মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগের মুখে বিষয় ঘোরাতে চাইছে ক্যালিফোর্নিয়া
জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ১০ জন গ্রেফতার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আজাদসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যায় বসুন্ধরায় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে এক বৈঠক থেকে জামায়াতের সাত কেন্দ্রীয় নেতাসহ ১০ জনকে পুলিশ আটক করে। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেনÑ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব, অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসাইন ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের ডিসি মো: আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, সন্ধ্যায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন তারা। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভাটারা থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেফতারের পর তাদেরকে থানায় নেয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জামায়াতের প্রতিবাদ : সেক্রেটারি জেনারেলসহ নেতাদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমান। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দেশে বিদ্যমান ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে জামায়াত জনগণের পাশে থেকে সেবা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। জামায়াতের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে গতকাল বিকেলে সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে এক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এ বৈঠক থেকে সরকার অন্যায়ভাবে জামায়াতের সাতজন কেন্দ্রীয় নেতাসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করে।’
তিনি বলেন, দেশে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি চলছে। সরকার দীর্ঘ এক যুগ ধরে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। কোনো দলকেই তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দিচ্ছে না। সরকারের সবচেয়ে জুলুম-নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালানো হয়েছে। অনেককে গুম করা হয়েছে ও পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। শত জুলুম বুকে ধারণ করে জামায়াত নিয়মতান্ত্রিকভাবে তার স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে করোনাভাইরাসের ১৮ মাসে জামায়াত জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা দেয়ার চেষ্টা করেছে।
জামায়াতের আমির আরো বলেন, প্রত্যেক রাজনৈতিক দলেরই তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করার অধিকার আছে। এটা দেশের জনগণের নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার থেকে বঞ্চিত করার এখতিয়ার কারো নেই। গায়ের জোরে বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। অতীতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ের কোনো আন্দোলনকে দমন করা যায়নি। এখনো যাবে না ইনশা আল্লাহ।
তিনি সব ষড়যন্ত্র ও জুলুম-নিপীড়ন বন্ধ করে জামায়াতের গ্রেফতারকৃত সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আজাদসহ গ্রেফতারকৃত ১০ জনকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
লেবার পার্টির নিন্দা : জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১০ নেতাকে দলীয় বৈঠক থেকে গ্রেফতার করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব লায়ন ফারুক রহমান ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ উদ্দিন।
লেবার পার্টির নেতারা এক বিবৃতিতে বলেন, সরকার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি থেকে জামায়াতের শীর্ষনেতাদের গ্রেফতারের ঘটনা বিরোধী দল ও মতের শক্তিকে নির্মূলের অংশ মাত্র। দুর্নীতিবাজ, লুটেরা ও গণবিরোধী সরকার জনগণের দৃষ্টি আড়াল করতে বিএনপি-জামায়াতের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্রা ক্রমেই বাড়িয়ে দিয়েছে। লেবার পার্টি অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানান।
এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/বি
[এলএ বাংলাটাইমসের সব নিউজ আরও সহজভাবে পেতে ‘প্লে-স্টোর’ অথবা ‘আই স্টোর’ থেকে ডাউনলোড করুন আমাদের মোবাইল এপ।]
News Desk
শেয়ার করুন