মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগের মুখে বিষয় ঘোরাতে চাইছে ক্যালিফোর্নিয়া
বিপদজনক হয়ে উঠছে ক্যালিফোর্নিয়ার দুই ‘হোমগ্রোন স্ট্রেইন’
ছবি: এলএবাংলাটাইমস
ক্যালিফোর্নিয়ায় সর্বপ্রথম শনাক্ত হওয়া করোনার দুইটি স্ট্রেইন ‘ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন’ অর্থাৎ বিপদজনক হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) ।
সাধারণত যেসব স্ট্রেইনের কারণে সাধারণ করোনাভাইরাসের থেকে সংক্রমণের হার বেড়ে যায় ও আরো দ্রুত ছড়ায়, হাসপাতালে ভর্তি ও মৃতের ঝুঁকি বাড়ে এবং ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা অনেকাংশে কমে যায়, সেসব স্ট্রেইনকে ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়।
সিডিসি জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় শনাক্ত হওয়া স্ট্রেইনগুলো সাধারণ স্ট্রেইনের থেকে ২০ গুণ বেশি দ্রুত ছড়াতে পারে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে করোনার চিকিৎসাও স্ট্রেইনগুলোর কারণে কম কার্যকারী হতে পারে। তবে করোনার টিকাগুলির কার্যকারীতা এই স্ট্রেইনগুলোর কারণে কমে যাবে কী না, সেই বিষয়ে এখনো স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি সিডিসি।
ল্যাবরেটরি গবেষণায় দেখা গেছে, এই স্ট্রেইনগুলো নিওট্রালাইজ করার ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনগুলো শরীরে এন্টিবডি তৈরিতে কিছুটা কম কার্যকরী হতে পারে। তবে মারাত্মক জটিলতার ক্ষেত্রে অল্পমাত্রার এন্টিবডিই করোনা থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হয়ে থাকে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে এন্টিবডি নয়, ইমিওন সেলগুলোই করোনা থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো স্ট্রেইনকেই ‘ভ্যারিয়েন্ট অব হাই কনসিক্যুয়েন্সেস’ ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়নি। সাধারণত যেসব স্ট্রেইনের কারণে টিকার কার্যকারীতা বহুলাংশে কমে যায়, সেসব স্ট্রেইনকে ভ্যারিয়েন্ট অব কনসিক্যুয়েন্সেস ক্যাটাগরিতে রাখা হয়।
ক্যালিফোর্নিয়ার ‘হোমগ্রোন’ এই স্ট্রেইনগুলোকে বলা হচ্ছে B.1.427 এবং B.1.429। এই দুই স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কিছু ক্ষেত্রে করোনার চিকিৎসা পদ্ধতি কাজে নাও লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। গত কয়েক মাস ধরেই ক্যালিফোর্নিয়ার এই স্ট্রেইনগুলোকে পর্যবেক্ষণ করছেন বিজ্ঞানীরা।
সম্প্রতি দ্য ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ এন্ড হিউম্যান সার্ভিসেস ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাদা ও অ্যারিজোনাতে কোভিড-১৯ এন্টিবডি ট্রিটমেন্টের শিপমেন্ট স্থগিত করে দিয়েছে। এর কারণ হিসেবে হেলথ এন্ড হিউম্যান সার্ভিসেস এজেন্সি জানিয়েছে, ইলি লিলি এবং বামলানিভিমাব এর তৈরি এন্টিবডি ট্রিটমেন্ট এই স্ট্রেইনগুলোর বিরুদ্ধে কম কার্যকরী। তবে ইলি লিলি এই স্ট্রেইনগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকরী এন্টিবডি ট্রিটমেন্ট উদ্ভাবনের কথা জানিয়েছে।
ইলি লিলির তৈরি এটেসেভিমাভ নামের অন্য আরেকটি থেরাপি এই স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কার্যকরী হবে বলে জানান স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। আগের ফলাফলগুলোতে দেখা গেছে, এই থেরাপির ফলে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রোগী ভর্তি ও মৃতের সংখ্যা কমে যায়।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন