আপডেট :

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ ফুটেরও বেশি উঁচু ঢেউ, সার্ফারদের ভিড় নিউপোর্ট বিচে

        ৪ বছর বয়সী শিশুহত্যা মামলায় পুরস্কার বেড়ে ৮৫ হাজার ডলার

        ক্যালিফোর্নিয়ায় নার্সের বিরুদ্ধে ৭৭ ফৌজদারি অভিযোগ

        ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সহপাঠীকে হত্যার দায়ে কিশোরের ৩৫ বছরের কারাদণ্ড

        ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনে এগিয়ে ট্রাম্প-সমর্থিত স্টিভ হিলটন

        হরমুজ প্রণালিতে হেলিকপ্টার ভূপাতিতের পর যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

        হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিরাপদে আছেন পাইলটরা: ট্রাম্প

        মেয়েকে বাঁচাতে অনুপ্রবেশকারীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ, নিহত সন্দেহভাজন

        এনবিএ ফাইনালে ট্রাম্প, নিউইয়র্কে দুয়োধ্বনির মুখে প্রেসিডেন্ট

        লস এঞ্জেলেস মেয়র দৌড়ে এগিয়ে নিত্যা রামান

        শেয়ারবাজারে আসছে ওপেনএআই, বাড়ছে এআই প্রতিযোগিতা

        কারাগার থেকে ট্রাম্পের ক্ষমা চাইলেন ব্যাংকম্যান-ফ্রাইড

        লস এঞ্জেলেস মেয়র নির্বাচনে স্পেন্সার প্র্যাটকে ছাড়িয়ে গেলেন নিত্যা রমন

        জাপানে নিখোঁজ মার্কিন শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

        নিউইয়র্কের পেন স্টেশনে ছুরিকাঘাতে আহত ৬

        ফিলিপাইনে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহতের খবর

        নির্বাচনী কারচুপির দাবি নিয়ে চাপে পড়ে সাক্ষাৎকার ত্যাগ ট্রাম্পের

        ডি-ডে ভাষণে ইউরোপের অভিবাসন নীতির সমালোচনা হেগসেথের

        নকল বোর্ডিং পাসে বিমানে উঠে পড়লেন যাত্রী

        সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় কুকুর চুরি, ২৭ ডলারে বিক্রির পর খেয়ে ফেলার অভিযোগ

তিন সংস্থার তদন্তেও উত্তর মিলল না মৃত্যু রহস্যের

তিন সংস্থার তদন্তেও উত্তর মিলল না মৃত্যু রহস্যের

পুলিশের তিনটি সংস্থার তদন্তেও চট্টগ্রামে স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিনের মৃত্যু নিয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাব মেলেনি। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্ত প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে জটিলতায় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে সে।

তবে তিন সংস্থার কেউই তার মরদেহে একাধিক আঘাত ও ক্ষতের কারণ জানাতে পারেনি। নগরী থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে কর্ণফুলী নদীর মোহনার কাছে নেভাল একাডেমি পয়েন্ট এলাকায় তাসফিয়া যে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গিয়েছিল, সেই চালকের খোঁজও বের করতে পারেনি।

চট্টগ্রামের সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল তাসফিয়া। ২০১৮ সালের ২ মে পতেঙ্গায় নেভাল একাডেমির কাছে কর্ণফুলী নদীর তীররক্ষা পাথরের ওপর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, তার শরীরে ১১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। দুই চোখ মারাত্মকভাবে থেঁতলানো। ডান চোখের ভ্রু ক্ষতবিক্ষত। মৃত্যুর আগে নাক দিয়ে বের হয়েছে ফেনা।

মূলত, এই আঘাতের চিহ্ন থেকেই তাসফিয়ার মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়। সেই কারণ বের করতে না পারলেও ডিবি-পিবিআই দুই সংস্থার প্রতিবেদনেই বলা হয়, প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে মা-বাবার শাসনের ভয়ে ঘটনার দিন বাসায় না গিয়ে কর্ণফুলী নদীর মোহনা এলাকায় যায় তাসফিয়া। পরে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে।

গত ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম আদালতে সিআইডির দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনেও একই কথা বলা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, অধিকতর তদন্তে তাসফিয়াকে হত্যার আলামত পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলের কাছে থাকা একাধিক ব্যক্তির সাক্ষ্য, ডিজিটাল তথ্য এবং ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট পর্যালোচনা করে তাসফিয়া পানিতে ডুবে মারা গেছে বলে প্রতীয়মান হয়। প্রতিবেদনে সেই তথ্যই দেওয়া হয়েছে।

তবে তাসফিয়ার মা নাঈমা খানম সমকালকে বলেন, তিন সংস্থার কেউই নিরপেক্ষ তদন্ত করেনি। সবাই পানিতে ডুবে মারা গেছে বলছে। কিন্তু শরীরে নির্যাতনের কোনো ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারছে না। এখানেই মূল রহস্য। আইনজীবীর সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিআইডির প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে

২০১৮ সালে ঘটনার এক মাস আগে তাসফিয়ার সঙ্গে আদনান মির্জা নামে এক তরুণের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানার পর মা-বাবা সম্পর্ক না রাখতে মেয়েকে চাপ দেন। তবে ১ মে সম্পর্কের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে আদনানের সঙ্গে বের হয় তাসফিয়া। এক পর্যায়ে এক বন্ধুকে কল করে তাসফিয়ার মা নাঈমা খানম বিষয়টি জানতে পারেন। বাবা-মা খোঁজ করছে জানতে পেরে, আদনান নগরীর জিইসি মোড় থেকে তাসফিয়াকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে দেয়। আরেকটি অটোরিকশায় সে বাসায় চলে যায়।

তবে তাসফিয়া বাসায় না ফিরে পতেঙ্গায় নেভাল একাডেমি এলাকায় চলে যায়। ওই দিন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে সেখানে ঘুরতে যাওয়া মিনহাজ উদ্দিন খান আন্না, আশিকুর ইসলাম ও কুদরত ই ইলাহী নদীর পারে দেয়ালের ওপর বিষণ্ন মনে তাসফিয়াকে বসে থাকতে দেখেন। এর পর কিছুক্ষণ পর শোরগোল শুনে এগিয়ে গিয়ে জানতে পারেন, ওই তরুণী নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে। পরে অন্যদের সঙ্গে প্রাইভেটকার ও মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে খোঁজাখুঁজি করলেও তাকে আর পাওয়া যায়নি। পরদিন ওই এলাকা থেকে তাসফিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাসফিয়াকে নির্যাতন বা হত্যার কোনো সম্ভাবনা তদন্তে মেলেনি। ধর্ষণের আলামতও পাওয়া যায়নি। মৃতদেহে বাহ্যিক যে আঘাত পাওয়া গেছে, তা মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট নয় বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ভুক্তভোগী প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে মা-বাবার শাসনের ভয়ে বাসায় না ফিরে নেভাল একাডেমি এলাকায় নদীতে ঝাঁপ দেয়। শ্বাস বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

 

এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত