ক্যালিফোর্নিয়ায় সম্ভাব্য সিরিয়াল কিলার, চার হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হলে ‘কমন সেন্স’ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি স্টিভ হিলটনের
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিভ হিলটন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনে জিতলে রাজ্যকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে বের করে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিপাবলিকান প্রার্থী হিলটন বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার ঐতিহ্যগত উদ্ভাবনী শক্তি ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা গত ১৬ বছরের ডেমোক্র্যাট শাসনে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, তার প্রচারণার মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যের মানুষের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা।
২০১২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস শুরু করা হিলটন নিজেকে রাজনৈতিক ‘বহিরাগত’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, তার রাজনীতি কোনো দলীয় আদর্শের ওপর নয়, বরং “কমন সেন্স” বা সাধারণ যুক্তির ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
হিলটনের নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে কর কমানো, সরকারি ব্যয় সংকোচন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কমানো এবং জ্বালানি ও আবাসন খরচ হ্রাস। তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, প্রথম ১ লাখ ডলার আয় পর্যন্ত কোনো কর আরোপ করা হবে না।
সাবেক ব্রিটিশ কনজারভেটিভ রাজনীতিক হিলটন একসময় “বিগ সোসাইটি” নীতির অন্যতম রূপকার ছিলেন। পরে তিনি ২০১৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাথমিক সমর্থকদের একজন হয়ে ওঠেন।
ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হিলটন বলেন, এটি ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য সুবিধাজনক হবে। তার মতে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করলে জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো এবং খরচ কমানো সহজ হবে।
অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রেও তিনি পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। হাঙ্গেরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিলটন নিজেকে বৈধ অভিবাসীদের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ‘সাংকচুয়ারি স্টেট’ নীতির বিরোধিতা করেন, যা ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সীমিত সহযোগিতার সুযোগ দেয়।
তার ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী জেভিয়ার বেসেরা হিলটনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। বেসেরা বলেন, হিলটন নির্বাচিত হলে ক্যালিফোর্নিয়া কার্যত ট্রাম্পের হাতে চলে যাবে এবং রাজ্যের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।
যদিও ক্যালিফোর্নিয়া দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, হিলটন মনে করেন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের দাবি জোরালো হয়েছে। তার দাবি, অনেক ভোটার মনে করেন ক্যালিফোর্নিয়া ভুল পথে এগোচ্ছে এবং তারা নতুন নেতৃত্ব চান।
আসন্ন নভেম্বরের নির্বাচনে হিলটনের বার্তা রিপাবলিকান ভোটারদের বাইরে স্বাধীন ভোটারদেরও আকৃষ্ট করতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। যুক্তরাজ্যের রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই রাজনীতিক মার্কিন রাজনীতিতে নিজেকে কতটা সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন