যুদ্ধবিরতির মাঝেই আবার হামলা, বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। নতুন এ সংঘর্ষে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর দিকে ছোড়া ইরানের চারটি একমুখী হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব ড্রোন আঞ্চলিক নৌ চলাচলের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ড্রোন হামলার পর ভবিষ্যৎ আক্রমণ প্রতিরোধে ইরানের গোরুক উপকূলীয় এলাকা এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।
এর জবাবে ইরান কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
তবে সেন্টকমের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান মোট সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এর মধ্যে ছয়টি প্রতিহত করা হয়েছে এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।
এর কয়েক দিন আগেও দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছিল, যা যুদ্ধবিরতিকে আরও নড়বড়ে করে তোলে।
বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বিমানবন্দর হামলার দায় অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে ওই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে সেন্টকম এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, কুয়েত বিমানবন্দরে হামলাটি ছিল ইরানের পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ।
এর আগে আইআরজিসি জানিয়েছিল, ইরানের একটি তেলবাহী জাহাজ এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে কোনো নতুন সমঝোতা এখনও এগোয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালায়। এর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
জবাবে ইরান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় রাখে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর ও অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ বহাল থাকবে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন