নিখোঁজের রহস্যের মধ্যেই প্রাইমারিতে জয়ী কংগ্রেসম্যান, পাশে ট্রাম্প
যুদ্ধবিরতি আলোচনা থমকে, নতুন হামলায় জড়াল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ার মধ্যেই নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা “আত্মরক্ষামূলক” হামলা চালিয়েছে এবং ইরানের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি ইরানি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরানের হামলার চেষ্টার জবাব হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা একটি আঞ্চলিক দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সেন্টকমের দাবি, ইরান কুয়েতের দিকে দুটি এবং বাহরাইনের দিকে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। তবে সেগুলো মাঝপথে ধ্বংস হয়ে যায় বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়।
সপ্তাহান্তে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সেন্টকম আরও জানায়, কেশম দ্বীপে হামলার মূল লক্ষ্য ছিল একটি ইরানি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন। এছাড়া আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে চলাচলকারী বেসামরিক জাহাজের দিকে ছোড়া তিনটি ইরানি হামলাকারী ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার জন্য “আগ্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনীকে চড়া মূল্য দিতে হবে”।
এদিকে সেন্টকম দাবি করেছে, গত মঙ্গলবার ইরানের দিকে যাচ্ছিল এমন একটি তেলবাহী ট্যাংকার অচল করে দিয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটি বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় একটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এর ইঞ্জিন কক্ষে আঘাত হানা হয়।
১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র যে নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে, এই অভিযান তারই অংশ বলে জানানো হয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করা হয়েছে এবং আরও ১২২টি জাহাজকে পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে।
এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, ইরান একটি চুক্তি করতে চায় এবং সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো হবে। তিনি সমালোচকদের উদ্দেশে “শান্ত থাকতে” আহ্বান জানান।
মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির কিছু শর্ত সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার কাঠামো।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এসব দাবি অস্বীকার করে বলেন, ওয়াশিংটন বারবার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছে এবং নতুন কিংবা পরস্পরবিরোধী দাবি উত্থাপন করছে।
এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো কংগ্রেসে উপস্থিত হয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরানকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, “নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি সম্পূর্ণ শর্তসাপেক্ষ। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কারণেই এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।”
কংগ্রেসে এক উত্তপ্ত শুনানিতে রুবিও আরও বলেন, “যুদ্ধ শেষ হয়েছে।” তবে আইনপ্রণেতারা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল ও সংঘাত অবসানের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন