লস এঞ্জেলেসে দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা সম্পন্ন
উৎসবমুখর পরিবেশে গত ২২ ও ২৩ জুলাই শনি ও রবিবার দুইদিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা সম্পন্ন হয়েছে। নানা রকম আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হল প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই প্রাণের মেলা। আয়োজকরা
জানিয়েছেন, গত ১৬ বছর ধরে নিয়মিত আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইতিমধ্যেই বৈশাখী মেলা
লস এঞ্জেলেসে একটা ঐতিহ্যে রূপান্তরিত হয়েছে। এ উপলক্ষে লিটল বাংলাদেশের
ভার্জিল মিডল স্কুল ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের পদচারনায় মুখরিত। হাজার হাজার
প্রবাসী বাংলাদেশি স্বপরিবারে উপভোগ করে বৈশাখী মেলার নানা আয়োজন। ভার্জিল
মিডল স্কুলের মাঠের ভেতরে চলে মধ্য রাত পর্যন্ত আড্ডা, ঝাল মুড়ি, চটপটি
ফুচকার পাশাপাশি দেশি খাবারের সমাহার একই সাথে কেনাকাটার ধুম পড়েছিল নানা
রকম অলঙ্কারাদি ও শাড়ি ও পোশাকের।
মেলায় জনপ্রিয়
উপস্থাপিকা সাজিয়া হক মিমি ও সাংস্কৃতিক সংগঠক আশরাফ আহমেদ মিলনের
উপস্থাপনায় জাতীয় ও স্থানীয় খ্যাতিমান সঙ্গীত ও নৃত্য শিল্পীদের সমন্বয়ে
মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশু কিশোর দের অভিনয় ও ফ্যাশন শো ছিল ।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনা, পরিচালনা ও সংগঠিত করেন আশরাফ আহমেদ
মিলন। তাকে সহযোগিতা করেন সাইয়েদুল হক সেন্টু ও কমরেড রব।
মেলার
প্রথমদিন শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ছোট্ট শিশু তানিশার নৃত্য দিয়ে শুরু
হয় মূল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী তাবাসসুম
আলম, পূর্নতা আচার্য্য, জাহাঙ্গীর আলম, সাদিয়া রহমান, মেজর (অবঃ) সাইফ
কুতুবি, শিল্পী রহমান। তাসনিম আহমেদ, ওয়াহিদা অনি ও ইলেনা ফাতিহার নৃত্যের
পরে অতিথি শিল্পী এম এ শোয়েব। সেই সাথে মেলার অন্যতম আকর্ষণ শিমুল খান অনবদ্য সঙ্গীত পরিবেশন করে মঞ্চ মাতিয়ে রাত এগারটায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন।
দ্বিতীয়
দিন রবিবার যথারীতি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় অনুষ্ঠান শুরুর হয় শ্রীজা রায় এর
নৃত্য দিয়ে। দ্বিতীয় দিনে সঙ্গীত পরিবেশন করেন, সাথি বড়ুয়া, কৃষ্ণা পাল,
লুনা রহমান, সোনিয়া খুকু, আরজীন কামাল, মাহতাব আজমী, শিমুল খান এবং সব শেষে
মেলার প্রধান আকর্ষন খ্যাতিমান জাতীয় সঙ্গীত শিল্পী রিজিয়া পারভিন গভীর
রাত পর্যন্ত একে একে পরিবেশন করেন জনপ্রিয় সব গান। শেষ দিনে কিশোর
কিশোরীদের ফ্যাশান শো ছিল মনোমুগ্ধকর। প্রভা, তাভিদ, অনিশা, অরিত্র, সারা,
শামির, ইলিয়ানি, শাহরিয়ার, রাকিব, জেনিফার, জাইরা, লেইম্যান, জীসান, ঈশরাত,
জীবরান ও ওয়াহিদা অনি ফ্যাশন শো তে অংশগ্রহণ করে। এদিন নৃত্য পরিবেশন করে
জীশান, ঈশরাত ইশু, ওয়াহিদা অনি ও শেখ জীবরান। জেসমিন ইবরাহিমের তত্বাবধানে
ফ্যাশন শো’র কোরিওগ্রাফার ছিল ওয়াহিদা অনি।
এবারের
মেলায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ট্রেজারার
জন চিয়াং। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার জ্লিল খান, মেলার
চেয়ারম্যান হিশাবে ডঃ মোহাম্মাদ রফিকুজ্জামান এর সাথে কো-চেয়ারম্যান সাঈয়েদ
দেলওয়ার হোসাইন, কাজি আলমগীর আমীর, মাসুদ রব চৌধুরী, মোহাম্মাদ আলম খোকন,
তৌফিক সুলেমান খান তুহিন, সিদ্দিকুর রহমান।
মেলা উপলক্ষে প্রতিবারের মত এবারও ফারহানা সাইদ ও বৃতী চৌধুরীর সম্পাদনায় বর্নীল স্যুভেনির প্রকাশ করা হয়।
আয়োজনটির
প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন গোলাম রহমান মানিক। তাকে সহযোগিতা
করেন আবুল ইব্রাহিম, কমরেড রব, শাহান খান, সাঈয়েদুল হক সেন্টু, তৌফিক
সুলেমান খান তুহিন, হুমায়ুন কবির, ইলিয়াস টাইগার শিকদার, ঢালি রাশিদ দীপু,
লিঙ্কন খান, শান্তনু হালদার, পলাশ চৌধুরী, আকরাম হোসাইন অরুন, হাবীবুর
রহমান সরোজ, রানা, শান্ত, হোসাইন, আসিফ, লুসান, রফিকুল ইসলাম, জহিরুদ্দিন
পান্না, নুর, জামাল হোসাইন।
বৈশাখী
মেলার প্রাণ পুরুষ ও প্রধান আয়োজক আবুল ইব্রাহিম মঞ্চে সকলকে ডেকে পরিচয়
করিয়ে দেন। এ সময়ে তিনি আগামী বছর আরও নতুন আঙ্গিকে, চমকপ্রদ, বর্নীল ও
আকর্ষনীয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাঈয়েদুল হক সেন্টুকে আগামী বৈশাখী মেলার
প্রধান সমন্বায়ক হিসাবে ঘোষণা করেন।
এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি
News Desk
শেয়ার করুন