দলিতদের আন্দোলনে বিপর্যস্ত ভারতের ৫ রাজ্য, নিহত ৮
ভারতে দলিত আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের বিরুদ্ধে ডাকা বনধ ও বিক্ষোভ পালন করতে গিয়ে মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ ও রাজস্থানে সংঘর্ষে আটজন নিহত হয়েছেন।
দলিত সংগঠনগুলির ডাকা ভারত বনধ ও বিক্ষোভের জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত পাঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট, বিহারসহ ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি মধ্যপ্রদেশে। দলিত সংগঠনগুলোর সঙ্গে পুলিশে খণ্ডযুদ্ধে সেখানে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা কম করে ছয়জন।
সোমবার সকালের দিকে প্রথম বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর এসেছিল পাঞ্জাব ও ওডিশা থেকে। এরপর তা এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়র এবং মোরেনায় আন্দোলনকারী দলিতদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক ছাত্র নেতা। মধ্যপ্রদেশের ভিন্দ, সাগর এবং সাতনা জেলা থেকেও সংঘর্ষের খবর এসেছে। ভাঙচুর করা হয়েছে যানবাহন। দলিত বিক্ষোভ ঠেকানোর জন্য গ্বালিয়রে আপাতত বড় জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।
মধ্যপ্রদেশের পাশাপাশি দলিতদের ডাকা ধর্মঘট নিয়ে অশান্ত হয়ে উঠেছে বিজেপি শাসিত রাজস্থান এবং ঝাড়খণ্ড। রাজস্থানের জয়পুর ও আলওয়ারে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে কমকরে ৩০ জন আন্দোলনকারীকে। ঝাড়খণ্ডে বনধ ভাঙার জন্য পুলিশকে লাঠি চালাতে হয়েছে। রাজস্থানে মৃত্যু হয়েছে একজনের। অন্য দিকে উত্তর প্রদেশেও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ২০ মার্চের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, তফশিলি জাতি ও আদিবাসিদের ওপর অত্যাচার বন্ধের যে আইন রয়েছে, তা সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নিয়োগ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এই আইনে কোনও সরকারি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা যাবে না বলেও জানিয়ে দেয় শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্ট জানায়, কোনও সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধেও যদি একই অভিযোগ ওঠে, তবে তাকে গ্রেপ্তারের আগে ডিএসপি পদমর্যাদার কোনও পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে। এরই প্রতিবাদে এ দিন ভারত বনধের ডাক দিয়েছে রাষ্ট্রীয় সেবা দল, ন্যাশনাল দলিত মুভমেন্ট পর জাস্টিস, সিআইটিইউ, ভারিপ বহুজন মাহাসঙ্ঘের মতো বেশ কয়েকটা সংগঠন।
তাদের দাবি, ‘সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ দলিতদের স্বার্থের পরিপন্থী।’
দলিতদের ক্ষোভ সামাল দিতে চেষ্টার অন্ত নেই কেন্দ্রের। আগেকার রায়কে নতুন করে বিবেচনা করার জন্য তারা আবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি
News Desk
শেয়ার করুন