কুকুর প্রশিক্ষকের অবহেলায় ১১ কুকুরের মৃত্যু, দোষী সাব্যস্ত যুগল
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে নিজের তত্ত্বাবধানে থাকা ১১টি কুকুরের মৃত্যুর ঘটনায় এবং পরে প্রমাণ গোপন করতে তাদের মরদেহ দাহ করার অভিযোগে এক কুকুর প্রশিক্ষককে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত।
দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি ৫৪ বছর বয়সী কুয়ং (টনি) চুন সিট, যিনি আরভাইনে ‘হ্যাপি কে-৯ একাডেমি’ নামে একটি কুকুর প্রশিক্ষণ ও বোর্ডিং সেবা পরিচালনা করতেন। তার প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ ও আবাসন সেবার মূল্য ছিল ৯৯৯ থেকে ৩,৩৯৯ ডলার পর্যন্ত।
প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসে মালিকরা তাদের পোষা কুকুরগুলো কয়েক সপ্তাহের প্রশিক্ষণের জন্য সিটের কাছে রেখে যান। কিন্তু প্রশিক্ষণের পরিবর্তে তিনি কুকুরগুলোকে একটি গরম ভ্যানের ভেতরে ছোট খাঁচায় আটকে রাখেন। প্রচণ্ড তাপের কারণে কুকুরগুলো হিট স্ট্রোকে মারা যায়।
কুকুরগুলোর মৃত্যুর পর ঘটনাটি গোপন করার পরিকল্পনা করেন সিট। এ কাজে তিনি তার ২৪ বছর বয়সী বান্ধবী টিংফেং লিউর সহায়তা নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সন্দেহ এড়াতে তারা বিভিন্ন দাহকেন্দ্রে কুকুরগুলোর মরদেহ নিয়ে গিয়ে দাহ করার চেষ্টা করেন।
একটি কুকুরের মালিক ২০২৫ সালের ১৮ জুন সিটের কাছ থেকে একটি বার্তা পান, যেখানে বলা হয় যে তার কুকুর ‘মিকো’ রাতে শান্তিপূর্ণভাবে মারা গেছে এবং মরদেহ দাহ করা হয়েছে। অন্য মালিকদের কাছেও একই ধরনের বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তবে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় এক মালিক পুলিশকে জানালে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তে আরভাইন পুলিশ বিভিন্ন দাহকেন্দ্র থেকে একাধিক কুকুরের মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তে দেখা যায়, আটটি কুকুর হিট স্ট্রোকে মারা গেছে এবং একটি কুকুরছানা ভোঁতা আঘাতে নিহত হয়েছে। বাকি দুটি কুকুরের মরদেহ উদ্ধার করার আগেই দাহ করা হয়েছিল।
প্রসিকিউটররা জানান, কয়েকটি কুকুরের মুখ, লোম ও থাবায় রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অরেঞ্জ কাউন্টির ডেপুটি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ডানিকা ড্রটম্যান বলেন, “এই কুকুরগুলো ঘুমের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে মারা যায়নি। তারা মৃত্যুর আগে কষ্ট পেয়েছে এবং প্রাণ বাঁচানোর জন্য লড়াই করেছে।”
নিহত কুকুরগুলোর নাম ছিল রোজি, শ্যাডো, জিগি, মিকো, থিও, পাফিন, কোডি, জোই, লুনা, ব্যাং ব্যাং এবং সেইন্ট।
গ্রেপ্তারের সময় সিট ও লিউ পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকে তারা ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার জামিনে কারাগারে আটক ছিলেন। আদালত তাদের পাসপোর্ট জমা দিতে, কোনো প্রাণীর সংস্পর্শে না যেতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল।
গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে সিটকে ১১টি গুরুতর প্রাণী নির্যাতনের অভিযোগ, সাতটি প্রমাণ নষ্টের চেষ্টার অভিযোগ এবং একটি প্রমাণ ধ্বংসের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অন্যদিকে লিউকে একটি গুরুতর অপরাধে সহযোগিতা, একটি প্রমাণ ধ্বংস এবং দুটি প্রমাণ নষ্টের চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
সিটের সর্বোচ্চ ১৩ বছর ১১ মাস কারাদণ্ড হতে পারে। আর লিউর সর্বোচ্চ চার বছর কারাদণ্ডের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অরেঞ্জ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি Todd Spitzer বলেন, “কুকুরের সবচেয়ে বড় ভয় হলো তাদের মালিক আর কখনও ফিরে আসবে না। সিট ও লিউর নির্মম কর্মকাণ্ডের কারণে ১১টি কুকুরের জন্য সেই ভয়ই বাস্তবে পরিণত হয়েছে। প্রাণী নির্যাতন কখনও সহ্য করা হবে না এবং অপরাধীদের আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।”
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন