মার্কিন ৫০% শুল্কের মধ্যেও ভারতের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে, কমছে উত্তেজনা
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রপ্তানি পাঁচ মাস পর প্রথমবারের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। অক্টোবর মাসে রপ্তানি সেপ্টেম্বারের তুলনায় ১৪.৫% বেড়েছে, যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত উচ্চ শুল্ক এখনো বহাল রয়েছে।
গত মাসে ভারতের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠানো তীব্রভাবে কমে গিয়েছিল। কারণ ২৭ আগস্ট থেকে ৫০% মার্কিন শুল্ক কার্যকর হয়, যার মধ্যে রাশিয়ান তেল কেনার কারণে অতিরিক্ত ২৫% জরিমানাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এ অবস্থার মধ্যেই অক্টোবরের রপ্তানি বৃদ্ধি আসে, যখন ভারতের সরকারি তেল কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে বার্ষিক তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি বাড়াতে সম্মত হয় এবং ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিশোধমূলক শুল্ক থেকে বহু কৃষিপণ্যকে ছাড় দেয়, যা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এনে দিতে পারে।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এক ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো দ্রুতই চূড়ান্তের পথে।
অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বাড়লেও ভারতের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি গত বছরের তুলনায় ১১.৮% কমেছে। শীর্ষ ২০টি রপ্তানি বাজারের মধ্যে ১৫টিতেই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য কমেছে।
গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI)-এর দিল্লিভিত্তিক চিন্তক Ajay Srivastava বলেন, “স্মার্টফোন ও ফার্মাসিউটিক্যালের মতো শুল্কমুক্ত খাতগুলো ভালো করতে পারে—যদিও এটি এখনো অনুমানের পর্যায়ে।” তিনি আরও জানান, মে থেকে অক্টোবরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি মোটে ২৮.৪% কমেছে, যার ফলে মাসিক রপ্তানিতে ২.৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্ষতি হয়েছে।
তবুও, কয়েক মাসের উত্তেজনার পর ভারত–মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
সোমবার ভারত জানায়, দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশের মোট বার্ষিক এলপিজি প্রয়োজনের প্রায় ১০% সংগ্রহের জন্য একটি বড় ধরনের চুক্তি সম্পন্ন করেছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এ সিদ্ধান্তকে “ঐতিহাসিক অগ্রগতি” বলে অভিহিত করেন।
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে চায় যে ভারত যেন যুক্তরাষ্ট্রের তেলপণ্যের আমদানি বাড়ায় এবং রাশিয়ান তেলের ওপর নির্ভরতা কমায়। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত রাশিয়ার তেলের অন্যতম বড় ক্রেতায় পরিণত হয়। গত বছর ভারত রাশিয়া থেকে ৫২.৭ বিলিয়ন ডলারের তেল কিনেছে, যা তার মোট তেল বিলের ৩৭%।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী মাসের শুরুতে দিল্লি সফরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এবং এ সময় বেশ কয়েকটি চুক্তি ও প্রকল্প চূড়ান্ত হতে পারে। তাই জ্বালানি আমদানিতে ভারতকে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হচ্ছে।
তবে রাশিয়ান তেল কমানোর বিষয়ে বিরোধের কারণে বহুদিন আটকে থাকা ভারত–মার্কিন বাণিজ্য আলোচনায় এখন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এক সরকারি কর্মকর্তা The Hindu–কে জানিয়েছেন, প্রথম ধাপের বাণিজ্য চুক্তি “প্রায় চূড়ান্তের পর্যায়ে”।
এ ছাড়া চা, কফি ও মসলার মতো কৃষিপণ্য থেকে পারস্পরিক শুল্ক প্রত্যাহারের মার্কিন সিদ্ধান্তে ভারতও বড় সুবিধা পেতে যাচ্ছে। এতে ভারতের প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের কৃষি রপ্তানি কার্যত শুল্কমুক্ত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন