যুক্তরাষ্ট্রে আজ শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 12:57pm

|   লন্ডন - 07:57am

|   নিউইয়র্ক - 02:57am

  সর্বশেষ :

  নিউইয়র্কে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা   লন্ডনে বিক্ষোভের মুখে মোদি   কোটা সংস্কার আন্দোলন: ঢাবি ক্যাম্পাসজুড়ে ভীতি   কোচিং ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে পদত্যাগ করলেন ছাত্রলীগ নেতা রনি   খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারলেন না বিএনপি নেতারা   প্রবাসীদের ভোটাধিকার দিতে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে: সিইসি   ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, ধসে পড়েছে শতাধিক বাড়িঘর   সৌদিতে সিনেমা হল উদ্বোধন   কিমের সঙ্গে আলোচনা সফল না হলে পদত্যাগ : আবেকে ট্রাম্প   টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় শেখ হাসিনা   বিশ্বের ৯৫ শতাংশ মানুষ দূষিত বায়ু গ্রহণ করছে   বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভারত   আরবদের বিরুদ্ধে আরবেদরই কাজে লাগাতে চাইছেন ট্রাম্প   বিসিবির চুক্তি থেকে বাদ সৌম্য-তাসকিন-সাব্বির   সৌদিতে আবার সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সাত বাংলাদেশির মৃত্যু

>>  নিউইয়র্ক এর সকল সংবাদ

আর্থিক সঙ্কটে নিউ ইয়র্কের ট্যাক্সি চালকরা

আর্থিক সঙ্কটের কারণে চরম হতাশার মধ্য দিন কাটাচ্ছেন নিউ ইয়র্কের ট্যাক্সি চালকরা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আত্মহত্যা করেছেন চার ট্যাক্সিচালক। আর এর প্রধান কারণ উবার ও লিফটের মতো মোবাইলের অ্যাপস ভিত্তিক ট্যাক্সি সেবা। খবর ভয়েস অফ আমেরিকার।

নিউ ইয়র্কে ট্যাক্সি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন রোমানিয়া থেকে আসা এক অভিবাসী। আর্থিক কষ্টে ৬৫ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন তিনি।

নিউ ইয়র্কে ৩০ বছরের পুরনো এই হলুদ রঙয়ের ট্যাক্সিতে যারা জড়িত বর্তমানে তাদের অনেকে আর্থিক সংকটে রয়েছেন।

রোমানিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়ে আসা আরেকজন ট্যাক্সি চালকের নাম

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট ও অ্যাসেম্বলি হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৩-২৮ ১৩:৫৪:২৫

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট ও এ্যাসেম্বলী হাউসে আন্তর্জাতিক আবহে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপিত হয়েছে। স্থানীয় সময় ২৭ মার্চ মঙ্গলবার সপ্তমবারের মতো নিউইয়র্ক স্টেটের রাজধানী আলবেনীতে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হল “বাংলাদেশ ডে” হিসেবে। আলবেনীর ক্যাপিটাল হিলে এদিন আবারো উড়লো বাংলাদেশের পতাকা। নিউইয়র্ক অ্যাসেম্বলি ও স্টেট সিনেটে বাংলাদেশের ৪৭ তম স্বাধীনতা দিবসের ওপর পৃথকভাবে রেজুলেশন গ্রহণ করা হয়। স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান লুইস সেপুলভেদা ও স্টেট সিনেটর জামাল টি. বেইলী স্টেট অ্যাসেম্বলি ও সিনেট হাউজে এসংক্রান্ত প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন। স্টেট সিনেট ও এসেম্বলী অধিবেশনের রেজুলেশন দু’টিতে তুলে ধরা হয় বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। সিনেট এবং এসেম্বলি গ্যালারি এদিন পুরোটাই সংরক্ষিত ছিল শুধু বাংলাদেশীদের জন্য। উভয় হাউজে শোভা পেল বাংলাদেশের পতাকা। বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন ১২০ জন বাংলাদেশী।
          
এ্যাসেম্বলী হাউজের অধিবেশন চলাকালে ‘বাংলাদেশ ডে’র প্রস্তাবনাটি প্রথমে গৃহীত হয়। এদিন স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় পবিত্র বাইবেল থেকে পাঠের পর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে এ্যাসেম্বলী অধিবেশন শুরু হয়। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা মাসহুদ ইকবাল। এর পর এ্যাসেম্বলী হাউজে প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে ‘লুইস ভাই’ হিসেবে খ্যাত এ্যাসেম্বলীম্যান লুইস সিপুলভেদা উত্থাপিত বাংলাদেশ ডে প্রস্তাবনাটি পাঠ করে শুনানো হয়। এতে বলা হয়, তৎকালীন পাকিস্তান সামরিক সরকার বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে গণহত্যা চালিয়েছিল। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয় ৩০ লাখ মানুষ। সম্ভ্রমহানি হয় ২ লাখ মা-বোনের। রেজুলেশনে স্বাধীন
 
বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রহমানের নাম উল্লেখ করে তাঁকে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। এর সমর্থনে বেশ ক’জন এ্যাসেম্বলীম্যান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ ডে রেজুলেশন গ্রহণকালে এ্যাসেম্বলী ফ্লোরে উপস্থিত থাকেন ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বাদশা, লেখক-বিজ্ঞানী ও সিটি কাউন্সিল মেম্বার মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরান নবী, কমিউনিটি লীডার এডভোকেট নাসির উদ্দিন, নজরুল হক, আবদুল মুসাব্বির,  শামীম মিয়া, এ ইসলাম মামুন, আহবাব হোসেন চৌধুরী, জামাল হোসেন ও কামাল উদ্দিন। এসময় অন্যান্য প্রবাসী বাংলাদেশীরা হাউজ কক্ষের গ্যালারীতে উপবিষ্ট ছিলেন।
         
এদিন দুপুর ৪টায় স্টেট সিনেটের অধিবেশনে ‘বাংলাদেশ ডে’র রেজুলেশন গ্রহণ অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা মাসহুদ ইকবাল। এরপর সিনেটর জামাল টি বেইলি উত্থাপিত বাংলাদেশ ডে প্রস্তাবনাটি পাঠ করে শুনানোর পর ৫ জন সিনেটর এর সমর্থনে জোরালে বক্তব্য রাখেন। এখানেও বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস স্থান পায়। পরে সিনেট হাইজে রেজুলেশনটি
 
সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। বাংলাদেশ ডে রেজুলেশন উপস্থাপনকালে সিনেট ফ্লোরে উপস্থিত ছিলেন ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন কমিটির মুখপাত্র আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদার, লেখক-বিজ্ঞানী ও সিটি কাউন্সিল মেম্বার মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরান নবী, কমিউনিটি লীডার সোলেমান আলী ও মাহবুব আলম। হাউজ কক্ষের গ্যালারীতে উপবিষ্ট ছিলেন অন্যান্য প্রবাসী বাংলাদেশীরা।
          
স্টেট এ্যাসেম্বলী হাউজ ও সিনেট হাউজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্টেট সিনেটর জামাল টি বেইলি ও এ্যাসেম্বলীম্যান লুইস সিপুলভেদা আলবেনী হলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সম্মানে এক অভ্যর্থনা পার্টির আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ডে কমিটির কাছে এ্যাসেম্বলীম্যান লুইস সিপুলভেদা ও সিনেটর জামাল টি বেইলি হাউজ দু’টিতে পাসকৃত রেজুলেশনের কপি হস্তান্তর করেন। এছাড়া এসময় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ ডে কমিটিকে প্রক্লেমেশন প্রদান করা হয়।
 
‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন কমিউনিটি চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বাদশার সভাপতিত্বে এবং কমিটির মুখপাত্র আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্টেট সিনেটর জামাল টি বেইলি ও এসেম্বেলীম্যান লুইস সিপুলভেদা ছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অন্যান্য স্টেট সিনেটর ও এসেম্বেলীম্যানগণ। তারা ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশী কমিউনিটির ভূয়শী প্রশংসা করেন। তুলে ধরেন নানা ক্ষেত্রে তাদের অবদানের কথাও।
 
এসময় এ ঐতিহাসিক আয়োজনের জন্য বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে অ্যাসেম্বলিমেন লুইস সেপুলভেদা ও স্টেট সিনেটর জামাল টি বেইলিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
এদিকে, আলবেনী হলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সম্মানে এ অভ্যর্থনা পার্টির ব্যানারে ‘বাংলাদেশ ডে’র স্থলে ‘বেঙ্গলী ডে’ হওয়ায় এসেম্বেলীম্যান লুইস সিপুলভেদা দু:খ প্রকাশ করেন।
 
প্রক্লেমেশন প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন : ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন কমিউনিটি চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বাদশা, বাফা প্রেসিডেন্ট ফরিদা ইয়াসমিন, কমিউনিটি লীডার আবদুস সহীদ, ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন কমিউনিটি মেম্বার সেক্রেটারী শাহেদ আহমদ, মামুন’স টিউটরিয়ালের প্রিন্সিপাল শেখ আল মামুন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন, কমিউনিটি লীডার মোহাম্মদ দলা মিয়া, আল আকসা গ্রুপের কর্ণধার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হক শাহীন (আল আকসা গ্রুপের পক্ষে প্রক্লেমেশন গ্রহণ করেন ম্যানেজার মো. আলী, খলিল বিরিয়ানী হাউজের স্বত্ত্বাধিকারী রন্ধন শিল্পী,খলিলুর রহমান এবং কমিউনিটি লীডার রেক্সোনা মজুমদার।
 
এছাড়া আয়োজক সংগঠন গুলোকেও প্রক্লেমেশন প্রদান করা হয়। সংগঠন গুলোকে হচ্ছে : বাংলাদেশ-আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিল, বাংলাদেশ সোসাইটি অব বঙ্কস, বঙ্কস বাংলাদেশ সোসাইটি, বাংলাদেশী আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশী-আমেরিকান ডেমোক্রেটিক সোসাইটি, আমেরিকান-বাংলাদেশী ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন, বঙ্কস বাংলাদেশ এসোসিয়েশন, নর্থ বঙ্কস বাংলাদেশ
              
এসোসিয়েশন, বাঙালী চেতনা মঞ্চ, বঙ্কস বাংলাদেশ উইম্যান’স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ আমেরিকান উইম্যান’স এসোসিয়েশন, ফেঞ্চুগঞ্জ অর্গেনাইজেশন অব আমেরিকা , গ্রেটার লাকসাম ফাউন্ডেশন অব ইউএসএ , বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা,
 
কংগ্রেস অব বাংলাদেশ আমেরিকান , বাংলাদেশ স্পোর্টস ফাউন্ডেশন অব নর্থ আমেরিকা, নজাবত আলী ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব নিউজার্সী।
 
এর আগে ২৭ মার্চ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় ব্রঙ্কস থেকে দু’টি বাসযোগে প্রায় ১২০ জন বাংলাদেশী বাংলাদেশ ডে অনুষ্ঠানমালায় যোগ দিতে আলবেনিতে সমবেত হন। বিকেল সাড়ে ৫টায় বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠান শেষ হয়। । অংশগ্রহণকারীদের জন্য দুপুরের খাবার পরিবেশন করে ব্রঙ্কসের স্বনামখ্যাত খলিল বিরিয়ানী হাউজ।
 
এদিকে, ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগদানকারী প্রবাসী বাঙালীরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, নিউইয়র্ক অ্যাসেম্বলি ও স্টেট সেনেট হাউজে বাংলাদেশকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তা অসাধারণ। অনন্য। ভাষায় ব্যক্ত করার মত
 
নয়। যা অংশগ্রহনকারী সকলে গর্বের সাথে উপভোগ করেন। তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট সিনেট ও এ্যাসেম্বলীতে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উদযানের এ আনন্দ, এ গর্ব শুধু প্রবাসীদের নয়, এ আনন্দ গোটা বাংলাদেশের।
 
এর আগে দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপনের জন্য গত ১২ মার্চ গঠন করা হয় ১৫ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি। কমিটির সদস্যরা হলেন : চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বাদশা, মেম্বার সেক্রেটারী শাহেদ আহমদ, কোষাধ্যক্ষ মনজুর চৌধুরী জগলুল, সহ কোষাধ্যক্ষ শামীম আহমেদ, সদস্য
 
মোহাম্মদ এন মজুমদার, আবদুস শহীদ, মাহবুবুল আলম, শামীম মিয়া, আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী, আহবাব চৌধুরী, তৌফিকুর রহমান ফারুক, এ ইসলাম মামুন, ফরিদা ইয়াসমিন, রেক্সোনা মজুমদার এবং বুরহান উদ্দিন। অন্যতম সদস্য আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদার এ কমিটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
 
উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক বাংলাদেশ ডে বিলটি পাশ হয় ২০১২ সালের ২৪ মার্চ। এই ঐতিহাসিক উদ্যোগটির প্রধান রূপকার ছিলেন ব্রঙ্কস থেকে নির্বাচিত সাবেক সিনেটর বর্তমান কাউন্সিলম্যান রুবিন ডিয়াজ। তাকে রেজুলেশন তৈরিতে সহযোগীতা করেন প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে
 
‘লুইস ভাই’ হিসেবে পরিচিত এটর্নী লুইস সিপুলভেদা (বর্তমান এসেম্বলিম্যান)। তাদের সহযোগীতা করেন ব্রঙ্কস প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির নের্তৃবৃন্দ।
 
ওই সময় বিলটি সিনেটে উত্থাপিত হলে সিনেটর রুবিন ডিয়াজ সিনেটে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি ১৯৭১ সালের মার্চে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে বাংলাদেশীদের আত্মত্যাগ এবং পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে বাংলাদেশী মা-বোনদের সম্ভ্রমহানির কথা সবিস্তারে তুলে ধরেন। সেদিন মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে এই ঐতিহাসিক বিলটি সর্বসম্মতভাবে সিনেটে পাশ হয়।
 
‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপনের প্রথম আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন মোহাম্মদ এন মজুমদার এবং মেম্বার সেক্রেটারী ছিলেন মরহুম জাকির খান। ।

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মান্নান আর নেই : কমিউনিটিতে শোক, জানাজায় মানুষের ঢল

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৩-১৫ ১৪:৪৬:০৩

নিউইয়র্কের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী সাঈদ রহমান মান্নান আর নেই। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) দিবাগত ভোররাত সোয়া ২টার দিকে তিনি নিউইয়র্কের নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দূরারোগ্য ক্যান্সারে ভুগছিলেন। নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের অন্যতম পথিকৃত ও সুপ্রতিষ্ঠিত মান্নান সুপার মার্কেট ও গ্রোসারীর স্বত্ত্বাধীকারী সাইদ রহমান মান্নানের মৃত্যু সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নিউইয়র্কের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। এদিকে বুধবার (১৪ মার্চ) বাদ জোহর জ্যাকসন হাইটস মসজিদ ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে (৭৩ স্ট্রিট) তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়ে। জানাজায় নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল শামীম আহসান সহ সর্বস্তরের শত-সহ¯্র প্রবাসী বাংলাদেশী অংশ নেন। জানা শেষে তার মরদেহ নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডস্থ ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিউইয়র্কে ‘মিনি বাংলাদেশ’ হিসেবে পরিচিত জ্যাকসন হাইটসের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী শরিয়তপুর জেলা তথা বৃহত্তর ফরিদপুরের কৃতি সন্তান সাঈদ রহমান মান্নান মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যা সহ বহু আতœীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন (জেবিবিএ)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সৎ, কর্মঠ, হাসিখুশি, স্বল্পভাসী আর বন্ধুবৎসল মানুষ ছিলেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তিনি গুরুতর অসুস্থ অনুভব করলে মধ্য রাতে তাকে এলমহার্স্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর পরই তার মৃত্যুর খবর ফেকবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। এতে পুরো কমিউনিটি শোকাহত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পার্ক ফিউনেরাল হোম-কে তার মরদেহ টেককেয়ার করার দায়িত্ব দেয়া হয়। বুধবার দুপুরে তার মরদেহ মরহুম সাঈদ রহমান মান্নানের প্রিয় ব্যবসাস্থল জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রীটে নিয়ে আসা হলে সেখানে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মরহুম মান্নানের মরদেহ ফিউনোরালের গাড়ী থেকে খাবার বাড়ীর সামনে রাখা হয়। এসময় তার স্ত্রী, কন্যা ও পুত্রদ্বয় শেষবারের মতো মুখ দেখার পর সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশ তাকে শেষবারের মতো দেখতে ভীড় জমান। এসময় প্রবাসীদের ভীড় সমালাতে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশকে বেগ পেতে হয়। এর আগে ৩৭ এভিনিউ থেকে ব্রডওয়ে পর্যন্ত অর্থাৎ ৭৩ স্টীট লোক ও যানবাহন চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়।
পরবর্তীতে জোহরের নামাজ শেষে ৭৩ স্টীটেই নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন হাজী ক্যাম্প মসজিদের ইমাম হাফেজ রফিকুল ইসলাম। জানাজায় নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল শামীম আহসান সহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের শত-সহ¯্র প্রবাসী বাংলাদেশী অংশ নেন। এর আগে মরহুম মান্নানের দুই পুত্র ও কনসাল জেনারেল সহ কয়েকজন শুকাংখী উপস্থিত প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। এসময় বাবাকে স্মরণ করতে গিয়ে মরহুমের দুই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
জানাজা শেষের মরহুম মান্নানের মরদেহ সরাসরি নিউইয়র্কের ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দাফন করা হয়।

৯০ দশকে স্বপ্নের সোনার হরিণের দেশে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়ে নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে ছোট্ট একটি বেকারী দিয়ে ব্যবসা শুরু করা সাঈদ রহমান মান্নান মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছিলেন নিউইয়র্কের অন্যতম সফল ব্যবসায়ী। ১৯৯৬ সালে জ্যাকসন হাইটসের সেভেনটি থার্ড স্ট্রীট ও থার্টি সেভেন এভিনিতে গড়ে তুলেছিলেন ছোট্ট সেই বেকারী। সেই বেকারী দিয়ে যাত্রা শুরু করার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, তাঁকে। স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে গেছেন শীর্ষ পর্যায়ে। ঘটা করে পালনও করেছিলেন মান্নান সুপার মার্কেট ও মান্নান গ্রোসার ২০ বছর পূর্তি। তার এই সফলতার নেপথ্য কারিগর ছিলেন নিজের সহধর্মীনি। মীট কার্টার থেকে শুরু করে সব-প্রতিকূলতাই মোকাবেলা করেছেন স্বামী-স্ত্রী মিলে।

একটি বেকারী আর গ্রোসারী দিয়ে পথচলা শুরু হওয়া মান্নান গ্রোসারী এখন নিউইয়র্কে বাংলাদেশী মালিকানাধীন শীর্ষ চেইন সুপার শপে রূপ নিয়েছে। প্রায় ২২ বছরে মান্নানের ৭টি সুপার মার্কেটে কাজ করছেন অসংখ্য বাংলাদেশী। সোনার হরিণের খোঁজে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো স্বদেশীদের কর্মসংস্থানেও সবার প্রিয় এ ‘মান্নান ভাই’ ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক।

কিন্তু কি ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। মৃত্যুকে হাসি মুখে বরণ করা এই মানুষটি কমিউনিটির কাছে বেঁচে থাকবেন তাঁর কর্ম ও গুনে। মরণব্যাধি ক্যান্সারের সাথে লড়াই করেছেন অতি নীরবে। কিন্তু সে লড়াই ছিল মনের লড়াই। ভেবে নিয়েছেন, পৃথিবীর মায়া ছাড়তেই হবে একদিন। সেটা বুঝতে পেরেই কেমোথেরাপি পর্যন্ত নেননি তিনি। অবশেষে হাসিমুখে আলিঙ্গন করলেন মৃত্যুর মতো কঠিন এক বাস্তবতাকে। পরিণতিতে সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

জানাজায় উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে সাবেক এমপি ও সাপ্তাহিক ঠিকানা’র সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি এম এম শাহীন, সাপ্তাহিক বাঙালী সম্পাদক কৌশিক আহমেদ, সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশনের সিইও আবু তাহের, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর মাহমুদ, এটর্নী মঈন চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুর রহীম হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, সাবেক সহ সভাপতি মনিরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাম এসোসিয়েশন ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম, জেবিবিএ’র এডহক কমিটির প্রধান মহসীন ননী ও সদস্য পিয়ার মোহাম্মদ, জেবিবিএ’র সভাপতি শাহ নেওয়াজ ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান টুকু, জেবিবিএ নেতা হারুন ভূঁইয়া, এডভোকেট শামসুদ্দোহা, মোহাম্মদ সেলিম হারুন, ফাহাদ সোলায়মান, জেবিবিএ’র সাবেক সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী জিকু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম ও তারেক হাসান খান, সিলেট গণদাবী পরিষদের সভাপতি আজিমুর রহমান বুরহান, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, কমিউনিটি নেতা আইনজীবী এন মজুমদার, আব্দুল কাদের চৌধুরী শাহীন, কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, খানস টিউটোরিয়াল-এর সিইও ড. ইভান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

শোক প্রকাশ: এদিকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাঈদ রহমান মান্নানের ইন্তেকালে কমিউনিটির সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। শোক প্রকাশকারী উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন: বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র সভাপতি কামাল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি ডা. ওয়াজেদ এ খান ও সাধারণ সম্পাদক শিবলী চৌধুরী কায়েস, আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি (আইএফসি)-এর চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ইউসুফজাই সালু ও সেক্রেটারী জেনারেল সৈয়দ টিপু সুলতান, যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহমদ, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সভাপতি শেখ হায়দার আলী ও সাধারণ সম্পাদক ইফজাল আহমেদ চৌধুরী  প্রমুখ।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক ষ্টেট আওয়ামী লীগ ও নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ সহ দলের সকল সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম ইউএনএ প্রতিনিধিেিক জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাঈদ রহমান মান্নানের ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন।

ফরিদপুর জেলা কল্যাণ সমিতি ইউএসএ ইনক সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত বিশ্বাস এক শোক বার্তায় বলেন, মরহুম সাঈদ রহমান মান্নাকে প্রবাসের একজন আলোকিত মানুষ হিসেবেই আমরা তাকে জানি। মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি, সেই সাথে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমাবেদনা জানাচ্ছি। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত নসিব করেন এই দোয়া করি।
এছাড়াও নারায়নগঞ্জ জেলা সমিতি ইউএসএ ইন্ক, মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর এসাসিয়েশন ইউএসএ সহ প্রবাসের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সুহৃদদের মতবিনিময়, শিবলী-ইভার চিকিৎসায় এগিয়ে আসার আহ্বান

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৩-১৫ ১৪:৩৮:২৩

বাংলা টিভি নিউইয়র্ক’র মহাপরিচালক, কম্যুনিটির পরিচিত মুখ মীর ই ওয়াজিদ শিবলী ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘নতুন কুঁড়ি’ অনুষ্ঠানের এক সময়ের প্রিয় মুখ, বিশিষ্ট উপস্থাপিকা শারমীন রেজা ইভা গুরুত্ব অসুস্থ। শিবলী-ইভা’র অসুস্থতার খবরে কমিউনিটির প্রিয় মানুষগুলো ব্যথিত, মর্মাহত। সম্প্রতি আকস্মিভাবেই তাকের অসুস্থতার খবর কমিউনটিতে ছড়িয়ে পড়ে। একমাত্র কন্যা নিয়ে এই সুখী দম্পতি গত বছর নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের জ্যামাইকায় বাড়ী কিনে বসবাস করছিলেন। কিন্তু শারমীর রেজা ইভার দূরাগ্যে ক্যান্সারে আক্রান্তের খবরের পরপরই খবর আসে যে মীর ই ওয়াজিদ শিবলী কিডরী জণিত রোগে চরমভাবে আক্রান্ত।

জানা গেছে, শারমীন রেজা ইভা-কে নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে। অপরদিকে মীর ই ওয়াজিদ শিবলী কিডনী অতি সত্তর প্রতিস্থাপন জরুরী হয়ে পড়েছে। ফলে হাসি-খুশী পরিবারটিতে ‘বেদনা-বিধুঁর’ পরিবেশন বিরাজ করছে। তাদের প্রিয় মানুষ আর বন্ধুমহলও বেদনাহত। সংশ্লিষ্ট সবার প্রার্থণা সৃষ্টিকর্তা তাদের সুস্থ্য করে দিন।  

এদিকে মীর ই ওয়াজিদ শিবলীর চিকিৎসার বিষয়ে তার বন্ধু এবং সুহৃদের উদ্যোগে জ্যামাইকায় মতবিনিময় সভা হয়েছে। গত ৪ মার্চ দুপুরে স্থানীয় হিলসাইড এভিনিউস্থ স্টার কাবাব পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন বিশিষ্ট উপস্থাপক আবীর আলমগীর। সভায় উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে মূলধারার রাজনীতিক মোর্শেদ আলম ও তৈয়বুর রহমান হারুন, বিশিষ্ট অভিনেতা মোহাম্মদ কবির ও জহির মাহমুদ, সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম, সাংবাদিক মিজানুর রহমান, ফটো সাংবাদিক নিহার সিদ্দিকী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রদীপ সাহা, লুৎফর রহমান, সাজ্জাদ হোসাইন, মাসুদ হাসান, সঙ্গীত শিল্পী শাহ মাহবুব, কমিউনিটি নেতা হাসান জিলানী, সাদী মিন্টু, জে মোল্লা সানি, আমজাদ হোসেন, হাজী আব্দুর রহমান, মোহাম্মদ বশির, ডা. সাকি, মোহাম্মদ উজ্জ্বল, নিসার জামিল সুড্ডু, রুনি, আদিবা জহির, আবৃত্তিকার গোপন সাহা, কবি মিশুক সেলিম, প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিশেষভাবে শিবলির চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতে তার চিকিৎকসার জন্য অচিরেই একটি ফান্ড রেইজিংয়ের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত, ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য একটি কমিটি গঠন এবং চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়ার জন্যও একটি কমিটি করা হয়। সভায় উপস্থিত অনেকেই আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র চলছে : নিউইয়র্কে প্রবাসী নাগরিক সমাজের মুক্ত আলোচনা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০২-২১ ১৩:৩১:৩৫

নিউইয়র্কে প্রবাসী নাগরিক সমাজের মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি আলোচনাকালে বলেছেন, বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র চলছে। দেশে আইনের শাসন নেই, বাংলাদেশ ব্যাংক সহ বিভিন্ন ব্যাংক লুটপাট করে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। তার কোন বিচার নেই। অথচ ‘তথা কথিত’ দূর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে। তাঁর মামলা ও রায় ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছু নয়। দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায় বিচার আর সংবাদপত্র ও বাক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা এবং সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে বক্তারা খালেদা জিয়ার মুক্তিও দাবী করেন।

নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসস্থ বাংলাদেশ প্লাজায় সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় প্রবাসী নাগরিক সমাজ-এর ব্যানারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা উপরোক্ত কথা বলেন। খবর ইউএনএ’র।

মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার ফরহাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাপ্তাহিক আজকাল সম্পাদক  মনজুর আহমদ, লং আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শওকত আলী, প্রবীণ সাংবাদিক কাজী শামসুল হক, সাংবাদিক মঈনুদ্দীন নাসের, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, লেখিকা ও মানবাধিকার কর্মী ডা. মিনা ফারাহ, বিশিষ্ট গবেষক ও সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন, মাওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক-এর সেক্রেটারী মুক্তিযোদ্ধা আলী ইমাম, বিশিষ্ট লেখক মাহমুদ রেজা চৌধুরী, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ইমরান আনসারী, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আজহারুল হক মিলন, হাসানুজ্জামান, এডভোকেট মুজিবুর রহমান, জামান তপন প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ চরম সঙ্কটে পতিত। স্বাধীনতার পর থেকেই নানা সঙ্কটের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। দেশের এই সঙ্কটে দেশপ্রেমিক কারো চুপ করে থাকার সময় নেই। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দেশে বাকশালী কায়দায় একনায়কতন্ত্র চলছে। বাংলাদেশকে অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের প্রত্যক্ষ মদদে শেখ হাসিনার সরকার নানা ষড়যন্ত্র করছে। কোন কোন বক্তা এই ষড়যন্ত্রের জন্য ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির ভূমিকাকেও দায়ী করেন। ভারতের এই আগ্রাসী তৎপরতা  রুখে দাঁড়ানোর জন্য বক্তারা প্রবাসী সহ দেশবাসী বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের প্রতি অহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, ভোটার বিহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার ক্ষমতা ধরে রেখে বাংলাদেশে একনায়কত্ত কায়েম করে চলেছে। জবাবদিহীতা না থাকায় দেশের ব্যাংক ব্যবস্থায় লুটপাট সহ অনিয়মনের মহামারি আকার ধারণ করেছে, পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে, অব্যাহত গুম ও খুনে বাংলাদেশ আতংকের রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

বক্তারা বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রেরণ বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র বলে অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে বাংলাদেশ একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। বিরোধী দল ও মতকে নির্মূল করতেই সরকারের প্রধান কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা রাষ্ট্র ব্যবস্থার সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এজন্য দলমত নির্বিশেষে সরকারের এই ফ্যাসিবাদী মনোভাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার আহ্বান জানান বক্তারা। দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে এমন মন্তব্য করে বক্তারা বলেন, একজন সংখ্যালঘু বিচারপতিকে জোর করে পদত্যাগ করানো জাতির ইতিহাসে কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।

সভায় কোন কোন বক্তা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও দেশের শীর্ষ স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেত্রীকে ‘ভিত্তিহীন’ মামলায় অভিযুক্ত করে কারাগারের প্রেরণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন গণতন্ত্রের স্বার্থে খালেদা জিয়ার অবিলম্বে মুক্তি দাবী জানান।

সভায় বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’-এর উপর অব্যাহত চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রবাসী বাংলাদেশের নিয়ে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন সহ অন্যান্য কর্মসূচী গ্রহণ এবং ইউএস কংগ্রেসম্যান ও সিনেটরদের সাথে মতবিনিময় ছাড়াও ষ্টেট ডিপার্টমেন্টে প্রতিনিধি প্রেরণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

যুক্তরাষ্ট্র নেত্রকোনা জেলা সমিতির নতুন কমিটি গঠিত

 প্রকাশিত: ২০১৮-০২-১০ ১২:৩৫:৩৪

গত ২৮শে জানুয়ারী ২০১৮,রোজ রবিবার জ্যাকসন হাইটস ‘টক অব দ্যা টাউন রেষ্টুরেন্টে- যুক্তরাষ্ট্র নেত্রকোনা জেলা সমিতির নতুন কার্য্যকরী ও আয়োজক কমিটি গঠন প্রসঙ্গে এক সাধারণ সভা অনুষ্টিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আহবায়ক পরিমল সাহা ও পরিচালনা করেন উপদেষ্টা প্রমোদ রঞ্জন সরকার । উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নাট্যকার, সাহিত্যিক, সুরকার,লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জীবন চৌধুরী এবং সমিতির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বদর উদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ সরকার(প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ) এবং অন্যান্য উপদেষ্টা সহ সম্মানিত সদস্য বৃন্দ ।

উক্ত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে যুক্তরাষ্ট্র নেত্রকোনা জেলা সমিতির ২০১৮ সালের ৫৩ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কার্যকরী কমিটি ও আয়োজক কমিটি ঘুষনা করা হয়। নতুন এ কমিটির সদস্যরা হলেন —

সভাপতি - পরিমল সাহা। সিনিয়র সহ সভাপতি - প্রমোদ রঞ্জন সরকার ,  সহ সভাপতি -ইন্দ্রজিৎ সিংহ গোপাল, সহ সভাপতি -বিপ্লব রায়, সহ সভাপতি- হাসানুজ্জামান সাকী,সহ সভাপতি -আতিকুর রহমান খান মামুন।সহ সভাপতি -মুসফিকুর রহমান পাপ্পু ।

সাধারণ সম্পাদক -আমিরুল ইসলাম কামাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-জহিরুল আলম রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক -আশীষ সরকার।

সাংগঠনিক সম্পাদক - মোঃ আজিজুল হাকিম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক - আজিজুল হক (জুয়েল), সহ সাংগঠনিক সম্পাদক - জাকির হোসেন রিয়াদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক - সারোয়ার কামাল, প্রচার,উন্নয়ন,আন্তর্জাতিক সম্পাদক- সারোয়ার জাহান খান(পাবেল), দপ্তর সম্পাদক - কায়সার হামিদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক - অধ্যাপক মোঃ সহিদুল্লাহ্, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক - এ,কে,এম মফিদুল ইসলাম খান(রিপন), মহিলা সম্পাদিকা - শামসুন্নাহার শম্পা,কোষাধ্যক্ষ - রনি সরকার, সহ-কোষাধক্ষ - রনি আলম ,ক্রীড়া সম্পাদক - আল আমীন,সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা- প্রীমা সিংহ , সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা- বৃষ্টি দত্ত।


কার্যনির্বাহী সদস্য- নূর আহম্মদ সারোয়ার, সাইফুদ্দিন আহমদ,লিটন চৌধুরী, আতাউর রহমান মানিক, তাহরিনা পারভীন প্রীতি, সাদিয়া খন্দকার, নীলুফার রহমান, শান্তনা রায়, শান্তা রহমান, জয় গোপাল বর্মন,অজয় দাস, আতাউর সরকার জয়েল।


উপদেষ্টা পরিষদ- প্রধান উপদেষ্টা- বদর উদ্দিন আহমদ, উপদেষ্টা বৃন্দ- বিদ্যুৎ সরকার, ডাঃ প্রনয় রায় খোকন, বিজন তালুকদার, বিজয় দত্ত, আবু ইসলাম খান (বিটু), বাহার সরকার , বিধান বিশ্বাস , মোস্তাফিজুর রহমান (মিঠু), সুভাষ তালুকদার, পার্থ প্রতীম তালুকদার, রত্না চৌধুরী, অধ্যাপক তপন সরকার, অধ্যাপক শান্তপদ রায়, রফিকুল ইসলাম, ডঃ প্রনব চৌধুরী।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কে প্রবাসী ক্রীড়াবীদদের সাথে প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদারের মতবিনিময়

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-৩০ ০১:৫৭:৪০

নিউইয়র্কে প্রবাসী ক্রীড়াবীদদের সাথে মতবিনিময়কালে গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মান আরো বৃদ্ধি এবং দেশ-বিদেশে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবীদ তৈরী করতে সরকার ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়নে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষা, বিদ্যুৎ আর যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন হয়েছে।

নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে ২৮ জানুয়ারী রোববার অপরাহ্নে প্রতিমন্ত্রী ড. বীরের শিকদার প্রবাসী ক্রীড়াবীদদের সাথে মতবিনিময় করেন। কনসাল জেনারেল শামীম আহসান এসময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকার সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুর রহিম বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফেরদৌস-এর নেতৃত্বে প্রবাসের ক্রীড়াবীদরা প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং স্পোর্টস কাউন্সিলের স্যুভেনির উপহার দেন। পরে তারা প্রতিমন্ত্রীর সাথে খোলামেলা মতবিনিময় করেন। খবর ইউএনএ’র।

অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, এখন শহর আর গ্রামের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। যা শহরে পাওয়া যায় তাই গ্রামেও পাওয়া যায়। তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুতের কোন সমস্যা নেই। ফলে উন্নয়ন কর্মকান্ড বেড়ে চলেছে। তিনি বলেন, গ্রামে গ্রামে শুধু বিদ্যুৎই চলে যায়নি গ্রামও এখন ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় চলে এসেছে। তিনি বলেন, দেশে এতো উন্নয়ন কর্মকান্ড হচ্ছে যে প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকায় বসেই ডিজিটাল ব্যবস্থায় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করতে হচ্ছে।  

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ প্রেমিক আর ক্রীড়ামোদী মানুষ হওয়ায় ক্রীড়াঙ্গন সহ দেশে সার্বিক উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় ষ্টেডিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই ১৩০টি ষ্টেডিয়াম নির্মাণ শেষ হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী সরকারের অব্যাহত উন্নয়ন কর্মকান্ড ধরে রাখতে প্রবাসীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকার নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ প্রবাস থেকে বাংলাদেশী আমেরিকান ফুটবল ও ক্রীকেট দলের খেলোয়ারদের টিম নিয়ে বাংলাদেশে প্রদর্শণী ম্যাচ সহ প্রতিযোগিতানুষ্ঠান আয়োজনের দাবী জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় উল্লেখযোগ্য ক্রীড়াবীদদের মধ্যে সাবেক অলিম্পিয়াড শাহান উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক বক্সার সৈয়দ এনায়েত আলী, সাংবাদিক মনিজা রহমান সহ বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল ও ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ওয়াহিদ কাজী এলিন, মফিজুল ইসলাম রুমী, আব্দুল কাদের লিপু, কাজী তোফায়েল ইসলাম, শাহাদৎ হোসেন, নওশাদ হোসেন সিদ্দিকী, ইয়াকুত রহমান, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট রোকেয়া আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সবাইকে প্রতিমন্ত্রীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন মহিউদ্দিন দেওয়ান। 


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

জ্যাকসন হাইটসে 'বাংলা মোবাইল ও ট্রাভেলস'-এর উদ্বোধন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-১৮ ১২:৩৭:২২

নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জ্যাকসন হাইটসে চালু হলো বাংলাদেশী মালিকানাধীন আরো একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘বাংলা মোবাইল ও ট্রাভেলস’। জ্যাকসন হাইটসের ডিজিটাল ওয়ান গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ‘বাংলা মোবাইল ও ট্রাভেলস’ স্টোরের যাত্রা উপলক্ষ্যে গত ১৫ জানুয়ারী সোমবার সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানটিতে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনাড়ম্বর অনুষ্ঠান ফিতা কেটে প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন প্রবীণ সাংবাদিক, সাপ্তাহিক আজকাল-এর সম্পাদক মনজুর আহমদ। এর আগে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও আজকাল-এর প্রধান সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ জিকো এবং বাংলা মোবাইল ও ট্রাভেলস-এর সিইও বেলাল হোসেন।

অনুষ্ঠানে জাকারিয়া মাসুদ জিকো বলেন, ডিজিটাল ওয়ান প্রায় ২০ বছর ধরে কমিটিতে ব্যবসা করে আসছে। আমরা মোবাইল ফোন সহ এয়ার টিকেট ব্যবসায় জড়িত। বিশেষ করে বাংলাদেশী কমিউনিটির সাথে আমরা বিশ্বস্ততার সাথে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছে এবং আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত হওয়ায় বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকায় নতুন প্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তা-ভাবনা করছিলাম। আশা করছি সর্বোচ্চ সেবার মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের মন জয় করতে পারবো। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে সুলভমূল্যে মোবাইল সহ সংশ্লিষ্ট জিনসপত্র কেনাকাটা ছাড়াও বাংলাদেশ অর্থ প্রেরণেরও ব্যবস্থা থাকবে। আরো থাকবে এয়ার টিকেট কেনা-কাটার সুযোগ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা আর মমত্ববোধ থেকেই নতুন প্রতিষ্ঠানটির নাম রাখা হয়েছে ‘বাংলা মোবাইল আর বাংলা ট্রাভেলস’। 

বেলাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশকে প্রমোট করার পাশপাশি প্রবাসী বাংলাদেশী সুবিধার কথা বিবেচনা করেই প্রতিষ্ঠানটির নাম রাখা হয়েছে ‘বাংলা মোবাইল এন্ড ট্রাভেলস’। আমাদের বেশীরভাগ ক্রেতা-গ্রাহক বাংলাদেশী।
উল্লেখ্য, জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ ষ্ট্রীট সংলগ্ন সাবওয়য়ের সাথে ‘বাংলা মোবাইল’ স্টোরটি প্রতিষ্ঠিত।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউ আমেরিকান ইয়্যূথ ফোরামের বার্ষিক ডিনার পার্টি অনুষ্ঠিত

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-১১ ১১:৫১:৫৪

বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো নিউ আমেরিকান ইয়্যূথ ফোরাম, সপ্তম বার্ষিক ডিনার পার্টি। গত শনিবার (৬ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় জ্যামাইকার তাজমহল পার্টি হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সহযোগিতায় ছিলো নিউ আমেরিকান ডেমোক্রেটিক ক্লাব ও নিউ আমেরিকান ওমেন্স ফোরাম। অনুষ্ঠানে মূলধারার রাজনীতিকদের মুখে বাংলাদেশী-আমেরিকান কমিউনিটির প্রশংসার পাশাপাশি সম্ভানার কথাও উঠে আসে। বক্তারা বলেন, আজ থেকে ৩০/৩৫ বছর আগে বাংলাদেশী-আমেরিকান ডেমোক্র্যাট মোর্শেদ আলম যে বীজ বপন করে পথ দেখিয়েছেন, সেই পথেই বাংলাদেশী কমিউনিটি অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সময় আসছে সিটি প্রশাসনে বাংলাদেশী মুখ নির্বাচিত হওয়ার। এই লক্ষ্যে এখন থেকেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সকল বাংলাদেশী-আমেরিকানকে ভোটার হতে হবে।

এই ডিনার অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময়, প্ল্যাক প্রদান, সঙ্গীত, নৃত্য ও ডিনার। ইউএস কংগ্রেসওম্যান ইভেন্ট ক্লার্ক, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল মো: শামীম আহসান, নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক এডভোকেট লেটিসা জেমস, নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলীওম্যান আলিসিয়া হ্যান্ডম্যান, সিটির সাবেক কম্পট্রোলার জন ল্যু, গভর্নর এন্ড্রু কমোর প্রতিনিধি হরেস প্রকাশ, কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং-এর প্রতিনিধি স্যানড্রা ওয়ং, মূলধারার রাজনীতিক মোর্শেদ আলম, বিশিষ্ট রাজনীতিক ডা. মাসুদুল হাসান, অ্যাসাল প্রেসিডেন্ট মাফ মিসবাহ উদ্দিন ও ডিষ্ট্রিক্ট লীডার এন্থনী অ্যান্ড্রোস ও রোসলেন স্পীগনার সহ মূলধারার জনপ্রতিনিধিদের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠান আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন।

বাংলাদেশী কমিউনিটিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ইউএস কংগ্রেসওম্যান ইউভেটি ডি ক্লার্ক সহ অনুষ্ঠানে মূলধারার রাজীতিক ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্ল্যাক প্রদান করা হয়। প্ল্যাকপ্রাপ্তরা হলেন: এটর্নী সোমা সাঈদ, মুক্তিযোদ্ধা সরাফ সরকার ও ড. আব্দুল বাতেন, ড. এন্থনী এন্ড্রোজ, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট এবিএম ওসমান গণি, এডভোকেট মুজিবুর রহমান, দীলিপ দেবনাথ, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, সৈয়দ বাহলুল উজ্জল, মিজানুর চৌধুরী, আব্দুল কাদের মিয়া, ওরনী এলিজাবেথ বার্না, মোহামেদ হ্যাক, বরিস ডেভিডোফ ও সিদ্দিক উই। 
অনুষ্ঠানে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক সিটির গত নির্বাচনে কাউন্সিম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ টি রহমান ও হেলাল শেখ, এবিএম ওসমান গণি, মিলন রহমান, এটর্নী সোমা সাঈদ, দীলিপ নাথ, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন রোকেয়া আক্তার, আনাফ আলম ও রুবাইয়া রহমান। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন শেখ আল আমীন, আমিনুল ইসলাম, সালেহা আলম, হুসনে আরা বেগম, আব্দুস সেলিম, শিরীন কামাল, রোমানা জেসমীন, সালমা ফেরদৌস ও সেলিনা হোসেন।
 
অনুষ্ঠানের সংস্কৃতিক পর্বে স্থানীয় শিল্পীরা সঙ্গীত ও নৃত্য স্বললিপি শিল্পী গোষ্ঠীর শিল্পী প্রিটু সাহা, পূজা পাল, ইউভিকা তালুকদার, মীম দত্তা, শুভ্রা বিশ্বাস, শ্রেয়া চক্রবর্তী, নিমা রহমান, শিহা দেবনাথ ও মৃত্তিকা সঙ্গীত এবং নৃত্য পরিবেশন করেন। তাদের পরিবেশনা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।   
অনুষ্ঠানে আগামী দুই বছরের জন্যে নিউ আমেরিকান ডেমোক্রেটিক ক্লাবের নতুন পরিচালনা পরিষদ ঘোষণা করা হয়। নতুন কর্মকর্তারা হলেন: প্রেসিডেন্ট- মোর্শেদ আলম, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট- মাফ মিসবাহ উদ্দিন, পরিচালনা পরিষদের চেয়ার- রুবাইয়া রহমান, কো চেয়ার- মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেন এবং মনিকা রায়, রাজনীতি বিষয়ক পরিচালক- মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, শ্রম বিষয়ক পরিচালক- কাজী মনির, জনসংযোগ পরিচালক- করিম চৌধুরী, নারী বিষয়ক পরিচালক- রোকেয়া আকতার। এছাড়াও আরো কয়েজন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পরিচালক রয়েছেন। উল্লেখ্য, ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মোর্শেদ আলমের নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে নিউ আমেরিকান ডেমোক্রেটিক ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব নতুন কমিটির অভিষেক ১২ জানুয়ারী

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-১১ ১১:৪৭:০২

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির অভিষেক আগামী ১২ জানুয়ারী শুক্রবার। ঐদিন সন্ধ্যা ৭টায় জ্যাকসন হাইটসের বেলোজিনো পার্টি হলে এই অভিষেক অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। প্রেসক্লাবের অভিষেক উপলক্ষ্যে ‘মূলধারা’ শীর্ষক  আকর্ষণীয় স্যুভেনীর প্রকাশিত হচ্ছে।

ক্লাবের সভাপতি ডা. ওয়াজেদ এ খান ও সাধারণ সম্পাদক শিবলী চৌধুরী কায়েস অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য সকল কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রতি বিষেশ অনুরোধ জানিয়েছেন।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সাহিত্য একাডেমি নিউইয়র্ক-এর উদ্যোগে বিজয় দিবস উদযাপন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-০৪ ১২:৫৫:৪১

ঝড়, বৃষ্টি,  তুষারপাত সে যাই হোক না কেন মাসের শেষ শুক্রবারটি যেন নিউইয়র্ক শহরে বসবাসরত সাহিত্যমোদীদের জন্য সাহিত্য একাডেমিকে ঘিরে একটি আনন্দের দিন। বছরের নিয়মিত শেষ আসরটিতে এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি।  হাঁড় কাঁপানো শীতেও বিপুল সংখ্যক সাহিত্যপ্রেমীরা  প্রাণের টানে ছুটে এসেছেন সাহিত্য একাডেমিতে। বাহিরে প্রবাহিত শৈত্য প্রবাহের আধিপত্য, ভেতরের  চা- কফির উষ্ণ আতিথেয়তায় যেন দূর হয়ে গেছে!
বিজয় দিবসের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানিয়ে পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন 'সাহিত্য একাডেমি, নিউইয়র্ক ' এর পরিচালক মোশাররফ হোসেন। আলোচনার মাঝে মাঝে এবারও প্রায় ৩০ জনের  মত  লেখক, কবি তাদের লেখা পাঠ করেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন হাসান ফেরদৌস, ফজলুর রহমান, তমিজ উদদীন লোদী, আহমাদ মাযহার, ফকির ইলিয়াস, এবিএম সালেহ উদ্দীন।

নিজেদের লেখা কবিতা, গল্প,  প্রবন্ধ এবং আবৃত্তি  করেন সুরীত বড়ুয়া, নাসিরুল্লাহ মোহাম্মদ, ইশতিয়াক রুপু, আবুল বাশার, কাজী আতিক, রানু ফেরদৌস, শামীম আরা আফিয়া, স্বফন দেওয়ান, ফারহানা ইলিয়াস তুলি, বেগম সোনিয়া কাদির, ফকির ইলিয়াস,  আহম্মদ হোসেন বাবু, মমতাজ বেগম (আলো),  শাহীন ইবনে দিলওয়ার, নাসিমা আকতার, কামরুন নাহার রীতা, পলি শাহীনা, তাহমিনা সাইদ, আবু সাঈদ রতন, নীরা কাদরী, মোশাররফ হোসেন,  সালেহীন সাজু, আনোয়ার সেলিম, পারভীন পিয়া,  উইলি মুক্তি প্রমুখ।

শুরুতেই লেখক আহমাদ মাযহার তার আলোচনায় বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে তুলে ধরেন।

সময়ের পরিক্রমায় লেখকের সৃষ্টিকর্ম তাঁকে অধিষ্ঠিত করেন মহামানবের আসনে। ৯-ই ডিসেম্বর 'বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন'এর জন্মদিন উপলক্ষে  আহমাদ মাযহার তাঁর ' সুলতানার স্বপ্ন' উপন্যাসটির উপরে আলোকপাত করে বলেন,  ' বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন শুধুমাত্র একজন সমাজ সংস্কারক নয় সাহিত্যের দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করলে তিনি ছিলেন একজন সৃজনশীল মানুষ। ' তিনি আরো বলেন,  ' সুলতানার স্বপ্ন উপন্যাসটির গঠন অসাধারণ হওয়া সত্বেও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের দিকে তাকালে  দেখা যায় সে সময়টায় তার কথা কোথায়ও তেমন উল্লেখযোগ্য ভাবে আসেনি। হিন্দু সমাজ খেয়াল-ই করেনি যে মুসলমানরা সাহিত্য চর্চা শুরু করেছেন। '

এরপর কবি তমিজ উদদীন লোদী তার নির্ধারিত বক্তব্যে গণমানুষের কবি দিলওয়ারকে তুলে ধরেন।  মহকালের ইতিহাসে লেখকের রচিত সাহিত্যই কথা বলবে। বাংলা একাডেমি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত গণমানুষের কবি' দিলওয়ার' সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে কবি তমিজ উদদীন লোদী বলেন, ' কবি দিলওয়ার একজন অসাধারণ মানুষ ছিলেন। কবিতা লেখার জন্য যারাই যেতেন তাঁর কাছে সবাইকে পরম মমতায় কাছে টেনে নিতেন। ছন্দের প্রতি তার প্রবল নিষ্ঠা ছিল।  মাত্রাবৃত্ত, অক্ষরবৃত্ত, স্বরবিত্তে লিখতেন তিনি। সাধারণ মানুষদের সাথে মিশে যেতেন অনায়াসেই। সবসময় পড়ার মধ্যেই থাকতেন। কবি দিলওয়ার একজন প্রথম সারির গীতিকার ছিলেন। গীতিকবিতা যারা লিখেছেন কবি দিলওয়ার ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম।তাঁর আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং কবি দিলওয়ারের অপ্রকাশিত রচনাবলী যেন প্রকাশিত হয় সে আশা পোষণ করে তমিজ উদ্দিন লোদী তার আলোচনার ইতি টানেন।

কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কবিপুত্র শাহীন ইবনে দিলওয়ার এবং মোশাররফ হোসেন একটি করে কবিতা পড়েন। এরপরেই শুরু হয় লেখকদের লেখা পাঠ।

এই পর্যায়ে পঠিত লেখার উপরে আলোকপাত করেন কবি ফকির ইলিয়াস। তিনি বলেন, ' অগ্রজ কবিরা কি বলেছেন তা জানা দরকার, তাঁদের বই পড়া আবশ্যক। কবির কবিতা একজন মানুষের সাথে কিভাবে শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করেন তা বর্ণনা করতে গিয়ে ফকির ইলিয়াস উল্লেখ করেন কবি দিলওয়ারের কথা। তাঁর কবিতা পড়ে কিভাবে ঢেউ আঁচড়ে পড়ে পিলারের গায়ে তা দেখার জন্য নৌকা করে তিনি সে জায়গাটি পরিদর্শনে যান। '
পাঠকদের ভালোবাসা, আদরে লেখকরা থাকেন তাদের হৃদয়ে। প্রতিটি মানুষের জীবন যেন অলিখিত গল্পের একেকটি মহাসমুদ্র। সাপ্তাহিক ঠিকানা পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, ' ভালোবাসা দিয়ে খুব সহজে মানুষকে তুষ্ট করা যায়। এখানে ভালোবাসা পাই তাই ফিরে ফিরে আসি। গণমানুষের কবি দিলওয়ার, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের মত আলোকিত মানুষেরা ছিলেন বলেই আমরা বাঙালীরা গর্ব করতে পারি।অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, বেশী বেশী  পড়বেন, লিখবেন এবং ভালো মানুষ হবার চেষ্টা করবেন। '

লেখক এবিএম সালেহ উদ্দিন বলেন, ' আনন্দ এবং বেদনা দুটোই রয়েছে এই বছর জুড়ে। সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে সামনের দিনগুলো যেন সবার জন্য মঙ্গলময় হয় সে  প্রত্যাশা করেন।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি' শহীদ কাদরী'র ' সদ্য প্রকাশিত কবিতার বই ' গোধূলির গান' থেকে কবিতা পাঠ করেন কবি পত্নী নীরা কাদরী।

ভেদ-ক্লেদ ভুলে প্রতিটি প্রাণ জেগে উঠুক নতুন বছরে প্রাণের আনন্দে। কবি কাজী আতিক সবাইকে আগাম নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে তার নিজের দুটো কবিতা পাঠ করেন।

কবি তার লেখায় মহাকালের ছবি এঁকে যান। কবি সোনিয়া কাদির বলেন, ' কবি দিলওয়ারের লেখা থেকে তিনি উপকৃত, অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তাঁর অফুরন্ত স্নেহের ঢালি থেকে তিনি নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন।

লেখক হাসান ফেরদৌস নিজ বই থেকে পাঠকৃত প্রবন্ধে  উঠে এসেছে ইতিহাসে দূষ্ট লোকেরাও কবিতা লিখেছেন যেমন, হিটলার, মুসোলিনী প্রমুখ। 'কবিতা লেখকের ভাবনা দৃষ্টির আয়না হলেও লেখকরা অন্যরকম বিশেষ শ্রেণীর মানুষ। তারা চিন্তা, চেতনায় সবাই নিজের জায়গায় আলাদা স্বত্বা। ' তাঁর প্রবন্ধটি পাঠ শেষে বিষয়বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন।

অনুষ্ঠানের প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে কবি তমিজ উদদীন লোদী ও ফকির ইলিয়াসকে সাহিত্য একাডেমির পক্ষ হতে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো হয়।সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে এবং জানুয়ারি মাসের শেষ শুক্রবার আবারো সাহিত্য একাডেমি'র মাসিক আসরে মিলিত হবার প্রত্যাশা রেখে একাডেমি'র পরিচালক মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা হারুন ও পাপিয়ার সাথে নিউইয়র্কে জাতীয়তাবাদী ফোরামের মতবিনিময়

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-০২ ১৩:৩৭:৩৯

যুক্তরাষ্ট্র সফররত সাবেক এমপি ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ এবং সাবেক এমপি ও চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়ার সাথে মতবিমিয় করেছেন বাংলাদেশী-আমেরিকান জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউএসএ’র নেতৃবৃন্দ। মতবিনিময় সভায় প্রবাসী নেতৃবৃন্দ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন সময়ের দাবী উল্লেখ করে এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নেতা হারুনুর রশীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বিষয়টি যথাস্থানে জানাবেন বলে জানান।

নিউইয়র্কের উডসাইড এলাকার কুইন্স বুলেভার্ডস্থ একটি রেষ্টুরেন্টে গত ২৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বক্তারা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে বলে দুই নেতাকে অবহিত করেন। সভায় বিএনপির সাবেক এমপিদ্বয় বলেন, আমরা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। আর সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বাংলাদেশের জনগন ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে রাখা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসাবে। খবর ইউএনএ’র। 
আশির দশকের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের সংগঠন বাংলাদেশী-আমেরিকান জাতীয়তাবাদী ফোরামের সভাপতি নিয়াজ আহমেদ জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী ও কেন্দ্রীয় জাসাস নেত্রী রিজিয়া পারভীন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি গিয়াস আহমেদ এবং সাবেক সহ সভাপতি ও ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সামসুল ইসলাম মজনু এবং বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম। সভায় ফোরামের পক্ষ থেকে অতিথিদ্বয়কে ফুলে তোড়া এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অন্যতম শীর্ষ তিন নেতা যথাক্রমে ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার, জিল্লুর রহমান জিল্লু ও গিয়াস আহমেদকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আজাদ বাকিরের সঞ্চালনায় সভায় অতিথিবৃন্ধ ছাড়াও আরো শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এডভোকেট জামাল আহমেদ জনি, এমদাদুল হক কামাল, ছৈয়দুল হক, ড. জাহিদ দেওয়ান শামীম, ফারুক হোসেন মজুমদার, জহিরুল ইসলাম মোল্লা, ভিপি আলমগীর, রাসেদুল ইসলাম প্রিন্স প্রমুখ। 

সভায় কেন্দ্রীয় নেতা হারুনুর রশীদ বলেন, বাংলাদেশ আজ সামগ্রীকভাবে চরম সঙ্কটের মধ্য দিয়ে চলছে। বাংলাদেশকে ভারতের অঙ্গরাজ্য বানাতে আওয়ামী লীগ একক মুদ্রা চালুকরতে চাচ্ছে। কিন্ত্র বিএনপি আর বাংলাদেশের জনগণ একদলীয় আওয়ামী শাসন মেনে নেবে না। তিনি বলেন, আওয়ামী দু:শাসনের ফলে আমরা রাজপথে মিছিল-সমাবেশ করতে পারি না। জেলায় জেলায় বিএনপি অফিস খুলতে দেয়া হচ্ছে না।

তিনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটির দাবী প্রসঙ্গে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মামালা-মোকদ্দমা সহ নানা সমস্যা নিয়ে প্রতিদিন চাপের মধ্যে থাকেন। তার অন্য কিছু ভাবার সময় খুব কম। তবে ঢাকায় ফিরে বিএনপির কমিটির ব্যাপারে জায়গামত কথা বলবো। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি হওয়া দরকার বলে তিনি জোড়ালো অভিমত ব্যক্ত করেন। 

সাবেক এমপি সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর আবেগ তারিত হয়ে আশির দশকে ছাত্রদলের রাজনীতর মধ্যদিয়ে আমি বিএনপি’র রাজনীতি করছি। সেই থেকে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনীতিতে এগিয়ে চলছি। দলের মধ্যে আমরা হাইব্রীড নই। আমরা দলেল নেতা নই কর্মী, আর রাজনীতিতে কর্মীর কখনো মৃত্যু হয় না। তিনি ফোরামের নেতৃবৃন্দর উদ্দেশ্যে বলেন, আশির দশকের ছাত্র রাজনীতির চেতনা, দেশপ্রেম আর শহীদ জিয়ার আদর্শ নিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের দূর্দিনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে। আর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে চোখে চশমা দিয়ে রাজনীতি করলে চলবে না। ভোটার বিহীন অনির্বাচিত সরকার পতনের আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই চালাতে হবে। 

নিয়াজ আহমেদ জুয়েল বলেন, আমরা জিয়াউর রহমানকে তার আদর্শকে ভালোবেসে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি’র রাজনীতি করি। আমরা কাউকে ট্যাক্স দিয়ে রাজনীতি করতে চাই না বা নেতা হতে চাই না। আমরা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র পূর্নাঙ্গ কমিটি চাই, কমিটিতে দলের জন্য ত্যাগী ও যোগ্য নেতা-কর্মীদৈর স্থান চাই।

সভায় যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী সহ যুক্তরাষ্ট্র, ফোরাম ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম খান, নওশাদ হোসেন, আমিনুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিডিআর হত্যাকান্ডের উপর প্রবীণ সাংবাদিক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের লেখা একটি গ্রন্থ বিএনপি নেতা হারুনুর রশীদ ও সৈয়দা আসিফা আশরাফ পাপিয়াকে উপহার দেন লেখক।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

জমজমাট আয়োজনে নিউইয়র্কে ‘এনআরবি তারকা অ্যাওয়ার্ড-২০১৭’ অনুষ্ঠিত

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২৭ ১৩:৪৭:০১

বিগত বছরগুলোর মতো এবারো নিউইয়র্কে জমজমাট আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘এনআরবি তারকা অ্যাওয়ার্ড-২০১৭’। সিটির উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে গত ২৩ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় শো-টাইম মিউজিক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে দেশ ও প্রবাসের জনপ্রিয় তারকাদের পরিবেশনায় ছিলো মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে আগত শিল্পী দিনাত জাহান মুন্নীর সঙ্গীত আর নতুন প্রজন্মের চিত্র নায়িকা জলি ও প্রিয়া বিপাসা এবং রোকসানা মির্জার পরিবেশনা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ছিলো মনোজ্ঞ ফ্যাশন শো সহ দেশী-প্রবাসী শিল্পীদের নাচ-গান। সন্ধ্যা ৮টা থেকে মধ্যরাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি চলে।

এদিকে প্রবাসের বুকে বেড়ে উঠা প্রতিভাকে আরো সমৃদ্ধ করতে বিনোদন জগতের অন্যতম ‘এনআরবি তারকা অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে টাইম টেলিভিশন। বর্ণাঢ্য এ আয়োজনটি ছিল শো-টাইম মিউজিকের নবম তারকা অ্যাওয়ার্ড আসর। যাতে দেশের খ্যাতিম্যান তারকা ও সংস্কৃতি জগতের শিল্পীদের পাশাপাশি ছিল প্রবাসী শিল্পীদের এক মিলন মেলা। খবর ইউএনএ’র।

শো-টাইম মিউজিকের কর্ণধার আলমগীর খান আলমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেট’র কনসাল জেনারেল শামীম আহসান। আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার এস আই টুটল। অনুষ্ঠানের গ্র্যান্ড স্পন্সর ছিলেন বাংলাদেশী মালিকানাধীন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ স্কুল ‘শিফট’। পাওয়ার্ড বাই উৎসব কুরিয়ারের এই অনুষ্ঠানের গ্র্যান্ড স্পন্সর ছিলো পিপল এন টেক।

অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ ছাড়াও টাইম টেলিভিশন-এর পক্ষে জেসিকা তারতিলা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এসময় টাইম টেলিভিশনের বিজনেস কনসালটেন্ট নুসরাত শারমীন তিসাম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে টাইম টেলিভিশনের কাছে নিজেদের অনুভূতির কথা তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারী শিল্পী ও কলাকূশলীরা। 

অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভীন সহ বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে প্রবাসের ৩৫জন শিল্পী, ব্যবসায়ী, সংগঠককে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন:  শিফট’র কর্ণধার ড. ইফতেখার ইভান, বাংলাদেশ সোসাইটির স্কুল ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব, সংগঠক খন্দকার এ এইচ জগলু, ডিজিটাল ওয়ান-এর বেলাল আহমেদ, প্রিমিয়াম সুইটসের সত্ত্বাধিকারী সোহাগ আজম, প্রবাসী শিল্পী রানো নেওয়াজ, চন্দ্রিকা দে, স্বম্পা জামান, বীনা বর্মণ, লাল্টু, মনিকা দাস, মল্লিকা, ফেরদৌসী, নিশা, চন্দ্রিকা দে প্রমুখ এবার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। এবার পড়ালেখা বিষয়ে অংক পরিবেশনার জন্য স্পেশাল ট্যালেন্ট হিসেবে ফাতিহা আয়াতকে ‘এনআরবি তারকা অ্যাওয়ার্ড- ২০১৭’ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল শামীম আহসান বলেন, প্রবাসে এমন অনুষ্ঠান আয়োজনে শিল্পী-সংস্কৃতিসেবী সহ প্রবাসীরা আরো ভালো কাজে উৎসাহীত হবে। পাশাপাশি বাংলা ভাষা, বাংলা সংস্কৃতি আরো বিকশিত হবে।

শিল্পী এস আই টুটুল বলেন, নিউইয়র্কে এসে মনে হচ্ছে আমরা বাংলাদেশীই আছি। তিনি অনুষ্ঠানটি আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, শিল্পী সহ প্রবাসের জ্ঞানী-গুণীজনরা সম্মানিত হবে আমরা আরো ভালো কিছু উপহার দিতে পারবো। প্রসঙ্গত তিনি আরো বলেন, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই আজকের অনুষ্ঠানে কোন গান গাইবো। আমি কোন আইন ভাঙতে চাই না। আমি আমেরিকায় অনেকবার এসেছি, গানও করেছি। কিন্তু এবার আমেরিকায় আসার ভিসার শর্ত মোতাবেক আমি গান গাইতে পারবো না। তবে আগামীতে আবার আসবো এবং গান করবো।

গানের ফাঁকে ফাঁকে শিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী নিউইয়র্ক তথা উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশী অডিএন্সের প্রশংসা করে বলেন, এখানকার দর্শক-শ্রোতা খুব ভালো। মনে হচ্ছে বাংলাদেশেই গান করছি। প্রবাসী শ্রোতাদের মুখে মুখে তার নিজের গাওয়া গান শুনে তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য আয়োজক আলমগীর খান আলম উপস্থিত সকল দর্শক-শ্রোতাকে ধন্যবাদ জানান এবং বিশেষ কারণে শিল্পী এস আই টুটুল গান পরিবেশন করতে না পারায় আগামী বছরের এপ্রিল মাসে তাকে (এস আই টুটুল) ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন-কে নিয়ে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষনা দেন।

সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশন-এর সিইও আবু তাহের, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল চেয়ারম্যান ডেইজী সারোয়ার এবং অনুষ্ঠানের গোল্ড স্পন্সর এবং এনওয়াই ইন্সুরেন্স ইনক’র প্রেসিডেন্ট শাহ নেওয়াজ ছাড়াও কমিউনিটির উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে ড. এনামুল হক, নাদিম আহমেদ, হাজী আব্দুর রহমান, আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, ফকু চৌধুরী, শিফট’র ডাইরেক্টর অব এডুকেশন শায়লা ইফতেখার প্রমুখ সহ বিপুল সংখ্যক দর্শক-শ্রোতা অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন আবীর আলমগীর ও মোহাম্মদ সেলিম ইব্রাহীম।

অনুষ্ঠানটি সদস্য প্রয়াত বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী বারী সিদ্দিকীর স্মরণে উৎসর্গ করা হয়। 


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি



বিস্তারিত খবর

বর্ণাঢ্য আয়োজনে সাংবাদিক মনজুর আহমদের হীরক জন্ম জয়ন্তী পালন

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২৭ ১৩:৩৫:১৫

বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হলো প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমদের হীরক জন্ম জয়ন্তী। এ উপলক্ষ্যে গত ২২ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি রেষ্টুরেন্টে তাঁর জন্মদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মনজুর আহমদ স্ত্রী ও দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রেখা আহমদ এবং নাতি দ্রুবকে সাথে নিয়ে জন্মদিনের কেক কাটে। এর আগে তারা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কের বিভিন্ন মিডিয়া, মিডিয়ার সম্পাদক, সাংবাদিক ও কলা-কুশলী, কবি-লেখক, সংস্কৃতিসেবী সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক মনজুর আহমদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং শতায়ু কামনা করেন। এছাড়াও নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ও আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকেও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। উল্লেখ্য, গত ২১ ডিসেম্বর ছিলো মনজুর আহমদ-এর জন্মদিন।

‘হীরক ছোঁয়া’ শীর্ষক জন্মদিনের এই অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রবীণ সাংবাদিক, এখন সময় সম্পাদক কাজী শামসুল হক ও প্রবীণ সাংবাদিক নিনি ওয়াহেদ, বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট হাসান ফেরদৌস, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশন-এর সিইও আবু তাহের, সাপ্তাহিক ঠিকানা’র প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, সাপ্তাহিক আজকাল-এর প্রধান সম্পাদক ও জেবিবিএ’র সভাপতি জাকারিয়া মাসুদ জিকো, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুজিব বিন হক ও শহীদ উদ্দিন, অধ্যাপিকা হুসনে আরা বেগম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট রানু ফেরদৌস, সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণ ও মনিজা রহমান, ফটো সাংবাদিক নিহার সিদ্দিকী, টাইম টিভি’র নিউজ প্রেজেন্টার সাদিয়া খন্দকার, সাবেক প্রেজেন্টার শামসুন্নাহার নিম্মি প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন সাপ্তাহিক আজকাল-এর সহযোগী সম্পাদক হাসানুজ্জামান সাকী।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিক মনজুর আহমদ বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে ঘটা করে জন্মদিন পালন করাটা পছন্দ করি। আজ আমার ভালো লাগছে। জীবনের অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। আমার স্ত্রী রেখা আহমদ আমাকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য আমাকে না জানিয়ে জন্মদিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করাতে আমি ‘সারপ্রাইজড’ হয়নি, তবে অবাক হয়েছি এতো সুন্দর আয়োজন দেখে। বিশেষ করে আমার প্রিয়জনদের, কাছের মানুষদের পেয়ে আমি অনন্দিত। তার দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে মনজুর আহমেদ প্রসঙ্গত বলেন, অমি আগে সামনে বেশী দেখতাম, এখন পেছনের দিকটাই বেশী দেখছি। মনে হচ্ছে বয়স বাড়ার সাথে সাথে জীবনের সময় কমে আসছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা তাদের শুভেচ্ছা বক্তব্যে মনজুর আহমদকে একজন ভালো মনের মানুষ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করে বলেন, তিনি অনেকের আদর্শও বটে। বক্তারা তার সুস্থ ও সুন্দর এবং শতায়ু জীবন কামনা করে বলেন, আমরা ভবিষ্যতে মনজুর আহমদের জন্মদিনের শতবর্ষপূর্তী পালন করতে চাই। 

এদিকে মনজুর আহমদের জন্মদিন ঘিরে অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি মিলন মেলায় রূপ নেয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত উল্লেখযোগ্য সাংবাদিকদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি দর্পণ কবীর ও সাধারণ সম্পাদক শওকত ওসমান রচি, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাপ্তাহিক আজকাল-এর নির্বাহী সম্পাদক শাহাব উদ্দিন সাগর, ফটো সাংবাদিক এ হাই স্বপন, নিউজ প্রেজেন্টার মিজান খন্দকার ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক-লেখক আহমেদ মাযহার, কবি এবিএম সালেউদ্দিন, কবি নাসরিন চৌধুরী প্রমুখ।


এলএবাংলাটাইমস/এএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি বিকাশে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে : এটর্নী মঈন চৌধুরী

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২৭ ১৩:২৯:২২

প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে বাংলাদেশ সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এটর্নী মঈন চৌধুরী। গত ২৩ শে ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় জ্যামাইকাস্থ স্টার পার্টি হলে বাংলাদেশ-আমেরিকা কালচারাল একাডেমী আয়োজিত শীতের পিঠা উৎসব এর উদ্ভোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ডেমোক্রেটিক পার্টির  ডিস্ট্রিক্ট লিডার এট-লার্জ এর্টনী এট ল’  মঈন চৌধুরী এই মন্তব্য করেন।

সংগঠনের সভাপতি পারভীন বানুর সভাপতিত্বে ও শেখ সিরাজ এর সঞ্চালনায় পিঠা উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ রোমানা সবুর, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ডাঃ ওয়াজেদ এ খান, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি  মাহফুজুর রহমান, এবিএম সালাহ্উদ্দিন সহ আরো অনেকে।

প্রধান অতিথি এর্টনী মঈন চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, যে দেশের সংস্কৃতি যত বেশি সমৃদ্ধ সেই দেশ তত বেশি উন্নত, আমরা বাংলাদেশী হিসেবে বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে গর্ববোধ করতে পারি। এই সংস্কৃতি সংরক্ষণ করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। আমরা যদি সংরক্ষণ করতে না পারলে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তা হারিয়ে যাবে। প্রবাসে শত ব্যস্ততার মাঝেও যারা এই সংস্কৃতিকে কাজে কর্মে বাচিয়ে রেখেছেন তাদের প্রতি আমরা সবাই কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী প্রবাসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে বিধায় বাংলাদেশ সরকারের উচিত প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি বিকাশে, সংরক্ষণে এবং প্রচারে বিভিন্ন সংগঠনকে প্রবাসী মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা প্রদান করা। অন্যথায় হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অদূর ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌছানো কষ্টসাধ্য হবে পড়বে।

পিঠা উৎসবে আগত সকল অতিথিকে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদ্যু পিঠা পরিবেশন করা হয় এবং স্থানীয় শিল্পীবৃন্দের প্রাণবন্ত মনোঞ্জ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পিঠা উৎসবকে উপভোগ্য করে তুলা হয়।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কে ঘরে ঢুকে বাংলাদেশিকে গুলি

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২২ ১২:০১:৪৮

নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা এস্টোরিয়ায় এক বাংলাদেশির ঘরে ঢুকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। বাংলাদেশি মহিবুল ইসলামের পায়ে গুলি লেগেছে। বর্তমানে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার পায়ে অস্ত্রোপচার করা হবে। খবর বার্তা সংস্থা এনা’র। 

পুলিশ জানায়, ২১ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে ইউপিএসের কর্মী সেজে মহিবুল ইসলাম যে অ্যাপর্টমেন্টে থাকতেন সেই বিল্ডিংয়ের মূল গেইটে এসে বিভিন্ন বাসার নম্বর টিপতে থাকেন কয়েকজন লোক। ইউপিএসের ডেলিভারি ম্যান বলায় কে বা কারা দরজা খুলে দেন। দুর্বৃত্তরা ২৪ স্ট্রিটে এবং ২০ এবং ২১ এভিনিউর মাঝে অবস্থিত অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে প্রথম তলায় মহিবুর ইসলামের দরজা নক করতে থাকে। বার বার নক করায় মহিবুল ইসলাম দরজায় এসে জিজ্ঞেস করলে দুর্বৃত্তরা বলে, আমরা ইউপিএস এর ডেলিভারি দিতে এসেছি। মহিবুল ইসলাম দরজার লক খুলতেই দুর্বৃত্তরা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে মহিবুল ইসলামের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বলে, আমরা তোমাকে খুন করবো। এই কথা বলেই মহিবুলের মাথায় আঘাত করে। আঘাতে মহিবুল ফ্লোরে পড়ে গেলে তার পায়ে গুলি করে।

এই সময় তার স্ত্রী বেড় রুমে ছিলেন। তিনি স্বামীর অবস্থা দেখেই দৌড় দিয়ে বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় উঠে প্রতিবেশীর সাহায্য চাইলে তারা পুলিশকে কল করেন। পুলিশ এবং অ্যাম্বুলেন্স এসে মহিবুল ইসলামকে এলেমহার্স্ট হাসপাতালে ভর্তি করে।

মহিবুল ইসলাম বিভিন্ন মিডিয়াকে বলেন, আমি দ্বিতীয় জীবন ফিরে পেয়েছি। দুর্বৃত্তরা আমার কাছে কিছুই চায়নি। কিন্তু আমাকে কেন যে গুলি করলো আমি বুঝতে পারছি না।

এ ব্যাপারে পুলিশ ওই বিল্ডিংয়ের সিসি টিভি পরীক্ষা করছে। পুলিশ দেখতে পেরেছে যে দুর্বৃত্তরা মহিবুলকে গুলি করে রক্তাক্ত অবস্থায় রেখেই কানেকটিকাটের নম্বর প্লেটের একটি গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কে ব্রঙ্কস বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-১৭ ১৪:৪৩:৩৫

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্রঙ্কস বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। বাংলাদেশের ৪৭ তম  বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার খ্যাত ওলমস্টেড এভিনিউর এশিয়া ড্রাভিইং স্কুল পার্টি সেন্টারে গত ১৫ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় আয়োজন করা হয় মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা ও বিজয় উৎসবের। বিন¤্র  শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর উৎসবমুখর পরিবেশে ক্রেষ্ট প্রদান ও গলায় লাল-সবুজের উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানান হয় বাংলাদেশের ১০ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশী-আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিল’র প্রেসিডেন্ট  আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদার। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ এ ইসলাম মামুনের সভাপতিত্বে এবং ডা. নাহিদ খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা  মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, মামুন’স টিউটরিয়ালের প্রিন্সিপাল মূলধারার ম্যাথ টিচার শেখ আল মামুন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক  রুহুল আমিন সিদ্দীকি ও সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ,  হিউম্যান সাপোর্ট করপোরেশনের সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক  সোলায়মান আলী ও বাংলাদেশ কমিউনিটি অব নর্থ ব্রঙ্কসের সাধারণ সম্পাদক মনজুর হোসেন চৌধুরী জগলুল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মোজাফফর হোসেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭ এর জুডিশিয়াল ডেলিগেট রেক্সোনা মজুমদার, মুক্তিযোদ্ধা আবু কায়সার চিশতী, মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুর, অয়েল কেয়ারের আনোয়ার হোসেন, বৃহত্তর কুমিলা সোসাইটি’র সিনিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট খবির উদ্দিন ভূইয়া প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মমতাজ উদ্দিন এবং পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন সুভঙ্কর গাঙ্গুলী। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সংগীত পরিবেশন করেন আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, বিভিন্ন কমিউনিটির নের্তৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিত ছিলেন।

পরে ১০ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা হলেন, আব্দুল হালিম মুন্সী, আবু কায়সার চিশতী, মুন্সী বশির উদ্দিন, মনির হোসেন, আবু মোহাম্মদ সাকিব রহমান, আজিজুল ইসলাম, আবদুল জলিল, এম এ কাশেম, হেদায়েত উল্লাহ খান ও ফজলুর রহমান চৌধুরী। এছাড়া ম্যারাথনার রাশেদ মজুমদার, সিক্স হান্ড্রেড বুক রিডার খাদিজা ভূইয়া এবং নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ৪৩ পুলিশ প্রিসেনক্টেকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সম্মাননা পাওয়া মুক্তিযোদ্ধারা আবেগ আপ্লুত কন্ঠে আয়োজনদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এসময় তারা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সুদুর প্রবাসেও মুক্তিযোদ্ধাদের এমন সম্মাননা জানানোর অনুভূতি ভাষায় ব্যক্ত করার মত নয়। মু

আইনজীবি মোহাম্মদ এন মজুমদার তার বক্তৃতায় বলেন, প্রবাসে জন্ম নেয়া ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে বাংলাদেশের গৌরবজ্জ্বোল ইতিহাস। তাদের কাছে তুলে ধরতে হবে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট। ছড়িয়ে দিতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। তাদের সেভাবে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে তারাই এদেশের বিভিন্ন ইভেন্টে বাংলাদেশকে তুলে ধরবে। বয়ে আনবে বাংলাদেশের জন্য গৌরব ও সম্মান।

মোহাম্মদ এন মজুমদার আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশ জাতি ও দেশ হিসেবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে বিশ্বাসী। ঘৃনাভরে প্রত্যাখান করে সন্ত্রাসকে। আতœঘাতি বিস্ফোরণকারি আকায়েত উল্লাহ ‘বাংলাদেশি অভিবাসী’ হলেও সে কিছুতেই বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে না। সে কেবলই একজন সন্ত্রাসী। তার দায় কমিউনিটি নিতে পারে না। এ সন্ত্রাসীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় বাংলাদেশ ও বাংলাদেশী কমিউনিটি।

সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ এ ইসলাম মামুন অনুষ্ঠানে আগত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মানবতার শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া মুনাজাত করা হয়। মুনাজাত পরিচালনা করেন মুক্তিযোদ্ধা আবু কায়সার চিশতী।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউ ইয়র্কে বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণ, ‘হামলাকারী বাংলাদেশি’!

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-১১ ০৯:০৪:৫৯

নিউইয়র্ক নগরের ম্যানহাটনের একটি বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণ ঘটেছে। পোর্ট অথোরিটি বাস টার্মিনালে এই বিস্ফোরণ হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি বাংলাদেশি বলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে।

দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের বরাত দিয়ে ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যানহাটনে হামলাকারী সন্দেহে আটক ব্যক্তি বাংলাদেশি। তিনি ব্রুকলিনের বাসিন্দা। ২৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এ হামলা চালিয়েছেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার সকালে ঘটা এ বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। পুলিশের তথ্যমতে, এইটথ অ্যাভিনিউ ও ৪২ স্ট্রিটের কাছে বিস্ফোরণটি ঘটে। এর উৎস সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে এ, সি এবং ই সাবওয়ে লাইন ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ন্যাশনাল গার্ডের কর্মীদের মধ্যে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়। বাস টার্মিনাল ও সংলগ্ন সাবওয়ে স্টেশনে অবস্থানরত যাত্রীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। ঘটনাস্থলে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বরাত দিয়ে এনবিসি নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের তার ও ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।

এনবিসির তথ্যমতে, এফবিআইয়ের সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত যৌথ টাস্কফোর্স ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছে। আর বিস্ফোরণের এ ঘটনা সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করা হয়েছে বলে নিজের টুইটার পোস্টে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব সারাহ স্যান্ডার্স।

পোর্ট অথোরিটি বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন নিউইয়র্ক থেকে নিউজার্সি পর্যন্ত বিভিন্ন বাস যাত্রী পরিবহন করে। এ ছাড়া গ্রেহাউন্ড ও পিটারপ্যানের মতো দূরবর্তী স্থানগুলোয় যাত্রী পরিবহনকারী বাসগুলোও এখান থেকেই ছেড়ে যায়। গড়ে প্রতি দিন এই বাস টার্মিনাল দিয়ে আড়াই লাখ যাত্রী যাতায়াত করেন।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

টাইম পারসন অব দ্য ইয়ার`র সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-০৪ ১১:৫০:০৪

যুক্তরাষ্ট্রের টাইম ম্যাগাজিন ২০১৭ সালের পারসন অব দ্য ইয়ার-এর জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে দশজনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার সকালে মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এনবিসি’র টুডে অনুষ্ঠানে এই দশজনের নাম প্রকাশ করা হয়।

১৯৭২ সাল থেকেই টাইম ম্যাগাজিন পারসন অব দ্য ইয়ার খেতাব ঘোষণা করে আসছে। এর মধ্য দিয়ে বছরজুড়ে সংবাদমাধ্যমে সবচেয়ে প্রভাবশালী, ভালো বা খারাপ ব্যক্তি নির্বাচন করে টাইম।

২০১৭ সালের পারসন অব দ্য ইয়ার ঘোষণা করা হবে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সময় সকাল সাতটায়।

বর্ণের ক্রমানুসারে এ বছরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা হলেন-
১। অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেফ বেজস। তিনি এ বছর বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছে।

২। ড্রিমার্স- বৈধ কাগজপত্রহীন কয়েক হাজার অভিবাসী। যাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসেছেন তাদের বাবা-মা। ট্রাম্প প্রশাসন ওবামা আমলের নীতি বাতিল করায় এই সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

৩। ‘ওয়ান্ডার উইম্যান’ চলচ্চিত্রের পরিচালক প্যাটি জেনকিন্স। প্রথম নারী পরিচালক হিসেবে মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ছবিটি ১০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে।

৪। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মনে পারমাণবিক যুদ্ধের আতঙ্ক ঢুকিয়েছেন উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন। একাধিক আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও উত্তেজনাপূর্ণ বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন কিম। ট্রাম্প তাকে রকেট ম্যান বলে ব্যাঙ্গ করেছেন।

৫। সান ফ্রান্সিসকো ফুটবল টিমের কোয়ার্টার ব্যাক কলিন কায়োপারনিক ট্রাম্প প্রশাসনের বর্ণবাদের বিরোধিতা করে সারা বছর আলোচনায় ছিলেন। খেলার শুরুতে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় না দাঁড়িয়ে হাঁটু গেড়ে তিনি প্রতিবাদ জানান। ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে এই প্রতিবাদ বছরজুড়েই বাড়তে থাকে।

৬। যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনা প্রকাশ করতে নারীদের উৎসাহিত করতে শুরু হওয়া #মিটু মুভমেন্ট রয়েছে সংক্ষিপ্ত তালিকায়। হলিউড প্রযোজক হার্ভে উইনস্টেইনসহ অনেক চলচ্চিত্র, সংবাদমাধ্যম ও রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের ঘটনা সামনে আসে।

৭। মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের তদন্তের দায়িত্বে থাকা স্পেশাল প্রসিকিউটর রবার্ট মুয়েলার ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের চার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। এফবিআই প্রধান জেমস কোমিকে বরখাস্তের পর মুয়েলারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

৮। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশটিতে তথাকথিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন। এই অভিযানে বেশ কয়েকজন প্রিন্স, সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রীসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

৯। ২০১৬ সালের পারসন অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এবারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম বছরেই বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

১০। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্বিতীয়বারের মতো আরও পাঁচ বছরের ক্ষমতা পেয়েছেন। তার পরিকল্পনা আদর্শিক চিন্তাধারা হিসেবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির গঠনতন্ত্রে যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চীনে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।

এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষেপেছেন ব্রিটিশ এমপিরা

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-৩০ ১৪:২৫:১৭

কট্টর ডানপন্থিদের টুইট শেয়ার করে ব্রিটিশ সংসদ সদস্যদের (এমপি) ক্ষোভের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন তারা এবং একই সঙ্গে তার যুক্তরাজ্য সফর বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন।

একজন টরি এমপি বলেছেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার টুইটার অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে রাজি করাতে পারেন, তাহলে বিশ্বটা একটি ‘ভালো জায়াগায়’ পরিণত হবে।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রুড বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মের সমালোচনা প্রেসিডেন্টের (ট্রাম্প) ওপর ভালো প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফর বাতিলের আহ্বান আমলে নেননি তিনি।

অ্যাম্বার রুড বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তিনি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তবে সফরের তারিখ ও সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

যুক্তরাজ্যের উগ্র ডানপন্থিদের দুটি টুইট শেয়ার করেন ট্রাম্প। ওই দুই টুইটে ডানপন্থিদের ঘৃণামূলক বক্তব্য ছিল। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হলে ট্রাম্প আবার টুইট করেন। থেরেসা মেরর উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, আগে যুক্তরাজ্যে মৌলবাদী কর্মকাণ্ডের দিকে নজর দিন, আমাদের দিকে নয়। এরপর ব্রিটিশ এমপিরা তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানালেন।


এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউ ইয়র্কে ট্রাক উঠিয়ে দিয়ে ৮ জনকে হত্যা

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-০১ ১২:০৫:৪৮

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটানে একটি সাইকেল চালানোর রাস্তায় পথচারী ও সাইকেল চালকদের ওপর ট্রাক উঠিয়ে দিয়ে আট জনকে হত্যা করেছে সন্দেহভাজন এক সন্ত্রাসী।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা। সাদা রঙের একটি পিক-আপ ট্রাক নিয়ে হাডসন নদীর পাশ দিয়ে সাইকেল চালানোর রাস্তায় হামলা চালায় ২৯ বছর বয়সি ওই সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ১১ জন।

পুলিশ জানিয়েছে, মানুষের ওপর দিয়ে ট্রাক উঠিয়ে দেওয়ার পর সন্ত্রাসী ট্রাক-চালককে গুলি করেন পুলিশের একজন কর্মকর্তা। পরে আহত অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গণমাধ্যমে তার নাম সাইফুলো সাইপোভ বলা হয়েছে। তিনি একজন অভিবাসী এবং ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন তিনি।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাকের মধ্যে একটি চিরকুট পাওয়া যায়, যাতে তথাকথিত জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কথা বলা রয়েছে।

সন্দেহভাজন হামলাকারী যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যে বসবাস করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। হামলার সময় তাকে গুলি করার পর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও বলেছেন, ‘এটি নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো একটি কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কাজ।’ তিনি আরো বলেন, আমরা জানি, আমাদের শক্তি ভেঙে দেওয়ার জন্য এ কাজ করা হয়েছে। কিন্তু আমরা এ-ও জানি, নিউ ইয়র্কবাসী দুর্বল নয়, নিউ ইয়র্কবাসী সংহত এবং সহিংস কাজ ও ভয় দেখিয়ে আমাদের শক্তি কখনোই বিনষ্ট করা যাবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটে বলেছেন, ‘নিউ ইয়র্ক সিটিতে সন্ত্রাসী হামলায় হতাহত ও তাদের পরিবারের প্রতি আমার চিন্তা, সমবেদনা ও প্রার্থনা রইল। ঈশ্বর ও আপনাদের দেশ আপনাদের সঙ্গে আছে।’


নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) কমিশনার জেমস ও’নিল বলেছেন, ‘এই সন্ত্রাসী হামলায় আহতদের অবস্থা গুরুতর কিন্তু তা জীবনের জন্য হুমকি নয়।’

তার হাতে আসা সবশেষ তথ্য দিয়ে ও’নিল বলেছেন, তখন কী হয়েছিল :

* স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে এ হামলা চালানো হয়। হোম ডিপোট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া সাদা রঙের পিক-আপ ট্রাক নিয়ে ওয়েস্ট সেন্ট থেকে হিউস্টন সেন্ট পর্যন্ত রাস্তার কয়েকটি ব্লকে সাইকেল চালক ও পথচারীদের ওপর দিয়ে উঠিয়ে দেন ওই সন্ত্রাসী।

* এরপর সন্ত্রাসী তার ট্রাক দিয়ে একটি স্কুলবাসে ধাক্কা দেয়। এ সময় দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই স্কুল-শিক্ষার্থী আহত হয়। স্কুলবাসে ধাক্কা দেওয়ার পর ট্রাকটি থেমে যায়।

* হামলাকারীর হাতে দুটি হ্যান্ডগান পাওয়া যায় এবং বিবৃতির মতো একটি চিরকুট পাওয়া যায়, যা সন্ত্রাসী হামলার নমুনা বহন করে।

* ঘটনাস্থলের পাশের একটি পুলিশ স্টেশনের এক কর্মকর্তা হামলাকারীর উদরে গুলি করেন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

* ঘটনাস্থল থেকে একটি পেইন্টবল বন্দুক ও পেলেট বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে।

কমিশনার বলেন, ‘হামলায় হতাহত হওয়ার আগে লোকজন অন্য আর দশটা দিনের মতোই স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছিলেন। কেউ কাজ থেকে কেউবা স্কুল থেকে ফিরছিলেন আবার কেউবা সাইকেল চালিয়ে বিকেলের সূর্যালোক উপভোগ করছিলেন।’ তিনি  আরো বলেন, এই ট্র্যাজেডি নিউ ইয়র্কের বহু মানুষ ও পরিবারের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে এবং এর প্রভাব আজকের পরেও থাকবে।

হামলার পর দুমড়ে-মুষড়ে যাওয়া সাইকেলগুলো রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এমন সময় এ হামলা হলো, যখন নিউ ইয়র্কবাসী হ্যালোইনের আচার পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

ইউজেন নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী এবিসি চ্যালেন ৭-কে বলেছেন, তিনি দেখেন স্টুইভিস্যান্ট হাইস্কুলের পাশে ওয়েস্টসাইড হাইওয়-সংলগ্ন সাইকেল চালানোর রাস্তা দিয়ে দ্রুত গতিতে একটি সাদা পিক-আপ ট্রাক আসছে এবং পুরো গতি নিয়ে লোকজনের ওপর আঘাত করে সেটি। তিনি নয় অথবা ১০ বার গুলি চালানো শব্দও শুনেছেন।

ফ্রাঙ্ক নামে আরেক প্রত্যক্ষদর্শী টিভি নেটওয়ার্ক এনওয়াই১-কে বলেন, তিনি একজন লোককে ছুটে আসতে দেখেন এবং পাঁচ-ছয়টি গুলির শব্দ শুনতে পান। তিনি বলেন, ‘আমি তার হাতে কিছু একটা দেখেছিলাম কিন্তু আমি বলতে পারব না কী ছিল সেটি। কিন্তু অন্যরা বলেছে, সেটি ছিল একটি বন্দুক।’

ফ্রাঙ্ক ঘটনার বর্ণনায় বলেন, যখন পুলিশ তাকে গুলি করল, তখন সবাই এলোপাতাড়ি ছোটাছুটি শুরু করল। তখন সেখানে গোলমালপূর্ণ অবস্থা সৃষ্টি হয়। এরপর আবার যখন আমি তাকে দেখার চেষ্টা করলাম, ততক্ষণে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এ ঘটনা নিয়ে ব্রিফ করবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আরেক টুইটে তিনি বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য স্থানে আইএস পরাজিত হওয়ার পর আমরা তাদের প্রত্যাবর্তন করতে বা আমাদের দেশে তাদের ঢুকতে দিতে পারি না। যথেষ্ট হয়েছে!’

নিউ ইয়র্ক কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বপ্রণোদিত সন্ত্রাসী এ হামলা চালায় চালিয়েছে। এর নেপথ্যে বৃহৎ কোনো সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র বা পরিকল্পনা নেই।

ঘটনাস্থল দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা। পুলিশ ও তদন্তকারীরা আলামত সংগ্রহ করছে এবং নির্ধারণ করতে চাইছে, আসলেই তখন কী ঘটেছিল।

এ ঘটনার পর অনেকে ২০০১ সালের টুইন টাওয়ারে হামলার কথা স্মরণ করে ভীত হয়ে পড়ে। তবে নিউ ইয়র্কের কর্তৃপক্ষ নগরবাসীকে অভয় দিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কে ম্যানহাটান বাংলা সাংস্কৃতিক স্কুলে বর্ণাঢ্য বই উৎসব

 প্রকাশিত: ২০১৭-১০-১০ ১৫:১৫:১১

বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিউইয়র্কে ম্যানহাটান বাংলা সাংস্কৃতিক স্কুলে বাংলা পাঠ্যপুস্তক উৎসব উদযাপিত হয়েছে। স্থানীয় সময় গত ৮ অক্টোবর রোববার অপরাহ্নে ম্যানহাটানের পিএস ১৭১ এ  আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলা স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি-রাষ্ট্রদূত ও চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এ কে আবদুল মোমেন।
ম্যানহাটান বাংলা সাংস্কৃতিক স্কুলের সিইও ইকবাল আহমেদ মাহবুবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান এবং বাংলাবাজার বিজনেস এসোসিয়েশন ও বাংলাবাজার জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ গিয়াস উদ্দিন।ম্যানহাটান বাংলা সাংস্কৃতিক স্কুলের সাংস্কৃতিক পরিচালক মনিকা রায় এবং পরিচালক প্রশাসক মো. তাজুল ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম সম্পাদক ও টিভি উপস্থাপক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক মো. শাহাদাত হোসাইন, আমেরিকান-বাংলাদেশী ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন ইনক’র সাধারণ সম্পাদক জামাল হুসেন, এবিবিএ কর্মকর্তা বিলাল চৌধুরী, ছাতক সমিতির সভাপতি মো: আবদুল খালেক, বাংলা স্কুলের সিনিয়ার শিক্ষক কবি আশরাফ হাসান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল রুখসানা রাজ্জাক খান, শিক্ষিকা রুনা লায়লা, সানজিদা খানম, স্কুলের পরিচালক মানিক আহমেদ, মো.মনির উদ্দিন, আজমান আলী, দীন ইসলাম, আবদুর রহিম সেলিমা, মো. ইসমাইল, কাওসার ভূইয়া,  সুফিয়া আলী, শিল্পী, তৌহিদুর আহম্মদ, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ইফজাল চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্কুলের শিক্ষার্থীরা অতিথিদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানায়।
             
উৎসবমুখর পরিবেশে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন স্কুলের কর্মকর্তারা। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে এসব বই গ্রহণ করে ছাত্রী-ছাত্রীরা। এসময় সৃষ্টি হয় ভিন্ন এক আমেজ। অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা ছাড়াও বিপুল সংখ্যক প্রবাসীও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এ কে আবদুল মোমেন বাংলাদেশের দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, এমন একদিন আসবে ছেলে-মেয়েরা আমেরিকায় পড়া-শুনা শেষ করে বাংলাদেশে গিয়ে কাজ করবে। তখন এ বাংলা শিক্ষাটা তাদের বড় কাজে আসবে। তিনি এসময় কমিউিিনটি ও দেশ সেবায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে বাংলাদেশীদের মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
কনসাল জেনারেল শামীম আহসান ম্যানহাটান বাংলা সাংস্কৃতিক স্কুলের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, এ প্রজন্মের সন্তানদের বাংলা শিক্ষায় উৎসাহ দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বই বিনামূল্যে বিতরণের এ উদ্যোগ নেয়া হয়। বাংলাদেশী তরুণ প্রজন্মের চিন্তা চেতনায় বাংলা ভাষা সাহিত্য সাংস্কৃতিক বিকাশ সাধনে বাংলা স্কুল নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের বাংলাভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা সহজতর হবে।
আলহাজ গিয়াস উদ্দিন এ প্রজন্মের সন্তানদের বাংলা শিক্ষায় উৎসাহ দেয়ার জন্য এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করে নিজ পরিবার থেকে সন্তানদের বাংলা শিক্ষায় উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
ম্যানহাটান বাংলা সাংস্কৃতিক স্কুলের সিইও ইকবাল আহমেদ মাহবুব প্রবাসী বাংলাদেশী এ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে ফ্রি স্কুল বই বিতরণ করার জন্য কনসাল জেনারেল ও বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্কুলের কার্যক্রম আরো এগিয়ে নিতে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিগত ২ বছর যাবত বাঙালী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ফ্রি স্কুল বই বিতরণ করা হচ্ছে। এতে তার স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা দারুণভাবে উপকৃত হচ্ছে। উৎসবকে সাফল্যমন্ডিত করে তোলার জন্য সংগঠনের সকল সদস্য, শুভানুধ্যায়ী ও সহযোগীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইকবাল আহমেদ মাহবুব।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বক্তা এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রবাসে জন্ম নেয়া ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিশু কিশোরদের জন্য এর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। ম্যানহাটানে বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দেওয়ার যে প্রয়াস নেয়া হয়েছে তা মাইল ফলক হয়ে থাকবে। তারা বলেন, প্রবাসে শিশুদের বাংলা শেখানোর কাজ অনেকের কাছে কঠিন মনে হলেও আসলে এটা মোটেও কঠিন নয়। এজন্য অভিভাবকদের উদ্যোগী হতে হবে। ঘরে ঘরে নিজ সন্তানদের সাথে সব সময় বাংলায় কথা বলার চর্চা রাখতে হবে। প্রবাসে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাভাষা ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরা সকল অভিভাবকেরই কর্তব্য বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশ বৌদ্ধ বিহার অব নিউইয়র্কে কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত

 প্রকাশিত: ২০১৭-১০-১০ ১৫:০০:০৪

আমেরিকার বাংলাদেশ বৌদ্ধ বিহার অব নিউইয়র্কে ৮ অক্টোবর ২০১৭ ইং'রবিবারে উদ্‌যাপিত হয়েছে দানশ্রেঠ কঠিন চীবর দান। সারাদিন ব্যাপী পূণ্যানুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বিহার অধ্যক্ষ ভদন্ত মুদিতারত্ন থের সঞ্চালনায় বিশ্ব সুখ-শান্তি কামনায় সমবেত সূত্রপাঠ, বুদ্ধ পূজা,বুদ্ধ মূর্তি উৎসর্গ,সদ্ধর্মদেশনা,অষ্টপরিস্কারসহ সংঘদান,ভিক্ষুসংঘকে পিন্ডদান ও নানাবিধ ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হয়।
দ্বিতীয় পর্বে উপস্থিত সবার মধ্যাহ্নভোজের পর উত্তম বড়ুয়ার সঞ্চালনায় মহান এই ধর্মানুষ্ঠানে মৈত্রী ভাবনা পাঠ করেন সপ্তবর্না বড়ুয়া ও সুদিপ্তা বড়ুয়া।উদ্ভোধনী ভাষন দেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ বিহার অব নিউইয়র্কের সভাপতি বাবু নয়ন বড়ুয়া।স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক বাবু অমল বড়ুয়া।নিউইর্য়ক সাধনানন্দ আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত জ্ঞানরত্ন মহাথেরো'র সভাপতিত্বে শ্রীলংকান বৌদ্ধ বিহারের ভদন্ত কৌন্ডন্যয় মহাথেরো সদ্ধর্মদেশনা প্রদান করেন।এতে আরো সদ্ধর্মদেশনা করেন বুদ্ধিস্ট কাউন্সিল অব নিউইয়র্কে সভাপতি বৌদ্ধ ভিক্ষু ড.কেনজিৎসু নাকাগাকি,ভদন্ত নন্দা থেরো,বিহার অধ্যক্ষ ভদন্ত মুদিতারত্ন সহ পূজনীয় প্রাজ্ঞ ভিক্ষুসংঘ ।পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন মিলন বড়ুয়া।

চীবর পরিক্রমা করে কঠিন চীবর উৎসর্গ শেষে বিহারের সাধারণ সম্পাদক রাখাল বড়ুয়া সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।সন্ধ্যায় ভক্তিমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে বিহারের অষ্টম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে কেক কেটে ফানুস উত্তোলন করা হয়।উক্ত পূণ্যানুষ্ঠানে ধর্মপিপাসু দুই শতাধিক উপাসক-উপাসিকা উপস্থিত ছিলেন।

এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কে সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. মোমেনকে সংবর্ধনা

 প্রকাশিত: ২০১৭-১০-০৮ ০০:৪৫:২৪

জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. একে আব্দুল মোমেনকে নিউইয়র্কে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের বেলিজিনো পার্টি হলে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উক্ত সংবর্ধনা দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সহসভাপতি সৈয়দ বশারত আলী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংবর্ধনা কমিটির সদস্য সচিব হুমায়ুন আহমেদ চৌধুরী ও যুগ্ম সদস্য সচিব ইফজাল আহমেদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আলেয়া সারোয়ার ডেইজী, বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকা’র সাবেক সভাপতি ও ড. মোমেনের বড় ভাই শেলী এ মুবদী, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ট্রাষ্ট্রি সদস্য জহিরুল ইসলাম, ফার্মাসিস্ট আব্দুল আওয়াল সিদ্দিকী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ডা. মাসুদুল হাসান, সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, এম এ জলিল ও তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, সহ সভাপতি আবুল কাশেম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আবদুস সামাদ আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক মিসবাহ আহমেদ, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ফরিদ আলম, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যুক্তরাষ্ট্র কমান্ডের কমান্ডার ডা. এম এ বাতেন, মুক্তিযোদ্ধা সরাফ সরকার, দি অপটিমিস্ট-এর প্রধান সমন্বয়কারী রানা চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী আব্দুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র জাসদ-এর (একাংশ) সভাপতি দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী, নিউইয়র্ক ষ্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল, কানেকটিকাট আওয়ামী লীগের সভাপতি জুনেদ এ খান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফকু চৌধুরী, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ছদরুন নূর ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা খসরুজ্জামান খসরু।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন ডাউন টাউন ম্যানহাটান মসজিদের খতিব মওলানা কারী মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ। এরপর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পর প্রজেক্টটরে ড. মোমেনকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের অংশ বিশেষ ও কর্মকান্ড তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা রানা ফেরদৌস চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, সংবর্ধনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ কফিল আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক রেজাউল করীম চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আহসান হাবিব, মূলধারার রাজনীতিক আব্দুস শহীদ, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট শাহ মিজানুর রহমান, নাসির উদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবীর, এএফ মিসবাহউজ্জামান, কবি সোনিয়া কাদের, বাংলাদেশ সোসাইটি নিউইয়র্ক’র সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মনিকা রায়, ওসমানী স্মৃতি পরিষদের সভাপতি নজমুল ইসলাম চৌধুরী, নিউইয়র্ক ষ্টেট আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এম এইচ মতিন, নিউজার্সী আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এমাদ উদ্দিন, জাভেদ সিরাজ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শেখ জামাল হোসেন, সেবুল মিয়া ও রহিমুজ্জামান সুমন, যুবলীগ নেতা শোয়েব আহমেদ, জর্জিয়া যুবলীগের সভাপতি নূরুল তালুকদার নাহিদ প্রমুখ।

সংবর্ধিত ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধির হিসেবে ৬ বছর কাজ করার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন এবং কিছু দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি সেই দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সরকারের অর্থমন্ত্রীর সহযোগিতায় সিলেটের উন্নয়নে কিছু কাজ করে চলেছি।

ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে। এই বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে আমি জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হই বা না হই, সিলেটের জন্য কাজ করে যাবো। আমি সিলেটকে দৃষ্টি নন্দন সিলেট আর উন্নত বাংলাদেশ দেখতে চাই। এজন্য দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, মানব সম্পদ কাজে লাগাতে হবে, সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে হবে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রবাস জীবন ছেড়ে দুই বছর ধরে আমি বাংলাদেশে বসবাস করছি। আমি ভালো আছি, শান্তিতে আছি, উই আর ভেরী হ্যাপি। আগামী দিনের পথ চলায় তিনি সকল প্রবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীসহ ড. মোমেনের বড় ভাই শেলী এ মুবদী, মেঝো ভাই এস এ মুইজ সুজন, ছোট ভাই এবিএম মুমিত ফুয়াদ ও কন্যাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কে হত্যার দায়ে বাংলাদেশি যুবকের ২৫ বছরের কারাদণ্ড

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৯-৩০ ১৮:০৩:৫৩

নিউইয়র্কে হত্যার দায়ে এক বাংলাদেশি যুবককে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। হত্যা কাণ্ডের শিকার ঐ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর নাম মহিউদ্দিন মাহমুদ দুলালকে (৫৭)। তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।   গত বৃহস্পতিবার ব্রুকলীন সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নীল ফিরেটোগ এ রায় প্রদান করেন। এসময় আসামি মোহাম্মদ রাসেল সিদ্দিকীকে (৩০) আদালতে উপস্থিত ছিল।
রাসেল আদালতকে জানায়, গ্রেপ্তারের পর থেকে বিচারের শেষদিন পর্যন্ত রাসেল নিজের দোষ স্বীকার করে। এমন নৃশংসতায় দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিল না বলেও সে উল্লেখ করে।

রায়ের পর ব্রুকলীনের ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী (ভারপ্রাপ্ত) এরিক গঞ্জালেজ গণমাধ্যমকে জানান, রাসেল কান্ডজ্ঞানহীন কাজ করেছে। কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষে রাসেলকে আরো ৫ বছর কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারিতে থাকতে হবে।

মামলার রায়ের সময় দুলালের শিশু সন্তানসহ দ্বিতীয় স্ত্রী আফরোজা বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

রাসেল বরাবরই আদালতে একই কথা জানিয়েছিল, সময় মতো ভাড়া পরিশোধ করতে পারিনি বলে সব সময় দুলাল আমাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতেন। এটি সহ্য হয়নি। সেজন্যেই তাকে আমি হত্যা করেছি।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাংলাদেশি অধ্যুষিত ব্রুকলীনের চার্চ-ম্যাকডোনাল্ডে ধারালো তলোয়ার দিয়ে দুলালকে হত্যা করা হয়। সন্দ্বীপের সন্তান দুলালের ভাড়াটে ছিল রাসেল। রাসেলের বাড়ি নোয়াখালী। সে দুলালের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বেসমেন্টে থাকত। সেখানেই দুলালকে হত্যা করে রাসেল বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে ঘটনার দুইদিন পর নিউইয়র্ক পুলিশ তাকে জেএফকে এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেপ্তার করে।

এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত