ওয়ার্ল্ড কাপ দেখার অনুষ্ঠানে পানিতে ডুবে ৮ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু
কানাডার নাগরিকত্ব সনদ ফেরত দিতে বলা হলো কিছু ‘লস্ট কানাডিয়ান’কে
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
সম্প্রতি কানাডার নাগরিকত্বের সনদ পাওয়া কিছু মার্কিন নাগরিককে সেই সনদ ফেরত দিতে বলা হয়েছে। কানাডার অভিবাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আবেদনকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা “সম্ভবত নাগরিকত্ব সনদ পাওয়ার অধিকারী নন” এবং তাই সনদগুলো ফেরত দিতে হবে। গত ডিসেম্বরে কার্যকর হওয়া ‘লস্ট কানাডিয়ান’ আইন অনুযায়ী পারিবারিক বা পূর্বপুরুষের সূত্র ধরে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের একটি সীমিত সংখ্যক আবেদন এখন পুনঃপর্যালোচনা করা হচ্ছে।
কানাডার অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এটি কোনো নতুন নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং কিছু নির্দিষ্ট ফাইলের প্রক্রিয়াগত পর্যালোচনা। যাদের কাছে সনদ ফেরতের চিঠি পাঠানো হয়েছে, তারা অতিরিক্ত প্রমাণ জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। পর্যালোচনায় যোগ্যতা প্রমাণিত হলে তাদের নাগরিকত্ব সনদ ফেরত দেওয়া হবে।
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভিক্টোরিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করা শন ডেভিস মুনি এই চিঠি পেয়ে হতবাক হয়ে যান। তিনি জানান, তার প্রপিতামহেরও পূর্বপুরুষ নিউ ব্রান্সউইকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন—এমন প্রমাণসহ ১১৪ পৃষ্ঠার নথি জমা দিয়ে তিনি নাগরিকত্বের আবেদন করেছিলেন। ফেব্রুয়ারিতে তিনি নাগরিকত্ব সনদও পান। কিন্তু এখন সেই সনদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মুনি বলেন, “চিঠিটি আমাকে কয়েকবার পড়তে হয়েছে। আমি বুঝতেই পারছিলাম না কী বলা হয়েছে। মনে হচ্ছে যেন আমরা কোনো প্রতারণা করেছি, যদিও আমরা সব নিয়ম মেনেই আবেদন করেছি।”
ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডের বাসিন্দা রানা শ্যারনও একই ধরনের চিঠি পেয়েছেন। তিনি আদমশুমারির নথি ব্যবহার করে প্রমাণ করেছিলেন যে তার প্রপিতামহী কুইবেকের একজন ফরাসি-কানাডিয়ান ছিলেন। আবেদন অনুমোদনের পর তিনি এ মাসের শুরুতে নাগরিকত্ব সনদ হাতে পান। এখন সেটি ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রানা বলেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে কানাডার নাগরিক হতে পেরে আমি খুব আনন্দিত ছিলাম। ছোটবেলা থেকেই আমাদের পরিবার কানাডিয়ান ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিত। কিন্তু এখন সনদ ফেরত দিতে বলা আমার জীবনের অন্যতম বড় হতাশা।”
মন্ট্রিয়লের অভিবাসন আইনজীবী লিসা মিডলমিস এই ঘটনাকে “বিস্ময়কর” বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, সাধারণত খুব বিরল পরিস্থিতি ছাড়া সরকার নাগরিকত্ব বাতিল করে না। তিনি বলেন, যারা এই চিঠি পেয়েছেন তারা সবাই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নাগরিকত্ব অর্জন করেছিলেন। এমন পদক্ষেপ কানাডার ভাবমূর্তির জন্যও নেতিবাচক বার্তা বহন করে।
‘লস্ট কানাডিয়ান’ আইন কার্যকর হওয়ার পর প্রথম দেড় মাসেই ১২ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি অনুমোদিত আবেদন এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারীদের কাছ থেকে। এরপর রয়েছে মেক্সিকো ও যুক্তরাজ্যের আবেদনকারীরা।
তবে অনেক আবেদনকারী এখন কানাডার নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া নিয়ে আস্থা হারানোর কথা বলছেন। রানা শ্যারনের ভাষায়, “আজ যদি তারা নাগরিকত্ব ফিরিয়ে নিতে পারে, তাহলে দুই বছর বা ১০ বছর পর আবারও একই কাজ করবে না—তার নিশ্চয়তা কোথায়?”
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন