দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা কমবে, আগামী সপ্তাহে আবার বাড়বে গরম
কানাডার দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে যাওয়ায় নতুন করে কানাডার ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, "দূষিত, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর বাতাস অপ্রয়োজনীয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে।" তিনি কানাডার বিরুদ্ধে বন ব্যবস্থাপনায় "ইচ্ছাকৃত অবহেলার" অভিযোগ তুলে বিষয়টি নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির কাছে ব্যাখ্যা চাইবেন বলেও জানান।
এদিকে, কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রকে সমালোচনা না করে দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অতীতে কানাডা ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানল ও নর্থ ক্যারোলিনার ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছে। তাই এখন অভিযোগ করার বদলে সহায়তার হাত বাড়ানো উচিত।
কানাডিয়ান ওয়াইল্ডল্যান্ড ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত দেশজুড়ে ৮৮৮টি দাবানল সক্রিয় ছিল। এর মধ্যে প্রায় ১৯০টির বেশি আগুন অন্টারিও প্রদেশে জ্বলছে এবং বেশিরভাগই এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। চলতি মৌসুমে দাবানলে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ লাখ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে।
দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া, ওহাইও, নিউইয়র্কসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় 'বিপজ্জনক' মাত্রার বায়ুদূষণ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন স্থানে বাইরের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে এবং মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট। এছাড়া শিকাগো, ওয়াশিংটন ডিসি ও নিউইয়র্কেও বায়ুদূষণের মাত্রা ছিল অত্যন্ত বেশি।
এ ঘটনায় কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতাও কানাডার সমালোচনা করেছেন। এক খোলা চিঠিতে তারা অভিযোগ করেন, বন পরিষ্কার, আগুন প্রতিরোধ এবং অগ্নিসংযোগ ঠেকাতে কানাডা যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি। তারা সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সীমান্তবর্তী এলাকায় দাবানল মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. প্যাট্রিক জেমসের ভাষায়, "আবহাওয়া কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত মানে না।" বাতাসের প্রবাহ যেদিকে যায়, ধোঁয়াও সেদিকেই ছড়িয়ে পড়ে। অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় দাবানলের ধোঁয়া কানাডায় পৌঁছেছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কানাডার বিস্তীর্ণ ও দুর্গম বনাঞ্চলে আগুন দ্রুত শনাক্ত বা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। পাশাপাশি জুন মাসের শেষ দিকে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবানলের ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। কিছু আগুন বজ্রপাতের কারণেও সৃষ্টি হয়েছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা সব দেশের দায়িত্ব, শুধু কানাডার নয়। তার সরকার প্রদেশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বলেও জানান তিনি।
অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড জানান, বর্তমানে ১৫০টির বেশি অগ্নিনির্বাপণ দল, ৮০টির বেশি ওয়াটার বোম্বার বিমান ও হেলিকপ্টার দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ২০১৮ সাল থেকে তার সরকার দাবানল মোকাবিলায় এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে।
এদিকে, উত্তর অন্টারিওর কয়েকটি আদিবাসী সম্প্রদায়কে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নামায়গুসিসাগাগুন ফার্স্ট নেশন সম্প্রদায়ের প্রধান হেলেন পাওভোলা জানিয়েছেন, তাদের পুরো বসতি আগুনে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। অনেকে ছোট নৌকায় করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
দাবানলের ধোঁয়ার কারণে নিউইয়র্ক শহরের এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং ও স্ট্যাচু অব লিবার্টির দৃশ্যও ঝাপসা হয়ে যায়। ওয়াশিংটন ডিসির বিভিন্ন জাতীয় স্থাপনাও ধোঁয়ার কারণে আড়াল হয়ে পড়ে। এছাড়া শিকাগো, ডেট্রয়েটসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প, কনসার্ট ও অন্যান্য উন্মুক্ত অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। কম দৃশ্যমানতার কারণে কয়েকটি বিমানবন্দরেও ফ্লাইট বিলম্বের ঘটনা ঘটেছে।
আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে আবহাওয়াবিদদের ধারণা, সপ্তাহান্তে বৃষ্টিপাত হলে ধোঁয়ার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন