নিম্নচাপের প্রভাব উপকূলজুড়ে, বিপর্যস্ত জনজীবন
ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপে তিনদিন ধরে উপকূলজুড়ে হালকা গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হলেও রবিবার সকাল থেকে পটুয়াখালীর বিস্তীর্ণ জনপদজুড়ে থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বাতাসের চাপ কিছুটা বাড়ায় বঙ্গোপসাগর কিছুটা উত্তাল হয়ে আছে।
গত তিনদিনেও এ জনপদে দেখা মেলেনি সূর্যের। এর ফলে বয়ে চলা হিমেল হাওয়ায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। এদিকে রবিবার সকাল ৯টা থেকে সোমবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিস।
পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘রবিবার সন্ধ্যা ছয়টায় নিম্নচাপটি পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৫০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিলো। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে।’
ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ শক্তি হারিয়ে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। সাগর উত্তাল ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলোসহ বিভিন্ন জেলায় গুড়িগুড়ি ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে হঠাৎ করেই শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীসহ কর্মজীবী মানুষ। স্বাভাবিক কর্মে স্থবিরতা নেমে শহর থেকে গ্রামীণ জনপদে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও পড়েছে এর প্রভাব।
সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা কয়েক হাজার পর্যটক কার্যত হয়ে পড়েছেন হোটেলবন্ধী। দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ না করেই অনেক পর্যটক বাড়ি ফিরে গেছেন।
হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে অনেক পর্যটক তাদের আগাম বুকিং বাতিল করেছেন। বেশ কিছু অবস্থানের জন্য যেসব পর্যটন এসেছিলেন তারা অনেকেই প্রোগ্রাম বাতিল করে ফিরে গেছেন।
নিম্নচাপের প্রভাবে হঠাৎ করেই টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে কৃষিতে। অনেক কৃষকের পাকা আমন ধান ক্ষেতেই নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চাষকৃত রবিশষ্য এবং মৌসুমি সবজি ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে আগাম তরমুজ চাষিরা।
তরমুজ চাষিরা জানায়, টানা বৃষ্টির কারণে সদ্য চাষকৃত ক্ষেতে বপনকৃত বীজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। পোকার আক্রমণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। এর আক্রমণে ফসলের পুনরায় ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
তাই পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সকল মাছ ধরা ট্রলার সমূহকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/বি
[এলএ বাংলাটাইমসের সব নিউজ আরও সহজভাবে পেতে ‘প্লে-স্টোর’ অথবা ‘আই স্টোর’ থেকে ডাউনলোড করুন আমাদের মোবাইল এপ।]
News Desk
শেয়ার করুন