করোনাভাইরাসে এখনো ‘ডেঞ্জার জোনে’ ক্যালিফোর্নিয়া
সংগৃহীত ছবি
অর্থনীতির কথা ভেবে ক্যালিফোর্নিয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে চলে আসা লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজ্য এখনো রয়েছে করোনাভাইরাসের ‘ডেঞ্জার জোন’ বা বিপদসংকুল পরিস্থিতিতে। কারণ ক্যালিফোর্নিয়ায় করোনায় হতাহতের হিসেব এখনো স্থিতিশীল হয়নি।
রোববারে শেষ হওয়া গত সাত দিনের হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ায় করোনায় মারা গিয়েছেন ৫০৩ জন। যা সপ্তাহের হিসেবে রাজ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগের সপ্তাহের চেয়ে ভাইরাসে মৃত্যু শতকরা ১.৬ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাসজুড়ে প্রতি সপ্তাহে মারা যাচ্ছে ৫০০ জন করে। গত সপ্তাহে করোনা পজিটিভ হয়েছেন রেকর্ড ১৩ হাজার জন। পরীক্ষা বাড়ালে বাড়তে পারে আক্রান্তের সংখ্যাও।
মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় গভর্নর গেভিন নিউসামও ইঙ্গিত দিয়েছেন সবকিছু ধীরে-সুস্থে সচল করা হবে। লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে করোনার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। সোমবারও সেখানে মারা গেছেন ৩৯ জন।
নিউসাম গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যারা মনে করেন জরুরি পরিস্থিতি এখন আর নেই। আমরা আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারি। তাদের বলছি গত ২৪ ঘণ্টায় ৯২টি পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ২৭৭০ জন মারা গিয়েছেন। যদিও তা নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির তুলনায় সংখ্যাটা কম। নিউ ইয়র্কে মৃতের সংখ্যা ২৬ হাজার, নিউ জার্সিতে ৯ হাজার ছাড়িয়েছে।
ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের সাবেক কর্মকর্তা ডক্টর জর্জ রাদারফোর্ড বলেন, ক্যালিফোর্নিয়া এখনো করোনার প্রথম ধাপের আঘাত কাটিয়ে উঠেনি। যতদিন না পর্যন্ত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এ সংখ্যা অবশ্যই কমতে হবে।
সংক্রমক রোগগুলোতে মাঝেমাঝে দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণ বেশি ভয়ংকর হয়ে দেখা দিতে পারে। যদিও নানা কারণেই অনেকে ঘরে নিরাপদে থাকার নিয়ম এখন মানতে চাননি বা পারেননি। এক জরিপে দেখা যায় লকডাউনের দু সপ্তাহেই সান ফ্রন্সিসকো বে এরিয়ার ৫টি কাউন্টিতে ঘরে থাকার হার ৮০ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয় ৪৭ শতাংশে।
/এলএ বাংলা টাইমস/এন/এইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন