ক্যালিফোর্নিয়ায় সম্ভাব্য সিরিয়াল কিলার, চার হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত
যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে হামলা-সংশ্লিষ্ট অভিযানে টরন্টো পুলিশের কর্মকর্তা নিহত
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
কানাডার টরন্টো শহরে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট ভবনের বাইরে গত মার্চে হওয়া গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ভোরে টরন্টোর একটি বহুতল ভবনে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের সঙ্গে সন্দেহভাজনদের গোলাগুলি হয়। এতে গুরুতর আহত হন পুলিশ কর্মকর্তা মার্ক পিনিজোট্টো। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
টরন্টো পুলিশ প্রধান মাইরন ডেমকিউ জানান, নিহত ৪৩ বছর বয়সী পিনিজোট্টো ১৮ বছর ধরে পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে পাঁচ বছর তিনি পুলিশের বিশেষ ইউনিট ‘ইমার্জেন্সি টাস্ক ফোর্স’-এ দায়িত্ব পালন করেন।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় তারা শহরের বিভিন্ন স্থানে একযোগে পাঁচটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ তল্লাশি পরোয়ানা বাস্তবায়ন করছিল। এরই অংশ হিসেবে পিনিজোট্টো গুলিবিদ্ধ হন।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের একজন জারা জাব্বি (১৯) এখনও পলাতক। তাকে ‘সশস্ত্র ও অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে পুলিশ। তাকে দেখলে দ্রুত ৯১১ নম্বরে ফোন করার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান।
অভিযানের সময় আরেক সন্দেহভাজন নিকোলাস বেনেট (১৯) পুলিশের গুলিতে আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে পুলিশ জানায়, পিনিজোট্টোর মৃত্যুর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হবে।
গত মার্চে টরন্টোর মার্কিন কনস্যুলেট ভবনের বাইরে দুই ব্যক্তি একটি গাড়ি থেকে নেমে ভবন লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে তারা গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। তবে কনস্যুলেট ভবনটি অত্যন্ত সুরক্ষিত হওয়ায় ভেতরে থাকা কেউ আহত হয়নি।
সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই হামলার সঙ্গে ইরান-ইরাকের দ্বৈত নাগরিক মোহাম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল-সাদি পরিচালিত একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের যোগসূত্র রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় একাধিক হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা পিনিজোট্টোর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন কানাডায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিট হুকস্ট্রা। তিনি বলেন, দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এবং এ ধরনের অভিযানের ঝুঁকির বিষয়টি এই ঘটনা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
টরন্টো পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লেটন ক্যাম্পবেল পিনিজোট্টোকে বাহিনীর একজন মূল্যবান সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে পুলিশ প্রধান ডেমকিউ বলেন, “এই মুহূর্তে আমাদের পুরো সম্প্রদায় গভীর শোকে ডুবে আছে।”
টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও-ও নিহত কর্মকর্তার পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে ঘটনাটিকে শহরের জন্য “হৃদয়বিদারক সংবাদ” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার একদিন পরই টরন্টোতে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ আয়োজনের কথা রয়েছে, যেখানে স্বাগতিক কানাডা মুখোমুখি হবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন