দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় কমছে তাপপ্রবাহ, শুক্রবার থেকে মিলবে স্বস্তি
৪৫ বছর পর মিলল নিখোঁজ কোটিপতি নারীর পরিচয়, আধুনিক প্রযুক্তিতে রহস্যের সমাধান
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ৪৫ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া এক কোটিপতি নারীর মরদেহের পরিচয় অবশেষে শনাক্ত করেছেন তদন্তকারীরা। আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তি ও ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ১৯৮১ সালে পাহাড়ি এলাকায় পাওয়া মরদেহটি বহুদিন ধরে নিখোঁজ থাকা থেলমা গ্যাস্টনের।
রিভারসাইড কাউন্টির সুগার লোফ মাউন্টেন ও পিনিয়ন ক্রেস্ট এলাকার একটি পাহাড়ি স্থানে ১৯৮১ সালের ২৮ নভেম্বর জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক ব্যক্তি অগভীর কবরের মধ্যে মরদেহটি খুঁজে পান। তবে মরদেহের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় সে সময় পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
থেলমা গ্যাস্টনের জীবন ছিল নানা ট্র্যাজেডিতে ভরা। ১৯৫৭ সালে একই বছরে তিনি স্বামী ও ৩২ বছর বয়সী ছেলেকে হারান। এরপরও তিনি ব্যবসায় মনোযোগ দেন। বাজেয়াপ্ত (রিপোসেসড) সম্পত্তি কিনে বিক্রির ব্যবসার মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন। ১৯৮০ সালের মধ্যে তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ডলারে পৌঁছায়।
১৯৮১ সালের ২৮ জুন গ্যাস্টনের বাড়ির দরজায় একটি নোট পাওয়া যায়। সেখানে লেখা ছিল, তিনি তার হারিয়ে যাওয়া বিড়াল খুঁজতে বের হয়েছেন। কিন্তু এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি এবং পরিবারের সদস্যরাও তার কোনো খোঁজ পাননি। তখন তার বয়স ছিল ৮০ বছর।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গ্যাস্টনের জীবনে সম্প্রতি লরেন্স রেমসেন নামে ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি এসেছিলেন, যিনি তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী ছিলেন। গ্যাস্টনের কয়েকজন বন্ধু জানান, তিনি রেমসেনের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।
পরে তদন্তকারীরা এমন কিছু চিঠি ও নথি উদ্ধার করেন, যাতে দেখা যায় গ্যাস্টন নাকি রেমসেনকে তার সম্পত্তি পরিচালনার ক্ষমতা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) দিয়েছেন। আরেকটি চিঠিতে দাবি করা হয়েছিল, তিনি নাকি "জীবনটাকে উপভোগ করার জন্য" স্বেচ্ছায় চলে গেছেন। তবে তার ঘনিষ্ঠজনরা বলেন, এমন আচরণ গ্যাস্টনের স্বভাবের সঙ্গে একেবারেই মিল ছিল না।
পরবর্তীতে পুলিশ নিশ্চিত হয়, নথিগুলো জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল। চুরি হওয়া নোটারি সিল ব্যবহার করা হয়েছিল এবং গ্যাস্টনের স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছিল।
তদন্তে আরও জানা যায়, রেমসেন গ্যাস্টনের কয়েকটি সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন এবং তার ব্যাংক হিসাব থেকে এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ তোলারও চেষ্টা করেন। পরে তিনি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে পালিয়ে যান।
কয়েক মাস পর মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় সীমান্তরক্ষীরা তাকে গ্রেপ্তার করে। যদিও তখনও গ্যাস্টনের মরদেহ উদ্ধার হয়নি, তবু তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।
বিচার চলাকালে রেমসেন দাবি করেছিলেন, গ্যাস্টন স্বাভাবিকভাবে মারা গিয়েছিলেন এবং তার সম্পদ দখলের উদ্দেশ্যে তিনি মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেন। তবে আদালত সেই দাবি গ্রহণ করেননি। বিচারক রায় দেন, রেমসেন পরিকল্পিতভাবে এবং বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্যে গ্যাস্টনকে হত্যা করেছেন। পরে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এর কিছুদিন পর পাহাড়ি এলাকায় অগভীর কবর থেকে গ্যাস্টনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
২০২২ সালে রিভারসাইড কাউন্টি শেরিফের করোনার ব্যুরো পুরোনো অজ্ঞাত মরদেহের মামলাগুলো পুনরায় তদন্তের জন্য নতুন অর্থায়ন পায়। আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তি, তদন্তভিত্তিক জেনেটিক বংশানুসন্ধান (Investigative Genetic Genealogy) এবং দাঁতের রেকর্ড বিশ্লেষণের মাধ্যমে ২০২৬ সালের মে মাসে নিশ্চিত হওয়া যায়, মরদেহটি থেলমা গ্যাস্টনের।
এক বিবৃতিতে কর্মকর্তারা বলেন, "যাদের নিষ্ঠা, দক্ষতা ও অধ্যবসায়ের কারণে এই পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে অবশেষে থেলমা গ্যাস্টন তার নাম ও জীবনের গল্প ফিরে পেয়েছেন।"
বর্তমানে ৮৩ বছর বয়সী লরেন্স রেমসেন ক্যালিফোর্নিয়ার চিনো শহরের ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউশন ফর মেন কারাগারে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন