আপডেট :

        লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে এ বছর হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ

        নস্যাৎ হওয়া সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্য ছিল লস এঞ্জেলেসের ইহুদি প্রতিষ্ঠান

        রিপাবলিকান সিনেটরকে হারালেন ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী

        ট্রাম্পের সতর্কবার্তার পর তাইওয়ানের ঘোষণা: আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র

        যুক্তরাষ্ট্রে গোপন নজরদারি ও প্রচারণা: প্রবাসীদের ওপর চীনের গুপ্তচরবৃত্তির নতুন তথ্য ফাঁস

        যুক্তরাষ্ট্র-নাইজেরিয়ার যৌথ অভিযানে আইএসের শীর্ষ নেতা নিহত

        দমকা হাওয়ার কারণে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু এলাকায় অগ্নিঝুঁকির সতর্কতা

        নিরাপত্তা অনুমতির জটিলতায় লং বিচ প্রাইড উৎসব বাতিল

        তাইওয়ানকে স্বাধীনতা ঘোষণা না করার সতর্কবার্তা ট্রাম্পের

        রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা প্রস্তুত করছে যুক্তরাষ্ট্র

        ইহুদি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা, ইরাকি কমান্ডার গ্রেপ্তার

        ট্রাম্প–শি বৈঠক শেষ: অত্যন্ত সফল আলোচনা, তবে বড় কোনো চুক্তির স্পষ্ট ঘোষণা নেই

        লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিযান, জব্দ ৫০ লাখ ডলারের বেশি নকল বিলাসপণ্য

        ভয়াবহ আগুনে শিশুসহ তিনজন নিহত, পারিবারিক সহিংসতার সন্দেহ

        হাভানায় সিআইএ প্রধানের সফর, কিউবাকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তার প্রস্তাব

        বেইজিং সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ সিইওরা, তবু বড় কোনো অর্থনৈতিক চুক্তি হয়নি

        সুপ্রিম কোর্টের রায়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে গর্ভপাতের ওষুধ সরবরাহ আপাতত বহাল

        যুক্তরাষ্ট্রের বর্ডার প্যাট্রোল প্রধান মাইকেল ব্যাংকসের আকস্মিক পদত্যাগ

        ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

        ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক গভর্নর প্রার্থী স্টিফেন ক্লুবেক গ্রেপ্তার

তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পেছনে কারা ছিল?

তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পেছনে কারা ছিল?

তুরস্কে এর আগেও একাধিক সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে, কিন্তু ১৫ জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থানটি নানা কারণে নজিরবিহীন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ রকম একটা কিছু যে হতে পারে―তা কেউই ভাবেননি। কিন্তু কারা ছিল এর পেছনে? খবর : বিবিসি বাংলা।

অনেকে বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়েপ এরদোয়ানের অনুদার নীতির কারণে দেশটির সামরিক বাহিনীর মাঝারি পর্যায়ের অফিসারদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। কিন্তু এর কারণে যে একটা অভ্যুত্থান ঘটতে পারে, এমনটা তারাও ভাবেননি।

তুর্কি সাংবাদিক এজগি বাসারান বিবিসির জন্য লেখা তার এক বিশ্লেষণে বলছেন, ১৫ জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পেছনে কারা ছিল তা নিয়ে বেশ কয়েকটি তত্ত্ব বা ‘থিওরি’ বিভিন্ন মহলে ঘুরছে।

একটি হলো : প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তার নিজের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে এই ‘সাজানো’ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। কিন্তু এই তত্ত্বে যাই বলা হোক সাধারণ বুদ্ধিতেই বোঝা যায় যে, ঘটনা যত দূর গড়িয়েছিল-তা ‘সাজানো’ হতে পারে না।

আরেকটি তত্ত্ব অনুযায়ী : তুরস্কের সামরিক বাহিনীর মধ্যে দুটি গোষ্ঠী আছে। একদল হচ্ছেন যারা কামাল আতাতুর্কপন্থী-অর্থাৎ আধুনিকতাবাদী এবং ধর্মনিরপেক্ষ মনোভাবসম্পন্ন। আরেকটি গোষ্ঠী হচ্ছে একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা-বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত-ফেতুল্লাহ গুলেনের অনুসারী। এই গুলেন একসময় মি. এরদোয়ানের মিত্র ছিলেন, তবে পরে তাদের মধ্যে শত্রুতা এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। বলা হয়, তুরস্কের রাষ্ট্রীয় স্তরের গভীরে সর্বত্র গুলেনের সমর্থকরা বসে আছে-কিন্তু তাদের চিহ্নিত করা খুবই শক্ত।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এর আগে তার ভাষায় একটি ‘সন্ত্রাসবাদী সমান্তরাল রাষ্ট্রের হাত থেকে’ দেশকে মুক্ত করার কথা বলেছেন এবং বিভিন্ন সময় এদের ‘খুঁজে বের করা ও গ্রেফতারের’ অভিযান চালিয়েছেন।

এই দ্বিতীয় তত্ত্বটির প্রবক্তারা বলছেন, কামাল আতাতুর্কপন্থী অফিসাররা গুলেনপন্থীদের কৌশলে নিজেদের দলে টেনে নিয়ে এই অভ্যুত্থানটি ঘটিয়েছে। তাদের হিসাবটা ছিল, যদি এই অভ্যুত্থান যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে এরদোয়ানের পাল্টা ব্যবস্থার শিকার হবে গুলেনপন্থীরাই।

তৃতীয় আরেকটি তত্ত্ব এসেছে পুলিশের বিভিন্ন সূত্র থেকে। তাদের বক্তব্য―এরদোয়ানের একে পার্টি সরকার ১৬ জুলাই তারিখেই গুলেন-সমর্থক সামরিক কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করার পরিকল্পনা করেছিল-যা টের পেয়ে অভ্যুত্থানকারীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্রোহ ঘটিয়ে ফেলে। এটাই ছিল গুলেন সমর্থকদের ক্ষমতা দখলের একটা শেষ চেষ্টা।

এজগি বাসারান বলছেন, এসব তত্বে কিছু তথ্য সঠিক হলেও অনেক অসঙ্গতিও আছে।

প্রথমত, যেভাবে এই অভ্যুত্থানকারীরা সহিংসতা ঘটিয়েছে-তা গুলেন আন্দোলনের কর্মপদ্ধতির সাথে মেলে না।

দ্বিতীয়ত, অভ্যুত্থানকারীদের যে বিবৃতিটি টিভিতে পাঠ করা হয়েছিল-তার সাথে কামাল আতাতুর্কের বিখ্যাত বক্তৃতার ভাষার খুব মিল আছে। তবে গুলেনপন্থীরা এটাকে তাদের পরিচয় গোপন রাখার জন্যও ব্যবহার করে থাকতে পারে-এমন সম্ভাবনাও আছে।

একেপির সরকার অবশ্য বলছে, একজন সামরিক কৌঁসুলি এ অভ্যুত্থানের পেছনে ছিলেন, তার সাথে ছিলেন আরও ৪৬ জন অফিসার। এদের নাম গতকাল গভীর রাতে প্রকাশ করা হয়েছে।

তুরস্কে এর আগে ১৯৬০, ১৯৭১, ১৯৮০ এবং ১৯৯৭ সালে চারটি অভ্যুত্থান হয়েছে।


এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত