আপডেট :

        গ্যাসের দাম বাড়ায় ক্ষুব্ধ মার্কিন ভোটাররা, ট্রাম্প বলছেন ইরান যুদ্ধের জন্য এটি ‘সামান্য মূল্য’

        বাজেট সংকটে লস এঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্ট, চাকরি ছাড়লে কর্মীদের ৩৫ হাজার ডলার

        তারকায় ঝলমলে লুকাস মিউজিয়ামের উদ্বোধনী আয়োজন, মঙ্গলবার খুলছে সবার জন্য

        লং বিচগামী কার্নিভাল ক্রুজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দিলেন ব্যক্তি, ফিরে গিয়ে তল্লাশি

        হামে আক্রান্ত যাত্রীর ভ্রমণে ক্যালিফোর্নিয়ায় সতর্কতা, ঝুঁকিতে লস এঞ্জেলেসসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ

        ম্যাকলমোর বিতর্কের পর প্রথম কনসার্টে এড শিরান: ‘ভুল করেছি’, ভক্তদের কাছে দুঃখপ্রকাশ

        আইসিই এজেন্টের গুলিতে টেক্সাসে আহত ভেনেজুয়েলার তরুণ, জবাবদিহির দাবিতে বিক্ষোভ

        ট্রাম্পের বিজয় তোরণ এবার সামরিক স্থাপনাও হবে, থাকবে ড্রোন ও স্নাইপার

        ক্যালিফোর্নিয়ায় গাড়ির বিমায় বৈবাহিক অবস্থার ভিত্তিতে দাম নির্ধারণ বন্ধের উদ্যোগ

        ক্যালিফোর্নিয়ায় স্টোরেজ ইউনিট থেকে চুরি ১ লাখ ৩০ হাজার ডলারের দুর্লভ খেলনা ও সংগ্রহ

        লস এঞ্জেলেসের ইউনিয়ন স্টেশনে হাম সংক্রমণের শঙ্কা, আক্রান্ত যাত্রীর সংস্পর্শে আসতে পারেন বহু মানুষ

        ২ নারীসহ ৩ কর্মীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ, সরাসরি জবাব রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যানের

        সঙ্গী বাছাইয়ের ‘নন-নেগোশিয়েবল’ তালিকা দিয়ে তুমুল সমালোচনায় সিলিকন ভ্যালির তরুণ নির্বাহী

        ১২ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়ন, ক্যালিফোর্নিয়ায় যুবকের ২০ বছরের বেশি কারাদণ্ড

        ‘এআই ফোর্স’ গঠন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক জার নিয়োগ দেবেন ট্রাম্প

        গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’, ডেনমার্কের সঙ্গে চুক্তি

        হৃদযন্ত্রের আবরণ ভেদ করে ঢুকে ছিল সূঁচ, শরীরের নানা অংশে মিলল আরও ধাতব বস্তু

        ‘যুদ্ধের কথা ভাবার পর্যায়ে পৌঁছে গেছি’, ব্রিটেনকে সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

        ডিজেলের দাম ছুঁল রেকর্ড ৬.৪৩ ডলার, জ্বালানি সংকটে বাড়তে পারে নিত্যপণ্যের দাম

        ছিপে উঠল ৬৪৮ পাউন্ডের বিশাল মাছ, সান ডিয়েগোর উপকূলে নতুন রেকর্ড

সংঘাতে সংকটে পড়েছেন রোহিঙ্গারা

সংঘাতে সংকটে পড়েছেন রোহিঙ্গারা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা সরকার ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাতে সংকটে পড়েছেন রোহিঙ্গারা৷ রাজ্যের মংডু ও বুথিডং এলাকায় কয়েকমাস ধরে এই সংঘাত চলছে৷ ঐ দুই শহরের বেশিরভাগ মানুষ রোহিঙ্গা মুসলিম৷ তবে বৌদ্ধরাও সেখানে বাস করেন৷


প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ৫ আগস্ট সীমান্তের নাফ নদীর কাছে হামলায় নারী ও শিশুসহ ২০০ জন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন৷ তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি৷


জার্মানির কোলন শহরের এশিয়া হাউস ফাউন্ডেশনের সহায়তায় জার্মানিতে বসবাসরত তিনজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেছে ডিডাব্লিউ৷ তারা কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নন৷ তাদের সঙ্গে রাখাইনে থাকা পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ রয়েছে৷

তাদের মধ্যে একজন উমর ফারুক জানান, ৪ থেকে ৬ আগস্টের মধ্যে তিনি ১৭ জন আত্মীয়কে হারিয়েছেন৷ প্রাণে বেঁচে যাওয়া দুজন বাংলাদেশে চলে যেতে পেরেছেন বলেও জানান তিনি৷


মুহাম্মদ হুসেইন নামের আরেক রোহিঙ্গা জানান, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জোর করে নিয়োগ করা হচ্ছে, অপহরণ করা হচ্ছে৷ আর অবরোধের কারণে ত্রাণ সহায়তা না পৌঁছানোয় মানুষ বিপদে আছে৷ তিনি বলেন, ‘‘মানুষকে রাস্তায় বাস করতে হচ্ছে৷ তাদের বাড়িতে যেতে দেওয়া হচ্ছে না, কিংবা তাদের বাড়িঘর ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে৷ পুরো কমিউনিটিতে ক্ষুধা ছড়িয়ে পড়েছে৷ বেশিরভাগ রোহিঙ্গা দিনে একবারের খাবারই জোগাড় করতে পারছেন না৷ তারা কলার পাতা ও অন্যকিছু খেয়ে বেঁচে আছেন৷''

ফারুক, হুসেইন ও জয়নুল মুস্তফা নামে জার্মানিতে বাস করা আরেক রোহিঙ্গা ডিডাব্লিউকে জানান, তাদের বিশ্বাস ৫ আগস্টের হামলা ও সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য আরাকান আর্মি, এএ দায়ী৷

রাখাইনে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়ছে এএ৷ রাখাইনে বাস করা বৌদ্ধদের রাজনৈতিক সংগঠন ‘ইউনাইটেড লিগ অফ আরাকান' ইউএলএ-র সশস্ত্র সংগঠন হচ্ছে এএ৷

এএ ও ইউএল-এর লক্ষ্য, রাখাইনে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গড়ে তোলা, যেখানে বৌদ্ধদের পাশাপাশি মুসলিমরাও থাকবেন৷

৭ আগস্ট এক বিবৃতিতে আরাকান আর্মি ৫ আগস্টের হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে৷ বরং তাদের অভিযোগ, হামলার জন্য মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও ‘কয়েকটি সন্ত্রাসবাদী মুসলিম সশস্ত্র গোষ্ঠী' দায়ী৷ বিবৃতিতে তিনটি রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর নামও উল্লেখ করা হয়৷ এগুলো হলো ‘আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি' বা আরসা, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গ্যানাইজেশন আরএসও এবং আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি এআরএ৷

‘বিভাজন ও শাসন' নীতি

ফ্রেঞ্চ স্কুল অফ দ্য ফার ইস্টের লেকচারার ইতিহাসবিদ জ্যাক লাইডার ডিডাব্লিউকে বলেন, রাখাইন শাসন করতে জান্তা সরকার বর্তমানে ‘বিভাজন ও শাসন' নীতি অনুসরণ করছে৷ যেমনটা ১৯৪৮ সাল থেকে করে আসছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী৷ তারা কোনো এলাকা শাসন করতে সেই এলাকার বিভিন্ন এথনিক গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত জিইয়ে রাখতো৷

লাইডার জানান, আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে লড়তে জান্তা সরকার জোর করে রোহিঙ্গাদের নিয়োগ দিচ্ছে৷

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা, আইওএম-এর সাবেক সমন্বয়ক পাউল গ্রিনিংস ২০২৩ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে লিখেছিলেন, ‘‘সামরিক বাহিনী আবারও রাখাইনে এথনিক কার্ড খেলছে৷''

এদিকে, জার্মানিতে বসবাসরত জয়নুল মুস্তফা ডিডাব্লিউকে বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি আরাকান আর্মির মনোভাব মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মতো, কিংবা তার চেয়েও খারাপ৷ তারা রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি৷

তবে মুস্তফার এই মন্তব্যের সঙ্গে একমত নন ফ্রেঞ্চ স্কুল অফ দ্য ফার ইস্টের লেকচারার লাইডার৷ রাখাইনের অন্য যেসব অংশ আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে আছে সেখানে রাখাইনদের সঙ্গে মুসলিম সংখ্যালঘুরা ভালোভাবে বসবাস করছেন বলে জানান তিনি৷

 

 

এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত