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনে এগিয়ে ট্রাম্প-সমর্থিত স্টিভ হিলটন

        হরমুজ প্রণালিতে হেলিকপ্টার ভূপাতিতের পর যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

        হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিরাপদে আছেন পাইলটরা: ট্রাম্প

        মেয়েকে বাঁচাতে অনুপ্রবেশকারীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ, নিহত সন্দেহভাজন

        এনবিএ ফাইনালে ট্রাম্প, নিউইয়র্কে দুয়োধ্বনির মুখে প্রেসিডেন্ট

        লস এঞ্জেলেস মেয়র দৌড়ে এগিয়ে নিত্যা রামান

        শেয়ারবাজারে আসছে ওপেনএআই, বাড়ছে এআই প্রতিযোগিতা

        কারাগার থেকে ট্রাম্পের ক্ষমা চাইলেন ব্যাংকম্যান-ফ্রাইড

        লস এঞ্জেলেস মেয়র নির্বাচনে স্পেন্সার প্র্যাটকে ছাড়িয়ে গেলেন নিত্যা রমন

        জাপানে নিখোঁজ মার্কিন শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না, কংগ্রেসে দাবি বিল গেটসের

এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না, কংগ্রেসে দাবি বিল গেটসের

ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস

মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তা বিল গেটস বলেছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না। তিনি দাবি করেন, এপস্টেইন তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও তিনি কখনো তাতে আগ্রহ দেখাননি।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের হাউস ওভারসাইট কমিটির একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে স্বেচ্ছায় সাক্ষ্য দেন গেটস। এপস্টেইনের যোগাযোগ ও প্রভাবের পরিধি খতিয়ে দেখতে গঠিত দ্বিদলীয় কমিটির সামনে তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।

প্রারম্ভিক বক্তব্যে গেটস বলেন, তিনি কখনো এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপ, খামারবাড়ি বা ফ্লোরিডার বাড়িতে যাননি এবং এপস্টেইনের কোনো চলমান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও প্রত্যক্ষ করেননি।

গেটস বলেন, “এপস্টেইন হয়তো আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি কখনো তাতে আগ্রহী ছিলাম না এবং তার সেই চেষ্টার প্রতিদানও দিইনি।”

তিনি আরও বলেন, এপস্টেইনের অপরাধের শিকার ব্যক্তিরা যেন ন্যায়বিচার পান, সেটিই তার প্রত্যাশা।

কমিটির সদস্যদের মতে, সাক্ষ্যে উঠে এসেছে যে এপস্টেইন প্রভাবশালী ও বিখ্যাত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে নিজের ক্ষমতা ও প্রভাব প্রদর্শন করতে চাইতেন। একজন সদস্যের ভাষায়, এপস্টেইন ছিলেন “বন্ধু সংগ্রাহক”, যিনি ক্ষমতাধর মানুষদের পাশে রেখে নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করতেন।

২০১৯ সালে বিচার শুরুর অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় কারাগারে আত্মহত্যা করেন জেফরি এপস্টেইন। তার দীর্ঘদিনের সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন তদন্ত-সংশ্লিষ্ট লাখ লাখ পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করলে সেখানে বিল গেটসের নাম হাজারো বার উঠে আসে। এছাড়া এপস্টেইনের সঙ্গে গেটসের কয়েকটি ছবিও প্রকাশিত হয়। তবে গেটস সবসময়ই কোনো ধরনের অনিয়ম বা এপস্টেইনের অবৈধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সাক্ষ্যে গেটস স্বীকার করেন যে এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা করা তার ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তিনি বলেন, “আমি তাদের একজন, যারা এপস্টেইনকে চিনত বলে এখন অনুতপ্ত।”

প্রকাশিত কিছু নথিতে এপস্টেইনের খসড়া ই-মেইলের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে গেটসের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছিল। এর মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, যৌনরোগে আক্রান্ত হওয়া এবং চিকিৎসার জন্য ওষুধ সরবরাহের মতো দাবি ছিল। তবে গেটস এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

তিনি জানান, এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত সম্পর্কসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে তাকে আবার যোগাযোগে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন।

গেটসের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে তাদের পরিচয় শুরু হয়। সে সময় এপস্টেইন তার বৈশ্বিক স্বাস্থ্য উদ্যোগের জন্য অর্থ সংগ্রহে সহায়তা করার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তবে ২০১৪ সালে সম্ভাব্য দাতাদের নিয়ে একটি বৈঠকের পর গেটস বুঝতে পারেন যে এপস্টেইনের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নেই।

তিনি বলেন, “তখন আমি সিদ্ধান্ত নিই যে এপস্টেইন তার প্রতিশ্রুতি কখনোই পূরণ করতে পারবে না। আমি তাকে জানিয়ে দিই যে আমরা আর এগোব না এবং এরপর তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিই।”

তবে কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া বলেন, গেটস জানতেন যে এপস্টেইন ভয়াবহ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল, তবুও তিনি নিজের ফাউন্ডেশনের জন্য অর্থ সংগ্রহের আশায় তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।

অন্যদিকে রিপাবলিকান সদস্য টিম বারচেট বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ ছিল অত্যন্ত কঠিন, তবে তার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে এপস্টেইন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তোলা ও সম্পর্ক রাখার মাধ্যমে নিজের গুরুত্ব বাড়াতে চাইতেন।

কমিটির সদস্যরা আরও জানান, গেটস দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে এপস্টেইন তাকে কখনো কোনো নারী, কিশোরী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেননি।

আইনপ্রণেতারা গেটসকে প্রশ্ন করেন, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়েও কীভাবে তিনি এপস্টেইনের অতীত সম্পর্কে যথেষ্ট অনুসন্ধান করেননি। গেটস জানান, তিনি জানতেন এপস্টেইনের বিরুদ্ধে কিছু আইনি সীমাবদ্ধতা ছিল, তবে তার পটভূমি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেননি।

  এলএবাংলাটাইমস/ওএম  

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত