আপডেট :

        বিশ্বজুড়ে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন

        মাঠে আঘাতে কিশোর ফুটবলারের মৃত্যু, স্কুল ডিস্ট্রিক্টের বিরুদ্ধে মামলা

        ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ত্রীর প্রেমিককে হত্যার অভিযোগে দম্পতি গ্রেপ্তার

        আশ্রয় চাওয়া বিদেশিদের স্বল্পমেয়াদি ভিসা বাতিল করবে যুক্তরাষ্ট্র

        যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক কানাডার

        লুইজিয়ানায় ১০ হাজার কোটি ডলারের মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বানাবে স্পেসএক্স

        ডাউনটাউন লস এঞ্জেলেসে দুটি ভবনে এফবিআইয়ের অভিযান

        ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিত নীতি আটকালেন মার্কিন বিচারক

        লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য নতুন সহায়তা কর্মসূচি

        কলোরাডো নদীর পানি কমে যাওয়ায় তিন অঙ্গরাজ্যে বড় ধরনের পানি কাটছাঁট

        ক্যালিফোর্নিয়ায় সামরিক স্মৃতিসৌধ থেকে ব্রোঞ্জের সৈনিকের ভাস্কর্য চুরি

        মার্কিন ফ্লাইটে ল্যাপটপে আগুন, হাসপাতালে চিকিৎসা পেলেন এক যাত্রী

        ট্রাম্প বললেন, যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হওয়ার সুবিধা চায় কানাডা

        জুরি ডিউটি নিয়ে প্রতারণা, লস এঞ্জেলেসে সতর্কতা জারি

        ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন বিচারক

        যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের বৈধ অভিবাসনে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন

        ফেডারেল অর্থ বন্ধের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ, লস এঞ্জেলেসের ১৪০ আবাসন প্রকল্প সুরক্ষিত

        নভেম্বরে ১১ বিলিয়ন ডলারের আবাসন বন্ড নিয়ে ভোট দেবেন ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা

        হত্যার কয়েক মিনিট আগে টুপাক শাকুরের শেষ ছবি, আদালতে সাক্ষ্য দেবেন আলোকচিত্রী

        নাটালি হার্প কে, ট্রাম্পের এত ঘনিষ্ঠ সহকারী কেন?

ভারতে দিনে গড়ে ৬১ গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন

ভারতে দিনে গড়ে ৬১ গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন

ভারত সরকারের ‘ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (এনসিআরবি) সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গতবছর ভারতে ২২ হাজার ৩৭২ জন গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। গড় হিসাব করলে প্রতিদিন আত্মহত্যার সংখ্যা দাঁড়ায় ৬১ জনে। আর মিনিটের হিসাবে, প্রতি ২৫ মিনিটে আত্মহত্যা করেছেন একজন গৃহবধূ।

২০২০ সালে ভারতে রেকর্ড করা মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫২টি আত্মহত্যার মধ্যে ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং আত্মহত্যা করা মোট নারীর ৫০ শতাংশেরও বেশি ছিলেন গৃহবধূ। এটি ভারতে কোনো ব্যতিক্রমী চিত্র নয়। দেশটিতে ১৯৯৭ সাল থেকে এনসিআরবি আত্মহত্যার তথ্য সংকলন শুরু করে। তখন থেকেই দেখা গেছে, প্রতি বছর ভারতে ২০ হাজারের বেশি গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন। ২০০৯ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৯২ জনে। প্রতিবেদনে সবসময়ই পারিবারিক সমস্যা কিংবা বিবাহিত জীবনের সমস্যাকে এ ধরনের আত্মহত্যার কারণ বলে দায়ী করা হয়। কিন্তু আসলেই ঠিক কী কারণে হাজার হাজার নারী এভাবে জীবন শেষ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন?

বিবিসি জানায়, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এর একটি বড় কারণ হলো ব্যাপক পারিবারিক সহিংসতা। ভারত সরকার পরিচালিত সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় অংশ নেওয়া নারীদের ৩০ শতাংশই জানিয়েছেন, তারা দাম্পত্য সহিংসতার শিকার। তাছাড়া, শ্বশুরবাড়িতে অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণেও বৈবাহিক জীবন নিপীড়নমূলক এবং শ্বাসরুদ্ধকর হয়ে উঠতে পারে।

উত্তরের শহর বারাণসীর মনোবিদ ডা. উষা ভার্মা শ্রীবাস্তব বলেন, ‘নারীরা সত্যিই সহনশীল; তবে সহ্যেরও সীমা থাকে।’ ‘বেশির ভাগ মেয়েরই ১৮ বছর হতে না হতেই বিয়ে হয়ে যায়। তারা তখন হয়ে ওঠে কারো স্ত্রী এবং পুত্রবধূ। সারা দিন তাদেরকে বাড়িতে রান্না, ঘরদোর পরিষ্কার করাসহ সব কাজই করতে হয়। তাদের চলাফেরার ওপরও বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেওয়া হয়। তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থাকে না বললেই চলে। খুব কম ক্ষেত্রেই অর্থ উপার্জনের স্বাধীনতা পেয়ে থাকেন এই নারীরা।’ ‘একপর্যায়ে নারীদের শিক্ষাগত ও পেশাগত জীবন নিয়ে আর কোনো স্বপ্ন বা উচ্চাশা থাকে না। নির্যাতনের শিকার হতে হতে হতাশা তাদেরকে গ্রাস করে।’ হতাশাগ্রস্ত হয়ে এই নারীদের অনেকেই হয়তো তখন আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।

তবে বয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রে আত্মহত্যার কারণ আলাদা বলে মন্তব্য করেছেন ড. ভার্মা। ‘সন্তানরা বড় হয়ে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর অনেকেই শূন্যতা বোধ করেন, যাকে ‘এম্পটি নেস্ট সিন্ড্রোম’ বলা হয়। আবার অনেকে ‘পেরি-মেনোপজাল’ লক্ষণে ভোগেন, যা থেকে বিষণ²তা ও হতাশা দেখা দিতে পারে। কিন্তু আত্মহত্যা সহজেই ঠেকানো যায়। যিনি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন, তাকে এক সেকেন্ডের জন্যও বাধা দেওয়া গেলেও তিনি ফিরে আসবেন’, বলেন ভার্মা। আরেক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সৌমিত্র পাথারে বলছেন, ‘ভারতে বেশির ভাগ আত্মহত্যাই আবেগপ্রবণ; স্বামী বাড়িতে আসেন, স্ত্রীকে মারধর করেন, আর এ থেকেই স্ত্রী আত্মহত্যা করেন।’

তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে ভারতীয় নারীরা, যারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, তাদের এক-তৃতীয়াংশেরই পারিবারিক জীবনে সহিংসতার ইতিহাস আছে। কিন্তু এনসিআরবির নথিতে পারিবারিক সহিংসতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

বেঙ্গালুরুভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক অ্যাপ ওয়াইসার একজন মনোবিজ্ঞানী চৈতালি সিনহা বলেন, ‘পারিবারিক সহিংসতার মধ্যে থাকা অনেক নারী শারীরিক ও মানসিকভাবে অন্যদের সহযোগিতা পাওয়ার কারণে নিজেদের ভালো রাখতে পারেন।’ মুম্বাইয়ে একটি সরকারি মানসিক হাসপাতালে তিন বছরে কাজ করেছেন চৈতালি সিনহা। আত্মহত্যার চেষ্টার পর যারা বেঁচে গেছেন, তাদের কাউন্সেলিং করেছেন তিনি। সিনহা বলেন, ‘নারীরা সবজি কেনার সময় অথবা ট্রেনে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময়ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিজেদের অনুভূতি ভাগ করে নিয়ে এক ধরনের মানসিক সমর্থন পেয়ে থাকেন।

 

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আই

[এলএ বাংলাটাইমসের সব নিউজ আরও সহজভাবে পেতে ‘প্লে-স্টোর’ অথবা ‘আই স্টোর’ থেকে ডাউনলোড করুন আমাদের মোবাইল এপ।]

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত