শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে সংবাদ , পত্রিকা অফিসে আগুন
টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ২২ দিন হাসপাতালে ছিলেন এক নারী
ছবি: এলএবাংলাটাইমস
হোস্টনে এক নারী ২২ দিন ধরে একটি বিরল রোগের জন্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। রোগটির নাম গুলেন-ব্যারি। ধারণা করা হচ্ছে এটি করোনার ভ্যাক্সিনের একটি দুর্লভ প্রতিক্রিয়া।
জেমি ওয়াল্টন জানান যে তিনি পুরো মহামারী ধরেই সর্তকতা অবলম্বন করেছিলেন। তিন মাস আগে তিনি জনসন এন্ড জনসন কোম্পানির ভ্যাক্সিন নিয়েছেন। তারপর জুনের শুরু থেকে তিনি তাঁর হাত ও পা এ সুড়সুড়ির মত কিছু অনুভব করেন।
ওয়াল্টন বলেন ‘আমি অনুভব করছিলাম যে আমার শরীরে কোন একটা সমস্যা হচ্ছে। আমি বারবার ভিন্ন ভিন্ন ডাক্তারের কাছে গিয়েছি। তারা আমাকে বলে যে আমি পানিশূন্যতায় ভুগছি। একজন তো আমাকে বলেছিলো যে আমার উদ্বীগ্নতা আছে।‘
সুস্থ-স্বাভাবিক মহিলাটা একদিন হঠাত পড়ে যান। এতে তাঁর শরীরের কোমরের নিচের অংশ সম্পূর্ণরূপে প্যারালাইজড হয়ে যায় ও তিনি চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। তিনি ইর্মাজেন্সি রুমে দুইবার যান ও বহু ডাক্তারের সাথে দেখা করেন। এরপর তিনি জানতে পারেন যে তিনি একটি বিরল রোগে ভুগছেন।
ওয়াল্টন বলেন ‘আমি ধরে নিয়েছিলাম যে আমি মারা যাচ্ছি। প্যারালাইজড হওয়ার অনুভূতিটি খুবই অস্বস্তিকর ছিলো আর এটি অতিদ্রুত আমার শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছিলো।‘
ওয়াল্টন জানান যে পরবর্তীতে তাঁর দেবর তাকে রোগটি সম্পর্কে জানায়। উল্লেখ্য যে, তাঁর দেবর একজন ডাক্তার।
সোমবারে এফডিএ জনসন এন্ড জনসনের টিকার লেবেলে রোগটি সম্পর্কে সতর্কবার্তা সংযুক্ত করে। এজেন্সিটি জানায় যে তারা এখনো প্রমাণ করতে পারেনি যে ভ্যাক্সিনটি সবসময় এই রোগটি ঘটায়। কিন্তু ভ্যাক্সিনটি এই রোগের সম্ভাবনাকে বৃদ্ধি করে।
সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল ও প্রিভেনশন জানায় যে জনসন এন্ড জনসনের ভ্যাক্সিনটি গুলেন-পব্যারি রোগটি ছড়াতে পারে। কিন্তু, এটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তারা জানায় এ পর্যন্ত ১ কোটি ৩০ লাখ আমেরিকান জনসন এন্ড জনসন কোম্পানিটির ভ্যাক্সিন নিয়েছে। তারা এরকম ১০০টি কেস দেখেছেন। সংখ্যাটি মোট ভ্যাক্সিন প্রাপ্ত মানুষের সংখ্যার তুলনায় নগণ্য।
মায়ো ক্লিনিকের মতে, এটি খুব বিরল রোগ। রোগটিতে শরীরের ইমিউন সিস্টেম শরীরের নার্ভ সিস্টেমকে নষ্ট করে ফেলে। রোগটির লক্ষণ হচ্ছে: অসাড়তা, হাত-পায়ে সুড়সুড়ির মত অনুভূতি ও দুর্বলতা যা আপনার পুরো শরীর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
ওয়াল্টন মেমোরিয়াল হারম্যান হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তিনি স্পাইনাল ট্যাপ পরীক্ষার মাধ্যমে রোগটি সম্পর্কে নিশ্চিত হন। তিনি হাসপাতালটিতে ২২দিন ধরে ভর্তি ছিলেন। সেখানে তিনি বিরল রোগটির জন্য চিকিৎসা নেন। ধীরে ধীরে তিনি তাঁর শরীরের নিচের অংশে অনুভূতি ফিরে পান।
ওয়াল্টন বলেন ‘যদি আমার রোগটি অতিদ্রুত ধরা না পড়তো তাহলে আমার পুরো শরীর প্যারালাইজড হয়ে যেতো। আমি ভেন্টিলেটর ছাড়া শ্বাসও নিতে পারতাম না।‘
ওয়াল্টন বর্তমানে TIRR মেমোরিয়ালে পুনরায় হাটা ও চলাফেরা শিখছেন।
ওয়াল্টন বলে ‘বিশ্লেষণের পরে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে আমার রোগটি জনসন এন্ড জনসন কোম্পানির ভ্যাক্সিন নেওয়ার কারণেই ঘটেছে।‘
তিনি আরও বলেন যে ‘যদিও আমার এই অবস্থা ভ্যাক্সিনের কারণে ঘটেছে। তবুও, আমি ভ্যাক্সিনটি নিব। এটি সত্য যে আমি এই রোগের কারণে অনেক ভুগেছি আর আমি চাইব না যে কেউ এই রোগে ভুগুক। তবুও আমি ভ্যাক্সিনটি পুনরায় নিবো।‘
ওয়াল্টন জানায় যে তিনি নিজে তাঁর কেস সম্পর্কে সিডিসিকে জানায়।
তিনি গুলেন-ব্যারি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে চান।
ওয়াল্টন বলেন ‘এটি এতোটাই বিরল যে ডাক্তাররা জানেনই না যে তারা কিসের সন্ধান করছে।‘
এলএবাংলাটাইমস/এমডব্লিউ
শেয়ার করুন