আপডেট :

        অবসরে রোমান সানা

        বিদায় নিচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন

        বিমান থেকে গাজায় মানবিক সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের

        বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস

        আবদুল কাদের জিলানী (র:) এর মাজার জিয়ারতের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ

        মিসরে পৌঁছেছে হামাস

        কারাগারে ওসমানীর সাদেক

        দ্রুত বিচার আইন স্থায়ী করতে সংসদে বিল পাস

        বিজেপির প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ

        শাবি প্রেসক্লাবের নবগঠিত কমিটির অভিষেক

        অনির্বাচিত কেউ সংসদে আসতে পারে না: সংসদ স্পিকার

        পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ

        সময়ের আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

        এবারের নির্বাচন সবচেয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

        এই বাংলাদেশির জন্য ২০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার

        কৃষি বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা

        বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও আহতদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমবেদনা

        মন্ত্রীর সংবর্ধনায় দু’পক্ষের উত্তেজনা, চেয়ার ভাঙচুর

        যুক্তরাজ্যে গেলেন রাষ্ট্রপতি

        বাসচাপায় পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

‘ডিজিটাল সিলেট সিটি প্রকল্প’

‘ডিজিটাল সিলেট সিটি প্রকল্প’

ব্যাপক হাকডাক করে সিলেট নগরকে ডিজিটালাইজ করার লক্ষ্যে শুরু হয়েছিলো ‘ডিজিটাল সিলেট সিটি প্রকল্প’। দেশের প্রথম ডিজিটাল সিটির তালিকায় সিলেটের নাম প্রথমে থাকলেও ৬ বছরেও গড়ে উঠেনি কাঙ্খিত ডিজিটাল সিটি। ডিজিটাল নগরে সবার আগে প্রয়োজন ডিজিটাল ট্রাফিক সিস্টেম। কিন্তু এখনো সেই মান্দাতার আমলের ট্রাফিকে চলছে নগর। ফলে নতুন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর স্মার্ট সিলেটের স্বপ্ন কার্যত বহুদুর বলে মনে করছেন অনেকে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে ডিজিটাল সিটির আগের বিভিন্ন উদ্যোগ। ফলে ফিকে হচ্ছে নতুন মেয়রের স্মার্ট সিটির স্বপ্ন। নগরীতে ফ্রি ওয়াইফাই নামে নামে থাকলেও বাস্তবে এর সুফল পাচ্ছেনা নগরবাসী। এমনকি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা এখনো সেই মান্দাতার আমলের।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে দেশের দুটি নগরকে ডিজিটাল সিটি হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। সে লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হয়। তবে এই ‘ডিজিটাল নগরে’ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখনো রয়ে গেছে অ্যানালগ। এখনো হাতের ইশারায় নগরীতে চলাচলকারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে।

সিলেট নগরীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনে ২৮ বছর আগে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে স্থাপন করা হয়েছিল ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি। তবে স্থাপনের পর থেকে আজ পর্যন্ত একটি দিনের জন্যও কাজে লাগেনি এই বাতিগুলো। এক দিনের জন্যও জ্বলেনি কোনো বাতি।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে ‘মাঝারি শহর উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য নগরীর ৬টি ব্যস্ততম পয়েন্টে স্থাপন করা হয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি। ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নগরীর চৌহাট্টা, রিকাবিবাজার, নয়াসড়ক, সুরমা মার্কেট, নাইওরপুল ও আম্বরখানা পয়েন্টে সিগন্যাল বাতি লাগানো হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো দিন ব্যবহৃত হয়নি এসব বাতি।

সিসিক কর্মকর্তারা জানান, তৎকালীন সময়ে ট্রাফিক পুলিশের আপত্তি ও যান্ত্রিক ক্রটির কারণে সিগন্যাল বাতি কার্যকর করা যায়নি। পরবর্তী সময় এগুলো সংস্কারের জন্য বাজেটে আলাদা খাত রাখা হলেও বরাদ্দ না পাওয়ায় সংস্কার করা হয়নি।

সরেজমিনে নগরীর ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি লাগানো ৬টি পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ট্রাফিক সিগন্যাল বাতির খুঁটিগুলোর একেবারেই জীর্ণ দশা। মরিচা আর শ্যাওলা জমেছে পুরো খুঁটিজুড়ে। খুটিগুলো এখনো দ-ায়মান থাকলেও চুরি হয়ে গেছে লাল, সবুজ, হলুদ বাতিগুলো।সিগন্যাল বাতি না থাকায় এখনো নগরীতে হাতের ইশরায়ই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। পুলিশের লোকবল সংকট ও ক্রমবর্ধমান যানবানের কারণে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকে। আর দিনভর নগরীর বিভিন্ন মোড়ে লেগে আছে অসহনীয় যানজট।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের আহ্বায়ক ফারুক মাহমুদ চৌধুরী দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, আমরা একটা প্রকৃত উন্নত শহর চাই। সেটা ডিজিটাল হোক কিংবা স্মার্ট। কিন্তু আমরা শুধু প্রতিশ্রুতিই শুনে আসছি। ডিজিটালের দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ আজো বাস্তবায়ন হয়নি। সিসিকের স্থাপিত ওয়াইফাই ও সিসি ক্যামেরা কোন কাজে আসছেনা।তিনি বলেন, ডিজিটাল নগরের জন্য ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থা সময়ের অপরিহার্য দাবী। একই সাথে ওয়াইফাই ও সিসি ক্যামেরাসহ ডিজিটাল শহরের অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়ন করা জরুরী। এত বছর পরও ডিজিটাল ট্রাফিক সিস্টেমের জন্য লাগানো সিগন্যাল বাতিগুলো অযত্নে অবহেলায় বিনষ্ট হওয়া রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। নগরীর যানজট ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য নগরীর প্রতিটি মোড়ে সিগন্যাল বাতি লাগানো ও ট্রাফিক পুলিশের আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) এর উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ডিজিটাল ট্রাফিক সিস্টেম চালু হলে পুলিশের কাজ কিছুটা সহজ হতো। জনগণও এর সুফল ভোগ করতে পারবে। সিগন্যাল বাতি চালু হলে ট্রাফিক পুলিশকে সারাদিন সড়কে দাঁড়িয়ে হাত নাড়াতে হতো না।তিনি বলেন, ডিজিটাল ট্রাফিক সিস্টেম ও সিগন্যাল বাতি চালু নিয়ে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই। এটি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের এখতিয়ারভুক্ত। শুধু ট্রাফিক সিস্টেম ডিজিটাল হলে কিংবা সিগন্যাল বাতি জ¦লে উঠলে নগরের যানজট নিরসন হবে না। এ জন্য হকার মুক্ত ফুটপাত, নগরীতে যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ, সকল মার্কেট বিপনী-বিতানের নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা চালু এবং জনসচেতনতার বিকল্প নেই।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, অতীতে পরিকল্পনা থাকা স্বত্তেও নানা কারণে ডিজিটাল ট্রাফিক সিস্টেমের উদ্যোগ আলোর মুখ দেখেনি। এরমধ্যে অর্থ বরাদ্দ ছিল বড় সমস্যা। খুটি স্থাপনের পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তখন সিগন্যাল বাতিগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে এই খাতে বরাদ্দ চেয়ে না পাওয়ায় সেই উদ্যোগ এগিয়ে নেয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ডিজিটাল ট্রাফিক সিস্টেম চালুর ব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা এখনো রয়েছে। তবে আপাতত এই বিষয়টি নিয়ে কোন সুখবর নেই। আগামীতেও ডিজিটাল ট্রাফিক সিস্টেমের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হবে। আর বরাদ্দ পেলেই বাতিগুলো চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে।

এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত