আপডেট :

        লস এঞ্জেলেসে মেয়র নির্বাচন ঘিরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, স্থানীয় বিভিন্ন পদেও ভোটের ফল

        ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচিত জাভিয়ের বেসেরা, দেশজুড়ে ডেমোক্র্যাটদের একের পর এক জয়

        যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, কখন জানা যাবে নির্বাচনের ফল

        কারাগার থেকে পালিয়ে ৯ দিন পলাতক, মিসৌরিতে কাদায় আটকে ধরা পড়ল খুনি

        রিপাবলিকানদের দুর্গে ডেমোক্র্যাটদের নজিরবিহীন জয়, বদলাচ্ছে মার্কিন রাজনীতির সমীকরণ

        ট্রাম্পের বাতিল করা ভিসা কর্মসূচি আপাতত বন্ধই থাকছে, আদালতে বড় ধাক্কা আবেদনকারীদের

        ক্যালিফোর্নিয়ার ২০ হাজার ভোট আটকে দেওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন আবারও খারিজ

        অস্বাভাবিক জোয়ারে হান্টিংটন বিচে ১১৪ স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি, আরও বন্যার আশঙ্কা শহর কর্তৃপক্ষের

        ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে টম জোন্সের চারটি কনসার্ট স্থগিত, ভক্তদের কাছে দুঃখ প্রকাশ

        দুই দফা প্রা ণঘাতী ইনজেকশনেও মৃ ত্যু হয়নি, হাসপাতালে জ্ঞান ফিরল মৃ ত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারীর

        ইসরায়েলের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ, আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি নেতানিয়াহুর দলের

        ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনা সহজ করতে ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচি, ভোট হবে প্রস্তাব ৩৭-এ

        আবাসন ব্যয় কমানোর লক্ষ্য, ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিবেশগত পর্যালোচনার নিয়ম বদলাতে প্রস্তাব ৪৫

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রেনের পণ্য চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৯, সিনালোয়া কার্টেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি পুলিশের

        কোরিয়ান স্পার ভিড় পেরিয়ে লস এঞ্জেলেসে রুশ বাথহাউসের ভিন্ন জগৎ, আছে পুরোনো ঐতিহ্য

        কাজ করে, গাড়ি চালায়, করও দেয় কিশোরেরা, এবার ভোটাধিকার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ক্যালিফোর্নিয়ার এই শহর

        হলিউড সাইনের পাশে বসবাস যেন দুর্ভোগ, পর্যটকদের ফেলে যাওয়া ময়লায় অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা

        নিউপোর্ট বিচে এল নিনোর দাপট, জোয়ার ও বন্যার চাপে বিপর্যস্ত উপকূলীয় জনজীবন

        লস এঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে ব্যবধান ঘুচিয়ে রমনের সঙ্গে সমান অবস্থানে বাস, বলছে নতুন জরিপ

        কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্পের পরিবার থেকে পেন্টাগন, চারটি তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, কখন জানা যাবে নির্বাচনের ফল

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, কখন জানা যাবে নির্বাচনের ফল

ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে আসতে শুরু করেছে ফলাফল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করতে যাওয়া এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, তা জানতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহও অপেক্ষা করতে হতে পারে।

নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে, নাকি বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাবে। এর ওপর নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, বাজেট এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সক্ষমতা।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেতে কত আসন প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুটি কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট।

প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোনো দলকে অন্তত ২১৮টি আসন জিততে হবে। নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল খুবই সংকীর্ণ। ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে নিট তিনটি আসন বাড়াতে হবে।

সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে এবার ৩৫টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ৫১টি আসন প্রয়োজন। তবে সিনেটে ৫০-৫০ সমতা হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের টাই-ব্রেকিং ভোটের কারণে রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন।

নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি, ডেমোক্র্যাটদের ৪৫টি এবং দুইজন স্বতন্ত্র সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিতেন। ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসনে নিট জয় প্রয়োজন।

কখন আসতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ফল

ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর প্রথম দিকের ফল সাধারণত সামগ্রিক নির্বাচনী চিত্র স্পষ্ট করে না। কেনটাকি ও ইন্ডিয়ানার মতো রিপাবলিকানদের শক্তিশালী রাজ্য এবং ভারমন্টের মতো ডেমোক্র্যাটদের ঘাঁটি থেকে আগে ফল আসতে পারে। এসব রাজ্যের ফল প্রত্যাশিত হলে তা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খুব বেশি ধারণা দেবে না।

নির্বাচনী বিশ্লেষকদের নজর থাকবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর দিকে। বিশেষ করে ওহাইও, মেইন, আইওয়া, টেক্সাস, কানসাস ও আলাস্কার সিনেট নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।

ওহাইওতে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পর ফল রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে। মেইনের সিনেট নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে কোনো প্রার্থী প্রথম পছন্দের ভোটে ৫০ শতাংশের বেশি না পেলে র‌্যাঙ্কড-চয়েস ভোট গণনার পরবর্তী ধাপে যেতে হয়। এতে চূড়ান্ত ফল আসতে দেরি হতে পারে।

টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো ও রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের লড়াই বিশেষভাবে আলোচিত। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে তা দলটির সিনেট নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রতিনিধি পরিষদের ক্ষেত্রে নিউইয়র্কের ১৭তম, পেনসিলভানিয়ার ৮ম এবং ভার্জিনিয়ার ১ম কংগ্রেসনাল জেলার মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলো ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

২০২২ সালের নির্বাচনে ফল জানতে কত সময় লেগেছিল

২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা নির্বাচনের পরও কয়েক দিন স্থায়ী হয়েছিল। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে ধারণা করা হলেও সিনেটের লড়াই ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

১৭ নভেম্বর প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের ২১৮টি আসন নিশ্চিত হওয়ার পর দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। সিনেটে নেভাডার গুরুত্বপূর্ণ আসনের ফল গণনা করতে চার দিন লেগেছিল। সেখানে ডেমোক্র্যাটদের জয় দলটিকে ৫০ আসনে পৌঁছে দেয়। তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের টাই-ব্রেকিং ভোটের কারণে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে।

জর্জিয়ার সিনেট নির্বাচনেও কোনো প্রার্থী নভেম্বরের ভোটে ৫০ শতাংশ না পাওয়ায় রান-অফ অনুষ্ঠিত হয়। ৬ ডিসেম্বরের সেই ভোটে ডেমোক্র্যাটরা জয় পায়।

ভোট গণনায় দেরি হয় কেন

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি অঙ্গরাজ্য নিজস্ব নিয়মে নির্বাচন পরিচালনা করে। কোথাও নির্বাচনের আগেই ডাকযোগে পাঠানো ও আগাম ভোট গণনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়, আবার কোথাও নির্বাচনের দিন থেকে গণনা শুরু হয়।

ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটের খাম যাচাই, ভোটারের স্বাক্ষর পরীক্ষা এবং ব্যালট প্রক্রিয়াকরণে সময় লাগে। ক্যালিফোর্নিয়ার মতো বড় রাজ্যে নির্বাচনের দিন জমা পড়া বিপুলসংখ্যক ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গণনা করতে কয়েক দিন বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। আলাস্কা ও মেইনের মতো রাজ্যে র‌্যাঙ্কড-চয়েস ভোট গণনার নিয়মও ফল ঘোষণায় বিলম্ব ঘটাতে পারে।

ভোটের ব্যবধান খুব কম হলে পুনর্গণনা, আইনি চ্যালেঞ্জ কিংবা নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগও ফল চূড়ান্ত হতে দেরি করাতে পারে।

ফল চূড়ান্ত হওয়ার প্রক্রিয়া

ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর স্থানীয় ও কাউন্টি পর্যায়ে ফল যাচাই করা হয়। এরপর অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে ফল প্রত্যয়ন করা হয়। নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীরা নির্দিষ্ট নিয়মে পুনর্গণনা বা আইনি চ্যালেঞ্জের আবেদন করতে পারেন।

নির্বাচিত নতুন সদস্যরা সাধারণত ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

সব মিলিয়ে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে শুধু দ্রুত আসা ফল নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর চূড়ান্ত গণনা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবধান যত কম হবে, ফল জানতে অপেক্ষাও তত দীর্ঘ হতে পারে।

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত