নাগরিকদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে ট্রাম্প
ইন্টারনেট থেকে নেওয়া ছবি
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের অনেকটাই বলা চলে বিশ্ব প্রেসিডেন্ট। সারা বিশ্বব্যাপী তারা ক্ষমতা চর্চা করে থাকে, দেখায় নিজেদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এমন প্রভাব মেনেও নিয়েছে সবাই।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেন রীতি মত বাড়াবাড়িই করছে। হা জীবন নিয়ে রাজনীতি করছে নিজের দেশের মানুষের সাথে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ চলছে পুরো পৃথিবীব্যাপী। যুক্তরাষ্ট্রও এর বাইরে নয়।
কিন্তু এখানে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ও মৃতের হার রীতিমত ভীত হওয়ার মতো। আর এর জন্য একমাত্র দায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কেননা শুধু তার খামখেয়ালি আর রাজনীতির কারণে মৃত আর আক্রান্তের হার হয়েছে আকাশচুম্বী।
বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র তার নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আর্থিক ক্ষতি স্বত্তেও কার্যকর করেছে লকডাউন। পৃথিবীতে যুক্তরাষ্ট্রই সম্ভবত একমাত্র দেশ যে আর্থিক ক্ষতির কথা চিন্তা করে লকডাউন জারি করেনি। আর তা হয়ে উঠেনি একমাত্র ট্রাম্প প্রশাসনের কারণে।
সামনের নভেম্বরেই দেশে নির্বাচন। আর এই নির্বাচনে করোনাভাইরাসকে ব্যাপকভাবে কাজে লাগাচ্ছে ট্রাম্প। এই করোনাভাইরাসই হবে ট্রাম্পের নির্বাচনে জেতার ট্রাম্প কার্ড। কিভাবে, বলছি শুনুন।
পুরো দেশে লকডাউন জারি করা হলে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ও মৃতের হার কমবে ঠিকই। কিন্তু দেশটির অর্থনীতি পুরোদমে ভেঙ্গে পড়বে। আর পুঁজিবাদী এই অর্থনীতি ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়লে তা মেনে নিবে না দেশটির ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও কর্পোরেশন। সেইসাথে দেশটির রক্ষণশীল সমাজও তা মেনে নিবেনা। তাছাড়া, ট্রাম্প নিজেও একজন ব্যবসায়ী।
তাছাড়া, তার দল রিপাবলিকান পার্টিও রাজনৈতিক আদর্শের দিক থেকে রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত।
আর্থিক ক্ষতি হলে রক্ষণশীল ও মডারেট সকলেই দুষবে ট্রাম্প প্রশাসনকে। তাই ট্রাম্প সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছেতে কার্যকর করছে না লকডাউন। নাগরিকদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে উনি আগে থেকেই মনগড়া এক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন গণমাধ্যমে। তিনি জানান লকডাউন কার্যকর করলেও দেশটিতে কমপক্ষে ১ থেকে ৩ লক্ষ নাগরিক সংক্রামক এই ভাইরাসটিতে মারা যাবে।
কিন্তু বাস্তবে যে সকল দেশ কার্যকরভাবে লকডাউন করতে পেরেছে সে সমস্ত দেশে ভাইরাসটিতে মৃত্যুর হার একেবারে শূন্য। জার্মানি, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এ সমস্ত দেশের দিকে তাকালেই তা অনুধাবন করা যায়।
তাছাড়া, ট্রাম্প যে ভাইরাসটি নিয়ে রাজনীতি করছে তা তার বক্তব্যগুলো থেকেই অনুধাবন করা যায়। বয়স্ক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটির একটি রাজনৈতিক নামকরণ করেছেন। তিনি এই ভাইরাসকে ‘চায়না ভাইরাস’ বলে উল্লেখ করছেন।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বহুল প্রচলিত ষড়যন্ত্রতত্ত্বকে তিনি বৈশ্বিক এই দুর্যোগে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। সারা বিশ্বের এমন দুর্যোগে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার তহবিল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
সেইসাথে পুরো দেশ জুড়ে চলমান লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভে তিনি সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছেন। অবশ্য বিক্ষোভে অংশ নেওয়া লোকগুলো যে আসলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থক তা যে কোন রাজনৈতিক সচেতন মানুষ দেখলেই অনুধাবন করতে পারবে।
বিক্ষোভকারীদের বেশিরভাগের পড়নে রয়েছে আমেরিকার জাতীয় পতাকার রঙের আদলে তৈরি করা পোশাক। আমরা কম বেশি সবাই জানি যে, ট্রাম্পের রাজনৈতিক স্লোগান হল ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’। আর তার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে।
তাছাড়া, ব্যবসায়ী এই প্রেসিডেন্ট টাকা দিয়ে নাগরিকদের জীবন কিনতে চাইছে। একদিকে তার গৃহীত নীতিমালার কারণে নাগরিকদের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। অন্যদিকে তিনি ঘোষণা করছেন আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ। আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে কি এতো এতো মার্কিন নাগরিকের জীবনের মূল্য পরিশোধ করা যাবে।
বিশ্বের আরেক উদীয়মান পরাশক্তি চীনকে তিনি মার্কিনীদের শত্রু হিসেবে পরিচিত করাতে চাচ্ছেন। রাজনীতিবিজ্ঞানে এ সমস্ত ডিসকোর্স নতুন কিছু নয়। সারা বিশ্ব জুড়েই এসব চলে।
সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, বিশ্ব মানবতার এমন ক্রান্তিকালীন সময়ে পুরো বিশ্ব যখন যুক্তরাষ্ট্র কি করছে তার দিকে তাকিয়ে আছে। আন্তর্জাতিক এই দুর্যোগে যখন সবাই যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রত্যাশা করছে, সেখানে ভাইরাস নিয়ে ট্রাম্পের এই রাজনীতিক মডেলে সবাই বিস্মিত।
তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশই ট্রাম্পের এমন মডেল অনুসরণ করতে দেখা যাচ্ছে। তাই আমরা এলএ বাংলা টাইমস পরিবার আশা করি বিশ্ব একদিন রাজনীতির উর্ধে উঠে মানবতার জয়গান গাইবে। ট্রাম্পের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। শুভ বুদ্ধির উদয় হোক বিক্ষোভকারী এ সমস্ত নাগরিকের। সুস্থ থাকুক সমস্ত আমেরিকান নাগরিক। নিরাপদ থাকুক পুরো বিশ্ব। বিজয় হোক বিশ্ব মানবতার।
/এলএ বাংলা টাইমস/
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন