আপডেট :

        দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় কমছে তাপ, রোববার থেকে স্বস্তি

        লা ভার্নেতে পানির ট্যাংকে আটকা মা ভালুক ও দুই শাবক উদ্ধার

        চুরি করা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দিয়ে ৩৮ হাজার ডলারের কেনাকাটা

        শুল্কযুদ্ধে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের ওপর কতটা চাপ পড়বে?

        ট্রাম্পের বক্তৃতা নিয়ে বাজি, সাবেক হোয়াইট হাউস কর্মীকে ১.৭২ লাখ ডলার জরিমানা

        ট্রাম্পকে জবাব, লেক অন্টারিওতে বড় সাইন বসাল কানাডা

        ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতি: ‘জানতাম, এবার মারা যাব’—নেপালের বন্যা থেকে বাঁচার গল্প

        ডানপন্থী ভাষ্যকার মিলো ইয়ান্নোপোলাসকে আটক করেছে আইসিই

        ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র

        লস এঞ্জেলেসে হিট-অ্যান্ড-রান মামলার অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

        অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে বেআইনি প্রতিশোধ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন: আদালত

        ক্যালিফোর্নিয়ায় গৃহহীন প্রায় ৩ লাখ শিক্ষার্থী

        নতুন স্ক্রিনিং নীতিতে সব অভিবাসী ভিসা আবেদন স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন

        সোফি স্টেডিয়াম এলাকায় ২৬১ মিলিয়ন ডলারের পরিবহন প্রকল্প

        বিশ্বজুড়ে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন

        মাঠে আঘাতে কিশোর ফুটবলারের মৃত্যু, স্কুল ডিস্ট্রিক্টের বিরুদ্ধে মামলা

        ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ত্রীর প্রেমিককে হত্যার অভিযোগে দম্পতি গ্রেপ্তার

        আশ্রয় চাওয়া বিদেশিদের স্বল্পমেয়াদি ভিসা বাতিল করবে যুক্তরাষ্ট্র

        যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক কানাডার

        লুইজিয়ানায় ১০ হাজার কোটি ডলারের মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বানাবে স্পেসএক্স

জাপান কেন আত্মহত্যা প্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত?

জাপান কেন আত্মহত্যা প্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত?

জাপানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিশু আত্মহত্যা করেছে গত বছরে।২০১৬-১৭ অর্থবছরের মার্চ মাস পর্যন্ত প্রাথমিক থেকে হাইস্কুলের ২৫০ জন শিশু আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।১৯৮৬ সালের পর থেকে জাপানে এত বিপুল সংখ্যক শিশু আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেনি।

আত্মহত্যার আগে ঐসব শিশুরা যেসব সমস্যার কথা জানিয়েছিল তার মধ্যে রয়েছে পারিবারিক সমস্যা, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং বন্ধুদের কাছ থেকে অবজ্ঞা বা তাচ্ছিল্য পূর্ণ ব্যবহার।তবে স্কুলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এসব ঘটনার ১৪০টিরই সঠিক কারণ তারা জানে না কারণ সেসব ক্ষেত্রে শিশুরা আত্মহত্যার আগে কোনো নোট রেখে যায়নি।আত্মহত্যা করা অধিকাংশ শিশুই হাই স্কুলের শিক্ষার্থী। ১৮ বছরের কম বয়সী জাপানি শিক্ষার্থীরা সাধারণত এসব স্কুলে পড়ে।

২০১৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা প্রবণ দেশগুলোর একটি ছিল জাপান; তবে এই প্রবণতা বন্ধ করতে জাপান সরকার বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ নেয়ার পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয় বলে উঠে আসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে।২০০৩ সালে জাপানে মোট আত্মহত্যার ঘটনা ছিল ৩৪ হাজার ৫০০টি, যা কমে ২১ হাজারে নেমে আসে ২০১৭ সালে।

কেন জাপানে আত্মহত্যার হার এত বেশি?
২০১৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জাপানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০ জন মানুষ আত্মহত্যা করে।বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাথে তুলনা করলে দক্ষিণ কোরিয়া বাদে অন্য কোনো দেশে আত্মহত্যার হার এত ব্যাপক নয়।

ঐতিহাসিক ধারা
আর্থ-সামাজিক এবং ঐতিহাসিক কারণে জাপানে মানুষের আত্মহত্যার প্রবণতা অনেক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।টোকিও'র টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ওয়াতুরু নিশিদা বলেন, "বিষণ্ণতা এবং আত্মহত্যার অন্যতম প্রধান কারণ বিচ্ছিন্নতা বা একা থাকার প্রবণতা।""জাপানে একসময় বৃদ্ধ অভিভাবকদের দেখাশোনা করতো তাদের সন্তানরা, তবে বর্তমানে সেরকমটা হয় না বললেই চলে। বৃদ্ধাশ্রম বা হাসপাতালে একাকী মৃত্যুবরণের ঘটনা দিন দিন বাড়ছেই।"

জাপানে ঐতিহাসিকভাবে প্রচলিত 'সম্মানজনক আত্মহত্যা'র ঐতিহ্যকেও দায়ী মনে করেন অনেকে।জাপানের সামুরাই যোদ্ধাদের আত্মহত্যা, যাকে 'সেপ্পুকু' বলা হতো অথবা ১৯৪৫ সালে তরুণ 'কামিকাজে' বিমানচালকদের আত্মহত্যার ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মের মানসিকতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে বলে মনে করেন ঐ বিশেষজ্ঞরা।

মি. নিশিদা বলেন, "জাপানে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে, আত্মহত্যা করা পাপ নয়।"জাপান হেল্পলাইনে কাজ করা কেন জোসেফ মন্তব্য করেন অনেকসময় বৃদ্ধ ব্যক্তিরা অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা এবং বীমা সংক্রান্ত জটিলতা থেকে রেহাই পেতে আত্মহত্যা করেন।জাপানে আত্মহত্যা সংক্রান্ত ঘটনায় বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই বীমার অর্থ হস্তান্তর করে।মি. জোসেফ বলেন, "যখন আর কোনে উপায় থাকে না, তখন অনেকেই মনে করেন, আত্মহত্যা করলে সহজেই পরিবারের টাকা-পয়সা সংক্রান্ত জটিলতা দূর হবে।"

অর্থনৈতিক চাপ
জাপানে যে শুধু নি:সঙ্গ বৃদ্ধরাই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন, তা নয়। আত্মহত্যা করা মানুষের বয়স যাচাই করলে দেখা যায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আত্মহত্যাকারী ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী পুরুষ।এসব আত্মহত্যার ঘটনা যাচাই করলে দেখা যায় যে তারা জীবন নিয়ে হতাশ ছিলেন এবং কারো কাছে সাহায্য চাইতে অপারগ ছিলেন।

১৯৯৮ সালে এশিয়ার অর্থনৈতিক সঙ্কটের পর এ ধরণের আত্মহত্যার হার বেড়ে গিয়েছিল। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সঙ্কটের পর আবারও এই হার বৃদ্ধি পায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানে 'অনিশ্চিত চাকরি'র সংখ্যা বা তরুণদের স্বল্প মেয়াদী চুক্তিতে চাকরি দেয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে।জাপানে এখনো অনেক বয়স্ক ব্যক্তিরা চাকরিক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং ব্যাপক সুবিধা পেলেও ২০১৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জাপানের তরুণদের প্রায় ৪০% স্থির চাকরি পান না।

মানসিকতা ও প্রযুক্তি
অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা ও অনিরাপত্তার পাশাপাশি অভিযোগ না করার মানসিকতার সংস্কৃতিও তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যা বাড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।মি. নিশিদা বলেন, "রাগ বা ক্ষোভ প্রকাশ করার খুব একটা সুযোগ নেই জাপানের সমাজে।""এটি একটি নিয়মতান্ত্রিক সমাজ। তরুণদের একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ থাকতে হয়। তাদের সত্যিকার মনোভাব প্রকাশের কোনো সুযোগই থাকে না তাদের সামনে।"আর বিশেষজ্ঞরা মনে করেন দিনদিন প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং প্রসারের কারণে এই অবস্থার আরো অবনতি হচ্ছে।আধুনিক প্রযুক্তি তরুণদের সমাজ থেকে আরো বিচ্ছিন্ন করছে বলে মনে করেন তারা।

সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার এই প্রবণতার একটি বিশেষ নামও রয়েছে জাপানে; এটিকে বলা হয় 'হিক্কিমোরি'।জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভাষায়, হিক্কিমোরি হলো সেসব ব্যক্তি যারা ৬ মাসের বেশি সময় ধরে নিজেদের বাড়ির বাইরে বের হয় নি এবং নিজেদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে।জাপানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী ২০১০ সালে জাপানে হিক্কোমোরি হিসেবে বসবাসরত ব্যক্তির সংখ্যা ৭ লক্ষ।জাপান ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, স্পেন, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফ্রান্সেও এই ধরণের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত