আপডেট :

        দাবানলে বাড়ি হারিয়ে সিটির বিরুদ্ধে মামলায় মেয়র ব্যাসের ভাই

        ফেটিশ সাক্ষাতে মৃত্যুর ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়ার ওনলি ফ্যানস নির্মাতার ৪ বছরের কারাদণ্ড

        বাবাকে নির্যাতন করে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ ব্যক্তির যাবজ্জীবন

        ক্যালিফোর্নিয়ায় সাগরের স্রোতে ভেসে নিখোঁজ কিশোরী, উদ্ধার মা ও ভাইবোন

        এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না, কংগ্রেসে দাবি বিল গেটসের

        মধ্যপ্রাচ্যে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ ফুটেরও বেশি উঁচু ঢেউ, সার্ফারদের ভিড় নিউপোর্ট বিচে

        ৪ বছর বয়সী শিশুহত্যা মামলায় পুরস্কার বেড়ে ৮৫ হাজার ডলার

        ক্যালিফোর্নিয়ায় নার্সের বিরুদ্ধে ৭৭ ফৌজদারি অভিযোগ

        ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সহপাঠীকে হত্যার দায়ে কিশোরের ৩৫ বছরের কারাদণ্ড

        ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনে এগিয়ে ট্রাম্প-সমর্থিত স্টিভ হিলটন

        হরমুজ প্রণালিতে হেলিকপ্টার ভূপাতিতের পর যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

        হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিরাপদে আছেন পাইলটরা: ট্রাম্প

        মেয়েকে বাঁচাতে অনুপ্রবেশকারীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ, নিহত সন্দেহভাজন

        এনবিএ ফাইনালে ট্রাম্প, নিউইয়র্কে দুয়োধ্বনির মুখে প্রেসিডেন্ট

        লস এঞ্জেলেস মেয়র দৌড়ে এগিয়ে নিত্যা রামান

        শেয়ারবাজারে আসছে ওপেনএআই, বাড়ছে এআই প্রতিযোগিতা

        কারাগার থেকে ট্রাম্পের ক্ষমা চাইলেন ব্যাংকম্যান-ফ্রাইড

        লস এঞ্জেলেস মেয়র নির্বাচনে স্পেন্সার প্র্যাটকে ছাড়িয়ে গেলেন নিত্যা রমন

        জাপানে নিখোঁজ মার্কিন শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

চিহ্নিত হচ্ছে ফাহিম সালেহর হত্যাকারী

চিহ্নিত হচ্ছে ফাহিম সালেহর হত্যাকারী

এলএ বাংলা টাইমস


যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশিরা। নৃশংসভাবে খুন হওয়া তরুণ উদ্যোক্তা পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ ও দুই সপ্তাহ আগে সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক উমাইর সালেহর হত্যাকাণ্ডে আতঙ্কিত প্রবাসীরা। নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যেও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দুজনের হত্যাকারীকে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে না পারলেও নিউইয়র্ক পুলিশ ফাহিমের হত্যাকারীকে চিহ্নিত করতে পেরেছে। তাঁকে গ্রেপ্তার করা এখন সময়ের ব্যাপার বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

বড় ধরনের কোনো ব্যবসায়িক লেনদেনের জেরে ফাহিম সালেহকে হত্যা করা হয়েছে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং হত্যাকারী গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাবে না। করোনা মহামারির বিপর্যয় থেকে বেরিয়ে আসা নিউইয়র্কের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির সঙ্গে নানা উৎকণ্ঠা তাড়া করছে লোকজনকে। বাংলাদেশি মা-বাবারা সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন। নিজেরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। 

ম্যানহাটনে নিজের অভিজাত অ্যাপার্টমেন্টে খুন হয়েছেন ফাহিম সালেহ (৩৩)। নিজের সৃষ্টিশীলতা দিয়ে অল্প বয়সে সারা বিশ্বের নজরে এসেছিলেন তিনি। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও তাঁর এগিয়ে যাওয়া অনুসরণ করতেন। ম্যানহাটনের সোয়া দুই মিলিয়ন ডলারের অ্যাপার্টমেন্টে একাই থাকতেন তিনি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও পুলিশ হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। নিউইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে শুধু জানানো হয়েছে, ফাহিম সালেহকে খুন করা হয়েছে।

সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে ফলাও হয়ে প্রচারিত ফাহিম সালেহর হত্যাকাণ্ড নিউইয়র্ক পুলিশের জন্য হাইপ্রোফাইল মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি বিষয় নিয়ে মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। ফাহিম সালেহকে খুন করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। পেশাদার খুনি শুরু থেকে বলা হলেও পেশাদার খুনি কাজটি পেশাদারের মতো শেষ করতে পারেননি। ফাহিম সালেহর সঙ্গে লিফটে ওঠা ব্যক্তিকে ফাহিমের অ্যাপার্টমেন্টেই ঢুকতে দেখা গেছে। অ্যাপার্টমেন্টের দরজা দিয়ে লিফটে করে নেমে আসার কোনো ভিডিও চিত্র পাওয়া যায়নি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ফাহিমের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় তাঁর এক প্রতিবেশী অস্বাভাবিক শব্দ শুনেছেন এবং ফাহিমের বোনকে তা ফোনে জানিয়েছেন বলে এখন জানা গেছে। হত্যার পর ইলেকট্রিক করাত দিয়ে ফাহিমের দেহ টুকরো টুকরো করা হয়েছে। ব্লিচ দিয়ে রক্ত পরিষ্কার করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশ নির্মাণকাজে ব্যবহার করা ভারী প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরানোর সময় লবি থেকে বা বাইরে থেকে কেউ ফাহিমের খোঁজ করতে আসেন। এ সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যাকারী তাঁর কাজ শেষ করতে পারেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনওইয়াইপিডির এসব তদন্তকাজের সঙ্গে জড়িত একজনের মতে, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে দুটি লক্ষ্য থাকে। একটি হচ্ছে, মাফিয়া স্টাইলে অন্যদের ভয়াবহতার বার্তা দেওয়া। অন্যটি হচ্ছে, ব্যক্তিকে একদম শেষ করে দেওয়া। শেষের যুক্তিটিই এখানে প্রাধান্য পাচ্ছে। হত্যাকারী ফাহিমের মরদেহ টুকরো টুকরো করে ব্যাগে ভর্তি করে। এ ফাঁকে ধুয়ে মুছে রক্ত পরিষ্কার করে। ঘটনাস্থলে তেমন রক্ত পাওয়া যায়নি। কেউ আসছে বা দরজায় বেল দিচ্ছে, এমন ঘটনার পর হত্যাকারী সাত তলা অ্যাপার্টমেন্টের পেছনের সিঁড়ি দিয়ে নেমে যায়। এ জন্য তাঁকে চাবি ব্যবহার করতে হয়েছে। 

ফলে এ ধরনের এক্সিট পরিকল্পনা আগে থেকেই নেওয়া ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে ইলেকট্রিক করাতে ও অন্যত্র আঙুলের ছাপ পেয়েছে পুলিশ। পেছনের সিঁড়ি দিয়ে নামলেও নিউইয়র্ক নগরী সর্বত্র এখন সিসি ক্যামেরার আওতায়। এসব ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও চিত্র দেখে হত্যাকারীকে চিহ্নিত করা গেছে। অনেকটা করোনাভাইরাসের কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের মতো হত্যাকারীকে ধরে ফেলতে পারবে বলে নিউইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে। ফাহিম সালেহর অ্যাপার্টমেন্ট থেকে কিছু খোয়া যায়নি। ঘরের মালামাল পরিপাটি ছিল। কোনো তছনছের চিহ্নও পায়নি পুলিশ। তাই শুরু থেকেই এ ঘটনা যে নিছক ডাকাতি, তা মনে করা হচ্ছে না। নিহত ফাহিম সালেহর পরিবারের পক্ষ থেকে নিউইয়র্ক পুলিশের কাছে এ অপরাধের তদন্তের গভীরে যাওয়া এবং ফাহিমের হত্যাকারীর বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তদন্তের কোনো হালানাগাদ বিবরণী না পাওয়া গেলেও নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশিদের এ হত্যাকাণ্ড বিমর্ষ করে দিয়েছে। নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি তরুণদের কাছে ফাহিম সালেহ রোল মডেল হয়ে উঠেছিলেন। অনেকেই নিউইয়র্কের ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছেন। অনেকে বলছেন, ফাহিম সালেহর মতো খ্যাতিমান এক তরুণের হত্যাকাণ্ডের পরও নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটি সমন্বিতভাবে তাদের ক্ষোভটাও দেখাতে পারেনি। প্রতিদিন নানা সভা-সমিতি করলেও বাংলাদেশি কোনো নাগরিক সংগঠককে এ নিয়ে প্রতিবাদী বা ক্ষুব্ধ হতে দেখা যায়নি।

ফাহিম সালেহর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে করোনা বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানো নিউইয়র্কের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। প্রতিদিন মানুষ খুন হচ্ছে। গুলি হচ্ছে নগরীর এখানে-ওখানে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে প্রতিদিন। সবচেয়ে নিরাপদ নগরী হিসেবে খ্যাত নিউইয়র্কের পরিস্থিতি করোনা বিপর্যয়ের পরই যেন পাল্টে গেছে। গত সপ্তাহান্তে নগরীতে ৫৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এর আগে ফোর্থ জুলাই সপ্তাহান্তে এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হয়েছে ৬৪ জন। ১২ জুলাই পর্যন্ত নগরীতে ৬৬৪টি গুলির ঘটনা ঘটেছে।

এলএ বাংলা টাইমস/এম/বিএইচ

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত