যুক্তরাষ্ট্রে আজ রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 11:46pm

|   লন্ডন - 06:46pm

|   নিউইয়র্ক - 01:46pm

  সর্বশেষ :

  মঙ্গলবার চীনে উদ্বোধন হচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সেতু   ওয়াশিংটনে শেখ রাসেলের জন্মদিন পালিত   ঢাকায় সরকারি চাকরিতে বয়স বৃদ্ধির দাবির সমাবেশে পুলিশের লাঠিচার্জ   এরদোগানকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে যাচ্ছেন সালমান?   মানুষ ভোট দিলে আবার আসবো না দিলে আফসোস নেই : প্রধানমন্ত্রী   কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ১৫   মায়ের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত আইয়ুব বাচ্চু   বেলজিয়ামে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশি শায়লা   দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে ৫ বাংলাদেশির মৃত্যু   প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক, অন্তর্দ্বন্দ্বে নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ আদালতের   তুরস্কে চলছে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট কুরআন প্রদর্শনী   যেসব খাবারের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে   মেসিকে ছাড়াই কোপার পরিকল্পনা আর্জেন্টিনার!   বিন সালমানের অপসারণ চাইলেন সৌদির ওলামা পরিষদ   ‘যত বার ওর অফিসে গিয়েছি, তত বারই চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেছেন’

>>  নিউইয়র্ক এর সকল সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র উদীচী’র ২০ বছর পূর্তি ও হেমন্ত উৎসব ২০-২১ অক্টোবর

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সুবর্ণ-জয়ন্তী পালন এবং যুক্তরাষ্ট্র উদীচী’র ২০ বছর পূর্তি, দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ও হেমন্ত উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী ২০-২১ অক্টোবর দুদিন ব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে থাকবে নানা আয়োজন। জ্যাকসন হাইটসের উদীচী স্কুলে গত ৩০ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে উদীচির  নেতৃবৃন্দ এসব কথা জানান।
যুক্তরাষ্ট্র উদীচী’র সভাপতি ড. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ’র সভাপতিত্বে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জীবন বিশ্বাস। এসময় সংগঠনের অন্যান্য কর্তকর্তাদের মধ্যে সহ

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কে বিয়ের গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২০

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-০৭ ১৪:৩৫:১৮

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে দুটি গাড়ির সংঘর্ষে ২০ জন মারা গেছেন। রোববার পুলিশের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, শনিবার দুপুর দুইটার দিকে স্কোহায়ারের অ্যাপল ব্যারেল কান্ট্রি স্টোরের সামনে একটি বরযাত্রীবাহী লিমোজিনের(চারদিক ঢাকা মোটরগাড়ি যাতে সামনের বা ড্রাইভারের সিট পার্টিশন দিয়ে আলাদা করা থাকে) সঙ্গে আরেকটি গাড়ির সংঘর্ষের ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্টোরটির ম্যানেজার জেসিকা কিরবি এক ফোন সাক্ষাৎকারে বলেন, রুট ৩০এর গাড়ি পার্ক করার স্থানে থাকা অনেক লোক নিহত হয় লিমোজিনটির ধাক্কায়। গাড়িটি মনে হয় ৬০ মাইল বেগে চলছিল। আমি যা দেখেছি, তা বলতে চাই না। দৃশ্যটি ছিল কল্পনাতীত।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস’র(এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের ১৮ জন লিমোজিনের যাত্রী ও দুজন পথচারী।

পুলিশ জানায়, স্টেট রুট ৩০ এবং স্টেট রুট ৩০এ’র সংযোগস্থলে এই দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সাড়া দেয় নিউইয়র্ক পুলিশ এবং স্কোহায়ার কাউন্টি শেরিফ’র(কাউন্টির শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা) দপ্তর।

একটি বিবৃতিতে নিউইয়র্ক পুলিশ জানায়, নিহতদের নাম এই মুহূর্তে প্রকাশ করা যাচ্ছে না। কারণ এখনও অনেককে শনাক্ত করা যায়নি।

ঘটনাটি তদন্ত করতে একটি টিম পাঠিয়েছে জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড।

এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

আমরা দিল্লী মুক্ত বাংলাদেশ চাই : নিউইয়র্কে মতবিনিময়ে যুক্তরাজ্য বিএনপি সভাপতি

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-০৬ ১৪:৪৩:৪০

যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সভাপতি এম এ মালিক ভোটার বিহীন নির্বাচনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ক্ষতা ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ করে বলেছেন, আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। আমরা দিল্লী মুক্ত বাংলাদেশ চাই। তিনি বলেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে অবশ্যই বিএনপি জয়লাভ করবে। আর নির্বাচনের আগেই তারেক রহমান বীরের বেশে বাংলাদেশ ফিরে যাবেন। তার সাথে আমরাও দেশে যাবো, দেখবো আওয়ামী লীগ সরকার কয়জনকে আটক করে জেলে পুরেন। তিনি বলেন, ৭১-এ প্রবাসীরা বাংলাদেশের আন্দোলন করে জয়ী হয়েছেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করেছেন। প্রবাসীদের আন্দোলন সংগ্রাম অতীতের যেমন বৃথা যায়নি, ভবিষ্যতেও বৃথা যাবে না। তাই আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে।

বিএনপি নেতা এম এ মালিকের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রস্থ দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জবাসীদের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় সিটির জ্যাকসন হাইটসের মেজবান রেষ্টুরেন্টের পার্টি হলে এই সভার আয়োজন করা হয়। শরীফ আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন  যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সহ সভাপতি আলহাজ সোলায়মান ভূঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, বিএনপি নেতা শরীফ আহমেদ লস্কর, বাসেত রহমান, এবাদ চৌধুরী ও সিলেট বিভাগ উনয়ন পরিষদের সভাপতি চৌধুরী সালেহ।

বিশিষ্ট রাজনীতিক ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আহবাব চৌধুরী খোকনের সঞ্চালনায় সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ শাহবাজ হোসেন। সভায় আমন্ত্রিত অথিথিবৃন্দ ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আমানত হোসেন আমান, সৈয়দ এনাম আহমেদ, জুবের আহমেদ, শাহ কামাল আহমেদ, সেবুল খান মাহবুব, রশিদা আহমেদ মুনা, তাহমিনা আক্তার প্রমুখ।

সভায় এম এ মালিক আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যায়-অবিচার, দূর্নীতি, জুলুম-নির্যাতন, গুম-খুন, হামলা-মামলায় আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাই দেশ ও প্রবাসের জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যর কোন বিকল্প নেই। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-কে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উল্লেখ করে বলে, তিনি আদর্শের রাজনীতি করে আধুনিক বাংলাদেশ গড়েছেন। তার আদর্শের সৈনিক আমরা। জিয়ার আদর্শ সামনে রেখে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে।

এম এ মালিক বলেন, আধুনিক সিলেটের রূপকার হচ্ছেন মরহুম অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। সেই সিলেট আজ বড়– অবহেলিত। বিএনপি ক্ষতায় আসলে সবাই মিলে সিলেটকে নতুন করে গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, আশা করছি সিলেট-৩ আসন (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জের একাংশ) থেকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবো। এই আসন কোন অবস্থাতেই ছেড়ে দেয়া হবে না। আর যদি দলের মনোনয়ন না পাই, তারপরও এই এলাকার জন্য কাজ করে দেখিয়ে দেবো উন্নয়ন কাহাকে বলে।

সভায় অন্যান্য বক্তা আগামী জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-৩ আসন থেকে এম এ মালিক-কে মনোনয়ন দেয়ার জন্য বিএনপি’র প্রতি আহ্বান এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি দেয়ার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অনুরোধ করার দাবী জানিয়ে বলেন, তিনি (তারেক রহমান) যাকেই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র দায়িত্ব দেবেন তার নেতৃত্বেই আমরা কাজ করবো। বক্তারা প্রশ্ন রেখে বলেন, সব জায়গায় কমিটি থাকলে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি হবে না কেন? কমিটি না থাকলে প্রবাসের দলীয় নেতা-কর্মীরা উৎসাহ-উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলবেন বলেও তারা মন্তব্য করেন। 

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘ সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ঘোষিত ‘যেখানে হাসিনা, সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচীতে অংশ নিতে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সভাপতি এম এ মালিক নিউইয়র্ক আসেন এবং জাতিসংঘ ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত দলীয় কর্মসূচীতে অংশ নেন। 


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কে হুমায়ূন মেলা ৭-৮ অক্টোবর

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-০৬ ১৪:৪০:২৯

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে নিউইয়র্কে দুদিনব্যাপী হুমায়ূন মেলা হচ্ছে আগামী ৭-৮ অক্টোবর যথাক্রমে রোববার ও সোমবার। শো-টাইম মিউজিকের আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মতো এ মেলার উদ্বোধন করবেন মরহুম হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী, অভিনয় ও সঙ্গীত শিল্পী মেহের আফরোজ শাওন। ‘হুমায়ুন মেলা’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মেলার প্রস্তুতি সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এছাড়াও আগামী বছর থেকে নিউইয়র্কে ‘হুমায়ুন মেলা’ নয় ‘হুমায়ুন সম্মেলন’ আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়।

নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে গত বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আয়োজিত এ সাংবাদিক সম্মেলনে মেলার আয়োজক ও শো-টাইম মিউজিকের কর্ণধার আলমগীর খান আলম ছাড়াও মেহের আফরোজ শাওন, জেবিবিএ’র সভাপতি শাহ নেওয়াজ, আজকাল-এর প্রধান সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ জিকো ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হারুন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে আলমগীর খান আলম বলেন, ৭ ও ৮ অক্টোবর রোববার ও সোমবার নিউইয়র্কের উডসাইডে কুইন্স প্যালেসে এবারের ‘হুমায়ুন মেলা’ অনুষ্ঠিত হবে। মেলা চলবে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। এতে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা ছাড়াও কথাসাহিত্যিক জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, পূরবী বসু, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমান, প্রকাশক ওসমান গণি অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। মেলায় হুমায়ূন আহমেদের বইসহ বিভিন্ন পণ্যের স্টল থাকবে। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন শিল্পী মেহের আফরোজ শাওন, এসআই টুটুল ও সায়েরা রেজা সহ প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী কৃষ্ণা তিথি, চন্দন চৌধুরী,  শাহ মাহবুব, কামরুজ্জামান বকুল, রানো নেওয়াজ, সেলিম ইব্রাহীম প্রমুখ।
সাংবাদিক সম্মেলনে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্য ছাড়াও টিভি ও চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন। বাংলাদেশের দর্শকদের বই, নাটক, সিনেমা মুখী করেছেন। তিনি দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনকে অনেক কিছু দিয়ে গেছেন। আমাদের এখন দায়িত্ব হুমায়ূন আহমেদকে দেয়ার পালা।

শাওন বলেন, মানুষের জীবনে জন্ম ও মৃত্যু দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই হিসেবে এই নিউইয়র্ক হুমায়ূন আহমেদের জীবনে উল্লেখযোগ্য স্থান। নিউইয়র্ক ঘিরে হুমায়ুন আহমেদের অনেক স্মৃতি। জীবনের শেষ দিনগুলো তিনি নিউইয়র্কে কাটিয়েছেন। নিউইয়র্ক শহরে যারা ‘হুমায়ূন মেলা’র আয়োজন করছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এবার ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত নজরুল সম্মেলনের অনুষ্ঠান দেখলাম। আশা করি আগামীতে নিউইয়র্কে হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে শুধু মেলা নয়, ‘হুমায়ূন আহমেদ’ সম্মেলন হবে। তাঁকে আমরা মেলায় সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। সবাইকে নিয়ে আরো বড় পরিসরে হুমায়ূন মেলাকে ‘হুমায়ূন সম্মেলন’ করা হবে। এ ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতার জন্য তিনি প্রবাসের সকল স্পন্সর, মিডিয়া এবং শো টাইম মিউজিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠিত

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-০৫ ১৫:৪৫:৪৪

উত্তর আমেরিকা অফিস: ‘বাংলাদেশ যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তার জন্য শেখ হাসিনাকেই কৃতিত্ব দিতে হয়।’ ‘তিনিই বাংলাদেশের জননী, আবার তিনিই বাংলার কন্যা।’ ‘বাংলাদেশের জন্য আরো অন্তত পনের বছর শেখ হাসিনার নেতৃত্ব দরকার।’ মুক্তধারা, নিউইয়র্কের আয়োজনে রাজনীতি বিশ্লেষক সুভাষ সিংহ রায়ের লেখা ও অনন্যা প্রকাশনী প্রকাশিত শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসস্থ ইত্যাদি পার্টি হলের দোতলায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশের সংবাদভিত্তিক চ্যানেল একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হোসেন বাবু,বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত,একাত্তর টিভির  সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম। গ্রন্থটির লেখক সুভাষ সিংহ রায় এবং মুক্তধারা নিউ ইয়র্কের কর্ণধার বিশ্বজিত সাহাও বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফাহিম রেজা নূর।
সুভাষ সিংহ রায়কে ধন্যবাদ জানিয়ে ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু বলেন, ‘সুভাষ সিংহ রায় পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনেকগুলো দলিল একত্র করেছেন।’ বক্তৃতায় শেখ হাসিনাকে তিনি বাংলার মুখ বলে অভিহিত করেন। বইটির নামকরণের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, ‘সুভাষ যে কথাটি বোঝাতে চেয়েছেন বইটির মধ্য দিয়ে তা এই নামকরণে ঠিক ভাবে আসেনি। বইটির নামকরণ হওয়া উচিত ছিল ‘বাংলাদেশের শেখ হাসিনাকে ফিরে পাওয়া।’ প্রসঙ্গটি ব্যখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা না এলে বাংলাদেশ ভেন্টিলেশনে থাকে। জিডিপি কম থাকে। তিনিই বাংলাদেশের ডিফল্ট নেতা। তিনিই বাংলাদেশের জননী, আবার তিনিই বাংলার কন্যা। বাংলাদেশের ভবিষ্যতের রাজনীতিবিদরা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে একত্রে সামনে রেখেই রাজনীতি করবে। আরো পনের বছর বাংলাদেশের তাঁকে প্রয়োজন। তিনি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে সবচেয়ে ওয়াকিবহাল। সে কারণে তাঁকে আমি কখনো জ্ঞান দিতে যাই না। কারণ কে কী করছেন তার খোঁজ তিনি রাখেন। তাঁর বাংলাদেশ সম্পর্কে তাঁর কাছেই আছে সবচেয়ে বেশি তথ্য। তাঁর হাতেই বাংলাদেশ নিরাপদ। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা তাঁর হতেই তৈরি হবে। তিনিই হবেন বাংলাদেশের জাতীয় ঐকমত্যের মধ্যমণি।  

শ্যামল দত্ত তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতার সূত্র উল্লেখ করে বলেন, বড় ল্যান্ডস্কেপে যদি দেখা হয় তাতে আজকের বাংলাদেশ যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেখানে যদি এক পক্ষকেই বেছে নিতে হয় তাহলে শেখ হাসিনাকেই বেছে নিতে হবে আমাদের। জাতিসংঘের অধিবেশনে আমরা দেখলাম শেখ হাসিনা যখন প্রবেশ করছেন তখন সভাকক্ষে যেন একটা চঞ্চলতার সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য নেতৃবৃন্দকেও তো আমরা দেখলাম, কই তাঁদের কাউকে নিয়ে তো চাঞ্চল্য সৃষ্টি হচ্ছে না। অর্থাৎ তিনি বিশ্বে এতটাই গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছেন।’ তিনি সুভাষ সিংহ রায়ের ‘শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ বইটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার দুটি প্রত্যাবর্তনের কথা এই বইয়ে বলা হয়েছে।  দুটি প্রত্যাবর্তনই মে মাসে। একটি ৭ই মে, অন্যটি ১৭ই মে। আমি এই দুটো প্রত্যাবর্তনেরই সাক্ষী। প্রথম প্রত্যাবর্তনের সময় এয়ারপোর্টের রানওয়েতে মানুষ চলে আসায় বিমান নামতে পারছিল না। তিনি যেদিন ফিরলেন সেদিন প্রবল বৃষ্টি হয়েছিল। মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ কাঁদছে! বাংলাদেশের রাজনীতি সংশ্লিষ্ট অনেক মানুষের চরিত্র এই বইয়ে উন্মোচিত হয়েছে। এ ধরনের রাজনৈতিক বিশ্লেষণাত্মক বই খুব দরকার।’  ১৯৮৮ সালের ২৪শে জানুয়ারি চট্টগ্রামের গণহত্যার স্মৃতি উল্লেখ করে শ্যামল দত্ত বলেন, ‘সেই ঘটনাটি বেশি আলোচিত হয় না। সেদিন তাঁকে লক্ষ করেই গুলি ছোড়া হয়েছিল। সেখানে কাসেম নামে শ্রমিক লীগের এক কর্মী নেত্রীকে আগলে রেখে নিজে মারা যায়, একই জায়গায় পাথরঘাটার স্বপন নামে একটি ছেলে বুকে গুলি নিয়ে নেত্রীকে রক্ষা করেছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘পশ্চিমা ধাঁচের রাজনীতির বিবেচনা দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিকে দেখলে চলবে না। বাংলাদেশের রাজনীতি অনেক ক্রুয়েল। এর মধ্যেই শেখ হাসিনাকে রাজনীতি করতে হয়। তাঁকেই তাই সমর্থন করতে হয় আমাদের। বাংলাদেশ যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তার জন্য শেখ হাসিনাকেই কৃতিত্ব দিতে হয়। বাংলাদেশেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য জন্য শেখ হাসিনাকেই দরকার।’
বইটি নিয়ে আলোচনার সূত্রে একাত্তর টিভির সাংবাদিক ফারজানা রূপা বলেন, ‘বইটা পুরো পড়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে বুঝতে পেরেছি বইটার মধ্যে এমন অনেক দলিল আছে যা সাংবাদিকদের বার বার কাজে লাগবে। আমরা একাত্তর দেখিনি, পঁচাত্তর দেখিনি। কিন্তু ২০০১ বা ২০০২, ২০০৬ বা ২০০৭-এর রাজনৈতিক ঘটনাবলি সাংবাদিকতা করতে গিয়ে কাছে থেকে দেখেছি। শেখ হাসিনার মধ্যে রয়েছে নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে কর্মের যোগ।’ তিনি আরো বলেন, ‘কারো মায়ার টানে না, কারো সঙ্গে স্বার্থ সংশ্লিষ্টতার কারণে না, একেবারে দেশের জন্য কাকে দরকার সেই দিক থেকেই মনে হয়েছে বাংলাদেশের জন্যই শেখ হাসিনার নেতৃত্ব দরকার।’ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের রিপোর্ট কভার করতে এসে ফারজানা রূপা তাঁর উপলব্ধির কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশের নেতা নন। তিনি বিশ্ব নেতার স্বীকৃতি পেয়েছেন।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘যে কোনো ষড়যন্ত্রের খবর গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে আগাম প্রকাশ করা আমাদের দায়িত্ব।’
শেখ হাসিনার জন্মদিনের কথা স্মরণ করে ও তাঁকে শুভকামনা জানিয়ে সুভাষ সিংহ রায় বলেন, বইটিতে তিনি এমন অনেক প্রামাণ্য দলিল উপস্থাপন করেছেন যাতে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের ঘটনাবলির পর তৎকালীন সরকারের বঙ্গবন্ধু বিরোধিতায় নিয়োজিত অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম আছে যাঁদের অনেকেই এখন বঙ্গবন্ধু প্রেমিক।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম বলেন, ‘জাতিসংঘ থেকে তাঁকে আজ শেখ হাসিনাকে লীডার অব হোপ বা লীডার অব পীস’ নামে অভিহিত করছে। আমরা বাঙালিরা এই গৌরববোধের অংশীদার।’


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা পত্রিকা-টাইম টেলিভিশনের বর্ষপূর্তি উদযাপন

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-০১ ১৪:১২:১০

নিউইয়র্কের বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা ও টাইম টেলিভিশন-এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী আর মূলধারার জনপ্রতিনিধিদের ফুলেল শুভেচ্ছায় রঙীন হয়ে উঠে ‘বাংলা পত্রিকা-টাইম টেলিভিশন’ হাউজ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলা পত্রিকা ও টাইম টেলিভিশন-এর সাফল্য কামনা করে মিডিয়া দু’টির আগ্রযাত্রা এবং কমিউনিটি সেবা সহ মূলধারায় বাংলাদেশীদের মধ্যকার সেতুবন্ধনকে আরো জোরদার করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সেই সাথে তারা প্রতিষ্ঠান দুটির এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরো সহযোগিতার আশ্বাস দেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানটির বার্তা কক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মিডিয়া দু’টির বর্ষপূর্তীর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা নানা পেশার মানুষের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে বাংলা পত্রিকা ও টাইম টেলিভিশন প্রাঙ্গণ। রাত ৯টার দিকে যৌথভাবে কেক কেটে বর্ষপূর্তী অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য সেলিম উদ্দিন এবং বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশন-এর সিইও আবু তাহের। এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠান দুটির প্রধান আবু তাহের। এসময় যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিবীদদের পাশাপাশি সর্বস্তরের কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্যে আবু তাহের বলেন, বাংলা পত্রিকা আর টাইম টেলিভিশন তার অগ্রযাত্রায় কোন অনৈতিক বাধার কাছে কখনো আতœসমর্পন করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। বিস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে মিডিয়া দুটি’র যাত্রা অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূলধারার সাথে কমিউনিটির সেতু বন্ধন রচনায় মিডিয়া দুটি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে। মিডিয়া দুটি প্রকাশ ও প্রচারে পৃষ্ঠােপষক  ও বিজ্ঞাপনদাতা সহ কমিউনিটির সংশ্লিষ্টদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
সেলিম উদ্দিন এমপি বলেন, আমি নিজেও একজন প্রবাসী ছিলাম। তাই প্রবাসীদের সুখ-দু:খ ভালো করেই জানি। বাংলা পত্রিকা ও টাইম টেলিভিশন প্রবাসীদের সেবায় দীর্ঘ ২২ ও ৪ বছর ধরে যে আবদান রেখ চলেছে এজন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমি বিশ্বাস করি যে, প্রতিষ্ঠান দুটি শুধু প্রবাসীদের সেবা নয় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে আরো ভূমিকা রাখবে। তিনি মিডিয়া দুটির উত্তোরত্তর সাফল্য কামনা করেন।
এছাড়াও অন্যান্য অথিথি তাদের বক্তব্যে তাদের অন্তরের অন্তস্থল থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মিডিয়া দুটির উত্তোরত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং সকল সময়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। 
এদিকে বাংলা পত্রিকা টাইম টেলিভিশন-এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ সঙ্গীত অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। ১৯৯৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলা পত্রিকা আর ২০১৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর টাইম টেলিভিশন যাত্রা শুরু করে। সেই হিসেবে বাংলা পত্রিকা ২৩ বর্ষে আর টাইম টেলিভিশন ৫ বর্ষে পদার্পণ করলো।
মিডিয়া দুটি’র বর্ষপূর্তী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মিডিয়ার সম্পাদকদের মধ্যে শুভেচ্ছা জানান সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক আজকাল-এর সম্পাদক মনজুর আহমদ, সিনিয়র সাংবাদিক মঈনুদ্দীন নাসের, জাস্ট নিউজ বিডি সম্পাদক মুশফিকুল ফজল আনসারী, সাপ্তাহিক দেশবাংলা ও বাংলা টাইমস সম্পাদক ডা. চৌধুরী সারোয়ারুল হাসান, সাপ্তাহিক বর্ণমালা’র প্রধান সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, প্রথম আলো’র (উত্তর আমেরিকা) আবাসিক সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক তাসের মাহমুদ, সাপ্তাহিক প্রবাস সম্পাদক সোহাম্মদ সাঈদ, সাপ্তাহিক দেশকন্ঠ সম্পাদক দর্পণ কবীর, সাপ্তাহিক রানার সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুকুর আলী, সাপ্তাহিক জনতার কন্ঠ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, বাংলার খবর.নেট-এর সম্পাদক শওকত ওসমান রচি, ঢাকা থেকে আগত একাত্তুর টিভির সিনিয়র রিপোর্টর শামীমা দোলা ও গাজী টিভি’র বিশেষ প্রতিনিধি সাজু রহমান, সাংবাদিক সোহেল মাহমুদ, সাংবাদিক শামীম আল আমীন, ইয়র্ক বাংলা সম্পাদক রশীদ আহমদ। মূলধারার জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির সাবেক কম্পট্রোলার ও আগামী ষ্টেট সিনেটের প্রাইমারীতে বিজয়ী জন ল্যু, অপর ষ্টেট সিনেটর প্রাইমারীতে বিজয়ী রবার্ট চ্যাকসন, সিটি কাউন্সিলম্যান কস্টা ডি কনসটাডিস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বিশিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে শুভেচ্ছা জানান বিশিষ্ট অভিনেত্রী রেখা আহমদ, বাংলাদেশের জনপ্রিয় নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতী খিলখিল কাজী, সঙ্গীত শিল্পী সালাউদ্দিন আহমেদ, এটর্নী ব্রুশ ফিসার। এছাড়াও কমিউনিটির উল্লেখ্যযোগ্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে শুভেচ্ছা জানান সোনালী এক্সচেঞ্জ ইনক’র ভাপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ও সিইও জহিরুল ইসলাম, প্রবীণ প্রবাসী নাসির আলী খান পল, এটর্নী মঈন চৌধুরী, মূলধারার রাজনীতিক আব্দুস শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা ও কলামিস্ট আবু জাফর মাহমুদ, অধ্যাপক নুবেন্দ দত্ত, কমিউনিটি বোর্ডের ভাইস চেয়ার এন মজুমদার, বাফা সভাপতি ফরিদা ইয়াসমীন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নার্গিস রহমান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রানা ফেরদৌস চৌধুরী, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র সভাপতি বদরুল হোসেন খান, বিশিষ্ট মর্টগেজ ব্যাংকার জন ফাহিম, বিশিষ্ট ফার্মাসিস্ট মোস্তাক আহমেদ, সাবেক ছাত্রনেতা শাহাবউদ্দীন, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট এডভোকেট মজিবুর রহমান, জামান তপন, বাগ-এর সেক্রেটারী জয়নাল আবেদীন ও পরিচালক মিজবা মোহাম্মদ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সামসুদ্দীন আজাদ, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সহ সভাপতি সামসুল ইসলাম মজনু, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির সভাপতি হাজী আব্দুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, জেবিবিএ’র সভাপতি শাহ নেওয়াজ, ফোবানার সাবেক কনভেনর বেদারুল ইসলাম বাবলা, সিপিএ ইয়াকুব এ খান, লীগ অব আমেরিকার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের চৌধুরী শাহীন, মৌলভীবাজার ডিষ্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি হাজী ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, ক্রিসেন্ট ইন্স্যুরেন্স-এর স্বত্তাধিকারী কবীর চৌধুরী, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী মইনুল ইসলাম, কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, বৃহত্তর, নোয়াখালী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মিন্টু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিলাল আহমেদ চৌধুরী, রিপন মিয়া, মামুন টিউটোরিয়াল-এর প্রিন্সিপ্যাল শেখ আল মামুন, খলিল বিরিয়ানীর স্বত্তাধিকারী খলিলুর রহমান, এশিয়া ড্রাইভিং স্কুলের স্বত্তাধিকারী সিদ্দিক আর লিংকন, মার্ক হোমস কেয়ারের কামাল হোসেন ও মি. জিমি, টিডিএস ইন্স্যুরেন্স-এর পরিচালক মামুন আহমেদ, যুবদল নেতা আতিকুল হক আহাদ, যুবলীগ নেতা ইফজাল আহমেদ চৌধুরী, ফ্যাশন ডিজাইনার রুনী, বিশিষ্ট মেকআপ মৃধা মোহাম্মদ আর্টিস জসিম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট রোকসানা মজুমদার, মোহাম্মদ তুষার, হোসনে আরা, ভায়েলা সালিনা, লিউনারা ম্যান্ডেজ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে আরো শুভেচ্ছা জানান, বাংলাদেশ সোসাইটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার এসএম জামাল ইউ আহমেদ, নির্বাচন কমিশনার এ হাকিম মিয়া, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, কাওসারুজ্জামান কয়েস, খোকন মোশাররফ ছাড়াও আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘রব-রুহুল’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী আব্দুর রব মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রুহুল আমীন সিদ্দিকীর নেতৃত্বে প্যালের পক্ষে শুভেচ্ছা জানান আব্দুর রব মিয়া। অপরদিকে ‘নয়ন-আলী’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী কাজী আশরাফ নয়ন, সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুর রহীম হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এসময় এই প্যানেলের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।  
এছাড়াও কবি-লেখকদের মধ্যে তমিজ উদদীন লোদী, মনিজা রহমান, ফারজানা ফারজু, সোনিয়া কাদের, পলি শাহিনা, কাজী আরজু, মোশাররফ হোসেন শুভেচ্ছা জানান। যৌথভাবে সমগ্র অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন টাইম টেলিভিশন-এর বার্তা সম্পাদক শিবলী চৌধুরী কায়েস ও নিউজ প্রেজেন্টার সাদিয়া খন্দকার।
অনুষ্ঠানে বাংলা পত্রিকা ও টাইম টেলিভিশন পরিবারের বর্তমান সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেহেরুন্নেসা জোবায়দা, হাবিবুর রহমান, সৈয়দ ইলিয়াস খসরু, শেখ সিরাজুল ইসলাম, সালাহউদ্দিন আহমেদ, আবিদুর রহীম, সাজিদ হক, ড. বিলকিস রহমান দোলা, ডা. নাহিদ খান, নাজিম উদ্দিন, সামিউল ইসলাম, মোহাম্মদ সোলায়মান, আনোয়ার হোসেন বাবু, সালাউদ্দিন রাসেল, আশরাফুল এইচ চৌধুরী মিহির, আনিকা চৌধুরী ও নিপা রইস।
এছাড়াও বাংলা পত্রিকা ও টাইম টেলিভিশন পরিবারের সাবেক সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাহেদ আলম, সুলতানা রহমান, আবু শাহেদ করীম, মোনালিসা, বিউটি দাস, সোহেল হোসাইন, এএফ মিসবাহউজ্জামান, এন্থনী গাঞ্জলভেজ, শাহরিয়ার বাঁধন প্রমুখ।
বর্ষপূর্তী অনুষ্ঠানের বিশেষ সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শাহ মাহবুব, বিউটি দাস, রোক্সানা মির্জা, স্বম্পা জামান। মনোজ্ঞ এই অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলো বিউটি দাস ও সজিব রহমান। রাত ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বর্ষপূর্তী অনুষ্ঠান টাইম টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
উল্লেখ্য, নানা প্রতিকূলতার মাঝেও বাংলা পত্রিকা ও টাইম টেলিভিশন নিউইয়র্ক ছাড়িয়ে উত্তর আমেরিকা সহ দেশ ও প্রবাসের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া মিডিয়া। বিশেষ করে টাইম টেলিভিশন তার আনুষ্ঠানিক যাত্রার দু’মাস আগ থেকে সরাসরি সংবাদ বুলেটিনের শুরু করে। দল মতের উর্ধ্বে উঠে, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে টাইম টেলিভিশন এখন কমিউনিটির মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, চ্যানেলটির নাম-খ্যাতি এখন আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে বাংলাদেশেও পড়েছে। এ অগ্রযাত্রায়- কমিউনিটি নেতা, মূলধারার রাজনীতিবিদ’সহ টাইম টিভির অগনতি দর্শক, শুভ্যানুধ্যায়ী ও পৃষ্ঠপোষকদের ভালোবাসা ছিল নিরন্তর।
নিউইয়র্ক তথা উত্তর আমেরিকার বাংলা সংবাদপত্র আর সাংবাদিকতার ইতিহাসে ‘বাংলা পত্রিকা একটি মাইল ফলক। বাংলা পত্রিকা কমিনিউটি সাংবাদিকতার অন্যতম অগ্র পথিক। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পত্রিকাটি সপ্তাহের প্রতি সোমবার নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে আসছে। দীর্ঘ ২১ বছর পর পাঠকদের সুবিধার্থে বাংলা পত্রিকা ফ্রি করা হয়েছে।
অপরদিকে ‘ভয়েস অব টাইম’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখেই এগিয়ে চলছে টাইম টেলিভিশন। শুরু থেকেই প্রতিদিনের সরাসরি সংবাদ বুলেটিন ‘টাইম নিউজের’ পাশাপাশি, নিয়মিত সম্প্রচার হওয়া বিভিন্ন অনুষ্ঠান ইতোমধ্যেই দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছে। খবরের পেছনের খবর আর সবার আগে সবশেষ সংবাদ পরিবেশনেই বস্তুনিষ্ঠতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে চ্যানেলটি। আবার শুধু সংবাদই নয়, সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ মূলধারা ও কমিউনিটির খবরা-খবরের মিলে সম্প্রচারিত হয় ‘উইকলি নিউজ রাউন্ড-আপ’। বার্তা বিভাগের তত্ত্বাবধানে সংবাদ পর্যালোচনা মূলক অনুষ্ঠান প্রেসভিউ, টাইম টক, সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ক টক’শো ‘টাইম পলিটিক্স’ অন্যতম। কমিউনিটি নির্ভর বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে গুরুত্ব দিয়ে সর্বাধিক লাইভ সম্প্রচার, নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়াও, বিনোদন মূলক অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘মিউজিক-আনলিমিটেড’ জনপ্রিয়তার শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছেছে। অনুষ্ঠান বিভাগের পাশাপাশি সম্প্রচার বিভাগে কর্মরতদের নিরলস প্রচেষ্টায়ই আজকের এ অবস্থানে ‘টাইম টেলিভিশন।
অপরদিকে বাংলাদেশের শীর্ষ গণমাধ্যমের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে স্বপ্নের দেশ ‘যুক্তরাষ্ট্রে’ পাড়ি জমানো পেশাদার সাংবাদিকদের কাছে টাইম টেলিভিশন এক অনুপ্রেরণার নাম। পেশাদার এসব সাংবাদিক ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি বাংলাদেশী-আমেরিকান প্রজন্মের স্বপ্ন রচনার অন্যতম প্লার্টফর্ম হচ্ছে টাইম টেলিভিশন। সবার প্রত্যাশা দেশ ও প্রবাসের লাখো কোটি দর্শকদের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মাঝে সমন্বয় রেখেই এগিয়ে যাবে ‘টাইম টেলিভিশন’। শত প্রতিকূলতায় এ ধারা অব্যাহতে চ্যানেলটির পৃষ্ঠপোষক, দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের এমন প্রতিশ্রুতিই দিচ্ছে টাইম নিউজ পরিবার। 
কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ খবরা-খবর ছাড়াও বর্ণাঢ্য আয়োজনে ইংরেজী ও বাংলা বর্ষবরণ, বিভিন্ন ফেস্টিভ্যাল-পথমেলা, বাসন্তি উৎসব এবং দেশীয় সংস্কৃতিক আয়োজন গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছে টাইম টেলিভিশন। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ‘নর্থ-আমেরিকার প্রথম বাইল্যাঙ্গুয়াল টিভি চ্যানেল’ হিসেবে ‘টাইম টেলিভিশন’ পঞ্চমবর্ষে পদার্পন করেছে। এর স্বপ্নদ্রষ্টার প্রত্যাশা শত প্রতিকুলতা মোকেবলা করেই এগিয়ে যেতে চান তিনি। 
মূলধারায় বাংলাদেশী প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী টাইম টেলিভিশন অগ্রযাত্রায়, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপন দাতা ও কমিউনিটি নেতাদের অবদানও কম নয়। নিউইয়র্ক থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছেও টাইম টেলিভিশন একটি সম্ভাবনার নাম। দলমতের উর্ধ্বে উঠে সংবাদ পরিবেশন, মূলধারায় কমিউনিটির সেতুবন্ধনে টাইম টেলিভিশনের এগিয়ে চলাকে এভাবেই মূল্যায়ন করলেন; দেশের বিশিষ্টজনেরা। ভ্রমণ পিপাসু বাংলাদেশী লেখক, সাংবাদিক ও বিনোদন জগতের বাসিন্দাদের কাছে টাইম টেলিভিশন একটি সম্ভাবনার নাম।
আরো উল্লেখ্য, বাংলা পত্রিকা ও টাইম টেলিভিশন-এর বর্ষপূর্তী অনুষ্ঠান সফল করতে বিশেষ সহযোগিতায় ছিলেন খলিল বিরিয়ানী হাউজ, এটর্নী মঈন চৌধুরী, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী মইনুল ইসলাম, চৌধুরী এন্ড ফ্রানজোনী ল’ ফার্ম, এটর্নী ব্রুশ ফিসার, সিলেট মটরস, ড. বিলকিস রহমান দোলা ও ডেভিড সরকার।





বিস্তারিত খবর

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ: নিউইয়র্কে আ.লীগ-বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২৮ ১৩:০৭:৫২

জাতিসংঘের ৭৩ তম সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি জাতিসংঘ ভবনের সামনে বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পাল্টাপাল্টি সমাবেশ করেছে। আওয়ামী লীগ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ-কে স্বাগত জানিয়ে ‘স্বাগত সমাবেশ’ করে এবং সরকারের পক্ষে নানা শ্লোগান দেয়। অপরদিকে বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘে আগমনের প্রতিবাদ জানিয়ে ‘বিক্ষোভ সমাবেশ’ করে এবং দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দাবী করে সরকার বিরোধী নানা শ্লোগান দেয়। কড়া পুলিশী নিরাপত্তায় অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র সমাবেশ থেকে পাল্টপাল্টি শ্লোগানে জাতিসংঘ ভবনের সামনে ফাস্ট এভিনিউ ও ৪৭ স্ট্রীট-এর কর্ণার মুখরিত হয়ে উঠে। বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত উভয় দলের সমাবেশ চলে। আওয়ামী লীগ আর বিএনপি’র সমাবেশ ছিলো স্মরণকালে বৃহৎ সমাবেশ।

জাতিসংঘ ভবনের সামনে স্বাগত আর প্রতিবাদ জানাতে আসা আওয়ামী লীগ-বিএনপির সমাবেশ চলাকালীন সময় মাঝে উভয় দলের কোন কোন নেতা-কর্মীর মধ্যে কিছু সময় উতপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়। তারা একদল অপর দলকে আক্রমণ করে ‘গালাগালি’ করেও নানা শ্লোগান দেয়। তবে, কোন দলই পুলিশ বেস্টনীর বাইরে যেতে পারেনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ উপলক্ষে দুপুর থেকেইে ভবনটির সামনে (ফাস্ট এভিনিউ ও ৪৭ স্ট্রীট-এর কর্ণার) সমানে জড়ো হতে থাকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী স্বাগত সমাবেশে অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকে আগত প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হয়ে আসা দলীয় লোকজনও সমাবেশে অংশ নেয়। সমাবেশে দলীয় নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরে ‘শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার’ সহ নানা শ্লোগান দিতে থাকে এবং পুলিশ বেষ্টনির মধ্যে থেকেই তারা খন্ড খন্ড মিছিলও বের করে। সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বলেন, সংগঠনের স্বার্থে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়ী করতে ঐক্যের বিকল্প নেই। 

অপরদিকে আওয়ামী লীগের সামাবেশের ঠিক বিপরীত দিকেই কয়েক গজ দূরে অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ‘বিক্ষোভ সমাবেশ’। এসময় তারাও পুলিশের নিরাপত্তা ব্যারিকেডের মধ্যে মিছিল বের করে এবং মুহু মুহু শ্লোগান দিতে থাকে। বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ছাড়াও সংগঠনটির যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফিনল্যান্ড ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের একাধিক নেতাকর্মীও উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি ও নিউইয়র্ক ছাড়াও নিউজার্সী, ম্যাচাসুয়েটস, পেনসিলনেনিয়া, কানেকটিকাট, ভার্জেনিয়া সহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বিএনপির নেতা-কর্মীরা যোগ দেন।

তবে দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি না থাকায় একাধিক ভাগে বিভক্ত দলীয় নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা একই স্থানে সমাবেশ করে। সমাবেশের একদিকে নেতৃত্ব দেন সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ স¤্রাট, সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি গিয়াস আহমেদ, সাবেক সহ সভাপতি আলহাজ সোলায়মান ভূইয়া, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা প্রমুখ। অপরদিকে নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. মজিবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, সাবেক সহ সভাপতি সামসুল ইসলাম মজনু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, যুবদলের সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ অহমদ প্রমুখ। অপরাংশের নেতৃত্বে দেন সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুক্তরাষ্ট্র জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মিজানুর রহমান ভূঁইয়া।

এছাড়াও সমাবেশের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, সাবেক কোষাধ্যক্ষ জসিম ভূইয়া, বিএনপি নেতা নিয়াজ আহমেদ জুয়েল, আনোয়ারুল ইসলাম, ফিরোজ আহমেদ প্রমুখ।

বিএনপির সমাবেশে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সিনিয়র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. এহসানুল হক মিলন, অপর আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম, সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, অপর সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জনপ্রিয় কন্ঠ শিল্পী বেবী নাজনীন, যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সভাপতি এম এ মালিক প্রমুখ নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে: এবিবিএ’র ১০ম বিজনেস সামিটে বক্তারা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২৭ ১৫:১৭:০২

‘প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা আর বাংলাদেশ ও আমেরিকার মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করার’ মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো আমেরিকান বাংলাদেশী বিজনেস অ্যালায়েন্স (এবিবিএ)-এর ১০তম ‘বিজনেস সামিট’। সামিটের আলোচনায় দেশ ও প্রবাসে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের সমস্যা ও সম্ভানা এবং অর্থ লেন-দেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সরকারী উদ্যোগ এবং সমাধানের পথ প্রভৃতি বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ আমাদের সবার। ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে আরো শক্তিশালী করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন বিনিয়োগের পাশাপাশি সকল ক্ষেত্রেই সততা আর দূর্নীতিমুক্ত প্রশাসন। 

নিউইয়র্ক সিটির লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলে গত ২৪ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের সদস্য সেলিম উদ্দিন, এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মহিউদ্দিন, এসবিএসি ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ও সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারম্যান শেকিল চৌধুরী। এছাড়াও গেষ্ট অব অনার ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি, এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাসির। প্রবাসের শীর্ষ স্থানীয় বাংলাদেশী ব্যবসায়ীসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ‘বিজনেস সামিট’-এ অংশ নেন।

এবিবিএ’র ১০তম ‘বিজনেস সামিট’ আয়োজক কমিটির কনভেনর মইনুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠান মঞ্চে ছিলেন বিজনেস সামিট-এর এবিবিএ’র চেয়ারম্যান ও এবিএইচ ফার্মাসিউটিক্যাল-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, মেম্বার সেক্রেটারী ইয়াকুব এ খান সিপিএ, এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান ও জেবিবিএ’র সভাপতি শাহ নেওয়াজ, চিফ কো-অর্ডিনেটর ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, কো-কনভেনর এজে বাবুল, ফোবানা-২০১৯ এর আহবায়ক ও বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট নাসির আলী খান পল, কমিউনিটি বোর্ডের ভাইস চেয়ার এন মজুমদার, রেজাউল করিম চৌধুরী, জেবিবিএ’র সাবেক সভাপতি জাকারিয়া মাসুদ জিকো ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক তারেক হাসান খান ও এটর্নী হাসানুজ্জামান মালিক।  

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইমাম কাজী কাইয়্যুম, গীতা থেকে পাঠ করেন তারেক গায়েন এবং বাইবেল থেকে পাঠ করেন টমাস দুলু রায়। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন এক্সিকিউটিভ কো-কনভেনর মোহাম্মদ বিলাল চৌধুরী।

এবিবিএ’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মরহুম সাঈদ রহমান মান্নানের বিদেহী আতœার শান্তি কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য কমিউনিটির অনুষ্ঠানে এবিবিএ’র পক্ষ থেকে ৫জনকে ক্রেস্ট প্রদান এবং এবিবিএ’র ১০ বছর উপলক্ষে কেক কাটা হয়। ক্রেস্টপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন, নাঈমা খান, এস এম আমজাদ হোসেন, মাহতাবুর রহমান নাসিম বসির খান প্রমুখ।   

অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ ছাড়াও আরো বক্তব্য রাখেন কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এলিজাবেথ ক্রাউলী, যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন টাইম টেলিভিশন-এর সাবেক নিউজ প্রেজান্টার শামসুন্নাহার নিম্মি ও বিজনেস সামিট-এর জয়েন্ট মেম্বার সেক্রেটারী এ এফ মিসবাউজ্জামান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পদ্ধতিগত সমস্যা রয়েছে। তারপর অনেকে ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, ভালো আর সৎ ব্যবসায়ীদের কোন সমস্যা নেই। একথা সত্য যে, বিশ্বব্যাপী মানি লন্ডারিং-এর কারণে দেশ থেকে অর্থ লেনদেনে কড়াকড়ি চলছে। তবে বৈধ পথে অর্থ লেন-দেনে কোন সমস্যা নেই। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়ে অনেক কিছুই করার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, দেশে ক্যাপিটাল কন্ট্রোল না হওয়া পর্যন্ত সহজে দেশ থেকে অর্ত প্রবাসে আনা সহজ হবে না। প্রবাস থেকে দেশে প্রপার্টি নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ নয়। তিনি বলেন, সরকার দেশে ১০০ ইকোনমিক জোন গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এসব জোনে প্রবাসীরা তাদের মতো জোন তৈরী করতে পারেন। তবে এজন্য প্রবাসীদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব থাকতে হবে। তবে এসব জোন প্রতিষ্ঠায় সুবিধা-অসুবিধাও আছে। এজন্য জেনেশুনেই বিনিয়োগ করতে হবে। সরকার বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি (বিডিআইএ)-কে ঢেলে সাজিয়েছে। তিনি বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা অতীতের ১০/২০ বছরের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে।

কোটা প্রসঙ্গে ড. মশিউর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য ব্যক্তিগতভাবে আমার দূর্বলতা রয়েছে তবে দেশ ও প্রবাসের জন্য কোটা থাকবে না প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি থাকবে তা নতুন প্রজন্মের কাছে জানতে হবে, বিষয়টি ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে। 

ড. মশিউর রহমান বলেন, প্রবাসীদের কথা প্রধানমন্ত্রীরই কথা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসীদের ব্যাপারে অবগত বলেই অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপ কমিটির সদস্যদের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানের পথ খুজতে বলেছেন। তিনি দেশে অর্থনীতিকে আরো সমৃদ্ধ করতে দেশে-প্রবাসে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

জাতীয় সংসদের সদস্য সেলিম উদ্দিন বলেন, আমি নিজেও এক সময় প্রবাসী ছিলাম। তাই প্রবাসীদের ভালো-মন্দ সম্পর্কে আমি অবহিত। তিনি বলেন, দেশকে ভালোবেসে রাজনীতি শুরু করেছি। আমার বিশ্বান এবিবিএ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ব্যবসায়ীক সুসম্পর্ক জোরদারে সেতু হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে প্রবাসীদের স্বার্থে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি কমিটি গঠনের চেষ্টা করছি। আমরা ইতিমধ্যেই ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করেছি এবং এই সার্ভিসের মাধ্যমে প্রবাসীরা উপকৃত হবে, দেশে ফিরে বিনিয়োগ করবেন। 

এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, বাঙলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে। কথা বলে ‘মিরাকল কামস ফ্রম হ্যাভেন’, আমি বলি মিরাকল স্ট্যান্ড অন বাংলাদেশ’। দরকার সবার ঐক্য আর আন্তরিকতা। তিনি বলেন, দেশের সিভিল অ্যাভিয়েশন, কাস্টমস আর বিমান এই তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় থাকলে মার্চেন্ডাই আদমদানী-রপ্তানী সহজ হবে, এতে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের পরে শাক-সবজী ব্যবসায় বাংলাদেশ ভালো করছে। তিনি প্রবাস ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সাহসী হয়ে সততার সাথে ব্যবসা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদেরকে ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন সফল করতে হবে।  

এসবিএসি ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের মধ্যে এবিবিএ যোগসূত্র হিসেবে কাজ উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবশে সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায় বিনিয়োগের নানা সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের উদ্যোগের ফলে বিভিন্ন জট খুলে যাচ্ছে। তারপরও প্রবাসীদের বিনিয়োগের ব্যাপারে নানা সমস্যা রয়েছে। এজন্য তিনি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করে বলেন, মূলত: দূর্নীতি আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার জন্যই প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে উৎসাহিত হচ্ছেন না। তিনি প্রবাসীদের পক্ষ থেকে বলেন, আমরা সরকারকে ট্যাক্স দিয়েই ব্যবসা করতে চাই। তবে ব্যবসা করা বা বিনিয়োগের কর্মকান্ড সহজকরণ করতে হবে। ব্যবসায়ীরা যাতে সহজেই দেশ-বিদেশে অর্থ লেনদেন করতে পারেন তার ব্যবস্থা করতে হবে। সৎ ব্যবসায়ীদের প্রতি সরকারের সুনজর রাখতে হবে।

সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারম্যান শেকিল চৌধুরী বলেন, প্রবাসীরা দেশের জন্য অনেক কিছুই করছেন, যা প্রশংসার দাবী রাখে। তিনি বলেন, সেন্টার ফর এনআরবি’র প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রবাসীদের সমস্যা আর সৌদি আরবে বসবাসকারী প্রবাসীদের সমস্যা এক নয়। কিন্তু সবার রুট হচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ঢাকায় বিমানবন্দর এখন অনেক সহজ হলেও অনেক সমস্যা রয়েছে। তিনি প্রবাসীদের সমস্যা আর উদ্যেগের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করার অহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, ইকোমিক জোন প্রতিষ্ঠা, অনলাইনে ভোটার হওয়া, জাতীয় আইডি কার্ড প্রভৃতি প্রবাসীদের অন্যতম দাবী।  

শিল্পপতি মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাসির তার বক্তব্যে প্রবাসীদেরকে বৈধ পথে দেশে অর্থ প্রেরণ করে সরকারের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে ব্যাংক ইন্টারেস্ট সিঙ্গেল ডিজিডে চলে এসেছে। ওয়েজওর্নার বন্ড ক্রয়ে লাভবান হওয়া সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ‘রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ৩৩ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ ফান্ড রয়েছ, এরমধ্যে ১৪ বিলিয়ন ডরার প্রবাসীদের। তাই প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা দরকার। তিনি বলেন, ৪০ বছর ধরে প্রবাসী। প্রবাসীদের স্বার্থে সরকারের সাথে কাজ করছি। প্রবাসীতের জন্য পৃথক ইকোনমিক জোন দরকার, বিনিয়োগের জন্য পৃথক স্কীম দরকারের পাশাপাশি প্রবাসী নতুন প্রজন্মের জন্য চাকুরীতে কোটার দাবী করেন।

মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ স্বর্ণের দেশ। বিশ্বের কোন দেশের চেয়ে বাংলাদেশ কোন অংশেই কম নয়। তবে বাংলাদেশের অপরার সৌন্দর্য আর সম্ভাবনা প্রস্ফুটিত করতে প্রয়োজন সবার সহযোগিতা। তিনি প্রবাসীদের বিনিয়োগের জন্য ‘ইপিজেড’ এর মতো পৃথক জোন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি যোগাযাগ ব্যবস্থা আরো বৃদ্ধি ও উন্নত এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করার দাবী জানান।

ইয়াকুব এ খান সিপিএ তার বক্তব্যে এবিবিএ’র সাফল্য কামনা করে বলেন, সংগঠনটি বাংলাদেশী আর আমেরিকান ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরী করতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে। তিনি দেশ ও প্রবাসের মধ্যে ব্যবসা প্রবাসের লক্ষ্যে আইনী বিষয়গুলো জানা এবং বৈধভাবে সবকিছু করার জন্য সংশ্লিস্টদের প্রতি আহ্বান জানান। 

শাহ নেওয়াজ তার বক্তব্যে এবিবিএ’র সফলতা কামনা করেন।

ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার উপস্থিত অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, আমরা সবাই মিলে এবিবিএ’র মাধ্যমে প্রবাসের ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করে দেশ ও প্রবাসে ব্যবসায়ীক সমস্যা সমাধানের পথ পাবো বলে বিশ্বাস করি। 
এজে বাবুল বলেন, চীন সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা সহজেই আমেরিকায় অর্থ এনে বিনিয়োগ করতে পারেন, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেন। তারা তাদের সম্পদের বিনিময়ে ঋণ নিতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে আমরা পারি না। এজন্য তিনি সরকারের দৃষ্টি কামনা করেন। 

নার্গিস আহমেদ এবিবিএ’র অনুষ্ঠানের প্রশংসা করে বলেন, এমন অনুষ্ঠান দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো জোরদার করবে, সেতুবন্ধন তৈরী করবে। তবে এজন্য পারষ্পারিক সহযোগিতা আর সহমর্মিতা থাকতে হবে। প্রসংগত তিনি আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের লেবার ডে উকেন্ডে নিউইয়র্কের নাসাউ কলিসিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ফোবানা সম্মেলন-২০১৯ এ সকল প্রবাসীর সহযোগিতা কামানা এবং সবাইকে থাকার আহ্বান জানান। 

নাসির আলী খান পল তার বক্তব্যে দীর্ঘ প্রবাস জীবনে দেশ ও প্রবাসের নানা অভিজ্ঞতার কথা সংক্ষেপে তুলে ধরে বলেন, প্রবাসীদের নানা অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়ে বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু দেশে গিয়ে তারা সব ভুলে যান। তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশে যাওয়ার পর নানা সমস্যায় পড়েন। ঢাকা বিমানবন্দর থেকেই শুরু প্রবাসীদের নানা জুলুম-যন্ত্রনা। আর দূর্নীতির কারণে প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগ করতে চান না। তিনি এসব সমস্যার সমাধান কামনা করে বলেন, প্রবাসীরা সম্মানের সাথে দেশে ফিরতে চান, দেশকে দিতে চান।

এন মজুমদার তার বক্তব্যে প্রবাসে বিনিয়োগের প্রথম বাধা হিসেবে দেশ থেকে সহজে অর্থ না আনার কথা উল্লেখ করে বলেন,  সুযোগ আর পরিবেশ পেলে আমরা প্রবাসীরা অর্থে বাংলাদেশ ছয়লাব করে দিতে পারি। ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বেশী বেশী শিক্ষামূলক সেমিনার আয়োজন দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশমুখী করার উদ্যোগ নেয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

রেজাউল করিম চৌধুরী তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের নানা প্রশংসা এবং তাকে সরকারের একজন দায়িত্ত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। 

জাকারিয়া মাসুদ জিকো  বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। গার্মেন্টস, ফার্মাসিউটিক্যাল প্রভৃতি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যাতে দেশের চেয়ে বাংলাদেশেই অনেক ভালো করা যাবে।
তারেক হাসান খান বলেন, এবিবিএ প্রবাসের সকল ব্যবসায়ীদের প্লাটফর্ম। এবিবিএ সকল ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেতু বন্ধুন তৈরী করবে। বিগত ৯ বছর ধরে এবিবিএ ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বিশেষ করে বাংলাদেশ ও সরকারের সাথে যোগাযোগ রেখে দেশে বিনিয়োগের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। যার ফলে অনেক ব্যবসায়ী এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছেন।

এটর্নী হাসানুজ্জামান মালিক বলেন, ১৯৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র আসার পর নানা বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে এগিয়ে চলছি। তিনি বলেন, এগিয়ে যেতে হলে বাধা আসবেই। প্রসঙ্গত তিনি বলেন, পেশাগতভাবে আন্তরিকতার সাথেই সবাইকে সেবা দিতে চাই।  

কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এলিজাবেথ ক্রাউলী বলেন, নিউইয়র্ক সিটির মধ্যে কুইন্স অন্যতম। কুইন্সে বাংলাদেশীর সংখ্যা বাড়ছে আর সকল কমিউনিটির কারণে কুইন্স শক্তিশালী হচ্ছে। সবাই মিলে কুইন্স-কে আরো শক্তিশালী করতে হবে। তিনি বলেন, সিটি প্রশাসন মাইনরিটি বিজনেসম্যানদের শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

এবিবিএ’র ১০তম ‘বিজনেস সামিট’ আয়োজক কমিটির কনভেনর মইনুল ইসলামের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা সমাপ্ত হয়। এর আগে ‘বিজনেস সামিট’ এর প্রথম পর্বে ছিলো সেমিনার। এতে বক্তব্য রাখেন এটর্নী ব্রুশ ফিসার, ফামাক্যাশ-এর চেয়ারম্যান ড. সাইফুল খন্দকার, এন মজুমদারর, ইয়াকুব এ খান সিপিও প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে ছিলো সঙ্গীতানুষ্ঠান। এতে শিল্পী রানো নেওয়াজ সহ প্রবাসের শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সঙ্গীতানুষ্ঠানের মাঝেই অতিথিদের সাথে নিয়ে এবিবিএ’র নেতৃবৃন্দ কেক কাটেন।

উল্লেখ্য, সন্ধ্যা ৬টার অনুষ্ঠান শুরু হয় রাত সাড়ে ৮টার দিকে। শেষ হয় রাত ১১টার দিকে। সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যাক প্রবাসী বাংলাদেশী অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।



এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউ ইয়র্কে শেখ হাসিনা বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২৫ ১৬:০১:১১

জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিউইয়র্ক সফরকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং দলের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যায়িত করে ‘যেখানে হাসিনা সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে নিউজার্সীর লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের সময় এই বিক্ষোভ-সমাবেশ করা হয়। যারা এই বিক্ষোভ-সমাবেশে নেতৃত্ব দেন তাদের মধ্যে অন্যতম যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ্য জসিম ভূঁইয়া। বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে দলীয় নেতা-কর্মীরা ব্যানার-পোস্টার সহ শেখ হাসিনার সরকার বিরোধী নানা শ্লোগান দেয়। তারা বিএনপি চেয়ারাপার্সন খালেদা জিয়া সহ দলের আটককৃত সকল নেতা-কর্মীর মুক্তিও দাবী করেন।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ্য জসিম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল মওলা, নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপি’র সভাপতি মাওলানা অলি উল্লাহ আতিকুর রহসমান ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সাইদ এবং নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপি’র সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা সহ দলীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন, রুহুল আমিন নাসির, জাহাঙ্গীর এম. আলম, রিয়াজ চৌধুরী, আলহাজ শহীদুল ইসলাম শিকদার, রফিকুল ইসলাম ডলার, রফিকুল ইসলাম, ভিপি জসিম উদ্দিন, খন্দকার রেজওয়ান, পরান চৌধুরী, ওয়াহেদ আলী মন্ডল, আলমগীর হোসেন মৃধা, সোহেল হায়দার, এডভোকেট রেজবুল কবির, মোহাম্মদ বাবুল, সৈয়দা মাহমুদা শিরিন, সাইফুল ইসলাম লিটন, আমিনুর রহমান খোকন, আরিফুল হক, মোস্তাক হোসেন, দেওয়ান কাউসার, সালেহ আহমেদ মানিক, মশিউর রহমান, শাহাদৎ হোসেন রাজু, মাইনুল করিম টিপু, আরিফুর ইসলাম তুহিন, খন্দকার রেজাউল হক, মনিরুল ইসলাম, রসিদা আহমেদ, জোহরা বেগম, তাহমিনা আক্তার, কামাল উদ্দিন দিপু, হুমায়ুন কবীর, হুমায়ুন কবির, অর্নব রুবেল, মিজানুর রহমান, আমিনুর রহমান খোকন, মান্নাফ চৌধুরী, মোহাম্মদ রইচ উদ্দিন, রফিক উদ্দিন বাহার, আরিফুল ইসলাম তুহিন,  মোহাম্মদ বাবুল, আবুল হোসেন মেম্বার, মোহাম্মদ মহসিন, শরিফ চৌধুরী পাপ্পু, রফিক উদ্দিন বাহার, এনামুল কবির অপু, এ দিপু, মারুফ আহমেদ, এ ইসলাম, নূরুল আমীন, হাফিজুর রহমান চৌধুরী রবিনস, ওয়াহিদুজ্জামান রিয়াদ, আনিসুর রহমান খোকন, হোসাইন রানা, মাসুম, হোসেন শিপন, মোহাম্মদ জাফর ফরাজী, সুমন হক, টম আরাফাত, সাহিদ রহমান, মিরাজ ভূইয়া, জাকির হাসান, মোহাম্মদ সুমন, আবু আহমেদ, নূর আলম, হাবিবুর রহমান, হাবিব, হাফজুর রহমান চৌধুরী, মোহাম্মদ  জহিরুল  ইসলাম, আইয়ুব আলী, মোহাম্মদ  এনামুল কবির, খোরশেদ আলম, মোহাম্মদ  আব্দুল রহিম, মোহাম্মদ  আরিফুর রহমান, আব্দুল বারী তিতাস, মোহাম্মদ রেজাউল করিম, অহিদুজ্জামান প্রিন্স, মোহাম্মদ রুহুল আমিন,  মোহাম্মদ নুরুল আমিন, গাজী নূরুল আলম, অপু চৌধুরী, মারুফ আহমেদ, জালাল আহমেদ, মোহাম্মদ পাবেল মিয়া, মোহাম্মদ হাসান আলী, সুলতান মিয়া, মোহাম্মদ হাসান, ইকবাল আনসারী, আব্দুর রহিম, নূর ইসলাম, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নেতা-কর্মী যোগ দেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। 

এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরৎ পাঠানো ও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের দাবীতে নিউইয়র্কে মানবন্ধন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-১৪ ১৪:০৩:৩৬

নিউইয়ক ১১ সেপ্টেম্বর, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ড নিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা ছয় আসামিদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে দণ্ড কার্যকর করা  ও রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের দাবীতে নিউইয়কে প্রচন্ড ঝড়-বৃস্টি উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ ও  আওয়ামীলীগ পরিবার মানবন্ধন করে। মানবন্ধনে  উল্লেখ করা হয়- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সৈনিকের হাতে সপরিবারে হত্যার শিকার হন বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান। দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ওই সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড মামলায়  মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে ২০১০ সালে পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর হয়। বাকিদের একজন জিম্বাবুয়েতে মারা যান এবং ছয়জন পলাতক। পলাতক ছয়জন হলেন- আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, আব্দুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন। এদের মধ্যে চারজনের সম্ভাব্য অবস্থান হলো- কানাডায় নূর চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রাশেদ চৌধুরী। মোসলেম উদ্দিন জার্মানিতে ও শরিফুল হক ডালিম স্পেনে। চারজনের অবস্থানই ‘সম্ভাব্য’ বলে জানিয়েছে ইন্টারপোলের বাংলাদেশ শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। তাদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড এলার্ড জারি করা আছে।খবর বাপসনিঊজ ।মানবন্ধনে বক্তারা বলেন-সাজাপ্রাপ্ত হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি কার্যকর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো দরকার। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লে. কর্নেল (বরখাস্ত) এ এম রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফেরৎ পাঠানোর (ডপুটেশন) জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নিকট দাবী জানানো হয়।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বক্তরা বলেন-মিয়ানমারে সহিংসতা ও ‘জাতিগত নিধন বন্ধ, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান ও রাখাইন রাজ্য হতে বিতাড়িত সকল রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে তাদের নিজ বাড়িতে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন এবং কোফি আনান কমিশনের সুপারিশমালার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবী জানানো হয় মানবন্দনে।

মানবন্দনে বক্তারা হলেন- ডঃ প্রদীপ রঞ্জন কর, রমেশ নাথ, মিজানুর রহমান চৌধূরী, ক্যাপ (অবঃ) অবু বক্কর, ডঃ হমায়ুন কবীর, আব্দুর রহিম বাদশাহ, কাজী কয়েস, শরিফ কামরুল আলম হিরা, ামেজবা আহমদ, ফরিদুল আলম, মোল্লা এম,এ,মাসুদ, হোসেন শোহেল রানা, হেলাল মাহমুদ, আশরাফ উদ্দিন, জালাল উদ্দিন জলিল, কায়কোবাদ খান, ইঞ্জিঃ মিজানুল হাসান, দুরুদ মিয়া রুনেল, নাদের , জেড এ জয়, দেলোয়ার, কামাল,নাঈমুল হূদা,  রুমানা আক্তার, জেসমিন বোখারি প্রমুখ। 


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কে ওসমানীর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-০৮ ১৪:৫৯:১৬

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ‘সর্বাধিনায়ক’ বঙ্গবীর জেনারেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর (এম এ জি ওসমানী) জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে ওসমানী স্মৃতি পরিষদ, ইউএসএ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা মরহুম জেনারেল ওসমানীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, নানা কারণেই তিনি বাংলাদেশে এবং আমাদের জাতীয় জীবনে চরমভাবে অবহেলিত। আজো তিনি যথাযথ সম্মান পাননি। বক্তারা জেনারেল ওসমানীকে জাতীয়ভাবে সম্মানিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তাকে তুলে ধরতে এবং ইতিহাসে স্থান করে দিতে দেশের পাঠ্য পুস্তকে ‘জেনারেল এম এ জি ওসমানীর জীবনী’ অন্তর্ভুক্ত করার দাবী জানান। অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রশ্ন রেখে বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কেন জেনারেল ওসমানী অনুপস্থিত ছিলেন। তার জীবদ্দশায় বাংলাদেশ সরকার কে তাকে মর্যাদা দেয়নি? এসব বিষয় জন সমম্মুখে পরিষ্কার হওয়া দরকার। বক্তারা জেনারেল ওসমানীর বর্ণাঢ্য জীবনের বিভিন্ন দিত তুলে ধরে তাকে একজন আদর্শবাদী, সৎ, সাহসী এবং সময়ের প্রতি নিষ্ঠাবান মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে তার আদর্শ অনুস্মরণের মাধ্যমে নিজেদেরকে আদর্শবাসী মানুষ হওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন। আর আদর্শবাসী মানুষই দেশ-জাতির কল্যাণে সত্যিকারের অবদান ও ভূমিকা রাখতে পারে।

নিউইয়র্ক সিটির ওজনপার্কের আল মদিনা হলে গত ৩ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওসমানী স্মৃতি পরিষদের সভাপতি আব্দুল কাদির খান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ। এছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, ওসমানী স্মৃতি পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শেখ আখতারুল ইসলাম, কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার এন মজুমদার, মূলধারার রাজনীতিক মোর্শেদ আলম, নজরুল একাডেমী ও ভাসানী ফাউন্ডেশনের সভাপতি সৈয়দ টিপু সুলতান, কলামিস্ট সুব্রত বিশ^াস, মদিনার আলোর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ আব্দুল ওয়াহিদ টুপন, ফোবানা’র সাবেক কনভেনর এমাদ চৌধুরী ও সাবেক ছাত্রনেতা শাহাব উদ্দীন।

অনুষ্ঠানে ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জেনারেল ওসমানী সহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সকল শহীদ স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, মোনাজাত এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শাহাব উদ্দীন এবং যৌথভাবে সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ওসমানী যুব পরিষদের সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হেলিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা যথাক্রমে নুরুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল জলিল ও অধ্যাপক সৈয়দ মুজিবুর রহমান, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশন-এর সিইও আবু তাহের, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাষ্ট্রি মকবুল রহিম চুনই, সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী মোহাম্মদ রব মিয়া, সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিয়ানীবাবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি মস্তফা কামাল, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন ইউএসএ’র সভাপতি স্বপন বড়ৃয়া, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোশিয়েশন ইউএসএ’র সভাপতি আব্দুল আজিজ রওমী, সিলেট গণদাবী পরিষদের সভাপতি আজিমুর রহমান বুরহান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, সার্বিক অর্থে একটি দেশের সর্বাধিনায়ক সেই দেশের রাষ্ট্র প্রধান। ‘সর্বাধিনায়ক’ নিয়ে বিভ্রান্তির কোন সুযোগ নেই। তবে জেনারেল ওসমানী-কে আমরা যথাযথভাবে সম্মান জানাতে পারিনি এটাই সত্য। তিনি বলেন, শুধু জেনারেল ওসমানী কিংবা তাজউদ্দিন আহমদ নন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিভিন্ন বিষয়ে এখনো নানা বিভ্রান্তি রয়ে গেছে, যা থাকা উচিৎ নয়, ঠিকও নয়। এসব ক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্যমত দরকার। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আওয়ামী লীগের সম্পদ ভাবা ঠিক নয়, তিনি বাঙালী জাতির সম্পাদ, বাংলাদেশের সম্পদ। অপরদিকে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু-কে ছাড়া কিছু বুঝে না, তেমনী বিএনপিও জিয়া-কে ছাড়া কিছু বুঝে না। কেউ কেউ বঙ্গবন্ধুর সাথে জিয়াকে তুলনা করতে চান। এমন সব চিন্তা-ভাবনা জাতিকে বিভক্ত করছে, নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি জেনারেল ওসমানী সহ দেশের সকল জাতীয় নেতাকে যার যে অবস্থান সে অবস্থানে রেখেই সম্মান জানানো উচিৎ বলে মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জেনারেল ওসমানী ছিলেন একজন গণতন্ত্রের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক। গণতন্ত্রের প্রতি ছিল তার গভীর শ্রদ্ধা ও অগাধ বিশ^াস। সেকারণে বঙ্গবন্ধু’র বাকশাল গঠনকে তিনি মেনে নিতে পারেননি। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধার কারণে বঙ্গবন্ধু ও তার দল থেকে বেরিয়ে আসতে দ্বিধা করেননি। তাছাড়া সেনাবাহিনীর ঐক্য ও শৃৃঙ্খলার প্রতি তার দুর্বলতা ছিল। অনেকের বিশ^াস এবং অনেকে মনে করেন সেনাবাহিনীর সেই শৃঙ্খলা ও ঐক্য ফিরিয়ে আনতেই তিনি মোশতাকের মন্ত্রীসভায় যোগ দিয়েছিলেন এবং এক পর্যায়ে বেরিয়ে এসে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবি করেছিলেন। অবশ্য এসব ব্যাপারে মতাদ্বৈততা রয়েছে। জিয়া ও খালেদ মোশারফের ক্যু’র সময় তার ভূমিকা নিয়েও একই বিভ্রান্তি ও মতদ্বৈততা রয়েছে।

বক্তারা বলেন, জেনারেল ওসমানী ছিলেন একজন সৎ, নিষ্ঠাবান, দেশাত্ববোধে অবিচল। দেশের প্রতি ছিল তার গভীর ভালোবাসা। ছিলেন স্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরী। তিনি কর্মজীবনে বহু গুণে ও উপাধিতে ভূষিত ও অলঙ্কৃত হয়েছেন। তার স্মৃতি রক্ষার্থে তার অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে সিলেটে ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতাল, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন সহ অনেক প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে। তার বাড়ী দয়ামীর তারই নামে ওসমানীনগর করা হয়েছে।

জেনারেল ওসমানীর জন্ম শতবার্ষিকীর আলোচকদের অনেকে তাঁর শতবার্ষিকী সরকারীভাবে পালন করা উচিত বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, জেনারেল ওসমানী মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক। এছাড়াও সেনাবাহিনীতে তার অশেষ অবদান অনস্বীকার্য। তার শতবার্ষিকী সরকারী উদ্যোগে উদযাপন না করায় কোন কোন বক্তা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বক্তারা আরো বলেন, প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ সফল মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা। তার অবদান ইতিহাস স্বীকৃত। অথচ তাকেও আজ অবহেলায় অপাংথেয় করে রাখা হয়েছে। জেনারেল ওসমানীর প্রতিও সরকারের এরূপ আচরণ মোটেই গ্রহণযোগ বলে বক্তারা দাবী করেন। বক্তারা বলেন, আমরা মনে করি মহান মুক্তিযুদ্ধে এবং বাংলাদেশ গঠনে যার যে অবদান তার যথাযথ মর্যদা দেওয়া উচিত।

এছাড়াও কোন কোন বক্তা প্রবাসে জেনারেল ওসমানীর নামে কোন বিভেদ-বিভক্তিতে না জড়িয়ে তার সকল ভক্ত ও প্রবাসী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক মঞ্চ থেকে জেনারেল ওসমানীকে সম্মান জানানো এবং বাংলাদেশে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানোর আন্দোলনে আহ্বান জানান। 

জেনারেল ওসমানীর সংক্ষিপ্ত জীবনী: ১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাবা খান বাহাদুর মফিজুর রহমান ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে সিলেটের সুনামগঞ্জ মহকুমায় চাকুরীরত অবস্থায় রতœগর্ভা মাতা জোবেদা খাতুনের গর্ভে জন্ম নেন এই ক্ষণজন্মা পুরুষ। ছোটকালে সবাই তাকে আদর করে আতা বলে ডাকতেন। বাবার সুরকারী চাকুরীর সুবাদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। তাই প্রথামিক শিক্ষা গৌহাটি মিশনারী কটন স্কুলে। পরবর্তীতে সিলেট সরকারী পাইলট হাইস্কুল থেকে ১৯৩৪ সালে মেট্রিক পাশ করেন। পরীক্ষায় ইংরেজীতে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য প্রিটরিয়া পুরস্কার পেয়েছিলেন। তারপর চলে যান প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত আলীগড় মুসলিম বিশ^বিদ্যালয়ে। ১৯৩৮ সালে সেখান থেকে গ্রেজুয়েশন লাভ করেন। পরের বছরই কেডেট হিসেবে যোগ দেন ইন্ডিয়ান মিলিটারী একাডেমীতে। কিন্তু অচিরেই কেডেট কেরিয়ার ছেড়ে যোগ দেন বৃটিশ-ইন্ডিয়া সেনাবাহিনীতে। সেই থেকে তার বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনের শুরু। দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধে বার্মা সীমান্তে যুদ্ধ করেছেন। দেশভাগের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছেন। তাঁর সামরিক কর্মজীবন দীর্ঘ বিস্তৃত ও কৃতিত্বগাথা। ছাত্রজীবনে তার অসম মেধা ও কৃতিত্বের জন্য আসাম বেঙ্গল ছাত্র সংগঠনের সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৩৬ সালে জহরলাল নেহরুর দ্বারা উদ্বোধিত ও মোহাম্মদ আলী জিন্নার সভপতিত্বে লক্ষেèৗ শহরে প্রথম অনুষ্ঠিত নিখিল ছাত্র সম্মেলনে ওসমানী আলীগড় বিশ^বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
 
সেনাবাহিনীতে অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে এশিয়ানদের প্রতি বৃটিশদের ছিল চরম বৈষম্যমূলক আচরণ। ওসমানি এসব বৈষম্য উপেক্ষা করে ইন্ডিয়ার শ্রেষ্ঠ সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দেরাদুন থেকে ১৯৩৯ সালে নিজের যোগ্যতা  বলে কৃতিত্বের সাথে কমিশনপ্রাপ্ত হন। এখানেই ছিল তার সামরিক প্রশিক্ষণের শেষ অধ্যায়। তারপর একে একে কর্মজীবনের উত্থান ঘটেছে।

সামরিক বাহিনীতে অসাধারণ মেধার জন্য ১৯৪১ সালে কেপ্টেন পদে এবং ১৯৪২ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে তৎকালীন বৃটিশ সা¤্রাজ্যের সেনাবাহিনীতে সর্বকণিষ্ঠ মেজর হিসেবে পদোন্নতি  লাভ করেন।

পরবর্তীতে ভারত ভাগের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে লেঃ কর্ণেল পদে উন্নীত হন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতেও বাঙালী হিসেবে বৈষম্যের শিকার হন। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে লাহোর সেক্টরে তার ব্যাটেলিয়ন অসাধরণ কৃতিত্বের পরিচয় রাখে। তিনি ছিলেন ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তার প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম সেনানিবাস প্রতিষ্ঠালাভ করে। ১৯৫৬ সালে তাকে কর্ণেল পদে উন্নীত করা হয়। সামরিক বাহিনীতে থাকাকালে সর্বক্ষেত্রে তিনি তার যোগ্যতা ও মেধার অসাধারণ পরিচয় রাখেন। নিজের গুণ ও মেধায় সেনাবাহিনীতে তিনি প্রবল গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। এসব সুনাম অটুট রেখে ১৯৬৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারী কর্মজীবন তথা সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। তারপর সত্তর সালে বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এবং সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে সিলেট-বিশ^নাথ-বালাগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ নির্বাচনী এলাকা থেকে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের এমএনএ নির্বাচিত হন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ ভাগ হয়ে গেলে পাকিস্তান গণপরিষদে আর বসার সুযোগ পাননি। বসেছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে।

মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তিনি সিলেটের তেলিয়াপাড়ায় কর্ণেল রব, মেজর জিয়া, মেজর শফিউল্লা, খালেদ মোশারফসহ তৎকালীন উচ্চপদস্থ বাঙালী সেনবাহিনীদের নিয়ে প্রথম বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট সহ পাঁচটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্নজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারপর ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ১১টি সেক্টরে  ভাগ করা হয়। ওসমানি ছিলেন মুক্তিবাহিনীর প্রধান। তারই তীক্ষè বুদ্ধিমত্তায় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে। এবং অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়েছে। বিশে^র বুকে বাংলাদেশ নতুন পরিচয়ে আত্মলাভ করেছে।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বঙ্গবীর ওসমানীর জন্ম শতবার্ষিকী: স্বদেশ ফোরামের ছড়া-কবিতা পাঠ ও আলোচনা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-০৪ ১৩:১৩:৫২

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানীর অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে। বাংলাদেশে বঙ্গবীর একজনই, তিনি হলেন মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক বীর সেনানী জেনারেল এমএজি ওসমানী। মা-মাটি ও লাল সবুজ পতাকার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে যিনি জীবন বাজী রেখেছিলেন, সেই বীরের আত্মজীবনী বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তকে অর্ন্তভূক্ত করা সহ জাতীয় পর্যায়ে মর্যাদা দিতে হবে। তিনি গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন আজীবন। যা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে ইতিহাসে।খবর বাপসনিঊজ। মুক্তিৎাহিনীর সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এমএজি ওসমানীর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্ক এর সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন স্বদেশ ফোরামের ছড়া-কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
গত ১লা সেপ্টেম্বর ২০১৮ শনিবার বিকেলে নিউইয়র্ক এর জ্যাকসন হাইটস এর ইত্যাদি গার্ডেন রেষ্টুরেন্টের ২য় তলায় আয়োজিত ছড়া-কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বদেশ ফোরাম এর সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কবি অবিনাশ চন্দ্র আচার্য। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক হাসানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমদ, বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এডভোকেট শেখ আকতার উল ইসলাম, বাপসনিঊজ এজিটর সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন,বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি পরিষদ ইউএসএ এর সভাপতি নজমুল ইসলাম চৌধুরী,কবি-অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান, বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি পরিষদ ইউএসএ এর সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রহমান ও জালালাবাদ ল’সোসাইটি ইউএসএ-এর সভাপতি এডভোকেট এমাদ উদ্দিন ও বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ছড়াকার মেহেদী কাবুল।
স্বদেশ ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সুফিয়ান আহমদ চৌধুরীর পরিচালনা ও উপস্থাপনায় কবিতা-ছড়া পাঠ ও আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা নূর-ই-আলম বাবু, মুক্তিযোদ্ধা জাফর আলী খান,  সাংবাদিক মুজাহিদ আনসারী, বালাগঞ্জ ওসমানী নগর এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আজিজ আহমদ ছালিক, সমাজসেবী গোলাম কিবরিয়া অনু, ব্যাংকার সিরাজ উদ্দিন আহমদ, সমাজসেবী সৈয়দ সিদ্দিকুল হাসান, ব্যাংকার সৈয়দ মুজিবুর রহমান, কবি দেওয়ান নাসের রাজা, কবি মোহাম্মদ আব্দুল জলিল, কবি হাফিজ উদ্দিন, সমাজসেবী সৈয়দ আলী আশরাফ, কবি আবুল বাশার প্রমুখ। সভাশেষে উপস্থিত সকলকে মিষ্টিমুখে আপ্যায়িত করা হয়।
সবার প্রারম্ভে ১৯৭৫-এর ১৫ আগষ্ট স্বপরিবারে নিহত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, কেন্দ্রিয় কারাগারে চার জাতীয় নেতা, একাত্তর-এর মুক্তিযুদ্ধ ও  ১৯৫২- এর মহান ভাষা আন্দোলনসহ আজ পর্যন্ত সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের স্মরনে সভায় দাঁড়িয়ে  এক মিনটি কাল নিরাবতা পালন করা হয়। শেষে নৈশভোজে সবাইকে আপ্যায়ন করা হয়। 


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

‘সড়ক-হত্যায়’ যুক্তদের দ্রুত বিচার দাবি নিউ ইয়র্ক প্রবাসীদের

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-০১ ১৭:৪৩:৫৪

বাংলাদেশে সড়ক-হত্যায় যুক্ত খুনি ড্রাইভারদের দ্রুত বিচার করে ফাঁসি দেওয়ার দাবি নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে। সচেতন নাগরিক সমাজ আয়োজিত সমাবেশটি ৩১ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়। সড়কে এসব মৃতের মিছিলকে হত্যাকান্ড হিসেবে  বিচার করার দাবি জানান বক্তারা।

নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহ জাহান খানের পদত্যাগ দাবি করা এই সমাবেশের সভাপত্বি করেন প্রবীণ সাংবাদিক  সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ। সাংবাদিক ও নাট্যকার তোফাজ্জল লিটনের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন মুজাহিদ আনসারি, সৈয়দ জাকির আহমেদ রনি, মিথুন আহমেদ এবং গোপাল স্যান্ন্যাল।

সভার সভাপতি  মোহাম্মদ উল্লাহ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, পরিবহন ব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রে যে অরাজকতা এবং দুর্নীতি চলছে তা সরকারকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে। বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া কেউ যেনো গাড়ি চালাতে না পাওে এবং ফিটনেস ছাড়া যেনো কোনো গাড়ি রাস্তায় না নামতে পাওে সে ই ব্যাপােেও সরকারকে কঠোর ব্যাবস্থা নিতে হবে।

কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট মুজাহিদ আনসারি বলেন, জনগনের করের টাকায় বেতন ভুক্ত পুলিশ বাহীনি কোনো সময় এই সরকারের পক্ষে থাকবে পারবে না। তারা যে সরকার আসবে সেই সরকারের কাজ করবে তাই বর্তমান সরকারকে ভাবতে হবে সেই পুলিশকে দিয়ে এই সকল কোমলমতি শিশু-কিশোরদের রক্তাক্ত করা ঠিক হচ্ছে কী না ? এসকল প্রতিবাদী সন্তানরা শহীদ সালাম বরকত এবং জব্বারের উত্তরসূরী। তারা প্রতিবাদ করতে শিখেছে বঙ্গবন্ধু’র থেকে। তাদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত না করে এ সবল হত্যার দ্রুত বিচার করতে হবে।

 বাংলাদেশের  গণজাগরন মঞ্চের অন্যতম সংগঠক সৈয়দ জাকির আহমেদ রনি বলেন, সড়কে বাসগুলো ব্যপক প্রতিযোগীতার কারনেই এসব হত্যার হার বেড়ে চলেছে। সড়ক ব্যাবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে গেছে। এর কারন তারা মুনাফার লোভে কোনো আইন কানুন তোয়াক্কা করছে না। আবার যে সকল দুর্ঘটনা ঘটছে তার বিচার হচ্ছে না। তার সুষ্ঠু বিচার না হওয়ার অন্যতম কারণ পরিবহন শ্রমীকদে নেতা নৌ মন্ত্রী শাহজাহান খান সব সময় তাদের পক্ষ অবলম্বন করে কথঅ বলেন এবং সারা দেশে গাড়ি বন্ধ কওে দেওয়ার হুমকি দেন। সরকারের কাছে আহŸান থাকবে এই লোকটিকে নিয়ন্ত্রন করতে হবে।

সম্মিলিত সংস্কৃতি জোট উত্তর আমেরিকার আহŸায়ক মিথুন আহমেদ বলেন, যে সবল হত্যাকান্ড হয়েছে সরকার একটি ট্্রান্সকম গঠন কওে তার বিচার করতে হবে। ৩জন শিনো কিশে,অর হত্যা এবং তাদেও বিচার চাইতে না দেওয়ার বিষটি খুব অমানবিক। আমাদেও সব বিষয়ের শেষ আশ্রয়স্থল প্রধানমন্ত্রী। আমরা আশঅ করবো শেখ হাসিনা এই বিষয়ে একটি ব্যাবস্থা নিবেন।

গোপাল স্যান্নাল বলেন, দেশেল প্রতিটি ঘওে যখন একজন কওে সড়কে দুর্ঘটনায় মারা যাবেন তখন কী সরকারের টনক নড়বে ? সরকার কোনো আন্দোলন হলেই তাকে দেশ বিরোদী রাজাকার এবং অন্য অনেক কিছ’ দিয়ে কোনঠাসা করার অপপ্রসায় চালায়। এসব কোমলমতি সন্তানদের যেনো কোনো কিছু দিয়ে অপবাদ দেওয়া না হয়।

২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসনের বিপরীত পাশের জিল্লুর রহমান উড়ালসড়কের ঢালের সামনের রাস্তার ওপর জাবালে নূর পরিবহনের তিনটি বাস রেষারেষি করতে গিয়ে একটি বাস রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনের ওপর উঠে পড়ে। এতে দুই শি¶ার্থী নিহত ও নয়জন আহত হয়। নিহত দুই শি¶ার্থী হলো শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম ওরফে রাজীব (১৭) এবং একই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬)।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ভালো ব্যবসার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা : নিউইয়র্কে বিজনেস ডেভোলেপমেন্ট ওয়ার্কশপে বক্তারা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-২১ ১৫:০০:৩৭

‘বিজনেস নেটওয়াকিং গ্রুপ’ আয়োজিত ‘বিজনেস ডেভোলেপমেন্ট ওয়ার্কশপ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, ভালো ব্যবসা করতে হলে সবার আগে দরকার দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা আর সুন্দর ব্যবস্থাপনা। পাশপাশি ছোট-খাটো বিষয়গুলোকেও গুরুত্বের সাথে বিচেনা করতে হবে। ক্রেতাদের মন জয় করে, ব্যবসা ধরে রেখে সাফল্য অর্জন করতে হবে। সেই সাথে সংশ্লিস্ট ব্যবসার বিষয়ে অভিজ্ঞতাও থাকা জরুরী।
নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে গত ১৯ জুলাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত ব্যতিক্রমী এই সেমিনারে মডারেটর ছিলেন আইনজীবি এন মজুদার। সেমিনারে বিষয় ভিত্তিক আলোচনায় মূল আলোচক ছিলেন ইয়াকুব এ খান সিপিএ। এছাড়াও আলোচক ছিলেন এইএবি ব্যাংক-এর অ্যাসিস্টেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাইল আহমেদ, নিউইয়র্কের হার্টল্যান্ড পেমেন্ট সিস্টেমস-এর রিলেশনশীপ ম্যানেজার রহমান আরশাদ ও ম্যাস মিউচ্যুয়াল মেট্রো নিউইয়র্ক-এর ফাইন্যান্সিয়াল প্রফেশনাল মোহাম্মদ গাফফার।
সেমিনারে ব্যবসা সংক্রান্ত সকল বিষয়ে বিশেষ করে ব্যবসার ধরন, কেন-কেমন ব্যবসা করবেন, পরিকল্পনা, ব্যবসায় পুঁজি, ব্যাংক লোন, এ্যামপ্লয়ী, কাস্টমার সার্ভিস, লোকেশন, আয়-ব্যয় তথা হিসাব-নিকাশ, ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়াও ব্যবসার খুটিনাটি বিষয়গুলোও বক্তারা তুলে ধরেন। পরে উপস্থিত ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসার অভিজ্ঞতা কথাও তুলে ধরেন এবং ছাড়াও প্রশ্ন-উত্তর পর্বে অংশ নেন। অর্ধ শতাধিক ব্যবসায়ী সেমিনারে যোগ দেন।   
সেমিনারে ইয়াকুব এ খান সিপিএ প্রজেক্টরের মাধ্যমে ব্যবসার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, ভালো ব্যবসা আর ব্যবসায় সফল হতে হলে দরকার ব্রড মাইন, অভিজ্ঞতা, সুষ্ঠু পরিকল্পনা, বিকল্প অপশন, ভালো লোকেশন, ভালো প্রেজেন্টেশন, ভালো ব্যবস্থাপনা, ছোট ছোট বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া, কাস্টমার সার্ভিস, হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা, টিম ওয়ার্ক, ক্রিয়েটিভ চিন্তা, মালিক-শ্রমিক-এর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, ক্রেতাদের সাথে সুসম্পর্ক জোরদার ও সর্বোচ্চ সেবা প্রদান, নিজেকে আপগ্রেড রাখা ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন হওয়া আর আধুনিক সিস্টেমে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপশি ব্যবসায় সময় দেয়া। এছাড়াও যেকোন ব্যবসা শুরুর আগে সেই ব্যবসা সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা থাকাও জরুরী। তিনি বলেন, সকল বিষয়ের মতো ব্যবসায় যেমন সমস্যা আছে, তেমনী সমাধানও আছে। ব্যবসা শুরুর আগে তিনি অভিজ্ঞ ব্যক্তি ছাড়াও আইনজ্ঞদের সাথে খোলামেলা পরামর্শ করার জন্য সংশ্লিস্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
মোহাম্মদ এন মজুমদার বলেন, ব্যবসায় লাভবান হওয়া যেমন সহজ, তেমনী লজ হওয়ার নানা সুযোগ রয়েছে। সঠিক সময়ে সঠিক চিন্তা না করে বা সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবসা শুরু করা ঠিক নয়। বিশেষ করে ব্যবসার আইনকানুন জেনেশুনেই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় নিয়োজিত হওয়া জরুরী। তিনি বলেন, অনেক সময় আমরা একে অন্যের দেখা-দেশী ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ করে পরবর্তীতে সফল হতে পারি না। এমনটি করা ঠিক নয়। যেকোন ব্যবসার জন্যই হোম ওয়ার্ক দরকার। তিনি বলেন, কোন প্রতিষ্ঠানে ১২৫ জনের নীচে এমপ্লয়ী থাকলে সেটি স্মল বা ক্ষুদ্র ব্যবসা হিসেবে গন্য। সেই হিসেবে অধিকাংশ প্রবাসী বাংলাদেশী স্মল ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি বলেন, স্মল ব্যবসায়ীদের নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। এসব জেনে সংশ্লিস্টদের সেবা নেয়া উচিৎ।
সেমিনারে অন্যান্য আলোচকগণ বলেন, একজন ব্যবসায়ীকে ভালোভাবে ব্যবসা করতে হবে সংশ্লিস্ট ব্যবসা সম্পর্ক সমস্যক ধারণার পাশাপাশি অভিজ্ঞতা থাকা দরকার। সেই সাথে মোটা অংকের পুঁজি বিনিয়েগের পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বা ব্যবসা ঠিকে থাকা পর্যন্ত মূলধন থাকা বা বিকল্প পথ থাকা জরুরী। এক্ষেত্রে ব্যাংক লোন বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। কিন্তু চাইলেই যে ব্যাংক লোন পাওয়া যাবে, তার কোন নিশ্চয়তা নেই। এজন্য প্রয়োজন ভালো ক্রেটিট স্কোরের পাশাপাশি ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা। কেননা, ব্যাংক লোন দেয়ার আগে দেখতে চায় তার ক্লাইন্ট অভিজ্ঞ কিনা এবং লোনের অর্থ যথা সময়ে ফেরৎ দেয়ার মতো তার যোগ্যতা আর পরিকল্পা আছে কিনা। আলোচকগণ বলেন, ব্যবসায় সততা থাকাও জরুরী। কেনা অসৎভাবে ব্যবসা পরিচালনায় সবসময় মারত্বক ঝুঁকি’র পাশাপাশি আইনী ঝুট-ঝামেলাও রয়েছে। বিষয়গুলো মাথায় রেখেই ব্যবসায় এগিয়ে আসা দরকার বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ‘বিজনেস ডেভোলেপমেন্ট ওয়ার্কশপ’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজনে বিশেষ সহযোগিতায় ছিলো এইএবি ব্যাংক।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কে বাংলাদেশী জার্মানী কবি নাজমুন নেসা পিয়ারি সংবর্ধিত

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০৯ ১১:৫৯:৫০

নিউইয়র্কে বাংলাদেশী জার্মানী কবি নাজমুন নেসা পিয়ারিকে বর্র্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। সাহিত্য সংগঠন সাজুফতা সাহিত্য ক্লাব নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় গত ৫ই জুলাই বৃহস্পতিবার ব্রঙ্কসের আল আকসা পার্টি হলে এ সংবর্ধনা প্রদান করে। সাজুফতা সাহিত্য ক্লাব নিউইয়র্ক’র সভাপতি কবি জুলি রহমানের সঞ্চালনায় ভিন্ন আমেজের এ অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল কবিতা পাঠ, কবিকে নিয়ে আলোচনা ছাড়াও সাহিত্য চর্চার প্রাসঙ্গিক নানা বিষয়। এসময় কবি নাজমুন নেসা পিয়ারির সঙ্গে মূল মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন কবি ড. দলিলুর রহমান, টিভি ব্যক্তিত্ব বেলাল বেগ, কবি এবি এম সালেহউদ্দীন।
অতিথিদের মধ্যে কবি নাজমুন নেসা পিয়ারির কর্মময় জীবন ও কবিতা বিষয়ক কথা বলেন  আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন সভাপতি ও বাপসনিউজ এডিটর হাকিকুল ইসলাম খোকন, ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম এবং সাপ্তাহিক জনতার কন্ঠ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম।সংবর্ধিত কবিকে পুষ্প স্তবক অর্পন করেন তিতাশ মাল্টি সার্ভিসেস’র কর্ণধার মেহের চৌধুরী। উত্তরীয় পরিয়ে দেন লেখিকা নাসরীন চৌধুরী। কবির জীবনি পাঠ করেন আবৃত্তিকার ছন্দা বিনতে সুলতান।
অনুষ্ঠানে কবি শহীদ কাদরীর কবিতা আবৃত্তি করেন নিউইয়র্কের স্বনাম খ্যাত বাচিক শিল্পী ক্লারা রোজারিও, কবি নাজমুন নেসা পিয়ারির কবিতা পাঠ করলেন ড. দলিলুর রহমান ও মাকসুদা আহমদ। আসরে ভাবগাম্ভীর্য ও তন্ময়তা ছড়িয়ে দিলো কবির কবিতাটি। ড. দলিলুর রহমানের কবিতা আবৃত্তি করেন সাভার কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক ও সাহিত্য সমালোচক মোঃ ইলিয়াস হোসেন। কবি জুলি রহমানের কবিতা আবৃত্তি করে কবি কন্যা সাবিহা রহমান তারিন। কবি এবিএম সালেহউদ্দীনের কবিতা আবৃত্তি করেন ছন্দা বিনতে সুলতান। স্বরচিত কবিতা পড়লেন কবি নাসরীন চৌধুরী, জুঁই ইসলাম, মাসুম আহমদ, কামরুন নাহার রীতা, ছন্দা বিনতে সুলতান, মেহের চৌধুরী, আজিজুল হক মুন্না ও কবি বেলাল বেগ।
কবি নাজমুন নেসা পিয়ারির কর্মময় জীবন ও কবিতা বিষয়ক কথা বলেন কবি ড. দলিলুর রহমান, বেলাল বেগ, এবিএম সালেহ উদ্দীন, কমিউনিটি এক্টিিিভস্ট ফজলুর রহমান নন্দী প্রমুখ।
অতিথিদের মধ্যে আরো ছিলেন লোকমান হোসেন, কাজী রুবি, সাদিয়া আফরীন তন্বী, নাসরীন মিতু, রতœা ভৌমিক, কুশিলব ভৌমিক প্রমুখ।
কবি নাজমুন নেসা পিয়ারি তার বক্তব্যে জার্মানী মূলধারায় বাংলা মিডিয়ার অন্তরভূক্তিসহ সেখানকার নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন। শেষে নৈশ ভোজে জমপেশ আড্ডায় সবাই আরো একবার প্রাণবন্ত হয়ে ওঠেন।
অনুষ্ঠানটির বিশেষ বিশেষ অংশ ‘ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম’ এর ফেইসবুকে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

প্রবাসী বাংলাদেশি সঙ্গীত শিল্পী কৃষ্ণা তিথি’র নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট সম্মাননা লাভ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০৫ ১৪:২৯:৫৭

নাম তার কৃষ্ণা তিথি। পুরো নাম কৃষ্ণা তিথি খা। প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ পেরিয়ে প্রবাসের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-এর তালিকাভুক্ত সঙ্গীত শিল্পী। দেশের অন্যতম টিভি ‘চ্যানেল আই’-এর  সেরাকন্ঠী। দেশ পেরিয়ে প্রবাসের সঙ্গীত জগতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ ইতিমধ্যেই পেয়েছেন একাধিক পুরষ্কার/অ্যাওয়ার্ড। তিনি অতি সম্প্রতি লাভ করলেন নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলম্যান আর ষ্টেট সিনেটর প্রদত্ত সম্মাননা। প্রবাসে একদিনে মূলধারার দু’জন জন প্রতিনিধির কাছ থেকে সম্মাননা পাওয়া একমাত্র শিল্পী কৃষ্ণা তিথি। এই সম্মাননা পেয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় শিল্পী কৃষ্ণ বলেন, ‘এই সম্মান আমার কাজকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমাকে উৎসাহিত করলো। তিনি বলেন, আমি আজীবন বাংলা গানের মাধ্যমে বাংলা ভাষাভাষী সকল মানুষকে আরো আনন্দ দিতে চাই। নিজেকে যোগ্য শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’ এজন্য তিনি সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।  
কৃষ্ণা তিথি আরো বলেন, সব সম্মানই আনন্দের, গর্বের, গৌরবের। জীবনে অনেক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি, পুরস্কার পেয়েছি। আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিকের কাছ থেকে আজ যে সম্মান পেলাম তা সারাজীবন মনে রাখার মতো। তিনি সাম্মাননা দেয়ায় ষ্টেট সিনেটর লুইস সেপুলভেদা ও সিটি কাউন্সিলম্যান রুবিন দিয়াজ সহ ব্রঙ্কস বাংলা মেলা আয়োজনকারীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। খবর ইউএনএ’র। 
নিউইয়র্কের অন্যতম বাংলাদেশী অধ্যুষিত ব্রঙ্কসে বাংলাদেশী আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশন (বিএসিএ)-এর উদ্যোগে গত ২৪ জুন আয়োজিত পথমেলায় কৃষ্ণা তিথির হাতে সম্মাননা দুটি তুলে দেয়া হয়। সাইটেশনটি হাতে তুলে দেয়ার সময় সংশ্লিস্টরা বলেন, কৃষ্ণা তিথি একজন উঁচু মাপের শিল্পী। তিনি বাংলা গান দিয়ে প্রবাসের বাংলাদেশীদের উজ্জ্বীবিত করছেন। তার এ অবদান অনস্বীকার্য। তিনি যাতে ভবিষ্যতেও তার এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারেন সে উৎসাহ দিতে এই সম্মাননা দেয়া হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা ইউএনএ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে শিল্পী কৃষ্ণা তিথি জানান, তার জন্ম গোপালগঞ্জ। বাবা তাপস কুমার খা’র বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন-এর সিনিয়র আর্টিস্ট। বাবার কাছে সেই ছোট বেলায় অর্থাৎ সাড়ে তিন বছর বয়সে তার গানে হাতেখড়ি। মা নিভা রানী খাঁ ছাড়াও তার পরিবারে তারা দুই বোন আর এক ভাই। তারাও তার গানের প্রেরণার অংশ। জানান, বড় বোনের গান শেখা আর গাওয়া দেখে সে নিজেও গান গাইতে শুরু করেন। পরবর্তীতে গান শিখেছেন বাংলাদেশের সনামধন্য ‘নজরুল একাডেমী’ আর ‘ছায়ানট’ থেকে। তবে তার গানের শিক্ষা গুরু হলেন ওস্তাদ জাকির হোসেন খাঁ।
শিল্পী কৃষ্ণা তিথি স্কুল জীবন থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় সহ সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে অর্জন করেছেন একাধিক পুরষ্কার আর সম্মান। গান গেয়ে অধিকার করেছেন শীর্ষ স্থান। বিটিভি’র নতুন কুড়ি অনুষ্ঠানেও রেখেছেন সাফল্য। বাংলাদেশের স্কুল-কলেজের শিক্ষাজীবনের সময় গান গেয়ে সম্মানিত হন ‘বাংলাদেশ চিল্ড্রেন একাডেমী মিউজিক্যাল কম্পিটিশন’, ‘ন্যাশনাল প্রাইমারী এডুকেশন এন্ড কালচারাল উইক কম্পিটিশন’, বাংলাদেশ ব্যাংক আইডিয়াল হাই স্কুলের ‘অ্যানুয়াল স্পোর্টস এন্ড কালচারাল কম্পিটিশন’, ‘ন্যাশনাল চিল্ড্রেন একাডেমী কম্পিটিশন’, ‘উমেশ কালচারাল সোসাইটি’, ‘ঢাকা ইন্টার সিটি এডুকেশনাল এন্ড কালচারাল উইক কম্পিটিশন’,‘ইস্পাহানী গার্লস হাই স্কুল মিউজিক্যাল কম্পিটিশন’, ‘ঢাকা ইন্টার সিটি কালচারাল ফোরাম’,‘ন্যাশনাল নতুন কুঁড়ি’, ‘ভিকারুননেসা নুন কলেজ’ প্রভৃতি প্রাতষ্ঠান থেকে। ২০০৮ সালে অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন ‘আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সাংষ্কৃতিক প্রতিযোগিতা’য়। সর্বশেষ ২০০৯ সালে দেশের অন্যতম টিভি ‘চ্যালেন আই’-এর  সেরাকন্ঠ-২০০৯ এর সেরা চার জনের একজন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিথি। এরপর ২০১০ সালে অর্জন করেন চ্যানেল আই-এর আরো একটি অ্যাওয়ার্ড। একই বছর ফাহিম মিউজিক-এর ব্যানারে প্রকাশিত হয় তার প্রথম সলো অ্যালবাম ‘মিক্স সালাদ’। ২০১২ সালে লাভ করে ন্যাশনাল শিল্পকলা একাডেমী পুরষ্কার আর ন্যাশাল ফিল্ম এন্ড কালচারাল অ্যাওয়ার্ড। একই বছর কাতারে আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল মিউজিক ফেস্টিভ্যাল-এ যোগ দিয়ে তার গানে পরিধি ছড়িয়ে দেন। ২০১৩ সালে গান পরিবেশন করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন মেরিল-প্রথম আলো স্টার অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে। পরবর্তীতে প্রবাস জীবনে ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ফোবানা সসেম্মলন সহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে সুনাম অর্জন এবং ফোবানা, এনআরবি, ইন্টারন্যাশনাল মিউজিক ফেস্টিভ্যাল ইন ফ্লোরিডা, জেমিনি প্রভৃতি অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডাবল মাস্টার্স ডিগ্রীধারী শিল্পী কৃষ্ণা তিথি জানান, প্রবাসে কর্মের পাশাপাশি তিনি সঙ্গীত ধরে রাখতে চান। প্রতি বছর তার নিজস্ব অ্যালবাম প্রকাশ করতে চান। আরো চান প্রবাসের বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি তথা বাংলা গানকে আরো সমৃদ্ধ করতে।  


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

শেখ জামাল উদ্দিন আহমেদ-এর ২টি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান ২৪ জুন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৬-২০ ১৪:০৪:০৬

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী গ্রন্থ প্রনেতা বাংলাদেশের খুলনা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক বাংলার খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা, প্রকাশ ও সম্পাদক শেখ জামাল উদ্দিন আহমেদ এর দুটি বইয়ের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে ২৪ জুন রবিবার বিকাল ৫টায় নিউইয়র্কের বাঙ্গালী অধ্যাষিত জ্যাকসন হাইটসের স্কলাষ্টিকা টিউটেরিয়াল সেন্টারে। খামার বাড়ীর দোতালায়। শেখ জামাল উদ্দিন আহমেদ এর ২০১৮ সালের বই দি ওয়ে অব জার্নালিজম ইংরেজীতে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশক ঢাকার গৌরব প্রকাশনা। দি ওয়ে অব জার্নালিজম বইয়ের কন্টিবিউটিং এডিটর হিসেবে রয়েছেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজি ডিএফপি ইস্থিয়াক হোসেন এবং নিউজার্সী ষ্টেট সাবেক জজ এটর্নী এন ডিকোডি। এই বইটি উৎস্বর্গ করা হয়েছে শহীদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান এবং ১৯৭১-এর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে। এবং “ছোটদের কবি কাজী নজরুল ইসলাম” বইটিও ঢাকার গৌরব প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এই বইটি উৎস্বর্গ করা হয়েছে বাবা ও মাকে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক, কবি , সাহিত্যিক, মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রবাসীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সকল প্রবাসীদের স¦াদর আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আয়োজকদের পক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যুক্তরাষ্ট্র কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার আবুল মুকিত চৌধুরী , আইন অন বাংলাদেশ টিভি পরিচালক ও সাপ্তাহিক সন্ধান-এর উপদেষ্ঠা সম্পাদক রিমন ইসলাম এবং বাপসনিউজ এডিটর , আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিষ্ট হাকিকুল ইসলাম খোকন।খবর বাপসনিঊজ। উল্লেখ্য, শেখ জামাল উদ্দিন আহমেদ রচিত ও প্রকাশিত বইগুলি হলো ২১ আগষ্ট এর রক্তাক্ত স্মৃতি ,“দৃষ্টিতে মোর সৃষ্টি”, “স্বাধীনতার মহানায়ক”, “এক বিশ^ এক খন্ড জমি মাতৃভূমি”,“ওয়ান ওয়াল্ড ওয়ান লেনড মাদার লেনড” তিনি শুধু বহু গ্রন্থের প্রণেতাই নন শেখ জামাল রচিত ও সুরারোপিত বাংলা,হিন্দি ও গজলের অনেক গুলো সিডি ও ভিডিও রয়েছে।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

স্প্যানিশ দুর্বৃত্তের গুলিতে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি যুবক নিহত

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৬-০৯ ০৫:৩৭:৪১

স্প্যানিশ যুবকের গুলিতে নিউ ইয়র্কে আরিফুল ইয়াকুব রনি নামক ২৪ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।  রনির পৈতৃক বাড়ি ফেনীর সোনাগাজি উপজেলায়।  তিনি মা-বাবা-বোনদের সাথে বাংলাদেশি অধ্যুষিত চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এলাকায় বসবাস করছিলেন।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রুকলীনে ফ্লাটবুশ এলাকায় রনি নিহত হন।  এসময় ছুরিকাঘাতে ২৩ বছর বয়সী আরেক বাংলাদেশি আহত হন।  তাকে নেয়া হয়েছে মায়মনিডেস হাসপাতালে।  সেই যুবকের নাম এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

নিউইয়র্কের পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ৫৫০ ওসেন এভিনিউতে অবস্থিত এপার্টমেন্ট ভবনের সামনে অন্তত ৪ যুবক ঝগড়ায় লিপ্ত হয়।  এক পর্যায়ে রনিকে গুলি করা হয়।  একই সময়ে আরেক যুবক ছুরিকাঘাত করে রনির সাথে থাকা আরেক বাংলাদেশিকে।

সংবাদ পেয়ে এ্যাম্বুলেন্স এসে রনিকে নিকটস্থ কিংস কাউন্টি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রনির নামাজে জানাজা হবে ৯ জুন স্থানীয় সময় শনিবার বাদ যোহর চাচ-ম্যাকডোনাল্ডে দারুর জান্নাহ মসজিদে।

রনির খালু ফরহাদ হোসেন জানান, রনি ট্যাক্সি চালিয়ে লেখাপড়ার খরচ নির্বাহ করতেন।  কী কারণে ওই এপার্টমেন্ট ভবনে গিয়েছিল এবং তার সাথে থাকা যুবকটিই বা কে, তা এখন পর্যন্ত আমরা জানতে পারিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা করার সাথে সাথে গ্রেফতারের প্রক্রিয়াও চলছে।  সর্বসাধারণের সহায়তা চেয়ে পুলিশ একটি হটলাইন চালু করেছে-১-৮০০-৫৭৭-৮৪৭৭।

এ ঘটনায় প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।  অনেকে মনে করছেন, রনি এবং তার বন্ধুর সাথে স্প্যানিশদের কোন দ্বন্দ্ব ছিল। সে কারণে ওরা এপার্টমেন্টে গিয়ে ওরা তাদেরকে আক্রমণ করে।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি ইমাম হত্যার দায়ে মোরেলের যাবজ্জীবন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৬-০৮ ১৪:৫১:৩৫

যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্ক রাজ্যের কুইন্সে এক মসজিদের ইমামসহ দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত অস্কার মোরেলকে (৩৭) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে রাজ্যের কুইন্স আদালতের বিচারক এ রায় দেন। এর আগে গত ২৩ এপ্রিলে আসামী অস্কার মোরেলকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় পর এ হত্যা মামলার রায় হলো।

নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, আদালতের বিচারক গ্রেগরি লাসাক রায় প্রদানকালে এ হত্যাকাণ্ডকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গত ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট ওজোন পার্কের আল ফুরকান মসজিদের ইমাম মাওলানা আকঞ্জি (৫৫) ও তার সহকারী তারা উদ্দিন (৬৪) জোহর নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে গুলিবিদ্ধ হন । নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষনা করেন।

হত্যাকাণ্ডের একদিন পর অর্থাৎ ১৪ আগস্ট রাতে অস্কার মোরেলকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ব্রুকলিনের বাসিন্দা ৩৭ বছরের মোরেল খুনের কথা অস্বীকার করে বলেছেন, তার কাছে কোনো বন্দুক ছিল না।

তবে সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে শুনানি শেষে আদালত মোরেলকে দোষী সাব্যস্ত করে উক্ত রায় প্রদান করেন।

এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্ক প্রবাসী কবি রাশিদুল হক চিশতির ইন্তেকাল

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৬-০৩ ১৬:৩৯:৩১

প্রবীণ প্রবাসী, কমিউনিটির পরিচিত মুখ কবি রাশিদুল হক চিশতী আর নেই। আজ শনিবার (২ জুন) বেলা ২টা ১৫মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নাল্লিাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজেউন)। তার বয়স হয়েছিলো ৮৭ বছর। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি ৩ পুত্র ও ৪ কন্যা সহ বহু আতœীয়-স্বজন রেখে যান।

নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় বসবাসকারী মরহুম চিশতীর পুত্র মনসুর কবীর ইউএনএ প্রতিনিধিকে জানান, বাবা রাশিদুল কবীর চিশতী নিউইয়র্কের জ্যামাইকার হাইল্যান্ড এভিনিউর বাসায় বসবাস এবং বাধ্যক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। গত ১ জুন শুক্রবার বিকেলে তিনি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে সাথে সাথে ৯১১ কল করে তাকে নিকটবর্তী কুইন্স জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগ থেকে আইসিইউ-তে পর্যবেক্ষণে রেখে সেবা দেয়া হয়। কিন্তু তার অবস্থার অবনতি হয় এবং আজ শনিবার বেলা ২টা ১৫ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন।

মরহুম কবি চিশতীর নামাজে জানাজা জ্যামাইকা মসলিম সেন্টারে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। রোববার তার মরদেহ নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডস্থ ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল কবর স্থানে দাফন করা হবে বলে মনসুর কবীর জানান।

কবি রাশিদুল হক চিশতী ব্যক্তিগত জীবনে একজন হাসি-খুশী মানুষ ছিলেন। তিনি সনেট কবিতা লিখতে ভালোবাসতেন। তার লেখা নিয়ে একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তিনি নিউইয়র্কের বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন।

উল্লেখ্য, মরহুম চিশতী প্রবাসের পরিচিত মুখ আনিসুল কবীর জাসিরের পিতা। জাসির বর্তমানে ঢাকায় বসবাস এবং ঢাকা আহসানিয়া মিশনের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কবি চিশতীর ইন্তেকালের খবরে কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কে শহীদ জিয়ার ৩৭তম শাহাদৎ বার্ষিকী পালন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-৩১ ১৫:৫৪:৪৭

শহীদ রাষ্ট্রপতি, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৭তম শাহাদৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি সহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন নিউইয়র্কে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল করেছে। এছাড়াও জ্যাকসন এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই প্রথ দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ইফতারী পানি ও বক্স বিতরণ করেছে। গত ৩০ মে বুধবার ছিলো শহীদ জিয়ার শাহাদৎ বার্ষিকী। উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের এই দিনে তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অবস্থানকালে সেনাবাহিনীর বিদ্রোহী কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত হন। দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি সহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে বিস্তারিত কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়।
শহীদ জিয়ার শাহাদৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল ও ছাত্রদল সহ দলের অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যৌথ উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। গত ২৯ মে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জ্যাকসন হাইটসের পালকী পার্টি সেন্টারে এক মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক ডেপুটি মেয়র আব্দুস সালাম প্রধান অতিথি ছিলেন। খবর ইউএনএ’র।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. মজিবুর রহমান মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মাঝে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু। মাহফিলে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা ফায়েক উদ্দিন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহমেদ।
এই অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন হবে না। শেখ হাসিনার সরকার ভেবেছিলো খালেদা জিয়াকে আটক করে বিএনপি ভেঙে ফেলা হবে, বিএনপিকে দূর্বল করা যাবে। কিন্তু সরকারের এই ধারণা ভুল। বিএনপি আগের চেয়ে আরো অনেক শক্তিশালী। বিএনপি’র সমস্যা সরকার আমাদের কথা বলার অধিকার দিচ্ছে না। জুলুম-নির্যাতন, হামলা-মামলা করে বিএনপিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে।
সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মুক্তিযোদ্ধা কামাল সাঈদ মোহন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, সামসুল ইসলাম মজনু, হেলাল উদ্দিন, নিয়াজ আহমেদ জুয়েল, শরীফ আহমেদ লস্কর, পারভেজ সাজ্জাদ, যুবদল সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী, যুবদল নেতা আহবাব হোসেন খোকন, কেন্দ্রীয় জাসাস-এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক গোলাম ফারুক শাহীন, মহিলাদল নেত্রী মাহমুদা শিরিন সহ বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতা-কর্মী এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে হোপ বাংলাদেশ এল এল সি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (যুক্তরাষ্ট্র শাখা) ৩০ মে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জ্যাকসন হাইটসের কাবাব কিং রেষ্টেুরেন্টে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. জিলানী ওয়ার্সী ও  হোপ বাংলাদেশ-এর কর্ণধার জ্যাকব মিল্টন। এর আগে আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাগত জানান বিএনপি নেত্রী নীরা রব্বানী ও আবু সুফিয়ান এবং শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইমরান কাজী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন ‘ডিক্টেটর’। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বৈর শাসক আর  ডিক্টেটরদের মতো করে দেশ পরিচালনা করছেন। নিজের স্বার্থ রক্ষা আর ক্ষমতার জোরে গুম, খুন, হত্যার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছেন। শেখ হাসিনা সরকারের অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রবাস থেকেও প্রবাসী বাংলাদেশীদের ‘ভয়েজ রেইজ’ করতে হবে।
জ্যাকব মিল্টন তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, সত্য কথা বলার জায়গা কম। শেখ হাসিনা বাংলাদেশ নামের স্বাধীন দেশ ভারতের কাছে তুলে দিচ্ছে। সরকার ভারতের সহযোগিতায় বাংলাদেশের মুসলমানদের টেরোরিষ্ট বানাচ্ছে। শেখ হাসিনার ভিষণ নেই, ক্ষমতায় থাকতে হলে যা করা দরকার, তিনি তাই করছেন বলে অভিযোগ করেন।
অপরদিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই প্রথমবারের মতো দোয়া ও ইফতারী বক্স বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ইফতারী বক্স বিতরণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক ডেপুটি মেয়র আব্দুস সালাম।
জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর সভাপতি মীর নিজামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দোয়া ও ইফতারী বক্স বিতরণ অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ জিয়ার বিদেহী আতœার শান্তি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি সহ দেশ ও দেশবাসীর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মমিনুল ইসলাম। দলমতের উর্ধ্বে এই অনুষ্ঠান আয়োজনে ছিলেন গিয়াস উদ্দিন, আবুল কাশেম, দেওয়ান মনির, আমানত হোসেন আমান, মনিরুল ইসলাম মনির, শাহাদৎ হোসেন রাজু, শফিকুল ইসলাম, আব্দুর রহমান বিশ্বাস, এএসএম মইনুল করীম টিপু, সেলিম রেজা, মফিজুল ইসলাম, মফিজুর রহমান প্রমুখ।
এসময় উল্লেখ্যযোগ্য ব্যক্তির মধ্যে জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলম নমি সহ মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা গিয়াস আহমেদ, শরাফত হোসেন বাবু, জসিম ভূইয়া, রফিকুল ইসলাম ডলার, মাকসুদুল হক চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম লিটন, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা এম এ বাতেন, যুবদল নেতা জাকির এইচ চৌধুরী, আবু সাঈদ আহমেদ, রেজাউল আজাদ ভূইয়া, যুক্তরাষ্ট্র জাসাস-এর সভাপতি আবু তাহের, নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান আশরাফ, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আসিফ বারী টুটুল, শাকিল মিয়া, মোস্তাক আহমেদ, রাহিদ মান্নান তালুকদার লেলিন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ভূঁইয়া (মিল্টন ভূঁইয়া) পরে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে রোজাদার ছাড়াও দলমত নির্বিশেষে দেশী-বিদেশী সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ১০০০ প্যাকেট ইফতারী বক্স পানির বোতল সহ বিতরণ করা হয়।
ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানের শুরুতেই আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীদের পক্ষ থেকে বিগত কয়েক বছর ধরে ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমান মৃত্যুবার্ষিকী ১৫ আগষ্টে যেমন তবারক বিতরণ করার কর্মসূচী নেয়া হয়, তেমনী দেশের জাতীয় নেতাদের প্রতি সম্মান রেখেই দলমতের উর্ধ্বে এবার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ইফতারী বক্স বিতরণ করার কর্মসূচী নেয়া হয়। আর এই কর্মসূচী সফল করতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সার্বিক সাহায্য ও সহযোগিতা করার জন্য ব্যবসায়ী সহ পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে আব্দুস সালাম বলেন, এটা একটা ভালো ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। দলমতের উর্দ্ধে জাতীয় নেতাদের সম্মান জানানো উচিৎ। আর প্রবাসের এই শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি বাংলাদেশে চালু করতে পারলে জাতিই উপকৃত হবে, দেশের গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে পারষ্পারিক শ্রদ্ধাবোধের রাজনীতির বড় প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র চাই। সুষ্ঠু, অবাধ আর নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই।
এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউএসএ ইনক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৭তম শাহাদৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে ৩০মে সন্ধ্যায় ব্রুকলীনের গ্রীন হাউজ রেষ্টুরেন্টে আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল-এর কর্মসূচী গ্রহণ করে। সংগঠনের সভাপতি মৌলভী মোহাম্মদ ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২৭ ১২:৪৫:৪০

সাংবাদিকদের মধ্যকার ঐক্য আর সম্প্রীতির বন্ধন আরো জোরদার করার অঙ্গীকারে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর এবং সৌহর্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইনক’র বার্ষিক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।  পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে সিটির ফ্রেসমেডোস্থ আলীবাবা রেষ্টুরেন্টে গত ২৫ মে শুক্রবার সন্ধ্যায় এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিল পরিচালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশন-এর বার্তা সম্পাদক শিবলী চৌধুরী কায়েস। অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন ক্লাবের কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও ইয়র্ক বাংলা সম্পাদক রশিদ আহমেদ। এছাড়াও সভাপতি বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ সম্পাদক ক্লাবের নতুন সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন।

ইফতার মাহফিলে নিউইর্কের বিভিন্ন বাংলা প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার প্রায় সকল সম্পাদক/পরিচালক এবং সাংবাদিকগণ সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন। ফলে প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল সাংবাদিকদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। খবর ইউএনএ’র।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মিডিয়ার সম্পাদকদের মধ্যে সাবেক এমপি ও সাপ্তাহিক ঠিকানা’র সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি/ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এম এম শাহীন, সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও সাপ্তাহিক আজকাল সম্পাদক মনজুর আহমদ, সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক এবং টাইম টিভি’র সিইও আবু তাহের, সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক দেশবাংলা/বাংলা টাইমস সম্পাদক ডা. চৌধুরী সারোয়ারুল হাসান, সাবেক সভাপতি ও বর্ণমালা সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক দেশকন্ঠ সম্পাদক দর্পণ কবীর, সাপ্তাহিক আজকাল-এর প্রধান সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ জিকো, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার। 

এছাড়া প্রেসক্লাবের কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের উপদেষ্টা ও সাপ্তাহিক বাংলাদেশ-এর উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু, উপদেষ্টা নিনি ওয়াহেদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন, ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও হককথা/ইউএনএ সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র বার্তা সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সাপ্তাহিক জনতার কন্ঠ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মমিনুল ইসলাম মজুমদার, সাপ্তাহিক দেশবাংলা’র নির্বাহী সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, টাইম টেলিভিশন-এর অন্যতম পরিচালক সৈয়দ ইলিয়াস খসরু, আজকাল-এর নির্বাহী সম্পাদক ও যমুনা টিভির প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি হাসানুজ্জামান সাকী, সাংবাদিক, লেখক ও কলামিষ্ট ডা. সজল আশফাক, সাংবাদিক আজাদ শিশির, সাংবাদিক আবিদুর রহীম, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ-এর চীফ রিপোর্টার মোহাম্মদ সোলায়মান, সাংবাদিক মোহাম্মদ আরিফ, টাইম টেলিভিশনের দিদার চৌধুরী, মেহেরুন্নেসা জোবায়দা, সামিউল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন বাবু, নিউজ প্রেজেন্টার সাদিয়া খন্দকার, বাংলা মেইল-এর প্রতিনিধি মোহাম্মদ সোলায়মান এবং সাপ্তাহিক আওয়াজ সম্পাদক শাহ আহমেদ সাজু।  

অপরদিকে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শওকত ওসমান রচি, অপরাংশের সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক ইত্তেফাক ও সাপ্তাহিক বাঙালীর বিশেষ প্রতিনিধি শহীদুল ইসলাম, ফটো সাংবাদিক নিহার সিদ্দিকী ও এ হাই স্বপন, ভোয়া’র নিউইয়র্ক প্রতিনিধি আকবর হায়দার কিরণ, সাংবাদিক ইমরান আনসারী, টাইম টেলিভিশনের ব্রডকাস্ট ইঞ্জিনিয়ার নাজিম উদ্দিন, ভিডিও এডিটর (এনসিএ) এন্থনী গঞ্জালেস, বাংলা পত্রিকা’র আব্দুর রহমান, সাংবাদিক আলমগীর হোসেন বেপারী, টাইম টেলিভিশনের নুসরাত তিসাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে বিশিষ্ট নাট্যাভিনেত্রী রেখা আহমদ, প্রখ্যাত ফটো সাংবাদিক লুৎফর রহমান বেনু, ডা. এনামুল হক, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুর রহীম হাওলাদার, খানস টিউটোরিয়াল-এর চেয়ারপার্সন নাঈমা খান, সোনালী এক্সচেঞ্জ-এর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট/সিইও জহিরুল ইসলাম, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা এবিএম ওসমান গণি,  ফার্মাসিস্ট মোস্তাক আহমেদ, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জন ফাহিম, উৎসব ডট কম-এর সিইও রায়হান জামান ও মার্কেটিং ডিরেক্টর সৈয়দ মোস্তফা আল আমীন রাসেল, বিশিষ্ট রাজনীতিক গিয়াস আহমেদ, জেবিবিএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পরিচালক আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম, বাংলাদেশ সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক আহসান হাবীব, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনিকা রায়, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী সালেহ উদ্দিল সাল, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট মোহাম্মদ টি রহমান, কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, আহসান হাবিব, জেবিবিএ’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালাম ভূইয়া, ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, লেখিকা বিদিতা রহমান, রাইটার্স ফোরাম অব নর্থ আমেরিকার সভাপতি হাফেজ আব্দুল্লাহ আল আরীফ, হিউমিনিটি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আলম ও সদস্য তাসেক চৌধুরী প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তি ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষ্যে পথমেলার আয়োজন করেছে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটর্স ডেবেলপমেন্ট

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-১৯ ১২:২২:৩৯

মা, মাটি ও মাতৃভুমির  প্রতি শ্রদ্ধা রেখে, বাংলাদেশের কৃষ্টি ও ঐতিহ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, প্রবাসী ও নতুন প্রজন্মের সংগে পরিচয় করিয়ে দেয়ার মহান লক্ষ্যে,বিশেষ করে মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটর্স ডেবেলপমেন্ট কর্তৃক আয়োজিত, এনটিভি ইউএসএ পরিচালিত, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইর্য়ক শহরের জ্যাকসন হাইটস্থ ৭৭ এবং ৭৬ ষ্ট্রীটের মধ্যে ৩৭ রোড এর পাদদেশে ১২ই মে বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষ্যে পথমেলার আয়োজন করা হয়।

উক্ত পথ মেলার প্রথমেই দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয় । এরপরে ক্রমান্বয়ে স্থানীয় এবং বাংলাদেশ থেকে আগত ফকির আলমগীরসহ অন্যান্য শিল্পীদের সুরের মোর্ছনায় প্রবাসের ছেলে- মেয়ে এবং মায়েরা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
র্এই মধ্যে জাতীয় সংগীতের পর পরই ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটর্স ডেবেলপমেন্ট এর সভাপতি জনাব শাহ সহিদুল হক সবাইকে মঞ্চে আহবান করেন। পাশাপাশি এনটিভি-যুক্তরাষ্ট্র এর পরিচালক খন্দকার এইচ জামান ডঐজউ এর সাধারণ সম্পাদক জনাব সৈয়দ আতিকুর রহমান ফারুক, কমিউনিটি নেতা আলাউদ্দিন ভুলু, আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব জনাব বাকের আজাদ, মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির সভাপতি জনাব শাহাদাত হোসাইন, ডঐজউ এর অন্যতম পরিচালক জনাব মুহাম্মদ এ কাদের এবং সংগঠক মতিউর রহমান মতি। 

সারা বিশ্বে আজ শ্রদ্ধার সাথে মা দিবস পালিত হচ্ছে। আবার কোথাও দুর্ভাগ্যবশত মায়েরা অবহেলিত নির্যাতিত হচ্ছেন। ভবিষ্যতে যাতে যাতে মায়েদের প্রতি আর কোন অবহেলা না হয়,  সেইদিকে সুদৃষ্টি দানের জন্য ডঐজউ এর সাথে সমস্ত বক্তাগন একমত প্রকাশ করেন। সভাপতি তার বক্তব্যে আরো বলেন, তিনি অত্যন্ত  দুঃখের সাথে জানাচ্ছেন যে, আজো মায়েরা তচ্ছে তাচ্ছিল্যের শিকার হচ্ছেন। ছেলে মেয়েরা অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও বাবা, মায়েরা, বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিচ্ছেন। যেটি ডঐজউ মোটেই বরদাশত করবে না।
ডঐজউ এর সম্মানিত সভাপতি, তার বক্তৃতার মধ্যে অভিমত প্রকাশ করেন যে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মায়েদের প্রতি যেন কোন প্রকার অবহেলা না করা হয়, সেজন্য বিশেষ আইন পাশ করেছেন। সেজন্য তাকে বিশেষ অভিবাদন জানায়।
আজকের এই মা দিবস, আমরা দৃঢ় চিত্তে বলতে চাই। বিশ্বের সমস্ত দেশে যেন বাংলাদেশের  প্রধানমন্ত্রীর মতো আইন পাশ করা হয়।একই সংগে জানাতে চাই যে, প্রবাসে আজো অনেক মা গৃহপরিচালক হিসেবে নিজ সংসারে কাজ করে যাচ্ছেন। তার বাবা মাকে ভিন্ন চোখে দেখে থাকেন। আমা এহেন ও পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি তার নাতিদীর্ঘ বক্তব্যে ঘঞঠ – এর পরিচালক এবং পথমেলার আহবায়ক জনাব এইচ জামান কে সুষ্ঠুভাবে এই মেলা পরিচালনা, পর্যবেক্ষন করার জন্য তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি আরোও ধন্যবাদ জানান কামরুজ্জামান বকুল কে একটি মার্জিত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপহার দেওয়ার জন্য। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডঐজউ এর সকল পরিচালকবৃন্দকে এবং যে সমন্ত ব্যবসায়ী, সুহৃদয়মান ব্যক্তি এই পথমেলাকে সাহায্য সহযোগীতা করেছেন। তাদের সবাইকে কৃতজ্ঞ  প্রকাশ করেছেন এবং সমস্ত প্রিন্ট এবং ইলেকট্রোনিক্স মিডিয়ার কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
একই সাথে মেয়র অফিস, কমিউনিটি বোর্ড-২ এর এর চৎবপবহঃ-১১৫ এর কমান্ডার ইন চিফকে ধন্যবাদ জানান।  এই মা দিবসের মেলাকে অনুমোদন দিয়েছেন।

বৈরী আবহাওয়া মধ্যেও দুর দুরান্ত থেকে শত শত উৎসবপ্রিয় দর্শক ও শ্রোতা মন্ডলী মা দিবস পথ মেলায় অংশ গ্রহন করেন। বাংলাদেশ থেকে আমদানীকৃত শাড়ী, বিভিন্ন রকমের পোশাক আশাক, গহনা,পাকিস্থানী সেলোয়ার কামিজ, কুর্তা দিয়ে সাজানো ছিল বিভিন্ন স্টল। সর্বোপরি তিনি সকল উপস্থিত দর্শক কলা কৌশলী এবং শিল্পীবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
বিশ্ব মা দিবস  উপলক্ষ্যে , নিউ ইর্য়কের ১০জন মাকে সিনেটর হোজে প্যারাল্টার পক্ষে ডঐজউ সৌজন্যে বিশেষ সম্মামনা দেয়া হয়।

তাদের মধ্যে  উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- মনি হোম কেয়ার এর  ডিরেক্টর মিস নাহার, এ্যাটর্নী মেরি পনিষ্ট, মানবধিকার কর্মী শিফা আামিন, প্যারালিগ্যাল নাসরিন কে আহমেদ, এডভোকেট মোর্শেদা জামান, সালমা বেগম, আসমা বেগম, সাবিতা দাস সুতার, ডিটেক্টিভ এডরিন জনসন।  এছাড়াও উক্ত প্রোগ্রামে সংগীত পরিবেশন করেন কামরুজ্জামান বকুল, রুকসানা মির্জা, শাহ মাহবুব, বিউটি দাস,সনিয়া সুইটি এবং পুরো প্রোগ্রাম উপস্থাপনা ছিলেন- রিচি সোলায়মান। 

সর্বোপরি শেষ পর্বে সংগঠনের সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদক, মেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব সবাই মিলে আবারো সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সন্ধ্যা ৭টায় পথ মেলার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি
                       



বিস্তারিত খবর

ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্কে মতবিনিময় সভা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-১৭ ১৩:৩৮:৫৯

আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি (আইএফসি) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার  সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের জীবন-মরণ সমস্যা ‘পানি সমস্যা’। এই সমস্যার সমাধানে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ফারাক্কা লং মার্চের মাধ্যমে যে জাতীয় সংহতি গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন, সেই চেতনা বুকে ধারণ করে পানি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে দেশে ইতিমধ্যেই একটি ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা দেশের জনগণকে সকল রাজনৈতিক বিভাজনের উর্ধ্বে উঠে পানির ন্যায্য অববাহিকা ভিক্তিক সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আদায়ের জন্য ইস্পাত-দৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি (আইএফসি) নিউইয়র্ক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভার কী নোট স্পীকার হিসেবে ড. জসিম উদ্দিন আহমেদ উপরোক্ত কথা বলেন। গত ১২ মে শনিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের একটি রেষ্টুরেষ্টে এই সভার আয়োজন করা হয়।

‘সীমান্তে পানি বন্টন নয়, চাই যৌথ নদীর অববাহিকা ভিত্তিক সামগ্রিক চুক্তি’ শীর্ষক সভায় সভাপতিত্ব করেন আইএফসি’র চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ইউসুফজাই সালুর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় আইএফসি’র সেক্রেটারী জেনারেল সৈয়দ টিপু সূলতান সহ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলহাজ সোলায়মান ভূঁইয়া, আলী ইমাম শিকদার, আওয়াল সিদ্দিকী, কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, খন্দকার ফরহাদ, কাজী আজম, ফারুক হোসেন  মজুমদার, মাকসুদুল হক চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত থেকে মতবিনিময় করেন।

সভায় ড. জসিম উদ্দিন আহমেদ তার লিখিত বক্তব্যে ফারাক্কা তথা পানি সমস্যার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং সভায় উপস্থিত সাংবাদিক ও সুধীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য ২০০৫ সালের চিলমারীর সমাবেশে ৫ লক্ষাধীক লোকের সমাবেশ হয়েছে। দেশের মানুষ স্বর্তফূর্তভাবে এই সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘পানি সমস্যার সমাধানের এজেন্ডা’ রাখার দাবী জানিয়ে বলেন, পানি সমস্যার ব্যাপারে সরকারকেই অগ্রনী ভূমিকা রাখতে হবে।
ড. জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নদী তিস্তা। ব্রক্ষপুত্র নদের অন্যতম প্রধান এই উপনদীর উৎপত্তি পাহাংগিরি থেকে ভারত-চীন সীমান্তে হিমালয় পর্বতের ৭ হাজার ১২৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। সুষম পানি ব্যবহারের লক্ষ্যে ২০১১ সালে এই নদীর যৌথ ব্যবস্থাপনার জন্য ভারতের তখনকার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর বাংলাদেশ সফরের সময় একটা চুক্তি হওয়ার কথা ছিলো। তার উত্তরসূরী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রথম মেয়াদ পূর্ণ হতে চলেছে। এখনো বলা হচ্ছে তিস্তা চুক্তি চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত দু’দেশ থেকে একই রকমন কথা শোনা যাচ্ছে। কোন লক্ষ্যে এবং কিসের ভিত্তিতে এই চুক্তি হবে তার কোন বিস্তারিত তথ্য তারা দিচ্ছেন না। কিন্তু এখনকার বিশ্বে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী উল্লেখিত চুক্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এমন সংশ্লিষ্ট এই দুই দেশের জনগোষ্ঠির মতামত নেয়া উচিৎ।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ফারক্কা কমিটি (আইএফসি) গোড়া থেকেই যৌথ নদীগুলোর সুষম ব্যবস্থাপনার পক্ষে বক্তব্য রেখে আসছে। ২০১১ সালে মনমোহন সিং-এর এবং  ২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০১৭ সালে ভারত সফরের সময় এব্যাপারে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য রেখেছে, দুই বন্ধু দেশের মধ্য সুসম্পর্কের আরো উন্নয়নের লক্ষ্যে। আইএফসি পূর্বের মতো এখনো দুই দেশের সরকারকে সঠিক পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে তিস্তা সমস্যার টেকসই সমাধানে সহায়তা করতে চায়। কারণ কোন নদীর উৎপত্তি থেকে সাগর পতনের পূর্ব পর্যন্ত পুরো বিষয় চুক্তির আওতায় না আসলে, শুধু সীমান্তে পানি বন্দনের ফর্মূলা দিয়ে টেকসই বা দীর্ঘ মেয়াদী সমাধান হবে না। দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তির দূর্বলতাগুলো এখন পরিস্কারভাবে ফুটে উঠেছে, তার পুনরাবৃত্তি যেন চিস্তাচুক্তির মাধ্যমে না হয় তা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

ড. জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভারতের অভ্যন্তরেও বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে পানি নিয়ে বিরোধ আছে। এবং তা নিয়ে ভারতের হাইকোর্ট, সুপ্রীম কোর্টে বিচার হচ্ছে। মাস খানেক আগে ভারতের সুপ্রীম কোট কাবেরী নদী বিরোধ নিষ্পত্তির রায় দিয়েছেন। আর তাই আমাদের কথা আমাদেরই বলতে হবে। তিনি বলেন, আইএফসি মনে করে, ভারত-বাংলাদেশের বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে যৌথ নদীর পানি ব্যবস্থাপনা সংকটের ব্যাপারে বাংলাদেশে ব্যাপক গণ সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। এখন বিএনপি, জাতীয় পার্টি, বাসদ, সিপিবি, ইসলামী ঐক্যজোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলো পানির দাবীতে লং মার্চ, সেমিনার সহ অন্যান্য কর্মসূচীতে সোচ্চার হচ্ছে।
মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ফারাক্কা লং মার্চের মাধ্যমে যে জাতীয় সংহতি গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন, সেই চেতনা বুকে ধারণ করে পানি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে দেশে ইতিমধ্যেই একটি ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা দেশের জনগণকে সকল রাজনৈতিক বিভাজনের উর্ধ্বে উঠে পানির ন্যায্য অববাহিকা ভিক্তিক সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আদায়ের জন্য ইস্পাত-দৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। 

সভায় এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জাতিসংঘ চাইলের পানি সমস্যার সমাধান হবে না। এজন্য বাংলাদেশ-ভারত সহ দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সংশ্লিস্ট দেশগুলোর সরকারকেই উদোগ নিতে হবে। চীন, ভুটান, নেপালকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদের অস্তিত্ব রক্ষায় জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।


অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পানি সমস্যা শুধু বাংলাদেশ বা ভারতের সমস্যা নয়। এই সমস্যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ তথা আন্তজাতিক সমস্যা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতের রাজনৈতিক মনোভাব সবসময় যে এক আর অভিন্ন থাকবে তা বিশ্বাস করার কারণ নেই। যেকোন সময় যে কোন কিছুই পরিবর্তন হতে পারে। সময়ই সবকিছু বলে দেবে। ভারতই সবকিছুর নিয়ামক নয়।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দূর্বৃত্তায়ন চললে বলেই আদর্শের রাজনীতি দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, স্বপ্নের বাংলাদেশ আর পানির ন্যায্য হিস্যা পেতে মলোনা ভাসানীর আদর্শের রাজনীতি দরকার। আর মওলানা ভাসানীর অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধ করেতে ‘ভাসানী অনুসারী পরিষদ’ গঠন করা হয়েছে। এটি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সামাজিক সংগঠন।

সভায় আতিকুর রহমান ইউসুফজাই সালু বলেন, আমরা বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা চাই। আন্তর্জাতিক নদী-পানি ব্যবহার সংক্রান্ত আইন ভারত মেনে নিয়ে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে এটাই আমাদের কামনা। তিনি আরো বলেন, আজ মওলানা ভাসানীর মতো মানুষ আর তার আদর্শের রাজনীতির বড় প্রয়োজন।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের নতুন কমিটি

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-১৫ ১৪:০৪:৫১

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলাবাসীদের সামাজিক সংগঠন নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ইনক’র নতুন কমিটি ঘোষিত হয়েছে। এতে রাফেল তালুকদার সভাপতি ও আশরাফুজ্জামান আশরাফ সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন। সিটির জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি হলে ১৩ মে রোববার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের অন্যতম উপদেষ্টা, সদ্য প্রয়াত বিশিষ্ট রাজনীতিক মাহবুব আলী বুলুর বিদেহী আতœার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মুনাজাত এবং পরবর্তীতে ‘আন্তর্জাতিক মা দিবস’ পালন করা হয়।
ফাউন্ডেশনের বিদায়ী সভাপতি আতোয়ারুল আলমের সভাপতিত্বে এবং প্রতিষ্ঠাতা ও বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আসেফ বারী টুটুল। এসময় কমিশনের অন্যান্য সদস্য যথাক্রমে নুরুল ইসলাম সাজু, কামরুজ্জামান কামরুল ও শাহীন আলম উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মাহবুব আলী বুলুর বিদেহী আতœার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন মওলানা মমিনুল ইসলাম। এর আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী ও কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, নির্বাচন কমিশনার রুহুল আমীন সরকার, ফাউন্ডেশনের অন্যতম উপদেষ্টা নুর ইসলাম বর্ষণ, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির সভাপতি হাজী আব্দুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, গিয়াস মজুমদার, ফাহাদ সোলায়মান, রাফেল তালুকদার, আশরাফুজ্জামান আশরাফ প্রমুখ। এছাড়া মরহুম বুলু-কে নিয়ে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট কবি সালেম সুলেরী।

সবশেষে কেক কেটে আন্তর্জাতিক মা দিবস পালন করা হয়। এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন ফারহানা আফরোজ লিজা, নাসরিন মতিন, তহুরা পারভীন, আলীফ লায়লা, রোকসানা ইসলাম, পারভীন আফরোজ নীলা প্রমুখ।

ফাউন্ডেশনের ২০১৮-২০১৯ সালের জন্য মনোনীত পূর্নাঙ্গ কার্যকরী পরিষদের কর্মকর্তারা হলেন: সভাপতি- রাফেল তালুকদার, সিনিয়র সহ সভাপতি-  আবু কামাল পাশা, সহ সভাপতি- ফাহাদ সোলায়মান, সহ সভাপতি- ফতেনূর আলম বাবু, সহ সভাপতি- হেলাল উদ্দিন সহ সভাপতি- আজিবুর রহমান পাতা, সহ সভাপতি- মোহাম্মদ সাইফুল বারী শফি, সহ সভাপতি- রোকনুজ্জামান নয়ন, সাধারণ সম্পাদক- আশরাফুজ্জামান আশরাফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- মোহাব্বত আলী আকন্দ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- সৌরভ প্রামানিক,  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ মুসা মানিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- আফতাব উদ্দিন জনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- তানজিল আহমেদ আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক- মনিরুল ইসলাম মনির, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক- রুবেল হাসান মুন্সী, কোষাধ্যক্ষ- মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক- মোস্তফা কামাল মামুন, সহ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক- সাইফুল ইসলাম, ত্রুীড়া ও বিনোদন সম্পাদক- মোহাম্মদ বকুল মিয়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক- আরিফা রহমান লাইজু, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক- আব্দুল আলিম, আপ্যায়ন সম্পাদক- তালুকদার শামীম সবুজ, মহিলা সম্পাদক- অধ্যক্ষ রোকসানা খানম, দপ্তর সম্পাদক- মোহাম্মদ রুহুল আমিন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক- আবু জহির আতিক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক- মাহবুব জামিল দুলু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক- মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম, যোগযোগ বিষয়ক সম্পাদক- মোহাম্মদ আলী।

কার্যকরী সদস্য- মোহাম্মদ আতোয়ারুল আলম, হোসেন সোহেল রানা, শাহ আফজাল হোসেন, প্রফেসর রেজাউল করিম, ফারুক হোসেন মিঠু, মনোয়ারুল ইসলাম, আব্দুল মোতালেব, মোহাম্মদ আব্দুল জলিল, জহুরুল ইসলাম তালুকদার লিটন, এস এম ফরমান হোসেন, রোকসানা ইসলাম, নাসরিন মতিন ও মোহাম্মদ কাশেম।
জেলা প্রতিনিধি: পঞ্জগড়- তাসকিন এইচ বিলাল, দিনাজপুর- মোহাম্মদ শফি উল্লাহ  ঠাকুরগাঁও- রেজোয়ানুল ইসলাম, নীলফামারী- মোস্তাফিজুর রহমান, রংপুর- বাকী বিল্লাহ ফরিদী শিপন, লালমনির হাট- আব্দুস সালাম, কুড়িগ্রাম- মমিনুর রহমান, জয়পুরহাট- কামরুল ইসলাম জুয়েল, গাইবান্ধা- মঞ্জুরুল ইসলাম, বগুড়া- মোফাজ্জল আলী হায়দার, নাটোর- মোহাম্মদ ইয়াকুব মিঠু, নওগাঁ- মোহাম্মদ মুজিবুল খান তপু, রাজশাহী- মোহাম্মদ কাওছার আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ- ফজলুর রহমান, পাবনা- মোয়াজ্জেম হোসেন, সিরাজগঞ্জ- ফারুক হোসেন রনি।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত