ম্যাজিক জনসনের উদ্যোগে লস এঞ্জেলেস বন্দরে নতুন ক্রুজ টার্মিনাল
মিনেসোটায় আইসিই অভিযানে হত্যাকাণ্ড: ডেমোক্র্যাটদের বিদ্রোহে আবারও যুক্তরাষ্ট্রে সরকার শাটডাউনের শঙ্কা
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরেকজন মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ওয়াশিংটনে নতুন করে সরকার শাটডাউনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন প্রয়োগ নীতিকে ঘিরে এই হত্যাকাণ্ডকে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন ডেমোক্র্যাটরা—এমনকি কিছু রিপাবলিকানও। ফলে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)-এর অর্থায়ন আটকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিনেট ডেমোক্র্যাটরা।
শনিবার মিনেসোটায় ৩৭ বছর বয়সী আইসিইউ নার্স আলেক্স প্রেটি নিহত হওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—ফেডারেল সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন না আনা হলে DHS-এর জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দে তারা সমর্থন দেবেন না।
এই অবস্থানে ডেমোক্র্যাটদের সরে দাঁড়ানোয় পুরো ব্যয় প্যাকেজ ঝুলে পড়েছে। ওই প্যাকেজে স্টেট ডিপার্টমেন্ট, পেন্টাগনসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শ্রম ও পরিবহন বিভাগগুলোর অর্থায়নও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সোমবার সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার (নিউইয়র্ক) এক বিবৃতিতে রিপাবলিকান নেতা জন থুনকে (দক্ষিণ ডাকোটা) আহ্বান জানান—হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অর্থায়ন আলাদা করে পাস করিয়ে সরকার শাটডাউন এড়াতে।
শুমার বলেন, “৩০ জানুয়ারির সময়সীমার আগেই DHS-এর অর্থায়ন বাদ দিয়ে বাকি পাঁচটি বরাদ্দ বিল দ্রুত এগিয়ে নিতে আমরা প্রস্তুত। আংশিক সরকার শাটডাউন ঠেকানোর দায়িত্ব এখন সিনেট রিপাবলিকানদের ও নেতা থুনের।”
এই অচলাবস্থায় রিপাবলিকান শিবিরেও ফাটল স্পষ্ট হয়েছে। একাধিক জিওপি আইনপ্রণেতা গুলির ঘটনার ফেডারেল ও রাজ্য পর্যায়ে তদন্ত এবং কংগ্রেসে শুনানির দাবি তুলেছেন—যা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর বিরল চাপ সৃষ্টি করেছে।
সিনেটে ব্যয় প্যাকেজ এগিয়ে নিতে ৬০ ভোট প্রয়োজন। রিপাবলিকানদের আসন সংখ্যা ৫৩ হওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ছাড়া তা সম্ভব নয়। সময়ও কম—শুক্রবার মধ্যরাতের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে আংশিক সরকার শাটডাউন অনিবার্য।
এর আগেই, এই মাসে মিনিয়াপোলিসে তিন সন্তানের জননী রেনে গুড ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে নিহত হওয়ার পর DHS অর্থায়ন নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের আপত্তি শুরু হয়। তবে প্রেটির হত্যাকাণ্ড তাদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ বলেন, “আইসিই ও বর্ডার প্যাট্রোল যেভাবে কাজ করছে, তাতে আমি তাদের আর এক পয়সাও দিতে রাজি নই। যারা এদের আরও টাকা দেবে, তাদের সিদ্ধান্তের ফলেই শহরে আরও আমেরিকান মারা যাবে।”
সিনেটর অ্যালেক্স পাডিলা এক বিবৃতিতে বলেন, “জীবন, নিরাপত্তা ও সংবিধানকে অবজ্ঞা করে কাজ করা ট্রাম্পের আইসিই ও সিবিপিকে আমি আর কোনো অর্থ দিতে ভোট দেব না।”
রিপাবলিকানদের বেশিরভাগই অর্থায়ন সমর্থনের পক্ষে থাকলেও অনেকে প্রকাশ্যে আইসিই এজেন্টদের প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আলাস্কার সিনেটর লিসা মারকোস্কি বলেন, “আস্থা ফেরাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্ত দরকার। কংগ্রেসকে শুনানি করে নজরদারি করতে হবে। আইসিই এজেন্টদের হাতে সীমাহীন ক্ষমতা নেই।”
হাউস রিপাবলিকানদের মধ্যেও একই দাবি উঠেছে। হাউস হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু গারবারিনো আইসিই, সিবিপি ও সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছেন।
এদিকে, প্রেটির কাছে বৈধ অস্ত্র থাকার বিষয়টি হত্যার কারণ হিসেবে দেখানোর চেষ্টায়ও ক্ষুব্ধ অনেক রিপাবলিকান। মিনিয়াপোলিস পুলিশ প্রধানের মতে, প্রেটির কাছে অস্ত্র বহনের বৈধ অনুমতি ছিল। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি অস্ত্র নয়—মোবাইল ফোন হাতে ছিলেন।
কেন্টাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি বলেন, “অস্ত্র বহন করা মৃত্যুদণ্ড নয়। এটি সংবিধানস্বীকৃত অধিকার। যারা এটা বোঝে না, তাদের সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে থাকার অধিকার নেই।”
রিপাবলিকানদের সমালোচনার মুখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছেন। সোমবার তিনি মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজের সঙ্গে ‘ভালো আলোচনা’ হয়েছে বলে জানান এবং বলেন, পরবর্তী পদক্ষেপে তারা ‘একই তরঙ্গে’ রয়েছেন।
ডেমোক্র্যাটরা যদি DHS অর্থায়ন আটকে দিতে সফল হন, তবে ব্যাপক অভিবাসন সংস্কারের ইঙ্গিতও দিয়েছেন অনেকে। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি রো খানা কংগ্রেসকে আইসিইর জন্য বরাদ্দ অতিরিক্ত ৭৫ বিলিয়ন ডলার বাতিলের আহ্বান জানান—যা গত বছর আইসিইর বাজেট প্রায় তিনগুণ বাড়িয়েছিল।
খানা বলেন, “আমাদের আইসিই ভেঙে দিয়ে কংগ্রেসের নজরদারির আওতায় নতুন সংস্থা গড়তে হবে। নার্স প্রেটি এবং রাস্তায় নেমে আসা লক্ষ মানুষের কাছে আমরা এই দায়বদ্ধতা রাখি।”
ডেমোক্র্যাটরা DHS সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমকে অপসারণের দাবিতেও জোর দিচ্ছেন। ইলিনয়ের প্রতিনিধি রবিন কেলি তার অভিশংসনের প্রস্তাব এনেছেন। তার ভাষায়, নোয়েম মিনিয়াপোলিসে ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ কায়েম করেছেন। কেলির দপ্তর জানিয়েছে, অন্তত ১২০ জন ডেমোক্র্যাট এই প্রস্তাব সমর্থন করেছেন।
এছাড়া তথাকথিত ‘কাভানফ স্টপস’ বন্ধ করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা থেকে সুরক্ষা দেওয়া ‘কোয়ালিফায়েড ইমিউনিটি’ বাতিলের দাবিও উঠেছে।
মিনেসোটার প্রতিনিধি ইলহান ওমর বলেন, “DHS-এর অর্থায়নে না ভোট দেওয়া ন্যূনতম পদক্ষেপ। ক্রিস্টি নোয়েমের অভিশংসন সমর্থন ন্যূনতম পদক্ষেপ। আইন ভাঙা আইসিই এজেন্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা ন্যূনতম পদক্ষেপ। আইসিই সংস্কারের ঊর্ধ্বে—এটি বিলুপ্ত করতেই হবে।”
মিনেসোটার গুলির ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তৈরি হওয়া এই টানাপোড়েন এখন সরকার শাটডাউনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে দেশকে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন