আপডেট :

        লস এঞ্জেলেসের বৃদ্ধাশ্রমে কর্মীর গু লি, আহত ৩

        ৫০০-এর বেশি বিড়াল উদ্ধার, তদন্তে মিলল মৃত বিড়ালের হাড় ও জমিয়ে রাখা মরদেহ

        প্রশান্ত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় পোলো ক্যাটাগরি ৫, মেক্সিকোতে ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা

        কেন কেন্টে মেনিনজাইটিসের প্রাদুর্ভাব এত ভয়াবহ হয়েছিল, কারণ খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

        মিসিসিপিতে কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরের মৃত্যুতে কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা নয়, গ্র্যান্ড জুরির সিদ্ধান্ত

        শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কায় পুরো ক্যালিফোর্নিয়ায় জরুরি অবস্থা

        ১১০ বিলিয়ন ডলারের প্যারামাউন্ট-ওয়ার্নার ব্রাদার্স একীভূতকরণ, ১২ অঙ্গরাজ্যের মামলার নিষ্পত্তি

        গ্যাসের দাম বাড়ায় ক্ষুব্ধ মার্কিন ভোটাররা, ট্রাম্প বলছেন ইরান যুদ্ধের জন্য এটি ‘সামান্য মূল্য’

        বাজেট সংকটে লস এঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্ট, চাকরি ছাড়লে কর্মীদের ৩৫ হাজার ডলার

        তারকায় ঝলমলে লুকাস মিউজিয়ামের উদ্বোধনী আয়োজন, মঙ্গলবার খুলছে সবার জন্য

        লং বিচগামী কার্নিভাল ক্রুজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দিলেন ব্যক্তি, ফিরে গিয়ে তল্লাশি

        হামে আক্রান্ত যাত্রীর ভ্রমণে ক্যালিফোর্নিয়ায় সতর্কতা, ঝুঁকিতে লস এঞ্জেলেসসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ

        ম্যাকলমোর বিতর্কের পর প্রথম কনসার্টে এড শিরান: ‘ভুল করেছি’, ভক্তদের কাছে দুঃখপ্রকাশ

        আইসিই এজেন্টের গুলিতে টেক্সাসে আহত ভেনেজুয়েলার তরুণ, জবাবদিহির দাবিতে বিক্ষোভ

        ট্রাম্পের বিজয় তোরণ এবার সামরিক স্থাপনাও হবে, থাকবে ড্রোন ও স্নাইপার

        ক্যালিফোর্নিয়ায় গাড়ির বিমায় বৈবাহিক অবস্থার ভিত্তিতে দাম নির্ধারণ বন্ধের উদ্যোগ

        ক্যালিফোর্নিয়ায় স্টোরেজ ইউনিট থেকে চুরি ১ লাখ ৩০ হাজার ডলারের দুর্লভ খেলনা ও সংগ্রহ

        লস এঞ্জেলেসের ইউনিয়ন স্টেশনে হাম সংক্রমণের শঙ্কা, আক্রান্ত যাত্রীর সংস্পর্শে আসতে পারেন বহু মানুষ

        ২ নারীসহ ৩ কর্মীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ, সরাসরি জবাব রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যানের

        সঙ্গী বাছাইয়ের ‘নন-নেগোশিয়েবল’ তালিকা দিয়ে তুমুল সমালোচনায় সিলিকন ভ্যালির তরুণ নির্বাহী

পায়ে হেঁটে রাজধানীতে ফিরছেন শত শত পোশাক শ্রমিক

পায়ে হেঁটে রাজধানীতে ফিরছেন শত শত পোশাক শ্রমিক

দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই খুলছে গার্মেন্ট। সীমিত পরিসরে কারখানা খোলা হলেও যথাযথভাবে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। কমপ্লায়েন্ট কারখানাগুলো শ্রমিকদের প্রবেশের সময় হাতে ও শরীরে জীবাণুনাশক স্প্রে এবং ভেতরে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হলেও ছোট কারখানাগুলোতে নামেমাত্র সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কাজে যোগ দিতে বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত শ্রমিক হেঁটে ঢাকায় ফিরছেন।

শিল্প পুলিশের তথ্য মতে, সারা দেশে সাত হাজার ৬০২টি কারখানার মধ্যে সোমবার এক ৮২০টি কারখানা খুলেছে। আগের দিন রোববার খুলেছিল এক হাজার ৪২৭টি কারখানা। দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি খুলেছে বিজিএমইএভুক্ত কারখানা। একদিনের ব্যবধানে বিজিএমইএ’র ২৩৮টি কারখানা খুলেছে। সোমবার খোলা হয় ৭১৮টি কারখানা। সবচেয়ে বেশি কারখানা খোলা হয় ঢাকা ও গাজীপুর অঞ্চলে।

অন্য দিকে বিকেএমইএভুক্ত কারখানা খোলা ছিল ১৫৭টি। এ বিষয়ে জাতীয় গামেন্ট শ্রমিক-কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি যুগান্তরকে বলেন, বড় বড় কারখানা নিরাপত্তা দিয়েই শ্রমিকদের ভেতরে প্রবেশ করিয়েছে। কিন্তু ছোট-মাঝারি কারখানাগুলো আগের মতোই তাপমাত্রা না মেপে, নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রেখে কাজ করাচ্ছে। এতে শ্রমিকদের আক্রান্তের সম্ভাবনা থাকছে। তাই কারখানা খোলা রাখার বিষয়ে সরকারের একটি সামগ্রিক নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত। যাতে সুরক্ষাবিধি না মানলে মালিকদের কী শাস্তি দেয়া হবে তা উল্লেখ থাকবে। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মে মাস দেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

সেখানে গার্মেন্ট খুলে শ্রমিকদের হুমকিতে ফেলা হয়েছে। কারখানার বাইরে তো মানাই হচ্ছে না, ভেতরেও সুরক্ষা মানা কঠিন। তাছাড়া শ্রমিকদের কারখানা যেতে পরিবহনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি, আর গণপরিবহন চালুও করা হয়নি। ফলে তাদের হেঁটে কারখানায় যেতে হচ্ছে, যা অমানবিক।

অবশ্য বস্ত্র ও পোশাক খাতের তিন সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ সীমিত পরিসরে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা চালু করতে মালিকদের গাইডলাইন দিয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামে থাকা শ্রমিকদের ঢাকায় না আনার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু তার পরও গার্মেন্ট খোলার খবর পেয়ে চাকরি বাঁচানোর তাগিদে হেঁটে ঢাকায় ফিরছেন।

আশুলিয়ায় শ্রমিকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবিতে তিনটি কারখানা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। অন্য দিকে চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবিতে আশুলিয়া ও সাভারে বন্ধ কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। সোমবার আশুলিয়ার জামগড়া, ইউনিক, নরসিংহপুর ও সাভারের উলাইলে এ বিক্ষোভ হয়।

শ্রমিকরা জানান, আশুলিয়ার নরসিংহপুরে শারমিন গ্রুপের কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়ার পর পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই এমন অভিযোগে কারখানা থেকে বের হয়ে যান। অন্য দিকে ইউনিক এলাকার আঞ্জুমান অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরাও কাজে যোগ দেয়ার পর পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই এমন অভিযোগ তুলে বের হয়ে যান। বিক্ষোভের মুখে বন্ধ করে দেয়া হয় নরসিংহপুর এলাকার হা-মীম গ্রুপের কারখানা। অন্য দিকে জামগড়ার নেক্সট কালেকশন নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সকালে কর্মস্থলে হাজির হয়ে কাজ না করে কারখানা থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ করতে চাইলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। পরে শ্রমিকরা বাড়ি চলে যান। এছাড়াও আশুলিয়ার সিগমা ফ্যাশনসের ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা সকালে কারখানার মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে তাদের চাকরি পুনর্বহাল ও কারখানা চালুর দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। অন্য দিকে সাভারের উলাইল এলাকার কেএল ডিজাইন কারখানার শ্রমিকরা বন্ধ কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতেও বিক্ষোভ করেন। একাধিক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ শুধু হাত ধোয়া ও মাস্কের ব্যবস্থা করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। তাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কাজে যোগ দিতে বললে তারা কারখানা থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ করেন বলেও অভিযোগ করেন। আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার জানে আলম বলেন, কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজ না করে বের হয়ে চলে গেছেন। তবে কারখানায় পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মালিকপক্ষের।

গার্মেন্ট কর্মীরা নাটোর থেকে হেঁটে ঢাকার পথে : গার্মেন্ট খোলার খবরে রোববার রাত থেকেই দলে দলে নাটোর থেকে ঢাকায় উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন শত শত গার্মেন্টকর্মী। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কেউ ট্রাকে, কেউ মাছের গাড়িতে করে আবার কেউ হেঁটে ছুটছেন কর্মস্থলের উদ্দেশে। সোমবার সকালে নাটোর বাসস্ট্যান্ড, বনপাড়া বাইপাস, বড়াইগ্রাম থানার মোড়ে ঢাকামুখী গার্মেন্টস কর্মীদের ভিড় দেখা গেছে। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই জীবিকার তাগিদে কর্মস্থলে ফিরছেন তারা। পথে তাদের নানা বিড়ম্বনায় মধ্যে পড়তে হয়েছে। যারা গাড়িতে ওঠার সুযোগ পাচ্ছেন তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। গার্মেন্টস কর্মীরা বলছেন, কর্মস্থলে থেকে মেসেস এসেছে, অফিসে হাজির না হলে চাকরি থাকবে না। কেউ কেউ বলছেন, আমাদের ফোন করে বলা হয়েছে রোববার গার্মেন্ট খুলবে, শুনেই বাড়ি থেকে বের হই, কিন্তু রাস্তায় কোনো যানবাহন পাইনি। চাকরিটাই একমাত্র ভরসা, সেটি না থাকলে বউ বাচ্চা নিয়ে কি করে চলব। তাই ঝুঁকি নিয়েই যাচ্ছি।

ঢাকার পথে গার্মেন্ট শ্রমিকরা : টাঙ্গাইল থেকেও গার্মেন্ট কর্মীরা ঢাকার পথে রওয়ানা হয়ছেন। খবর পেয়ে কেউ হেটে, কেউ অটোতে এবং কেউ খোলা ট্রাকে করে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন। সোমবার সকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক দিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকরা যে যেভাবে পাড়ছেন ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সোমবার সকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব, এলেঙ্গা, টাঙ্গাইল বাইপাস, মির্জাপুরে দেখা গেছে ঢাকামুখী গার্মেন্টকর্মীদের ভিড়। গণপরিবহন না পেয়ে বাস না পেয়ে ট্রাক, লেগুনা, পিকআপ ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বা ভ্যানে গাদাগাদি করে তারা গন্তব্যে যাচ্ছে। কর্মীরা জানান, অফিস থেকে জানানো হয়েছে গার্মেন্টস খোলা। আমাদের কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে এভাবে যাচ্ছি। তবে মহাসড়কে যানবাহন না থাকায় কিছুটা হেঁটে কিছুটা অটোতে গন্তব্যে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামাল হোসেন বলেন, যারা গার্মেন্ট শ্রমিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের ঢাকায় যেতে দেয়া হচ্ছে। তবে অনেকেই আমাদের অগোচরে ট্রাকে করে যাচ্ছেন। আবার কেউ হেঁটেই যাচ্ছেন। কাজে যোগ না দিলে চাকরি থাকবে না, এমন কথা শোনার পর মানবিক কারণে তাদের যেতে দেয়া হচ্ছে। শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত মহাসড়কে এমন পরিস্থিতি লক্ষ করা গেছে।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এন

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত