আপডেট :

        প্রশান্ত মহাসাগরে একসঙ্গে দুই হারিকেন, ঝুঁকিতে হাওয়াই ও দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া

        ঝড়-বৃষ্টিতে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, অচল ট্রাফিক সিগন্যাল

        রাস্তার পাশে নবজাতকের মরদেহ, ১৪ বছরের কিশোরীকে খুঁজতে অ্যাম্বার অ্যালার্ট

        মার্কিন হামলার জবাব আরও দ্রুত ও ভয়াবহ হবে: ইরানের হুঁশিয়ারি

        ৯/১১ হামলার মামলার কেন্দ্রীয় ব্যক্তির উগ্রপন্থী যোগাযোগের নতুন ভিডিও প্রকাশ

        মিয়ামি বিমানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫

        লস এঞ্জেলেসের হাজারো নিম্নআয়ের রোগী হারাচ্ছেন ইউসিএলএ হেলথের চিকিৎসা

        ২৬ হাজার ডলারের কম দামে ইলেকট্রিক পিকআপ আনছে নতুন মার্কিন কোম্পানি

        লস এঞ্জেলেসে অবৈধ গাড়ি প্রদর্শনীবিরোধী অভিযানে ৬৯ গ্রেপ্তার, ৫৭০টি টিকিট

        অ্যানাহেইমে মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহত ৩ কিশোর

        লস এঞ্জেলেস বিমানবন্দরে লেবার ডে ছুটিতে বাড়ছে যাত্রীদের ভিড়

        লেবার ডে উইকেন্ডে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ ঝুঁকির সতর্কতা

        ধূসর নেকড়ের সুরক্ষা বাতিলের উদ্যোগ ট্রাম্পের, উদ্বেগ সংরক্ষণবাদীদের

        জাহাজে পাল্টাপাল্টি হামলা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও উত্তপ্ত

        হলিউডের ৭-ইলেভেনে ১৮ বছরের তরুণীকে মারধর, অচেতন করে লুট

        সিমি ভ্যালিতে পুলিশের গুলিতে সন্দেহভাজন নিহত, প্রকাশ হলো বডি ক্যামেরার ভিডিও

        আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন দেখাতে নতুন বিশ্ব মানচিত্র অনুমোদন জাতিসংঘে

        ট্রাম্পের শান্তি দূতেরা সপ্তাহান্তে মস্কো ও কিয়েভ সফরে যাচ্ছেন

        ইউরোপের দেশগুলো কেন উত্তর আমেরিকা থেকে সোনা সরিয়ে নিচ্ছে?

        তিন সন্তান হত্যায় লিন্ডসে ক্ল্যান্সি: ভিকটিম নাকি অপরাধী?

৯/১১ হামলার মামলার কেন্দ্রীয় ব্যক্তির উগ্রপন্থী যোগাযোগের নতুন ভিডিও প্রকাশ

৯/১১ হামলার মামলার কেন্দ্রীয় ব্যক্তির উগ্রপন্থী যোগাযোগের নতুন ভিডিও প্রকাশ

ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের বিরুদ্ধে করা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ওমর আল-বায়ুমি। তার উগ্রপন্থী যোগাযোগ ও সৌদি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের নতুন তথ্য উঠে এসেছে বিবিসির হাতে পাওয়া কিছু ভিডিওতে।

৯/১১ হামলায় নিহতদের পরিবারের করা প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মামলার অংশ হিসেবে এসব ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। ভিডিওগুলো এর আগে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি। হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই ভিডিওগুলো এফবিআইয়ের হাতে এসেছিল বলে জানা গেছে।

ভিডিওর একটি অংশে বায়ুমিকে আনোয়ার আল-আওলাকির সঙ্গে আলিঙ্গন করতে দেখা যায়। আওলাকি পরে আল-কায়েদার ইয়েমেনভিত্তিক শাখা ‘আল-কায়েদা ইন দ্য অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা’র (AQAP) গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে ওঠেন। আরেকটি ভিডিওতে বায়ুমি ও আওলাকিকে সান ডিয়েগোর কাছে পেইন্টবল খেলতে দেখা যায়। তাদের সঙ্গে ছিলেন সৌদি আরবের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা।

বায়ুমি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে নিজেকে উগ্রপন্থী বা সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় তিনি নিজেকে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।

তবে নতুন ভিডিও ও অন্যান্য নথি তার সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক তথ্য তুলে ধরছে।

দুই ছিনতাইকারীকে সহায়তার অভিযোগ

৯/১১ হামলায় নিহতদের পরিবারের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সৌদি আরব হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং বায়ুমি ছিনতাইকারী নওয়াফ আল-হাজমি ও খালিদ আল-মিহধারকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় সহায়তা করেছিলেন।

এই দুই ব্যক্তি ১১ সেপ্টেম্বরের হামলায় ব্যবহৃত পাঁচ সদস্যের একটি ছিনতাইকারী দলের অংশ ছিলেন। তাদের বিমানটি পেন্টাগনে আঘাত হানে।

হামলার পর বায়ুমি যুক্তরাজ্যে চলে যান। ২০০১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পুলিশ তাকে বার্মিংহামে গ্রেপ্তার করে। তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে হাজার হাজার নথি, শত শত ছবি, বিমানের টিকিট, ফোন কার্ড এবং অন্তত ৮০টি ভিডিও ক্যাসেট উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা নথির মধ্যে সৌদি সরকারি কর্মকর্তাদের নাম-ঠিকানা সম্বলিত একটি ফোনবুক, ফ্লাইট সিমুলেটর সফটওয়্যার এবং বিমানের অবতরণসংক্রান্ত গাণিতিক হিসাবসহ একটি হাতে আঁকা চিত্রও ছিল।

বিমানের অবতরণ নিয়ে হাতে আঁকা হিসাব

বায়ুমির বাড়ি থেকে পাওয়া একটি কাগজে বিমানের উচ্চতা ও দূরত্ব নিয়ে গাণিতিক হিসাব এবং একটি বিমানের ছবি আঁকা ছিল। ৯/১১ হামলার নিহতদের পরিবারের আইনজীবীরা এটিকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।

আইনজীবী জোডি ওয়েস্টব্রুক ফ্লাওয়ার্স বিবিসিকে বলেন, বিষয়টি বোঝার পর তারা মনে করেন, এটি তাদের খোঁজা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণগুলোর একটি।

২০২১ সালে আদালতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় বায়ুমি বলেন, তিনি বিভিন্ন গাণিতিক সমীকরণ পছন্দ করতেন এবং কাগজটি কখন লিখেছিলেন তা তার মনে নেই।

তবে গত বছর মামলার ফেডারেল বিচারক বলেন, কাগজটি আপাতদৃষ্টিতে বায়ুমিকে ৯/১১ হামলা সম্পর্কে জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করে।

অদ্ভুত বিষয় হলো, হামলার পরপরই কাগজটির কপি এফবিআই ও ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের হাতে গেলেও বায়ুমিকে জিজ্ঞাসাবাদকারী ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের এটি দেখানো হয়নি।

পেইন্টবল ভিডিও তদন্তকারীদের সামনে পুরোপুরি আসেনি

বায়ুমি ১৯৯৭ বা ১৯৯৮ সালের দিকে ধারণ করা একটি ভিডিওতে সান ডিয়েগোর কাছে কয়েকজনের পেইন্টবল খেলার দৃশ্য রয়েছে। সেখানে আওলাকিকেও দেখা যায়। খেলায় অংশ নেওয়া কয়েকজন সামরিক পোশাক পরেছিলেন এবং শহুরে যুদ্ধের অনুশীলনের মতো দৃশ্য দেখা যায়।

এক পর্যায়ে কয়েকজনকে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে চিৎকার করে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। একজন সৌদি শেখও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এফবিআইয়ের তদন্তে পরে জানা যায়, পেইন্টবল খেলায় অংশ নেওয়া কয়েকজন এটিকে ‘জিহাদের প্রশিক্ষণ’ হিসেবে দেখতেন বলে দাবি করা হয়েছিল।

আওলাকি হামলার সময় আল-কায়েদার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে তিনি উগ্রপন্থী প্রচারণার জন্য পরিচিত হয়ে ওঠেন। ২০১১ সালে ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন।

ভিডিওতে বায়ুমি ও আওলাকির সম্পর্কের প্রমাণ থাকলেও, ২০২১ সালে আদালতে বায়ুমি দাবি করেছিলেন যে তিনি আওলাকির সঙ্গে দেখা করেননি। পরের বছর আদালতে ভিডিওটি গোপনীয়ভাবে জমা দেওয়া হয় এবং চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর তা প্রকাশ্যে আসে।

এফবিআইয়ের তদন্তে প্রশ্ন

বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, বায়ুমিকে নিয়ে তদন্তের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এফবিআই অফিসের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানে সমস্যা ছিল।

সান ডিয়েগোতে তদন্তকারী এফবিআই কর্মকর্তারা বারবার বায়ুমির বিরুদ্ধে সংগৃহীত নথি ও ভিডিওর কপি চাইলেও বেশির ভাগই পাননি। নিউইয়র্কের এফবিআই অফিস পুরো তদন্তের দায়িত্বে থাকায় তারা তথ্য সরবরাহে অনীহা দেখায়।

সান ডিয়েগোতে ৯/১১ তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা রিক ল্যামবার্ট বলেন, তার কার্যালয় যদি সব প্রমাণ সময়মতো পেত এবং বিশ্লেষণ করতে পারত, তাহলে তদন্তকারীরা অনেক দ্রুত বিষয়গুলোর মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পেতেন।

এমনকি বায়ুমির সঙ্গে যোগাযোগ থাকা কয়েকজন সৌদি সরকারি কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতিও এফবিআইয়ের স্থানীয় কর্মকর্তারা পাননি।

লস এঞ্জেলেসের এফবিআই কর্মকর্তারাও একই ধরনের বাধার মুখে পড়েছিলেন।

৯/১১ কমিশনের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পৌঁছায়নি

২০০৩ সালে ৯/১১ কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল সৌদি আরবে বায়ুমিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ওই বৈঠকের সময় সৌদি গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

কমিশনের নথি অনুযায়ী, বায়ুমিকে বলা হয়েছিল যে কেউ বিশ্বাস করে না তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ছিনতাইকারীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেছেন।

২০০৪ সালে প্রকাশিত ৯/১১ কমিশনের প্রতিবেদনে বায়ুমিকে উগ্রপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করার মতো প্রমাণ নেই বলে উল্লেখ করা হয়। তাকে ‘সহযোগিতাপ্রবণ ও বন্ধুবৎসল’ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়।

তবে কমিশনের কিছু কর্মকর্তা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তারা মনে করতেন, বায়ুমি সম্ভবত জানতেন যে হাজমি ও মিহধার আল-কায়েদার সদস্য।

শেষ পর্যন্ত প্রতিবেদনে বায়ুমিকে উগ্রপন্থীদের সঙ্গে গোপনে জড়িত থাকার সম্ভাবনা কম বলে যে মন্তব্য করা হয়, সেটি সরাসরি কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবে না লিখে তদন্তকারীদের মূল্যায়ন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৯/১১ কমিশন বিমানের গাণিতিক চিত্র, পেইন্টবল ভিডিও এবং বায়ুমির উগ্রপন্থী যোগাযোগের বিষয়ে পাওয়া বেশ কিছু প্রমাণ দেখেনি।

কখনোই অভিযুক্ত করা হয়নি বায়ুমিকে

এতসব তথ্য ও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বায়ুমির বিরুদ্ধে কখনো কোনো মামলা বা অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সাবেক সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তা জেফরি ব্রেইনহোল্ট বিবিসিকে বলেন, ৯/১১ হামলার পর বায়ুমির নাম সম্ভাব্য অভিযুক্তদের তালিকায় গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে এসেছিল।

তার ভাষায়, বিমানের চিত্রটি যদি প্রসিকিউশনের সামনে উপস্থাপন করা হতো, তাহলে সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারত। তিনি বলেন, “এর চেয়েও কম প্রমাণের ভিত্তিতে আমরা মানুষকে দোষী সাব্যস্ত করেছি।”

পেইন্টবল ভিডিওকেও তিনি বায়ুমির বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন। আওলাকির উপস্থিতিকে তিনি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।

তবে শেষ পর্যন্ত বায়ুমির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

বায়ুমি ও সৌদি সরকার বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। তারা অতীতে ৯/১১ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছে, দেশটির সরকার বা কর্মকর্তারা ৯/১১ হামলায় জড়িত ছিলেন—এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এদিকে এফবিআইও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত