আপডেট :

        দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা কমবে, আগামী সপ্তাহে আবার বাড়বে গরম

        ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্দুকের গুলিতে ২ বছরের শিশুর মৃত্যু, গ্রেপ্তার মা ও তার প্রেমিক

        কানাডার দাবানলে ভয়াবহ ধোঁয়া, বিপর্যস্ত কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকা

        ডায়রিয়ার ঝুঁকিতে টাকো বেলের মেনু থেকে লেটুস বাদ

        কানাডার দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি

        টানা সপ্তম রাতেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল তেহরান

        দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় কমছে তাপপ্রবাহ, শুক্রবার থেকে মিলবে স্বস্তি

        ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারিটায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে, অল্পের জন্য রক্ষা পেল বহু বাড়ি

        ৪৫ বছর পর মিলল নিখোঁজ কোটিপতি নারীর পরিচয়, আধুনিক প্রযুক্তিতে রহস্যের সমাধান

        আলকাট্রাজ দ্বীপের কাছে নৌকা ডুবে নিহত ১, নিখোঁজ ৩

        আইসিসির ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করেছে: যুক্তরাষ্ট্রে মামলা

        ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা হামলা, পাল্টা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের হামলা

        তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া, সপ্তাহ শেষে মিলতে পারে স্বস্তি

        নতুন প্যাকেজিং ফি কার্যকর হলে ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়তে পারে নিত্যপণ্যের দাম

        যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণ, আক্রান্ত হতে পারেন ৭ হাজার

        বছরে দুইবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের নিয়ম বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

        উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা নিয়ে গবেষণা করা মার্কিন বিজ্ঞানীকে আটক করেছে চীন

        ট্রাম্পের হুমকি: আলোচনায় না ফিরলে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা

        আজুসায় দাবানল, ২৫ একর এলাকায় আগুন; বন্ধ হাইওয়ে ৩৯

        ২ বছরের শিশুপুত্রকে হত্যার অভিযোগে মায়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

সৃষ্টির পর দেশের দক্ষিণপূর্ব ও মিয়ানমার উপকূলে যাবে ‘মোখা’

সৃষ্টির পর দেশের দক্ষিণপূর্ব ও মিয়ানমার উপকূলে যাবে ‘মোখা’

বাংলাদেশে এপ্রিল থেকেই ঝড়-বৃষ্টি, কালবৈশাখী ও ঘূর্ণিঝড় শুরু হলেও মে মাসকেই ঘূর্ণিঝড়প্রবণ মাস বলা হয়। কারণ, গত ৩৩ বছরে সাগরে ১৭টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে, যার বেশিরভাগই বাংলাদেশের দক্ষিণপূর্ব ও মিয়ানমার উপকূল দিয়ে অতিক্রম করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতের মতো এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে যাওয়া লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’য় পরিণত হতে পারে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিসের মডিউল অনুযায়ী সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় মোখার দৃষ্টি দেশের দক্ষিণপূর্ব ও মিয়ানমার উপকূলের দিকেই রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, আবহাওয়ার বিভিন্ন চারিত্রিক পরিবর্তনের ফলে বিশ্বে বিরূপ প্রভাব বিস্তার করছে। যার ফলে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করার সময় ঘূর্ণিঝড়ের নানাবিধ চারিত্রিক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। উপকূল অতিক্রম করার সময় কোনও কোনও ঘূর্ণিঝড়ের গতি-প্রকৃতি কমেছে, আবার কোনটির বাড়ছে। বডি পার্ট অতিক্রম করা ঘূর্ণিঝড় কখনও কখনও স্বতন্ত্র চরিত্র প্রকাশ করছে। এজন্য কোনও কোনও ঘূর্ণিঝড় অতি তীব্র বেগেও উপকূল অতিক্রম করে, আবার কোনো কোনো ঘূর্ণিঝড় দুর্বলভাবে অতিক্রম করে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে যাওয়া লঘুচাপ ও সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় নিয়ে কথা বলেছেন সাবেক আবহাওয়া বিজ্ঞানী আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘গাণিতিক আবহাওয়া পূর্বাভাস পদ্ধতি এমন একটি পদ্ধতির মধ্যে যেকোন তথ্য দিলে সেই অনুযায়ীই ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তথ্য জেনারেট করবে। গাণিতিক মডেল অত্যন্ত সেনসেটিভ। যেকোন সময়ই ইনিশিয়াল কন্ডিশনের মধ্যে ভেরিয়েশন আসতে পারে।

যেহেতু আবহাওয়া একটি চলমান পরিবর্তনশীল বিষয়, সুতরাং আবহাওয়াগত পরিস্থিতি কিন্তু প্রতিদিন, প্রতি সময় পরিবর্তিত হচ্ছে। সেখানে একটিমাত্র ক্ষেত্র বা ফ্যাক্টর কাজ করছে না, বহুবিদ ফ্যাক্টর কাজ করছে। এখানে কাজ করে; সাগরের ফেনামনা, কাজ করে সাগরের উপর চলমান বাতাসের গতি, সাগরের ওপর আবহাওয়ার যেসব অবস্থাগুলো আছে সেগুলো নিয়েও ফ্যাক্টর কাজ করে। এছাড়া, বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তর, স্থলভাগের অবস্থা এবং বায়ুমণ্ডলের ঊর্ধ্বস্তরের মতো বহুবিদ বিষয় আবহাওয়া পরিস্থিতির জন্য দায়ী।’

সাবেক এই আবহাওয়া বিজ্ঞানী বলেন, ‘সাগরে সৃষ্টি হতে যাওয়া লঘুচাপের বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফোরকাস্ট সংস্থা কিছু জানায়নি। তবে ব্যক্তি পর্যায়ের কিছু লোক বাংলাদেশকে হাইলাইট করে প্রস্তুতির জন্য এই তথ্যটা প্রোভাইট করেছিল এবং সবসময়ই তারা আপডেট দিচ্ছেন। কিন্তু ঘটনা যতই বাড়ছিল বা কাছাকাছি সময়ে আসছিল, তখন কিন্তু আস্তে আস্তে প্রথমদিকের পরিস্থিতির মতো থাকছে না। যার কারণে পরিবর্তনশীল আবহাওয়া পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নির্ধারণ করে। এরপর সেটি যখন জনগণকে জানানো হয়, তখন কিন্তু জনগণের মাঝেও এটা নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

এছাড়া, আরও কতগুলো বিষয় আছে। সেজন্য আমাদের এই অঞ্চল নয়, বিশ্বের অন্যান্য যেসব সংস্থা আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়ে কাজ করে তারা কিন্তু এ ধরনের পূর্বাভাস এখনও দেয়নি। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, যাদের তিনদিকেই সাগর। সাগরে কোনও সিস্টেম তৈরি হলে তার প্রভাব ভারতের ওপর থাকবেই, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ, প্রতি ৫ থেকে ৬টি ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে আমরা সেখান থেকে মাত্র একটি বা সর্বোচ্চ দুটি পেয়ে থাকি। আর বাকিগুলো ভারতের উপকূলে আঘাত করে। এছাড়া, যেই ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশে আসে তার প্রভাবও কিন্তু ভারতে থাকে। এ বিষয়ে ভারত আমাদের থেকেও আরও বেশি সতর্ক। সেজন্য বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা আমাদের এই অঞ্চলে মনিটর করার জন্য (বঙ্গোপসাগরের আশেপাশের দেশগুলো) রিজিওনাল স্পেশালাইজড মেট্রোলজিক্যাল সেন্টার (আরএসএমসি) প্রতিষ্ঠা করেছে। এই সংস্থাটির অফিস ভারতের আইএমডি ভবনে।’

আবদুল মান্নান বলেন, ‘বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ঘূর্ণিঝড় বা আবহাওয়ার সব বিষয়গুলো নিয়ে আরএসএমসিকে দায়িত্ব দিয়েছে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ও ভারতে গণমাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ ও পরবর্তী সময়ে ঘূর্ণিঝড় মোখা তৈরি হওয়ার বিষয়ে নিউজ চলে এসেছে। নিউজ হওয়ার পর কিন্তু আরএসএমসি কোনও রেসপন্স করেনি। তারা বলছে, এই বিষয়ে কিছু বলার সময় হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা আছে। সুতরাং এতো আগে থেকে এটা বলে, জনগণের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করার ঠিক না।’

বাংলাদেশ থেকে ১২শ কিলোমিটার দূরে সাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় গত ৩ মে আরএসএমসি, ভারতে আবহাওয়া সংস্থা এবং বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরে একটা সতর্কবার্তা দেয়। সতর্কবার্তা তারা জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের ঠিক দক্ষিণে আগামী ৭ অথবা ৮ মে লঘুচাপটি সৃষ্টি হবে এবং ৯ মে এটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যখনই নিম্নচাপ হবে, তখনই ঘূর্ণিঝড়ের জীবনকাল শুরু হবে।

বিশ্বের আবহাওয়া পূর্বাভাস দেওয়া সংস্থাগুলো, সর্বোচ্চ পাঁচদিন আগে মোটামুটি নির্দিষ্টভাবে পূর্বাভাস দিতে পারে। কারণ পাঁচদিনের বেশি আগে পূর্বাভাস দিলে সেটির কার্যকারিতা পাওয়া যায় না। সেই কারণেই আরএসএমসি, ভারত আবহাওয়া অফিস এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামীকাল লঘুচাপ সৃষ্টির বিষয়টি জানিয়ে এটি পরবর্তী সময়ে নিম্নচাপে পরিণত হবে বলে জানিয়েছে। এই সংস্থাগুলো কিন্তু নিশ্চয়তা দিয়ে বলেছেন, তারা বিষয়টি নিয়ে প্রতিদিনই জানাবে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী এটি নিম্নচাপে পরিণত হবে এবং বিভিন্ন মডেলের তথ্যমতে, এটি ঘূর্ণিঝড়েও রূপ নিতে পারে বলে জানা গেছে।

ঘূর্ণিঝড়টি সৃষ্টি হলে কোন দিকে যাবে এমন প্রশ্নে আবদুল মান্নান বলেন, ‘লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টির বিষয়টি যদি থাকে, তাহলে এই সাগরের দিকে তিনটি দেশ রয়েছে। উত্তর দিকে বাংলাদেশ, উত্তরপশ্চিম এবং পশ্চিম দিকে হচ্ছে ভারত ও উত্তরপূর্ব দিকে হচ্ছে মিয়ানমার। এখনও পর্যন্ত এই পরিস্থিতি যেভাবে আছে এবং মডেলগুলো যেভাবে গাইডেন্স দিচ্ছে, তাতে নিম্নচাপটি উত্তর দিকে এগিয়ে আসবে।

যেকোন ঘূর্ণিঝড় উত্তর দিকে এগিয়ে এলে ডানদিকে বেঁকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল এবং মিয়ানমার ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হয়। কিন্তু কোনও কোনও মডেল দেখাচ্ছে এই ঘূর্ণিঝড়টি মিয়ানমারের দক্ষিণ দিক দিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, যেই মডেলগুলো প্রথমদিকে বাংলাদেশের দিকে দেখাচ্ছিল, সেই মডেলগুলো কিন্তু আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তার মানে, এখনও ঘূর্ণিঝড় ও ঘূর্ণিঝড় ফরমেশন অনেক অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সেজন্য আমরা সবাইকে আপাতত মানসিকভাবে প্রস্তুতির কথা বলছি।

তবে এখনও পর্যন্ত গ্লোবাল ফিল্ডে যেসব মডেল এভেইলএবল আছে, সেগুলোর প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী কোনও মডেলই কিন্তু এটাকে পারফেক্টলি ডিনাই করতে পারেনি। একেক মডেল একেকরকম দেখাচ্ছে। তার মানে হচ্ছে, মডেলগুলোর মধ্যে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। কাজেই আমরা অনিশ্চয়তা নিয়ে কোনও তথ্য সরকারের উচ্চ মহলে দিতে পারি না। তবে এটা নিশ্চিত যে, আগামীকাল বিকেল, সন্ধ্যায় অথবা ৮ মে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্ট হতে পারে। একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হলে সেটাতে ভূমি, আপার সাইট, সাগর, সাগরের অন্যান্য ফেনামনাগুলোর কন্ডিশন যখন লঘুচাপের ওপর পড়বে, তখনই কিন্তু এটি তার পরবর্তী কন্ডিশন নির্ধারণ করে। এখনও যেহেতু এটি সৃষ্টি হয়নি, সেজন্য এটি কোনদিকে যাবে স্পষ্ট করে বলা সমীচীন হবে হবে না।

দেশে বর্তমানে আবহাওয়া পরিস্থিতিতে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে, এর অর্থ কী, এমন প্রশ্নে এ আবহাওয়া বিজ্ঞানী বলেন, ‘ভ্যাপসা গরমের অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশের ওপরে দক্ষিণ দিক থেকে হয়ে বঙ্গোপসাগরে যে জলীয় বায়ুমণ্ডল আসছে, সেগুলোই বাংলাদেশের বায়ুমণ্ডলে বিরাজমান রয়েছে। জলীয়বাষ্প বিরাজমানের ফলে বাংলাদেশের বায়ুমণ্ডলে নিম্ন স্তরে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বাড়ছে। যার কারণে রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি না পেলেও গরমের অনুভূতিটা বেশি মনে হচ্ছে। এটাই লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস। সাগরে লঘুচাপের প্রবাহ যখন থাকবে এবং ভবিষ্যতে যদি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয় তখন কিন্তু বাংলাদেশে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে। একদিন বা দুদিন গোমট অবস্থা বিরাজ করবে এবং এরপর বাংলাদেশে দক্ষিণাঞ্চল হয়ে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ আরও বাড়বে। তারপরই কিন্তু মেঘমালা সৃষ্টি হবে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের আকাশে উচ্ছিষ্ট মেঘের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে।’

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার পরবর্তী সময়ে অনেকগুলো ধাপ পার করে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। ঘূর্ণিঝড়েরও অনেকগুলো ধাপ রয়েছে। তবে আমাদের মডিউল অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হচ্ছে এটা নিশ্চিত। পরবর্তী সময়ে এটি আরও ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার পরই ডানদিকে সরে যায়। বর্তমানে আমাদের মডিউল অনুযায়ী, এটি একটা দিক দেখাচ্ছে। লঘুচাপ সৃষ্টির পরই আমরা এটার বিস্তারিত পরিস্থিতি জানাবো।

এর আগে, মে মাসে আইলা, মহসেন, আম্ফান সৃষ্টি হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে ১৭টা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ১৭টির মধ্যে বেশিরভাগ ঘূর্ণিঝড়ই বাংলাদেশের দক্ষিণপূর্ব এবং মিয়ানমারের উপকূল দিয়ে অতিক্রম করেছে। বর্তমানে আমাদের মডেল অনুযায়ীও সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ও এই পথ দিয়ে অতিক্রম করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক মো. ছানাউল হক মণ্ডল বলেন, ‘সাগরে একটা সিস্টেম তৈরি হওয়ার পরই কিন্তু এর গতিবিধি বা গতিবেগ সম্পর্কে বলা যাবে। চাইলেই কেউ বলতে পারে, তবে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার পরই সে বিষয়ে বলা যুক্তিযুক্ত হবে। কারণ, ঘূর্ণিঝড় সৃষ্ট হওয়ার পরে সেটার মুভমেন্ট পরিবর্তন হতে পারে। যেহেতু ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসটা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাই এটার বিষয়ে পূর্বাভাস দিলে শিউর হয়ে দিতে হবে। আগে থেকেই কিছু বলে দিলে আতঙ্ক সৃষ্টি হবে।

এজন্য বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের মাধ্যমে এতো তাড়াতাড়ি পূর্বাভাস দেয় না। আমার আহ্বান থাকবে, আগে লঘুচাপটি সৃষ্টি হোক এবং তারপরই আপনার বিস্তারিত লিখেন। কারণ, গণমাধ্যমে একটা ভুল তথ্য চলে গেলে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হবে।’

 


এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত