আপডেট :

        ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন বিচারক

        যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের বৈধ অভিবাসনে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন

        ফেডারেল অর্থ বন্ধের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ, লস এঞ্জেলেসের ১৪০ আবাসন প্রকল্প সুরক্ষিত

        নভেম্বরে ১১ বিলিয়ন ডলারের আবাসন বন্ড নিয়ে ভোট দেবেন ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা

        হত্যার কয়েক মিনিট আগে টুপাক শাকুরের শেষ ছবি, আদালতে সাক্ষ্য দেবেন আলোকচিত্রী

        নাটালি হার্প কে, ট্রাম্পের এত ঘনিষ্ঠ সহকারী কেন?

        বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র

        ইরানকে সহায়তা করলে ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

        ক্যালিফোর্নিয়ায় কিছু টায়ার বিক্রিতে নতুন নিয়ম, বাড়তে পারে দাম

        খেলনা পিস্তল হাতে দাঁড়ানো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে পুলিশের গুলি, অল্পের জন্য বাঁচলেন

        ভয়ংকর পুতুলের মুখোশ পরে ফিলাডেলফিয়ায় বাসিন্দাদের ধাওয়া, আতঙ্ক

        মর্গের ব্যবস্থাপক দেহের অঙ্গ বিক্রি করায় ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার দেবে হার্ভার্ড

        কানাডার ওপর নতুন শুল্ক তিন দিন পিছিয়ে দিলেন ট্রাম্প, চুক্তির কাছাকাছি দুই দেশ

        যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া ছয় দিন কমল

        বাজেট সংকটে রিভারসাইড কাউন্টিতে ৬২২ শেরিফের পদ কমানোর আশঙ্কা

        লস এঞ্জেলেস মেয়র নির্বাচনে বাসকে এগিয়ে দেখানো জরিপটি ভুয়া

        ই জিন ক্যারল মামলায় ট্রাম্পের আবেদন ফের খারিজ

        ওমানকে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের, ইরান চুক্তি নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা

        ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলিতে ৫ জন আহত, আলমারি থেকে তরুণ আটক

        ইউএসএস লিংকনে মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে: মার্কিন কমান্ডার

'ব্রিটেনের ওপর এতো রাগ থাকলে এদেশে আছেন কেনো?':শাকের আমের

'ব্রিটেনের ওপর এতো রাগ থাকলে এদেশে আছেন কেনো?':শাকের আমের

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে গুয়ান্তানামো
বে কারাগারে আটক ছিলেন এরকম একজন
ব্রিটিশ মুসলিম, শাকের আমের, উগ্র-
চরমপন্থিদেরকে যুক্তরাজ্য থেকে চলে
যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন।
চৌদ্দ বছর বন্দী থাকার পর গত অক্টোবর
মাসে তিনি লন্ডনে তার পরিবারের কাছে
ফিরে এসেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র মেইলকে দেওয়া
সাক্ষাৎকারে তিনি ব্রিটিশ সৈন্য লী
রিগবির ওপর হামলার মতো ঘটনাকে নিন্দা
জানিয়ে বলেছেন, “আপনি কাউকে হত্যা
করতে পারেন না।”
সাক্ষাৎকারে নিজের পরিবারের কাছে
ফিরে আসার আবেগঘন বর্ণনাও দিয়েছেন
তিনি।
আটচল্লিশ বছর বয়সী মি. আমের বলেছেন,
স্ত্রীর মুখ দেখার সাথে সাথে তার বহুদিনের
দুঃখ কষ্ট সব দূর হয়ে গেছে।
চার সন্তানের পিতা শাকের আমের। সবচে
ছোট সন্তানের মুখ তিনি দেশে ফেরার পরই
প্রথম দেখতে পেলেন।
তিনি বলেন, “স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরার পর
ক্লান্তি দুঃখ এসব কিছুই ছিলো না। আমি
তাকে বুকে টেনে নেই। সেও আমাকে
জাড়িয়ে ধরলো। তারপর আমরা শুধু কাঁদতে
থাকলাম।”
আফগানিস্তানে তালেবানের একটি
ইউনিটের নেতৃত্ব দেওয়া এবং আল কায়দা
নেতা ওসামা বিন লাদেনের সাথে দেখা
করার অভিযোগে তাকে আটক করে রাখা
হয়েছিলো।
কিন্তু তার বিরুদ্ধে কখনো চার্জ গঠন করা
হয়নি।
মি. আমের বলেছেন, গুয়ান্তানামো
কারাগারে মার্কিন সামরিক বাহিনী
জিজ্ঞাসাবাদের সময় বারবারই তার কাছে
জানতে চেয়েছে লন্ডনে কোনো জিহাদি
গ্রুপের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা আছে কীনা।
মি. আমের শুরু থেকেই এধরনের অভিযোগ
অস্বীকার করে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করেছেন, তাকে প্রায়
দুশোবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
এছাড়াও তার ওপর নির্যাতন চালানোরও
অভিযোগ করেছেন তিনি। বলেছেন, তাকে
ঠিকমতো ঘুমাতে দেওয়া হয়নি এবং প্রায়
বরফের মতো ঠাণ্ডা জায়গায় শেকল দিয়ে
বেঁধে রাখা হয়েছিলো।
যুক্তরাজ্যে চরমপন্থিদের হামলার ব্যাপারে
তিনি বলেন, “তাহলে আপনি এদেশে
বসবাসের অধিকার চান কিভাবে?
লোকজনের সাথে আপনি অভিনয় করছেন যে
আপনি একজন সাধারণ মানুষ। তারপর রাস্তায়
বের হয়ে তাকে হত্যা করছেন!”
তিনি বলেন, ইসলাম এধরনের হত্যাকাণ্ডকে
কখনো সমর্থন করে না।
“যুদ্ধের মধ্যেও আপনি যে কাউকে হত্যা
করতে পারেন না। শিশু হত্যা করতে পারেন
না। রাস্তায় গিয়ে লোকজনকে ছুরি মারতে
শুরু করতে পারেন না।”
তিনি বলেন, “এই দেশের ওপর যদি আপনার
এতো রাগ থাকে তাহলে আর এদেশে আছেন
কেনো? এখান থেকে অন্য কোথাও চলে
যান।”
ব্রিটেনে মুসলমানদের সাথে অমুসলিমদের
সম্পর্ক নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ
করেছেন।
তবে তিনি বলেছেন, “কিছু করার আগেই যদি
কাউকে সন্ত্রাসী বলে মনে করা হয় তাহলে
কিন্তু তাকে সেদিকেই ঠেলে দেওয়া হয়।”
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার
পর আফগানিস্তান থেকে তাকে আটক করা
হয় এবং ২০০২ সালে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের
হাতে তুলে দেওয়া হলে তাকে
গুয়ান্তানামো বে কারাগারে নিয়ে যাওয়া
হয়।
তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ২০০৭ সালেই
প্রত্যাহার করা হয়েছিলো কিন্তু তারপরেও
তার মুক্তি পেতে আরো আট বছর অপেক্ষা
করতে হয়েছে।
তিনি জানান, সে সময় তিনি সপরিবারে
তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানে
বসবাস করতেন।
তিনি যে ছাড়া পেয়ে কখনো দেশে ফিরে
আসবেন সেটাও তিনি কখনো বিশ্বাস করতে
পারেন নি।
মি. আমের বলেছেন, বিমান বন্দরে জানালা
দিয়ে যখন তিনি যুক্তরাজ্যের মাটি দেখতে
পান তখনই তার বিশ্বাস হয় যে তিনি দেশে
ফিরে আসছেন।

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত