লস এঞ্জেলেসে মেয়র নির্বাচন ঘিরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, স্থানীয় বিভিন্ন পদেও ভোটের ফল
লস এঞ্জেলেসে মেয়র নির্বাচন ঘিরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, স্থানীয় বিভিন্ন পদেও ভোটের ফল
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে লস এঞ্জেলেসের মেয়র পদসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনের ফল নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরের মেয়র পদে বর্তমান মেয়র কারেন বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিটি কাউন্সিল সদস্য নিথিয়া রামান। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে বাস সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও ভোট গণনা শেষ না হওয়ায় এখনই বিজয়ী নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাসের সামনে ছিল দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বে থাকার চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে রামান প্রচারণায় শহরের নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। নির্বাচনের আগে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বেশ তীব্র। বার্কলে ইনস্টিটিউট অব গভর্নমেন্টাল স্টাডিজ ও লস এঞ্জেলেস টাইমসের যৌথ জরিপে দুজনের সমর্থনই ছিল ৪০ শতাংশ। তখনো ১৯ শতাংশ ভোটার সিদ্ধান্ত নেননি।
প্রাথমিক ভোট গণনায় বাস সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তবে পরবর্তী সময়ে গণনা হওয়া মেইল ব্যালটের একটি বড় অংশ রামানের পক্ষে যেতে পারে বলে নির্বাচনী বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ব্যবধান কম থাকায় ফল নির্ধারণে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
২০২৫ সালের প্যালিসেডসের ভয়াবহ দাবানল মোকাবিলায় বাসের ভূমিকা এবং শহরের দীর্ঘদিনের গৃহহীন সংকট এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে ওঠে। বাস তাঁর প্রথম মেয়াদের কাজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেছেন, গৃহহীন মানুষের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নে তাঁর প্রশাসন অগ্রগতি করেছে। তিনি আরও পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
অন্যদিকে রামান শহরের গৃহহীন সংকট, আবাসন সমস্যা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাসের সমালোচনা করেছেন। নির্বাচিত হলে ২০২৮ সালের মধ্যে তাঁবু ও অস্থায়ী শিবিরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা অন্তত ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন তিনি। এ জন্য গৃহহীন মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া, আবাসনের সুযোগ বাড়ানো এবং সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
নিরাপত্তা ও পুলিশ বিভাগের ভূমিকা নিয়েও দুই প্রার্থীর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। রামান পুলিশ বিভাগের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন। প্রয়োজনে পুলিশপ্রধান জিম ম্যাকডোনেলকে বদলানোর বিষয়টিও তাঁর প্রচারণায় এসেছে। বাসের মতে, অলিম্পিক আয়োজনের আগে এ ধরনের পরিবর্তন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ২০২৮ সালে লস এঞ্জেলেসে অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মেয়র নির্বাচনের পাশাপাশি লস এঞ্জেলেস শহরের সিটি অ্যাটর্নি পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। এ পদে লড়ছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মারিসা রয় এবং লস এঞ্জেলেস কাউন্টির ডেপুটি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জন ম্যাককিনি। শহরের সিটি কাউন্সিলের দুটি আসন এবং আটটি ব্যালট প্রস্তাব নিয়েও ভোট দিয়েছেন বাসিন্দারা। এসব প্রস্তাবের মধ্যে কর, অগ্নিনিরাপত্তা, বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর পরিচালনা এবং পার্কের মান উন্নয়নের বিষয় রয়েছে।
লস এঞ্জেলেস কাউন্টির অন্যান্য এলাকাতেও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাউন্টির শেরিফ পদে বর্তমান শেরিফ রবার্ট লুনার মুখোমুখি হয়েছেন তাঁর সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যালেক্স ভিলানুয়েভা। ২০২২ সালের নির্বাচনে লুনার কাছে পরাজিত হয়েছিলেন ভিলানুয়েভা। এবার আবারও দায়িত্ব ফিরে পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।
কাউন্টির ৮৮টি শহরের মধ্যে ছয়টিতে মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এগুলো হলো লস এঞ্জেলেস, কম্পটন, এল মন্টে, ইংলউড, লনডেল ও মনরোভিয়া। পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে সিটি কাউন্সিল, স্কুল ও কমিউনিটি কলেজ বোর্ড, সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক এবং পানি ব্যবস্থাপনা সংস্থার পরিচালনা পর্ষদের পদেও ভোট হয়েছে। কাউন্টিজুড়ে প্রায় ১০০টি সিটি কাউন্সিল আসন নির্বাচনের আওতায় ছিল।
স্থানীয় বিভিন্ন প্রস্তাব ও চার্টার সংশোধনী নিয়েও ভোট দিয়েছেন বাসিন্দারা। এর মধ্যে কিছু প্রস্তাবে সরকারি সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে বন্ড ইস্যু এবং নতুন কর আরোপের বিষয় রয়েছে। কাউন্টি পর্যায়ে মেজার এ এবং মেজার ই নিয়েও ভোট হয়েছে। মেজার এ-তে জননিরাপত্তা খাতের শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে বাধ্যতামূলক সালিশের প্রস্তাব রয়েছে। মেজার ই-তে কাউন্টি প্রশাসনের নৈতিকতা-সংক্রান্ত সংস্কার এবং কারাগারের বিকল্প কর্মসূচির অর্থায়ন নিয়ে বিধান অন্তর্ভুক্ত করার বিষয় রয়েছে।
ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব স্থানীয় নির্বাচনের ফল পরিবর্তিত হতে পারে। লস এঞ্জেলেস কাউন্টি কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন ফেরত আসা মেইল ব্যালট সাত দিনের মধ্যে পৌঁছালে সেগুলোও গণনায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই প্রয়োজন এমন ব্যালট এবং সাময়িক ভোটের হিসাবও পরে যুক্ত হবে।
কাউন্টির নির্বাচনী ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করতে ৩০ দিন পর্যন্ত সময় রয়েছে। তাই প্রাথমিক ফলাফলে কোনো প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও সেটিকে চূড়ান্ত জয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। লস এঞ্জেলেসের মেয়র থেকে শুরু করে কাউন্টি শেরিফ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচনে চূড়ান্ত ফল জানতে ভোটারদের আরও অপেক্ষা করতে হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন