দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় তীব্র গরম ও আর্দ্রতা, তাপমাত্রা উঠবে তিন অঙ্কে
ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর মধ্যে একটি ট্যাংকার ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
সেন্টকমের দাবি, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি তেলবাহী ট্যাংকারকে ওমান উপসাগরে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এ ছাড়া ইরানের উপকূলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের কাছেও আরেকটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়।
এর জবাবে ইরান জর্ডানে থাকা একটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। জর্ডানের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ২০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি ভূপাতিত করা হয়েছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বুধবার দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন জাহাজ, আটটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং আরও ১০টি ‘নিয়ম না মানা’ জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তবে এসব দাবির বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
সেন্টকম বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার লক্ষ্য হওয়া পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার এমন একটি ‘ছায়া নেটওয়ার্কের’ অংশ, যেখান থেকে আইআরজিসি ও তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের অর্থায়ন করা হয়।
হামলার পর এম/টি রিয়েস্কো নামের একটি ট্যাংকার ওমান উপসাগরে ডুবে যায় বলে পরে জানায় সেন্টকম। ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে তারা।
খার্গ দ্বীপে হামলা নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, এটি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল মূল ভূখণ্ড থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে এই দ্বীপে এনে সেখান থেকে রপ্তানি করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে। এশিয়ার বাজারে মঙ্গলবার বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৩৫ ডলারে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৯৪ দশমিক ২৩ ডলারে দাঁড়ায়।
গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সংঘাত চলছে।
একই দিনে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালায়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হামলায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন।
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। এর ফলে সাময়িকভাবে কয়েকটি স্থাপনার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয় বলে জানিয়েছে সৌদি সামরিক বাহিনী ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবারের মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের নৌবাহিনী দাবি করেছিল, তারা হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন চালকবিহীন সাবমেরিন আটক করেছে।
তবে মার্কিন সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, সেটি আসলে একটি পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোন, যা এক দিনেরও বেশি সময় আগে কারিগরি ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়ে। আঞ্চলিক জলসীমা পর্যবেক্ষণের জন্য ড্রোনটি ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে জানান তিনি।
হকিন্স বলেন, এটি পুরোনো মডেলের ড্রোন ছিল এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা গোপন সোনার ও রাডার সরঞ্জাম ছিল না। তবে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান যদি মার্কিন নৌযানে হামলা বা হামলার চেষ্টা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তার জবাবে ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালাবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন