নিখোঁজের রহস্যের মধ্যেই প্রাইমারিতে জয়ী কংগ্রেসম্যান, পাশে ট্রাম্প
উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আরও ১৬ বছর বাড়াতে আনুষ্ঠানিক আবেদন কানাডার
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে বিদ্যমান উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ) আরও ১৬ বছরের জন্য নবায়নের আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে কানাডা। চুক্তি পুনরায় আলোচনার নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মধ্যেই মঙ্গলবার এই আবেদন জানানো হয়।
কানাডার যুক্তরাষ্ট্র-বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক ল্যাব্ল্যাঙ্ক এক নোটিশে বলেন, ইউএসএমসিএ তিন দেশের জন্যই অত্যন্ত উপকারী একটি চুক্তি। তাই এটি ১৬ বছর মেয়াদে নবায়ন করা উচিত।
এ সময় তিনি ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠক করছেন। সম্প্রতি গ্রিয়ার মেক্সিকোর সঙ্গে নতুন দফার দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শেষ করলেও কানাডার সঙ্গে আলোচনা তুলনামূলক ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
নোটিশে ল্যাব্ল্যাঙ্ক বলেন, কানাডায় কাসমা (সিইউএসএমএ) নামে পরিচিত এই চুক্তি উত্তর আমেরিকার দেশগুলোকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু ক্ষেত্রে চুক্তির উন্নয়ন প্রয়োজন এবং তিন দেশের দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির জন্য যেকোনো গঠনমূলক প্রস্তাব বিবেচনা করতে কানাডা প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক ইস্যুতেও আলোচনা জরুরি।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠশিল্প সংশ্লিষ্ট শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহার করা হোক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, কানাডাকে কিছু শুল্ক মেনে নিতে হতে পারে।
অন্যদিকে মেক্সিকোও চুক্তি নবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী মার্সেলো এবরার্ড বলেন, “মেক্সিকোর অবস্থান স্পষ্ট—চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো উচিত। আমরা চাই এটি আরও ১৬ বছরের জন্য নবায়ন হোক।”
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অভিযোগও রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্কের প্রতিবাদে কানাডার বেশিরভাগ প্রদেশ দোকানের তাক থেকে মার্কিন মদ সরিয়ে ফেলেছে, যা ওয়াশিংটনের অসন্তোষের একটি কারণ। এছাড়া দুগ্ধখাতে কানাডার বাজারে মার্কিন ব্যবসার আরও বেশি প্রবেশাধিকার চায় যুক্তরাষ্ট্র।
গত সপ্তাহে জেমিসন গ্রিয়ার জানান, উত্তর আমেরিকায় তৈরি গাড়িতে মার্কিন উপাদানের অংশ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চায় উত্তর আমেরিকায় উৎপাদিত গাড়িতে অন্তত ৫০ শতাংশ উপাদান যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হতে হবে।
এ বিষয়ে মার্ক কার্নি বলেন, কানাডায় তৈরি গাড়িগুলোতে গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ মার্কিন উপাদান ইতোমধ্যেই রয়েছে।
এদিকে দেশের অর্থনীতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ চাপও বাড়ছে। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি সরকারের সমালোচনা করে বলছে, কানাডার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল এবং তরুণদের বেকারত্বের হার বেশি। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত একটি বাণিজ্য চুক্তির দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে গ্রিয়ার দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কারণেই কানাডার সঙ্গে আলোচনা ধীরগতির। তার ভাষায়, “বিশ্বে মাত্র দুটি দেশ আমাদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে—চীন ও কানাডা। তাই কানাডার পরিস্থিতি আলাদা।”
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের “৫১তম অঙ্গরাজ্য” হিসেবে উল্লেখ করে মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্ক কার্নি স্বীকার করেন যে কানাডার অর্থনীতিতে কিছু দুর্বলতা রয়েছে। তবে তিনি বলেন, তার সরকার আরও শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও স্বাধীন কানাডীয় অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো ইউএসএমসিএ নবায়নের বিষয়ে একমত হতে না পারলে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত চুক্তিটি প্রতি বছর নবায়ন করতে হবে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন