আপডেট :

        লস এঞ্জেলেসে পাইপলাইন ফেটে তেল ছড়িয়ে পড়ল রাস্তায়, পৌঁছাল এলএ নদীতেও

        সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানলে নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি, দমকল বাহিনীর স্বস্তি

        জ্বালানি সংকটের মধ্যেই ভারতে মার্কো রুবিও, তেল বিক্রিতে জোর যুক্তরাষ্ট্রের

        গ্রিন কার্ড পেতে এখন বেশিরভাগ আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আবেদন করতে হবে

        স্ট্যাটেন আইল্যান্ড জাহাজঘাটিতে বিস্ফোরণ, নিহত ১ আহত বহু দমকলকর্মী

        ইউএফও রহস্যে নতুন নথি প্রকাশ, “চারদিকে ছুটে বেড়ানো অরেঞ্জ অরব” দেখার দাবি

        তুলসি গ্যাবার্ডের পদত্যাগ, স্বামীর ক্যানসারের চিকিৎসায় পাশে থাকার সিদ্ধান্ত

        ক্যালিফোর্নিয়া গভর্নর দৌড়ে বেসেরার গতি বাড়ছে, রিপাবলিকান ভোট টানতে হিলটনের চেষ্টা

        লস এঞ্জেলেস মেয়র নির্বাচনে স্পেন্সার প্র্যাটকে সমর্থন ট্রাম্পের

        সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে একাধিক দাবানল, হাজারো মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

        রোলেক্স প্রতারণায় ১৫ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগ

        যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত অভিবাসীদের নিল সিয়েরা লিওন

        তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলবেন ট্রাম্প, কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা

        কিউবার সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হত্যা মামলা

        ইসলামিক সেন্টার হামলায় নিরাপত্তারক্ষী আমিন আবদুল্লাহ নায়ক হিসেবে সম্মানিত

        স্যান্ডি ফায়ারে সিমি ভ্যালির প্রায় ৪৪ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

        যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ উপ-রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগ

        ট্রাম্প-শি বৈঠকের পর বোয়িং থেকে ২০০ বিমান কিনবে চীন

        ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থীর কাছে পরাজিত ট্রাম্পবিরোধী রিপাবলিকান নেতা

        নিউইয়র্ক সিটিতে খোলা ম্যানহোলে পড়ে নারীর মৃত্যু

'ব্রিটেনের ওপর এতো রাগ থাকলে এদেশে আছেন কেনো?':শাকের আমের

'ব্রিটেনের ওপর এতো রাগ থাকলে এদেশে আছেন কেনো?':শাকের আমের

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে গুয়ান্তানামো
বে কারাগারে আটক ছিলেন এরকম একজন
ব্রিটিশ মুসলিম, শাকের আমের, উগ্র-
চরমপন্থিদেরকে যুক্তরাজ্য থেকে চলে
যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন।
চৌদ্দ বছর বন্দী থাকার পর গত অক্টোবর
মাসে তিনি লন্ডনে তার পরিবারের কাছে
ফিরে এসেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র মেইলকে দেওয়া
সাক্ষাৎকারে তিনি ব্রিটিশ সৈন্য লী
রিগবির ওপর হামলার মতো ঘটনাকে নিন্দা
জানিয়ে বলেছেন, “আপনি কাউকে হত্যা
করতে পারেন না।”
সাক্ষাৎকারে নিজের পরিবারের কাছে
ফিরে আসার আবেগঘন বর্ণনাও দিয়েছেন
তিনি।
আটচল্লিশ বছর বয়সী মি. আমের বলেছেন,
স্ত্রীর মুখ দেখার সাথে সাথে তার বহুদিনের
দুঃখ কষ্ট সব দূর হয়ে গেছে।
চার সন্তানের পিতা শাকের আমের। সবচে
ছোট সন্তানের মুখ তিনি দেশে ফেরার পরই
প্রথম দেখতে পেলেন।
তিনি বলেন, “স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরার পর
ক্লান্তি দুঃখ এসব কিছুই ছিলো না। আমি
তাকে বুকে টেনে নেই। সেও আমাকে
জাড়িয়ে ধরলো। তারপর আমরা শুধু কাঁদতে
থাকলাম।”
আফগানিস্তানে তালেবানের একটি
ইউনিটের নেতৃত্ব দেওয়া এবং আল কায়দা
নেতা ওসামা বিন লাদেনের সাথে দেখা
করার অভিযোগে তাকে আটক করে রাখা
হয়েছিলো।
কিন্তু তার বিরুদ্ধে কখনো চার্জ গঠন করা
হয়নি।
মি. আমের বলেছেন, গুয়ান্তানামো
কারাগারে মার্কিন সামরিক বাহিনী
জিজ্ঞাসাবাদের সময় বারবারই তার কাছে
জানতে চেয়েছে লন্ডনে কোনো জিহাদি
গ্রুপের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা আছে কীনা।
মি. আমের শুরু থেকেই এধরনের অভিযোগ
অস্বীকার করে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করেছেন, তাকে প্রায়
দুশোবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
এছাড়াও তার ওপর নির্যাতন চালানোরও
অভিযোগ করেছেন তিনি। বলেছেন, তাকে
ঠিকমতো ঘুমাতে দেওয়া হয়নি এবং প্রায়
বরফের মতো ঠাণ্ডা জায়গায় শেকল দিয়ে
বেঁধে রাখা হয়েছিলো।
যুক্তরাজ্যে চরমপন্থিদের হামলার ব্যাপারে
তিনি বলেন, “তাহলে আপনি এদেশে
বসবাসের অধিকার চান কিভাবে?
লোকজনের সাথে আপনি অভিনয় করছেন যে
আপনি একজন সাধারণ মানুষ। তারপর রাস্তায়
বের হয়ে তাকে হত্যা করছেন!”
তিনি বলেন, ইসলাম এধরনের হত্যাকাণ্ডকে
কখনো সমর্থন করে না।
“যুদ্ধের মধ্যেও আপনি যে কাউকে হত্যা
করতে পারেন না। শিশু হত্যা করতে পারেন
না। রাস্তায় গিয়ে লোকজনকে ছুরি মারতে
শুরু করতে পারেন না।”
তিনি বলেন, “এই দেশের ওপর যদি আপনার
এতো রাগ থাকে তাহলে আর এদেশে আছেন
কেনো? এখান থেকে অন্য কোথাও চলে
যান।”
ব্রিটেনে মুসলমানদের সাথে অমুসলিমদের
সম্পর্ক নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ
করেছেন।
তবে তিনি বলেছেন, “কিছু করার আগেই যদি
কাউকে সন্ত্রাসী বলে মনে করা হয় তাহলে
কিন্তু তাকে সেদিকেই ঠেলে দেওয়া হয়।”
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার
পর আফগানিস্তান থেকে তাকে আটক করা
হয় এবং ২০০২ সালে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের
হাতে তুলে দেওয়া হলে তাকে
গুয়ান্তানামো বে কারাগারে নিয়ে যাওয়া
হয়।
তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ২০০৭ সালেই
প্রত্যাহার করা হয়েছিলো কিন্তু তারপরেও
তার মুক্তি পেতে আরো আট বছর অপেক্ষা
করতে হয়েছে।
তিনি জানান, সে সময় তিনি সপরিবারে
তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানে
বসবাস করতেন।
তিনি যে ছাড়া পেয়ে কখনো দেশে ফিরে
আসবেন সেটাও তিনি কখনো বিশ্বাস করতে
পারেন নি।
মি. আমের বলেছেন, বিমান বন্দরে জানালা
দিয়ে যখন তিনি যুক্তরাজ্যের মাটি দেখতে
পান তখনই তার বিশ্বাস হয় যে তিনি দেশে
ফিরে আসছেন।

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত