প্রথম মুসলিম সিনেটর থেকে কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর, নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন যারা
নিউইয়র্কে নির্মাণকাজে আশ্রয়চ্যুত সাত পেঁচা মিলল কাছের আরেক জলাধারে
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে নির্মাণকাজের কারণে বাসা হারানো বিরল প্রজাতির এক পেঁচা পরিবারের সাত সদস্যের খোঁজ পাওয়া গেছে। কাছাকাছি অন্য একটি জলাধারের নিচে তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে শহরের পাখিপ্রেমীদের মধ্যে।
পরিবারটিতে রয়েছে দুটি পূর্ণবয়স্ক পেঁচা এবং তাদের পাঁচটি ছানা। ম্যানহাটনের বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান-সিগাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, রোববার রাতে সাতটি পেঁচাকেই নিরাপদে দেখা গেছে।
তিনি বলেন, নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে পেঁচাগুলো মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিকল্প আশ্রয়স্থলও খুঁজে পেয়েছে তারা। ম্যানহাটনের বাসিন্দাদের মতোই পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে পাখিগুলো।
ম্যানহাটন বার্ড অ্যালার্ট নামের একটি পাখি পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন পেঁচাগুলোর একটি ছবিও প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যায়, কাছাকাছি আরেকটি পানির ট্যাংকের নিচে গা ঘেঁষে বসে আছে পাখিগুলো। ৭৫, ৭৬ ও ৭৭ নম্বর স্ট্রিট এলাকায় তাদের দেখা গেছে।
এর আগে সেন্ট্রাল পার্ক ওয়েস্টের ৭৫ নম্বর স্ট্রিটে একটি ভবনের ছাদের পানির ট্যাংকে বাসা বেঁধেছিল পেঁচা পরিবারটি। গত ৩১ অক্টোবর ওই ট্যাংকের মেরামতকাজ শুরু করেন ভবনটির মালিক। বৃহস্পতিবার নির্মাণশ্রমিকেরা ট্যাংকের ছাদ সরিয়ে ফেললে পেঁচাগুলো সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়।
ঘটনার পরপরই নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পরিবেশ সংরক্ষণ বিভাগ (ডিইসি) নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়। তবে পরদিন আবারও শ্রমিকদের সেখানে কাজ করতে দেখা যায়। একটি সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা ভিডিওতেও বিষয়টি উঠে আসে।
অঙ্গরাজ্যের পরিবেশ আইন অনুযায়ী, সক্রিয় বার্ন আউলের বাসা ধ্বংস করা অপরাধ। এ ছাড়া ১৯১৮ সালের ফেডারেল মাইগ্রেটরি বার্ড ট্রিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, পরিযায়ী পাখির বাসায় বিঘ্ন ঘটালে জরিমানা এমনকি কারাদণ্ডেরও বিধান রয়েছে।
সোমবার ডিইসি পানির ট্যাংকের কাছাকাছি পেঁচাগুলোর জন্য বিকল্প বাসা হিসেবে একটি বিশেষ বাক্স স্থাপন করে। এরপর নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে নির্মাণকাজের শব্দের কারণে পেঁচাগুলো নতুন বাসায় যাচ্ছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বার্ন আউল বিপন্ন প্রজাতির পাখি না হলেও নিউইয়র্ক শহরে এদের দেখা পাওয়া অত্যন্ত বিরল। কর্নেল ল্যাব অব অর্নিথোলজির তথ্য অনুযায়ী, নথিভুক্ত ইতিহাসে ম্যানহাটনে এটিই প্রথম বার্ন আউলের বাসা।
ধারণা করা হচ্ছে, গত আগস্ট থেকেই পেঁচাগুলো ওই পানির ট্যাংকে বসবাস করছিল। তাদের পাঁচটি ছানা সম্প্রতি উড়তে শিখেছে। তবে এখনো নিজেরা শিকার করে খাবার সংগ্রহ করার মতো দক্ষ হয়ে ওঠেনি।
ম্যানহাটনের বরো প্রেসিডেন্ট হোয়েলম্যান-সিগাল আশা প্রকাশ করেছেন, পেঁচাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিইসি পানির ট্যাংকের বাকি মেরামতকাজ অন্তত আরও এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেবে। কারণ, রোববার রাতেও কয়েকটি পেঁচাকে পুরোনো ট্যাংকের কাছে বসে থাকতে দেখা গেছে।
ম্যানহাটন বার্ড অ্যালার্ট জানিয়েছে, সোমবার রাতেও অন্তত দুটি পেঁচাকে পুরোনো ট্যাংকের কাছে দেখা গেছে। তবে সেখানে তাদের অবস্থানের সময় ধীরে ধীরে কমছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ছানাগুলো উড়ে বেড়াচ্ছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে তারা আবার মা-বাবার কাছে ফিরে আসে। পূর্ণবয়স্ক পেঁচা দুটি তাদের জন্য ইঁদুর বা অন্য ছোট প্রাণী শিকার করে আনে। এরপর ঠোঁট ও নখর দিয়ে শিকারকে ছোট ছোট টুকরো করে ছানাদের খাওয়ায়।
তবে এই পারিবারিক খাবারের সময় আর বেশিদিন থাকবে না বলে মনে করছেন পাখি পর্যবেক্ষকেরা। ম্যানহাটন বার্ড অ্যালার্টের মতে, ছানাগুলো প্রায় এক মাস ধরে উড়তে পারছে। এখন তাদের আরও দূরে যাওয়া এবং নিজেরাই শিকার করা শেখার সময় এসেছে।
পাখি পর্যবেক্ষণকারী সংগঠনটি জানিয়েছে, পেঁচাগুলোর সামনে এখন কয়েকটি বিকল্প রয়েছে। তারা চাইলে পুরোনো পানির ট্যাংকেও ফিরে যেতে পারে। মেরামতের পর জায়গাটি তাদের জন্য আরও নিরাপদ হয়ে উঠতে পারে।
সোমবার সংগঠনটি জানায়, ডিইসি পেঁচাগুলোর পানির ট্যাংকে তদারকির মাধ্যমে কিছু মেরামতকাজের অনুমতি দিয়েছে। পাখিগুলো বর্তমানে সেখানে না থাকায় কাজের সময় তাদের বিরক্ত হওয়ার আশঙ্কাও কম। মেরামতের ফলে ট্যাংকটি ভবিষ্যতে তাদের জন্য আরও নিরাপদ হতে পারে।
হোয়েলম্যান-সিগাল বলেন, বাসাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আশঙ্কা ছিল, পূর্ণবয়স্ক পেঁচা দুটি হয়তো ছানাদের ছেড়ে চলে যাবে। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ইতিবাচক।
পেঁচাগুলোর নিরাপত্তার দিকে নজর রাখার জন্য নিউইয়র্কের পাখিপ্রেমী, নিউইয়র্ক সিটি বার্ড অ্যালায়েন্সের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
ম্যানহাটনের এই পেঁচা পরিবারকে ঘিরে মানুষের আগ্রহের ঘটনা নিউইয়র্কে নতুন নয়। এর আগে ফ্লাকো নামের একটি ইউরেশীয় ঈগল পেঁচা সেন্ট্রাল পার্ক চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে পুরো শহরের মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। খাঁচার জালের একটি অংশ কেটে দেওয়ার পর পাখিটি মুক্ত হয়েছিল। প্রায় এক বছর শহরে মুক্তভাবে থাকার পর ২০২৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৩ বছর বয়সে একটি ভবনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তার মৃত্যু হয়।
ম্যানহাটনের নতুন এই পেঁচা পরিবারকে ঘিরে এখন পাখিপ্রেমীদের আশা, নির্মাণকাজের বাধা কাটিয়ে সাতটি পাখিই নিরাপদে তাদের নতুন বা পুরোনো আশ্রয়ে থাকতে পারবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন