আপডেট :

        লস এঞ্জেলেসে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯০ মৃত্যুর প্রতিবাদে সিটি হলের সামনে ব্যতিক্রমী ‘ডাই-ইন’ বিক্ষোভ

        মিনিয়াপোলিসে ফের এক মার্কিন নাগরিকের গুলিতে মৃত্যু, বিক্ষোভ আবারও জারি

        যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের পর ডব্লিউএইচওর রোগ পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কে যোগ দিল ক্যালিফোর্নিয়া

        লস এঞ্জেলেসে গৃহহীন তহবিল আত্মসাৎ: দাতব্য সংস্থার প্রধান গ্রেপ্তার

        ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির দামে মৃদু পতন: ৮৮% এলাকায় মূল্য কমেছে

        বিচারকের পরোয়ানা ছাড়াই বাড়িতে ঢোকার নির্দেশ আইসিইকে—ফাঁস মেমো

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেডারেল অভিযানে গুলি, ব্যাপক নিরাপত্তা তৎপরতা

        প্রথম প্রজন্মের গৃহক্রেতাদের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার ডাউন পেমেন্ট সহায়তা কর্মসূচি আবার চালু

        ট্রাম্পের কাছে ‘নতি স্বীকার’ না করতে বিশ্বনেতাদের কড়া বার্তা নিউজমের

        ২০২৫ সালের শেষে ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির দাম কমেছে, বিক্রি বেড়েছে

        সেতু উন্নয়নকাজের জন্য রাতে ইউএস-১০১ ফ্রিওয়ে বন্ধ থাকবে

        ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল লস এঞ্জেলেসের ডাউনটাউন

        অভিবাসন কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মিনেসোটার শীর্ষ নেতাদের সমন জারি

        চতুর্থ সন্তানের মা হতে চলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স

        দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় হামের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে

        দুর্ঘটনায় ফার্মেসির ভেতরে ঢুকে পড়ল টেসলা, আহত ২

        ইন্ডিওর কাছে ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া

        ‘এটা বর্ণভিত্তিক প্রোফাইলিং’: অরেঞ্জ কাউন্টিতে ফেডারেল অভিবাসন অভিযানে আতঙ্ক

        গ্রিনল্যান্ড নিয়ে শুল্ক হুমকি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ট্রাম্পের, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সতর্ক বার্তা

        মিনেসোটায় চার্চের প্রার্থনা পণ্ড: আইসিই বিরোধী বিক্ষোভ তদন্তে মার্কিন বিচার বিভাগ

ফেসবুক লাইভে উমামার চোখের জল: জুলাই কি শুধুই ‘মানি মেকিং মেশিন’?

ফেসবুক লাইভে উমামার চোখের জল: জুলাই কি শুধুই ‘মানি মেকিং মেশিন’?

জুলাই কেন ‘মানি মেকিং মেশিন’ হবে, এমন প্রশ্ন রেখেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র ও সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা। তিনি জানান, ‘জুলাই অনেক বড় অভিজ্ঞতা। মানুষ অবিশ্বাস্য লড়াই করেছে। আমার মাথায় আসেইনি যে এটা দিয়ে টাকা-পয়সা ইনকাম করা যায়! আমি মুখপাত্র হওয়ার পর আবিষ্কার করছি, এটা দিয়ে অনেকে অনেক কিছু করছে। টেন্ডার-তদবির বাণিজ্য করছে, ডিসি নিয়োগ করছে। এগুলো অহরহ করেছে। এর আগে এটা নিয়ে ধারণা ছিল না। জুলাই আন্দোলনকে কেন মানি মেকিং মেশিন করব। আনফরচুনেটলি সেটা হয়েছে।’

গতকাল রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তিনি এসব কথা করেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে উমামা জানান, অন্যের ক্ষতি করার ইচ্ছা তার নেই, অন্যকে অসম্মান বা কষ্ট দেওয়ার ইচ্ছাও নেই।

প্রায় দুই ঘণ্টা ২৪ মিনিটের ভিডিওতে জুলাই-আগস্টের আন্দোলন, বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন এই নারী নেত্রী। জানান, “আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সবাই গিয়েছি। ছাত্র ফেডারেশন করার সময় অনেকবার দেখেছি। ৩০-৪০ জনের মিছিলের সময় বলতাম, ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক।’ কিন্তু কখনো ভাবিনি, এই স্লোগান দিতে দিতে শিশুসহ সবাই রাস্তায় নেমে জীবন দেবে। জুলাই-আগস্টে সাধারণ মানুষকে ফাইট নিয়ে করেছি। এ কারণে এক বছর ধরে টিকে ছিলাম। কারণ, আমরা একটা স্বপ্ন দেখছিলাম।”

তিনি আরও জানান, ‘৫ আগস্টের পরে অনেক র‍্যালি করেছি, গণভবনে গেছি। এরপর অনেক কাহিনি চলেছে। পরদিন দেখি, সমন্বয়ক পরিচয়ে একেকজন একেক জায়গায় দখল করেছে। সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও দখল করছে। আওয়ামী লীগের রক্ষী বাহিনী জায়গায়, জায়গায় গিয়ে দখল করে। আমার মনে হচ্ছে যে এখন কি রক্ষী বাহিনীর মতো সমন্বয়ক বাহিনী তৈরি হচ্ছে নাকি। আস্তে আস্তে সব জায়গায় দখল করে ফেলবে।’

উমামা ফাতেমা বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আর পারছিলাম না। দেশকে আরও বড় কিছু দেওয়ার চিন্তা থেকে ফেডারেশন থেকে সরে গিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করি। তখন আমি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম। আমাকে ডাকত না। কারণ হতে পারে, আমি প্ল্যাটফর্মটি বন্ধ করে দিতে বলেছিলাম।’

জুলাই আন্দোলনে সমন্বয়কদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৫২, ৬২ বা ১৫৮ জন সমন্বয়ক যে হয়েছে, সেগুলো সেভাবে ফাংশন করছিল না। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিচ্ছিল। তবে সমন্বয়ক টার্মটা সে সময় দরকার ছিল, যাতে সবাইকে কানেক্ট করা যায় না। আমার কাছে মনে হয়েছে, সমন্বয়কদের চেয়ে অন্যদের সহযোগিতা বেশি পেয়েছিলাম।’

আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সমন্বয়কদের অনেকের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে উমামা বলেন, ‘সমন্বয়ক বাহিনী হয়তো সেভাবে অস্ত্র দিয়ে হয়নি। কিন্তু তখন সবার সঙ্গে আলাপ করে আমার মনে হয়েছে, এখন আসলে বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্মের আসলে দরকার কি? এটা তো শুধু ছাত্রদের। এখন দরকার, সবাইকে একোমোডেট করা যায়, সেটা ভাবা উচিত। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, তাদের আর কীই-বা করার আছে। এটা আরও বেশি ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।’

‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে যাওয়ার কারণে অনেকগুলো ডিমেরিট আমরা ভোগ করছি’—মন্তব্য করে উমামা বলেন, ‘ওইগুলো বলার কারণেই আমি প্রচুর শত্রু বানিয়ে ফেলেছি। এত মানুষ আমাকে খারাপ ভাবা শুরু করে যে আমি রীতিমতো তব্দা খেয়ে যাই। পরে জেলায় জেলায় গিয়ে দেখেছি, অনেক ভালো ভালো ছেলে কিছু করতে চায়। ওরা দেশটাকে পুনর্গঠন করবে।’

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক এই নেত্রী আরও জানান, ‘অনেকে বলেন যে আমি কত হাজার কোটি টাকা কামাইছি? তাদের আমি বলতে পারি, আমার একটি ভালো জীবন আছে। ভালো পরিবারের সদস্য। এত খারাপ অবস্থা আসে নাই। আমার স্কলারশিপের জন্যও প্রয়োজন নাই। আমার পরিবারের সাপোর্ট আছে। তারা চায়, আমি দেশের জন্য কিছু করি।’

 

এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত