যুক্তরাষ্ট্রে আজ শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 03:03pm

|   লন্ডন - 09:03am

|   নিউইয়র্ক - 04:03am

  সর্বশেষ :

  হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্বকে বিশ্বজিৎ দে বাবলুর অভিনন্দন   ফ্লোরিডায় পিঠা মেলা অনুষ্ঠিত   ‘সেক্সিয়েস্ট এশিয়ান ওম্যান’ আলিয়া ভাট   ইতালীতে মহিলা সংস্থার বিজয় ফুল উৎসব   সেনাদের বিচারে মিয়ানমারের আশ্বাসে আস্থা নেই: গাম্বিয়া   বালিশকাণ্ড: মাসুদুলসহ ১৩ প্রকৌশলী গ্রেপ্তার   বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হয়নি   গাজীপুরে ডায়রিয়ার প্রকোপ, পাঁচজনের মৃত্যু   যুক্তরাজ্যে আজ ভোট   নাইজারে সেনা ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৭১   নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে আসামে কারফিউ ভেঙে রাস্তায় জনতা, গুলিতে নিহত ৩   বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের দৃষ্টান্ত নেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী   সেনাপ্রধানসহ মিয়ানমারের ৪ কর্মকর্তার ওপর ফের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা   দিল্লির দূষণ নিয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির অবাক করা বক্তব্য   নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে উত্তাল ত্রিপুরা, মোবাইল-ইন্টারনেট সেবা বন্ধ

মূল পাতা   >>   স্বদেশ

থানা হাজতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: হুমকি দেওয়া হচ্ছে ভিকটিমের পরিবারকে

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-০৮ ০০:৫৯:২৮

নিউজ ডেস্ক: খুলনা জিআরপি থানা হাজতে নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ তোলা গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, তাদের অব্যাহত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বুধবার তারা এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। একইসঙ্গে পুলিশের দেওয়া মাদকের মামলায় কারাগারে থাকা ওই নারীর জামিন আবেদনের প্রস্তুতি নিয়েছেন আইনজীবীরা। এদিকে ফরেনসিক প্রতিবেদনের বিলম্বেও কারণে মানবাধিকারকর্মীরা গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ এনে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার পরিকল্পনা করেছেন।

বুধবার দুপুরে জিআরপি থানায় দেখা যায়, তদন্ত কমিটি থানার পুলিশ সদস্যদের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এ সময় পুলিশ সুপার (পাকশি-রেলওয়ে জেলা) মো. নজরুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানার হাজতখানাসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের পর থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেকেন্ড অফিসার এস আই অসীম কুমার দাসকে।

নির্যাতনের শিকার ওই নারীর বড় বোন বলেন, মোবাইল ফোনে তাদেরকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত কমিটির সঙ্গে দেখা করে তারা বিষয়টি তাদের জানিয়েছেন। এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তি হবে বলে তদন্ত কমিটি তাদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে যখন আমার বোনের মেডিক্যাল পরীক্ষা হয় সেখানেও ওই ওসি (উসমান) উপস্থিত ছিল। আমার বোনের বিরুদ্ধে সাজানো মাদক মামলার দারোগা গৌতম কুমারের সঙ্গে তার সারাক্ষণ যোগাযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় আমরা সুবিচার কীভাবে পাবো জানি না।’

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার ফরেনসিক প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ধর্ষণের বিষয়ে আইনগত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না, এ কারণে আমরা মাদকের মিথ্যা মামলায় নির্যাতিতা ওই নারীর জামিনের আবেদন করছি। পাশাপাশি দোষী পুলিশের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মামলার আবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হবে।’
খুলনা জিআরপি থানার হাজতখানা

ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘আমরা বুধবার ভিকটিমের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। তবে আজ বৃহস্পতিবার আরও বিস্তারিত কথা বলবো। ইতোমধ্যে আমরা ওসি ও এক এসআইকে ক্লোজ করেছি। এখন কারা হুমকি দিচ্ছে, তারা পুলিশের লোক নাকি বাইরের তা জানার চেষ্টা করবো।’ 

উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ওই গৃবধূকে মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক করে। পরদিন শনিবার তাকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ফুলতলায় পাঠানো হয়। ৪ আগস্ট আদালতে জামিন শুনানিকালে বিচারককে ওই নারী জানান, জিআরপি থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিনি। থানা হাজতে ওসি উছমান গণি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য তাকে ধর্ষণ করে। এরপর আদালতের নির্দেশে সোমবার (৫ আগস্ট) তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ এবং সদস্যরা হলেন- কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ. ম. কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি পাঠান ও এসআই নাজমুল হককে ক্লোজড করা হয়েছে। বুধবার (৭ আগস্ট) তাদের পাকশি জেলা রেলওয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ জানান, মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) দুপুর থেকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা খুলনা জিআরপি থানার ওসি উছমান গণি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন। তদন্তকালে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের কারণে পুলিশ বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ১৬৭ বার

আপনার মন্তব্য