আপডেট :

        এলিডা ঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে উচ্চ ঢেউয়ের সতর্কতা

        লস এঞ্জেলেসে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ আগুন, নিহত ১, বাস্তুচ্যুত ৬০ জন

        চতুর্থ সন্তানের বাবা হলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

        যুক্তরাষ্ট্রে ডায়রিয়া প্রাদুর্ভাব: লেটুসে পরজীবী শনাক্তের দাবি ছিল ভুল, জানাল এফডিএ

        ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা, ট্রাম্পের কড়া বার্তা

        সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণের আশঙ্কায় ২৭ অঙ্গরাজ্যে আইসবার্গ লেটুস প্রত্যাহার

        লস এঞ্জেলেসে সেতু থেকে ৪০ ফুট নিচে পড়ে আহত নারী, হেলিকপ্টারে উদ্ধার

        ক্যালিফোর্নিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কলেজ বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের

        ডিজনিল্যান্ডে খাবার ও পানীয়ের দাম বেড়েছে, জনপ্রিয় আইটেমেও মূল্য বৃদ্ধি

        যুক্তরাজ্যে নতুন অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার অ্যান্ড্রু টেট ও তার ভাই ট্রিস্টান

        মার্কিন-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা: জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহতের পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে

        দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা কমবে, আগামী সপ্তাহে আবার বাড়বে গরম

        ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্দুকের গুলিতে ২ বছরের শিশুর মৃত্যু, গ্রেপ্তার মা ও তার প্রেমিক

        কানাডার দাবানলে ভয়াবহ ধোঁয়া, বিপর্যস্ত কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকা

        ডায়রিয়ার ঝুঁকিতে টাকো বেলের মেনু থেকে লেটুস বাদ

        কানাডার দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি

        টানা সপ্তম রাতেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল তেহরান

        দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় কমছে তাপপ্রবাহ, শুক্রবার থেকে মিলবে স্বস্তি

        ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারিটায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে, অল্পের জন্য রক্ষা পেল বহু বাড়ি

        ৪৫ বছর পর মিলল নিখোঁজ কোটিপতি নারীর পরিচয়, আধুনিক প্রযুক্তিতে রহস্যের সমাধান

মামলা যখন নিপীড়নের হাতিয়ার

মামলা যখন নিপীড়নের হাতিয়ার

প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই ক্ষমতাসীনরা তাদের কায়েমি স্বার্থ হাসিলের জন্য গণতন্ত্রকামী, মানবতাবাদী তথা সুষ্ঠু সমাজ বিনির্মাণের যারা স্বপ্ন দেখতেন তাদের উপর নিপীড়নের মাধ্যম হিসেবে সে সময়ের  বিচার ব্যবস্থাকে  ব্যবহার  করতেন। আমাদের এই উপমহাদেশেও যারা ব্রিটিশদের অত্যাচার-নির্যাতনের প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন তাদেরও বিদ্রোহী  হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, এমনকি আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতাদের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়েছিল। পশ্চিম পাকিস্তানিরা স্বাধীনতার বীজ অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশের মুক্তিকামী মানুষের উপর সব রকম দমন-নিপীড়ন চালিয়েছিল। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়েও মহান স্বাধীনতার অনেক সংগঠককে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছিল শুধুমাত্র আইনের শাসন ও মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলার জন্য। সময়ের পরিক্রমায় ২০০৭ সালে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের অবৈধ সরকার ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার মানসে, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিকে নিঃশেষ করে দিতে একে একে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে মামলা করতে থাকে। এরই অংশ হিসেবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়। গ্রেফতার হন তিনি। এক পর্যায়ে তাকে বিদেশেও পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মতোই বরাবরের মতো আপসহীন  বিএনপি চেয়ারপারসন  খালেদা জিয়া। কোনোভাবেই তাকে বিদেশ পাঠাতে পারেনি মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের অবৈধ সরকার। বাধ্য হয়ে তার বিরুদ্ধেও অনেক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেফতার করা হয় তাকেও। এক পর্যায়ে অবৈধ সরকার দুজনকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে বাধ্য হয়।

মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকারের সাথে আঁতাতের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতা আরোহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে  ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি তার লেখা আত্মজীবনীমূলক বই (বাই দ্য কোয়ালিশন ইয়ারস-১৯৯৬-২০১২) তে উল্লেখ করেছেন, (আমি ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব নিই এবং শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলেও মইন উ আহমেদের বহাল থাকার ব্যাপারে তাকে আশ্বস্ত করি) কিন্তু অবাক ব্যাপার হলো ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলাগুলো আদালতের মাধ্যমে বাতিল করা হয়। এছাড়া চাঁদাবাজির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছিল সেগুলোও বাদীদের মাধ্যমে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাগুলো চলতে থাকে। যে মামলার রায়ের জন্য দেশবাসী উদ্বিগ্ন, দেশের ১৬ কোটি মানুষ উদ্বিগ্ন, সেটা মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের অবৈধ সরকারেরই দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা। যারা কোনো আইনি ভিত্তি নেই। শুধুমাত্র যেনতেনভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনকে সাজা দেয়াই এর মূল লক্ষ্য। কিন্তু প্রশ্ন হলো শেখ হাসিনা কেন মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের দেখিয়ে দেয়া পথে হাঁটলেন? কারণ ক্ষমতাসীনরাসহ এদেশের শত্রুরা বুঝে গেছে বেগম খালেদা জিয়া যতদিন বেঁচে থাকবেন, এদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের আশা ভরসার একমাত্র আশ্রয়স্থল হিসেবে তিনিই কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিবেন। তারা বুঝে গেছে, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী এখন তিনি। ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচন করতে হলে তাকে দাবিয়ে রাখা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

এবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার দিকে একটু আলোকপাত করা যাক! ১৯৯১ সালের ৯ জুন কুয়েতের তৎকালীন আমীর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের জন্য ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা পাঠান কুয়েত দূতাবাসের মাধ্যমে। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান সেই টাকাটা এনেছিলেন। ওই টাকা দুই ভাগ হয়, একটি অংশ বাগেরহাটের জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্টে যায়। যেটার ট্রাস্টি ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান, তার স্ত্রী সুফিয়া রহমান ও ছেলে রিয়াজ রহমান। অথচ সেখানে কোনো মামলা হয়নি। অপর অংশ  ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৩৪ টাকা ৮০ পয়সা (সুদসহ) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে যায়। এই ট্রাস্টের অধীনে বেগম খালেদা জিয়া নিজে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলেননি, অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত বিষয়েও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না। কোন স্বাক্ষর বা লেনদেনও তিনি করেননি। ট্রাস্টের কোনো দায়িত্বও তিনি পালন করেননি। আর ট্রাস্টের বিধান মোতাবেক যদি কোনো অনিয়ম হয় সেক্ষেত্রে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা এ নিয়ে মামলা করতে পারে। এখানে দুদকের মামলা করার কোনো এখতিয়ারও নেই। কিন্তু তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুদকের কিছু কর্মকর্তাকে দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে মামলাটি দায়ের করে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই। রাষ্ট্রপতির ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের কাগজ ছাপিয়ে সাদা কাগজে এতিম তহবিল নাম করে জালিয়াতি করে স্বাক্ষরবিহীন দলিল তৈরি করা হয়। সরাসরি নথিপত্র ছাড়া স্বাক্ষরবিহীন ঘষামাজা ছায়ানথি দিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। মামলার এজাহারকারী ও তদন্ত কর্মকর্তার অভিযোগ ছিল, বেগম খালেদা জিয়াসহ ৭ আসামি মিলে টাকা আত্মসাৎ করার কাজে সহযোগিতা করেন এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট নাম সর্বস্ব একটি ট্রাস্ট। তবে এজাহারে এটাও বলা হয়েছে, ২০০৬ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৯ হাজার ৭৫৭ টাকা ৩২ পয়সা ট্রাস্টে অব্যয়িত রাখা হয় অর্থাৎ এখানে কোনো আত্মসাৎ হয়নি। অবাক ব্যাপার হচ্ছে, এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুন-উর রশীদই আবার মামলার জবানবন্দি ও জেরায় বলেছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট নাম সর্বস্ব নয় এটা রেজিস্টার্ড সরকারের নিয়ম-নীতি মেনে পরিচালিত হয়। দুদক কর্তৃক ৩২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি এবং জেরায় কোনো সাক্ষী বলেনি বেগম খালেদা জিয়া কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। জেরায় তারা স্বীকার করেন ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৩৪ টাকা ৮০ পয়সা বর্তমানে ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত ব্যাংকের স্টেটমেন্ট অনুযায়ী ৫ কোটি ৮৮ লাখ ২৫ হাজার ১২০ টাকা ৯৬ পয়সা ব্যাংকে স্থিতি আছে। অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো মূল নথিও দুদক আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি। যেহেতু কোনো অনিয়ম ছিল না অর্থ কে, কখন, কিভাবে প্রেরণ করেছেন এই মর্মেও দুদকের কোন সাক্ষী জবানবন্দি ও জেরায় বলতে পারেনি। তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নিয়োজিত আব্দুস সাত্তার তার সাক্ষে বলেছেন, যদি কোনো তথ্য পাওয়া যায়, ভবিষ্যতে সেটা অবহিত করা হবে। এমতাবস্থায় এ মামলার বিচারকাজ কিভাবে শেষ হলো সেটাই জাতির কাছে প্রশ্ন?

আসলে এই মামলা যে চলতে পারে না এটা বুঝার জন্য আইনজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজনে পড়ে না। তারপরও এই মামলা চলেছে, কারণ ক্ষমতাসীনরা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে যেনতেনভাবে একটা রায় দিতে চায় তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। ক্ষমতাসীন জোটের নেতাদের কথায়ই তা পরিষ্কার। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীসহ মহাজোটের অনেক নেতাই মামলা সম্পর্কে আগাম তথ্য দিয়েছেন।  তাদের বেঁধে দেয়া সময়সীমার মধ্যেই এ মামলার  রায়ের দিন ধার্য হয়েছে। এখন দেখার বিষয় ৮ ফেব্রুয়ারি কি হয়! ন্যায় বিচার হলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালাস পাবেন এটা পরিষ্কার  কিন্তু  অন্যকিছু হলে  জনগণ কি তা মেনে নিবে? বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তির প্রাণস্পন্দন। আসলে শুধু বেগম খালেদা জিয়া বা তাঁর স্বামী স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কিংবা  ছেলে তারেক রহমান শুধু দেশীয় চক্রান্তের শিকার নন।  স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী আগ্রাসী শক্তির ও  প্রতিপক্ষ তারা। তবে দেশ যখনই সংকটে পড়েছে তখনই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তারা। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের পূর্ব পর্যন্ত জিয়াউর রহমান দেশবাসীর কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিলেন কিন্তু ২৫ মার্চের ভয়াল রাতে এদেশের নিরস্ত্র জনগণের উপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের সময় তখনকার রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা জীবন বাঁচানোর জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাড়ি জমান। সেই ভয়াবহ দুঃসময়ে দেশের নিরস্ত্র জনগণ যখন চরম দিশেহারা হয়ে পড়ে, কিংকর্তব্যবিমূঢ় সেনাবাহিনী, বিডিআর ও পুলিশ সদস্যগণও দিক নির্দেশনার অভাবে হয়ে পড়ে হতাশ, তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দৃপ্তকন্ঠে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা থেকেই জাতি পথের দিশা পায়। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মরণপণ লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বীর বাঙালি। শুধু তাই নয়, ক্ষমতা আরোহণের পরও জিয়াউর রহমানের উৎপাদনমুখী ও গ্রামভিত্তিক রাজনীতির কারণে সারাদেশ কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠে। তার ঐতিহাসিক ১৯ দফা ও খালকাটা কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে উৎপাদনের বিপ্লব শুরু হয়। জিয়াউর রহমান তার প্রজ্ঞার ব্যবহার ঘটিয়েই মধ্যপ্রাচ্যের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অচলাবস্থার ইতি ঘটান। ফলে সেখানকার শ্রমবাজার ব্যবহারে যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। আজ আমাদের অর্থনীতিতে বিদেশি রেমিটেন্সের যে রমরমা অবস্থা সেটা শহীদ জিয়ার একক কৃতিত্ব।

বাংলাদেশকে নতজানু করার বদ মতলব থেকে উদ্ভূত ফারাক্কা নামের অবৈধ কর্মকান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যার ব্যাপারে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ফলে ভারত বাধ্য হয়, বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা দিতে। তিনি বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র সীমায় দক্ষিণ তালপট্টির দ্বীপের মালিকানা দাবি করে এর সমর্থনে সেখানে নৌবাহিনী পাঠান। প্রতিরোধের মুখে ভারত সেখান থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়। তিনি তথ্য-উপাত্ত দিয়ে ভারতকে জানিয়ে দেন এই দ্বীপটি বাংলাদেশের। অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জিয়া ছিলেন আপসহীন। আর এ কারণেই দেশি-বিদেশি শত্রুর রোষানলে পড়েছিলেন তিনি। ১৯৮১ সালের ৩০ মে সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপথগামী সদস্যের হাতে শাহাদাতবরণ করেন তিনি, এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের আহ্বানে ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন তারই সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া। সময়ের পরিক্রমায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রশ্নে ধীরে ধীরে তিনিও পরিণত হন স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীকে।  স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে গণমানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন আপসহীন নেত্রী হিসেবে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে শরিক হয়েও এক সময় প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেন।  বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারের অধীনে নির্বাচন বয়কট করে ধীরে ধীরে জনগণের আরো কাছে চলে আসেন। কোনো নির্বাচনে পরাজয়ের ইতিহাস নেই তার। যেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার সাধারণ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবরা গণতন্ত্রের উপর আঘাত হেনে মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে চাইলে আবারো আপসহীন ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে আলোচনার মাধ্যমে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হলেও বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন দেশের বাইরে তার কোনো ঠিকানা নেই।

ওয়ান-ইলেভেনের পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হয়ে বুঝতে পারে বাংলাদেশে কখনও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আবারো বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই সরকার গঠিত হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের মাধ্যমে তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করে দেয়। শুধু আওয়ামী লীগ নয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী শক্তিও সোচ্চার হয় জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তির বিপক্ষে। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ জানুয়ারির মতো ভোটারবিহীন নির্বাচনের নাটক মঞ্চস্থ করে তারা। আবারো জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সোচ্চার হয়ে উঠেছে সার্বভৌমত্ববিরোধী আগ্রাসী শক্তি। যারা জনরায়কে উপেক্ষা করে, জনগণের আশা আকাক্সাকে পদদলিত করে  এদেশে একটি পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এরই ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তথাকথিত প্রহসনের মামলা। শুধু তাই নয়, ঐ শক্তিই স্বাধীনতার মহান ঘোষকের সন্তান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাই সময় এসেছে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে সবাইকে এগিয়ে আসা। বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপি চেয়ারপারসন নন, তার বিরুদ্ধে রায় দেয়া হলে তিনি শুধু সাজা ভোগ করবেন কিন্তু আধিপত্যবাদীদের করাল থাবায় নিপতিত হবে পুরো দেশ। ইতিমধ্যে যা হয়ে গেছে।  একজন খালেদা জিয়াকে মামলার রায়ের মাধ্যমে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হলে কিছু যাবে আসবে না কিন্তু পরাজিত হবে গণতন্ত্র, পরাজিত হবে গণতন্ত্রকামী কোটি মানুষের স্বপ্ন। ক্ষণমতাসীনরা হয়তো মনে করছে খালেদা জিয়াকে সাজা দিলেই বিএনপি নিঃশেষ হয়ে যাবে কিংবা বিএনপিকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলা যাবে। কিন্তু শহীদ জিয়ার যে আদর্শ ছড়িয়ে গেছে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে, বাঙালি জাতীয়তাবাদের আদর্শে উজ্জীবিত যে জাতি তাদেরকে কি এত সহজেই পরাভূত করা সম্ভব হবে!

লেখক : প্রবাসী সংগঠক ও ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কর্মী।

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত