যুক্তরাষ্ট্রে আজ রবিবার, ০৫ Jul, ২০২০ ইং

|   ঢাকা - 11:52pm

|   লন্ডন - 06:52pm

|   নিউইয়র্ক - 01:52pm

  সর্বশেষ :

  দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় জুন মাসে ৩৬১ জনের মৃত্যু   আগামী উপনির্বাচনে যাচ্ছে না বিএনপি   দেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ লাখ মানুষ   করোনার মধ্যেও শত শত মানুষের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন   রক্ত দান ও ফ্লাইওভারে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নিক্সন লাইব্রেরি   সাউথ লস এঞ্জেলেসে এ্যাম্বুলেন্স চুরির ঘটনায় আটক ১   করোনায় মারা গেলেন লস এঞ্জেলেস পুলিশ কর্মকর্তা   ভিন্নরকম আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস   বর্ষসেরা চিকিৎসক হয়ে যুক্তরাজ্যের বিলবোর্ডে বাংলাদেশি ফারজানা   দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২৯, শনাক্ত ৩২৮৮   অরেঞ্জ সিটির আন্তর্জাতিক স্ট্রিট ফেয়ার হচ্ছে না   ক্যালিফোর্নিয়া পালন করবে ব্যতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস   ক্যালিফোর্নিয়ার নাগরিকদের করোনা ভীতি কমছে   ভাবুন সকলেই করোনায় আক্রান্ত’, বললেন মেয়র   সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলো মায়ের গর্ভের আট মাসের শিশু

>>  নিউইয়র্ক এর সকল সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে বিশিষ্টজনদের ভাস্কর্য রক্ষায় ট্রাম্পের উদ্যোগ


যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপিত বিশিষ্টজনদের ভাস্কর্য অপসারণে ‘ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ’ ঠেকাতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বিশেষ এজেন্টদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস ৪ জুলাইকে কেন্দ্র করে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিশিষ্টজনদের ভাস্কর্য রক্ষায় রেপিড ডিপ্লয়মেন্ট টিম ও প্রটেকটিং আমেরিকান কমিউনিটি টাস্ক ফোর্সসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের দাঙ্গা প্রতিহত করার বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে পোর্টল্যান্ড, সিয়াটল ও ওয়াশিংটন ডিসিতে পাঠানো হয়। এই বিশেষ দলকে

বিস্তারিত খবর

করোনা বেড়ে যাওয়ার নিউইয়র্কে রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৭-০২ ০৮:৩৩:০৫


যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে আবার বেড়ে চলছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ। আর নতুন করে শুরু হওয়া এই সংক্রমণের কারণে নিউইয়র্কে রেস্টুরেন্টগুলোতে বসে খাওয়ার সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো ও নগরীর মেয়র বিল ডি ব্লাজিও এমন ঘোষণা দেন। যদিও বর্তমানে নিউইয়র্কে করোনায় সংক্রমিতের সংখ্যা অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের তুলনায় অনেক কম। তারপরও ১ জুলাই রাজ্যে রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়ার সেবা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, অন্যান্য রাজ্যে করোনা সংক্রমণের হার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা ইনডোর বার ও রেস্তোরাঁকে দায়ী করেছেন। পাশের রাজ্য নিউজার্সিও চলতি সপ্তাহের শুরুতে একই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে।

মেয়র বিল ডি ব্লাজিও বলেন, এখন অবহেলা করার সময় নয়। ইনডোরে যত সব সমস্যা বিদ্যমান। বিজ্ঞানও তা বারবার প্রমাণ করছে। তাই নিউইয়র্ক সিটির রেস্তোরাঁয় ইনডোর ডাইনিং চালু করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। এক সপ্তাহ আগেও আশাবাদী ছিলাম যে আমরা ইনডোর ডাইনিং চালু করতে পারব। তবে দেশজুড়ে যে সংবাদ নিয়মিত পাচ্ছি, তা দিনদিন খারাপ থেকে বেশি খারাপ হচ্ছে।

নিউইয়র্ক নগরীর রেস্তোরাঁগুলোতে আউটডোর বা বাইরে থেকে সেবা দেওয়া ও ডেলিভারি সেবা ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। তবে ইনডোর বা রেস্তোরাঁর ভেতরে বসে খাওয়া চালু করতে রাজ্য সরকার এখনই রাজি নয়। নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো কখন তা চালু হতে পারে, তার নির্দেশ এখনো দেননি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নিউইয়র্ক নগরীতে ইনডোর ডাইনিং স্থগিত থাকবে যতক্ষণ না এই অবস্থার পরিবর্তন হয় এবং এটি মানুষের জন্য নিরাপদ হয়। তিনি বলেন, তৃতীয় ধাপে নিউইয়র্ক যে খোলার যে পরিকল্পনা ছিল, তাও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

সম্প্রতি মিশিগানের পূর্ব ল্যান্সিংয়ে হার্পার’স বার থেকে সম্প্রতি শতাধিক মানুষ করোনায় সংক্রমিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফ্লোরিডা রাজ্যে আবার সবকিছু খোলার প্রথম দিকে একটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে ১৬ বন্ধুর সবাই করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন।

গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো ১ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকার যতটুকু সম্ভব করোনা রোধে কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু তা পর্যাপ্ত হচ্ছে না। করোনা শেষ হয়ে যায়নি। এটি এখনো এই দেশ ও এই রাজ্যের যেকোনো জায়গায় ভয়ংকররূপে ফিরে আসতে পারে।


এলএ বাংলা টাইমস/এম/বিএইচ

বিস্তারিত খবর

করোনা বেড়ে যাওয়ায় মিশিগানে বারে বসা বন্ধ

 প্রকাশিত: ২০২০-০৭-০২ ০৮:২৪:১৯


প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সকল অঙ্গরাজ্যে আবার নতুন করে শুরু হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা। আর এর অংশ হিসেবে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ ও মধ্য মিশিগানে বারের অভ্যন্তরীণ পরিষেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্য গভর্নর গ্রিচেন হুইটমার। ১ জুলাই থেকে এই আদেশ কার্যকর হয়েছে। 

মিশিগানের গভর্নর গ্রিচেন হুইটমার বলেন, মিশিগানে করোনার সংক্রমণ আবার বৃদ্ধি পাওয়ায় এ আদেশ জারি করতে হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং মানুষকে সুরক্ষা দিতে এই পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বারগুলো তাদের আউটডোর পরিষেবা খোলা রাখতে পারবে।

মিশিগানের পূর্ব ল্যান্সিংয়ে হার্পার’স বার থেকে সম্প্রতি শতাধিক মানুষ করোনায় সংক্রমিত হন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ৮ জুন থেকে মিশিগানের বার ও রেস্টুরেন্টগুলো আবার চালু হয়।

এদিকে ১ জুলাই মিশিগানের বেউমন্ট হাসপাতাল ঘোষণা করেছে, তাদের একদল গবেষক করোনা শনাক্তে নতুন একটি পরীক্ষাপদ্ধতি আবিষ্কার করেছে। এই পদ্ধতিতে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে প্রস্রাব, রক্ত ও মুখের লালা থেকে ভাইরাস শনাক্ত করা যাবে।

বেউমন্ট হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গবেষক দলটির নেতৃত্বে ছিলেন বেউমন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের লরা ল্যাম্ব ও মাইকেল চ্যান্সেলর। তাঁরা নতুন এই পরীক্ষাপদ্ধতির ফল বিদ্যমান পদ্ধতির ফলের সঙ্গে তুলনা করে দেখেছেন, তা নির্ভুল। তবে মিশিগানের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ নতুন এই পরীক্ষা পদ্ধতির ব্যাপারে এখনো কিছু জানে না। এ কারণে এ নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এলএ বাংলা টাইমস/এম/বিএইচ

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে স্বেচ্ছায় অবসরের হিড়িক

 প্রকাশিত: ২০২০-০৬-২৯ ১০:৩৬:২৯


জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুপরবর্তী বিক্ষোভ ও সহিংসতার পর নিউইয়র্ক পুলিশে (এনওয়াইপিডি) স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার ঘটনা হঠাৎ বেড়ে গেছে। গত ২৫ মে থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত ২৭২ জন এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। এ সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে ৪৯ শতাংশ বেশি। অবসরে যেতে চেয়ে এমন অনেক আবেদনপত্র এখনো বিভাগীয় বিবেচনার অপেক্ষায় আছে।

নিউইয়র্ক পুলিশের চাকরিবিধি অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে ২০ বছর হলেই আগাম অবসরে যাওয়ার সুযোগ আছে। অনেকেই ২০ বছর বয়সে চাকরিতে যোগ দিয়ে ৪০ বছর বয়সেই সব সুবিধাসহ অবসরে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে থাকেন।

গত ২৫ মে মেনিয়াপোলিসে পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। নিউইয়র্কে টানা চার সপ্তাহের প্রতিবাদ সমাবেশে কয়েক’শ পুলিশ আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ সংস্কারের জোরালো দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য নতুন আইন জারি করেছে। নগরীর মেয়র বিল ডি ব্লাজিও পুলিশে ব্যাপক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়া পুলিশের বাজেট কর্তন করা হয়েছে। এ নিয়ে নিউইয়র্ক পুলিশের মধ্যে অসন্তোষ লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

‘ডিফান্ড পুলিশ’ স্লোগান আন্দোলনকারীদের কাছে এখন জনপ্রিয়। কেউ কেউ পুলিশি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ উঠিয়ে দেওয়ারও দাবি জানাচ্ছেন। সামাজিক ও মানবিক কাজে এ অর্থ ব্যবহার করলে অপরাধ এমনিতেই নিয়ন্ত্রিত হয়ে যাবে বলে তাঁরা মনে করেন।নিউইয়র্কে পুলিশ বেনেভোলেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক লিঞ্চ মনে করেন, জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুপরবর্তী বিক্ষোভ সমাবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদস্যদের ভেঙে পড়ার পর্যায়ে যেতে হয়েছে। এমন পরিবেশে পুলিশ কীভাবে দায়িত্ব পালন করবে, এমন প্রশ্ন উঠেছে।

এর আগে ২৫ জুন নিউইয়র্ক পোস্টের পৃথক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রঙ্কসের এক প্রিসিঙ্কটের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি ইন্সপেক্টর রিচার্ড ভেরা কাজে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো সঠিক নির্দেশনা নেই—এমন অভিযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। নগরীর পুলিশে অপরাধ প্রতিরোধ ইউনিট বাতিল করা নিয়েও এ পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন।

এলএ বাংলা টাইমস/এম/বিএইচ

বিস্তারিত খবর

টেক্সাসে ফের বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে করোনাঃ গভর্নর

 প্রকাশিত: ২০২০-০৬-২৯ ০৯:৫২:৪৭


টেক্সাসে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত খুব বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ওই অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবোট করোনাবিষয়ক এই পরিস্থিতির কথা জানিয়ে সতর্ক করেছেন। 

রোববার গভর্নর অ্যাবোট বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে দৈনিক করোনায় সংক্রমিত মানুষের গড় ২ হাজার থেকে বেড়ে ৫ হাজারের বেশি দেখা যাচ্ছে। টেক্সাসের গভর্নর জানান, এখন দিনে প্রায় ৫ হাজার মানুষ করোনার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের করোনা পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে তা নিয়ে খোদ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স পর্যন্ত কথা বলেছেন। তিনি জানান, টেক্সাসে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত সংখ্যক কিট দেওয়া হবে। যত দিন প্রয়োজন হবে, তত দিন পর্যন্ত তা দেওয়া হবে। 

একই সঙ্গে টেক্সাসের বাসিন্দাদের মাস্ক পরতে বলেছেন মাইক পেন্স। লকডাউন শিথিল করার পর যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোয় করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা ২৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। দেশটিতে করোনায় ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে।

এলএ বাংলা টাইমস/এম/বিএইচ

বিস্তারিত খবর

বড়বড় কোম্পানির বিজ্ঞাপন হারিয়ে বিপাকে ফেসবুক

 প্রকাশিত: ২০২০-০৬-২৮ ০৩:২৫:১০


ফেসবুক নিয়ে বিতর্কের যেন শেষ নেই। এবার প্রতিষ্ঠানটি ফেঁসে গেছে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগে। কালোদের বিরুদ্ধে করা বিভিন্ন পোস্ট ফেসবুকে ঘুরে বেড়ানোয় ক্ষেপেছে বড়বড় কোম্পানিগুলো। ইউনিলিভার, কোকাকোলাসহ অন্যরা জানিয়েছে তারা ফেসবুকে নিজেদের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেবে।


প্রায় শতাধিক কোম্পানি ফেসবুক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আর তাই বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। আনুমানিক ৭২০ কোটি ডলার সম্পদমূল্য হারিয়েছেন তিনি। ছিটকে গেছেন ধনীর তালিকায় তিন নম্বর জায়গা থেকেও। 

বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার বিজ্ঞাপন বন্ধের খবর জানাতেই বড় ক্ষতি হয় ফেসবুকের। শুক্রবার শেয়ার দরপতন ঘটে ৮.৩ শতাংশ। ফেসবুক বাজার মূল্য হারায় ৫ হাজার ৬শ কোটি ডলার। শুধু বিজ্ঞাপন নয় ফেসবুকেও নিজেদের বিনিয়োগ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইউনিলিভার।

সংকট থেকে বাঁচতে নতুন উপায় বের করেছে ফেসবুক। সংবাদ মূল্য রয়েছে  এমন যেকোনো পোস্টে ‌‘সম্ভাব্য ক্ষতিকারক’ লেবেল সেঁটে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। মার্ক জাকারবার্গ লাইভে এসে বলেছেন, রাজনীতিবিদদের যেসব পোস্ট সংবাদযোগ্য তা এখন থেকে চিহ্নিত করে দেওয়া হবে।

বিদ্বেষ ছড়াতে ফেসবুক ব্যবহার করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ আগেও ছিল। তবে এবার কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের পর সে বিতর্ক আরও জোরাল হয়েছে। ‘ঘৃণা ছড়ানোর বিনিময়ে মুনাফা বন্ধ করো’ এমন হুঁশিয়ারি তুলছেন মার্কিনিরা। এরপর থেকেই বিজ্ঞাপনদাতা কোম্পানিগুলো নিজেদের সতর্ক অবস্থানের কথা জানায়। চাপে পড়ে যায় ফেসবুক।


এলএ/বাংলা টাইমস/এনএইচ

  

বিস্তারিত খবর

করোনায় নিউইয়র্কে নতুন করে বেকার হচ্ছে ২২ হাজার

 প্রকাশিত: ২০২০-০৬-২৫ ০৮:৫৫:২৩


করোনাভাইরাস মহামারির কারণে নিউইয়র্ক নগরীর অর্থনৈতিক অবস্থায় চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। এই বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য চাঞ্চল্যের নগরী এখন অসহায়ের মতো ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারায় বাধ্য হয়ে নগরীর ২২ হাজার কর্মীকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হবে বলে জানিয়েছেন নগরীর মেয়র বিল ডি ব্লাজিও।

মেয়র বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে নিউইয়র্ক সিটি চরম অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। এ কারণে নগরীর অবকাঠামোগত ব্যয় কমিয়ে আনা হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হয়ে এই সময়ে নগরীর ২২ হাজার কর্মীকে কাজ হারাতে হবে। এ ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। এটাই চরম সত্য।

নিউইয়র্ক নগরী দ্বিতীয় ধাপে খুলে দেওয়া হয়েছে। মানুষের চলাচল এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসছে। তবে ব্যবসা-বাণিজ্য এখনো জমে ওঠেনি। নানা নির্দেশনা মেনে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও খুলে দেওয়া সম্ভবও নয়।

নিউইয়র্ক নগরীতে হোটেল ব্যবসা সারা বছরই সরগরম থাকত। গ্রীষ্মের চমৎকার আবহাওয়ায় হোটেলগুলো খালি পড়ে আছে। ট্রাভেলস বাণিজ্য বন্ধ হয়ে আছে। বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানই বন্ধ দরজা আবার খোলার সামর্থ্য হারিয়েছে। এদিকে নতুন করে নগর সরকারের ২২ হাজার কর্মী এবার কাজ হারাবেন। পাশাপাশি যেসব বেসরকারি কর্মজীবী আগেই কাজ হারিয়েছেন, তাঁরা আর পুরোনো কাজে ফিরে যেতে পারবেন না। ফেডারেল সরকার থেকে বিশেষ প্রণোদনা বা অনুদান না পেলে, তহবিল–সংকটে নগরীর বহু কাজ স্তিমিত হয়ে পড়বে। এ কারণেই নিউইয়র্কের মেয়র বলেছেন, নিউইয়র্ক নগরীর স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে পেতে চার বছরের মতো সময় লাগতে পারে। 

এলএ বাংলা টাইমস/এম/বিএইচ

বিস্তারিত খবর

আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট হলেন আলী রীয়াজ

 প্রকাশিত: ২০২০-০৬-২৩ ০৯:৪৮:১৯


যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের অনাবাসিক সিনিয়র ফেলো আলী রীয়াজ আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের (এআইবিএস) প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী ১ অক্টোবর আলী রীয়াজ এআইবিএসের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। আগামী চার বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যেকার সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে এআইবিএস গবেষণা করে। বাংলাদেশ নিয়ে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে, তাদের একই ছাতার নিচে নিয়ে আসার কাজটি করে এআইবিএস। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে এআইবিএসের সদস্য। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো, কর্নেল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস, জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটি, কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলের মতো খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়। 

এআইবিএসের সঙ্গে একযোগে কাজ করার জন্য বাংলাদেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় সমঝোতা স্মারকে সই করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক, আইইউবি, ইউল্যাব ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেন। তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের প্রধান হিসেবে ১০ বছর (২০০৭-২০১৭) দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৭ সালে ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। আলী রীয়াজ লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে ‘ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট’ হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ এবং ইংল্যান্ডের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। পাবলিক পলিসি স্কলার হিসেবে ‘উড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কলারস’–এ কাজ করেছেন।

এলএ বাংলা টাইমস/এম/বিএইচ

বিস্তারিত খবর

সামনের নির্বাচনে নিউইয়র্ক থেকে প্রার্থী হচ্ছে এক ঝাঁক বাংলাদেশি

 প্রকাশিত: ২০২০-০৬-২৩ ০৯:৪০:৩৩


নিউইয়র্কে বাংলাদেশি জনসমাজের জন্য ২৩ জুন গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। কারণ, এদিন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারি নির্বাচন। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের অভিবাসনের শত বছর পেরিয়ে গেছে। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বা ম্যানহাটনের হার্লেমে পূর্বসূরিদের পদচিহ্ন ধরে নানাভাবেই বাংলাদেশিরা নিউইয়র্কে ক্রমে লক্ষণীয় একটি জনগোষ্ঠী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। দেশীয় রাজনীতির চর্চা নিয়ে বাংলাদেশিদের কোলাহল দেখা যায় নিউইয়র্কে। যদিও এসব কোলাহলে বাংলাদেশ থেকে আসা প্রথম প্রজন্মের অভিবাসীরাই বেশি। আর এবারই প্রথমবারের মতো নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের আমেরিকার 

রাজনীতির মূলধারায় ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। নিজেদের মধ্যে কোনো সমন্বয় বা ঐক্য না থাকলেও এক ডজনের বেশি প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির শক্ত অবস্থান নিউইয়র্কে। এ রাজ্যে দলটির মূল চালিকা শক্তিও খুব শক্তিশালী। বাংলাদেশি প্রার্থীদের সঙ্গে ডেমোক্রেটিক পার্টির মূল চালিকা শক্তির তেমন ঘনিষ্ঠতা এখনো গড়ে ওঠেনি। তেমনি ভোটার তালিকাভুক্তিসহ নির্বাচনী কৌশলে বাংলাদেশিরা কোনো নির্বাচনী এলাকায় এককভাবে নিজেদের অবস্থান দেখানোর সুযোগ পাননি। এর মধ্যেই ডজন খানেক প্রার্থীর কেউ নির্বাচিত হয়ে যেতে পারেন এবারের নির্বাচনে, এমন আশা অনেকেরই।


ডেমোক্র্যাটদের দুর্গ নিউইয়র্ক। গভর্নর ডেমোক্র্যাট–দলীয়, বর্তমান মেয়র ডেমোক্র্যাট–দলীয়, অন্য জনপ্রতিনিধিরাও ডেমোক্র্যাট–দলীয়। এখানে রিপাবলি কানদের ভোট খুবই কম। ফলে ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনিই আগামী ৩ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হবেন—এমন মনে করা হয়। এবারের প্রার্থী তালিকায় দ্বিতীয় প্রজন্মের তরুণদের প্রাধান্যই এ আশাবাদের অন্যতম কারণ। নিউইয়র্কের কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট-১৪ থেকে এই পদে প্রার্থী হয়েছেন বদরুন নাহার খান। ডেমোক্রেটিক পার্টির তারকা কংগ্রেসওমেন আলেক জান্দ্রিয়া ওকাসিওর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন তিনি। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার সাবেক সভাপতি বদরুন নাহার খান একজন সমাজকর্মী ও ডিস্ট্রিক্ট-১৪ নির্বাচনী এলাকায় আলোচিত প্রার্থী। বাংলাদেশি-আমেরিকান আর দক্ষিণ এশিয়ার ভোটারসহ সব দেশের ভোটারের কাছে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। নিউইয়র্ক ডিস্ট্রিক্ট-৫ আসনে প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান সানিয়াত চৌধুরী। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৯৯৮ সাল থেকে এ আসনে নির্বাচিত হওয়া প্রার্থী কংগ্রেসম্যান গ্রেগারি মিক্সের সঙ্গে।

ডিস্ট্রিক্ট-২৪ আসনে স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান পদে লড়াইয়ে নেমেছেন মাহফুজুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশিদের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ নানা কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। ডিস্ট্রিক্ট-৩৭–এ আলোচিত প্রার্থী হচ্ছেন মেরি জোবাইদা। এই প্রার্থিতার মধ্য দিয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন নিউইয়র্কের পশ্চিম কুইন্স থেকে দীর্ঘদিনের প্রতিনিধিত্বকারী ক্যাথরিন নোলানকে। ৩৫ বছর ধরে নির্বাচিত হয়ে আসছেন ক্যাথরিন নোলান। এমনকি গত এক দশকে তাঁকে কেউ প্রাইমারি নির্বাচনে চ্যালেঞ্জটুকুও জানায়নি। 
১০ বছরে এবারই প্রথম ক্যাথরিন নোলান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। মেরি জোবাইদাকে নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা হয়েছে। তাঁর নির্বাচিত হওয়া নিয়ে অনেকেই আশাবাদী। ডিস্ট্রিক্ট-৩৪ আসনে এবার আলোচনায় আরেক তরুণ প্রার্থী জয় চৌধুরী। নির্বাচনী এলাকা কুইন্সে জয় চৌধুরীর পক্ষে ব্যাপক প্রচার চলছে। জয় চৌধুরী শক্ত একজন প্রার্থীর বিপক্ষে লড়ছেন। ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন জোহরান খান। নিজ নির্বাচনী এলাকায় পরিচিত মুখ জোহরানের পক্ষে ব্যাপক প্রচার করা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট-৫৪ আসনে অ্যাসেম্বলিম্যান প্রার্থী হয়েছেন নাফিস আই চৌধুরী। তাঁর পক্ষে সমর্থন দিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। আলোচিত প্রার্থী হয়ে উঠেছেন তরুণ প্রার্থী নাফিস।

ডেমোক্রেটিক পার্টির কাঠামোতে অনেকটাই তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ পদ ডিস্ট্রিক্ট লিডার। এ পদে নারী-পুরুষ ভাগ করা আছে। জ্যামাইকার নির্বাচনী জেলা ২৪-বি থেকে ডিস্ট্রিক্ট লিডার ও নারী ডিস্ট্রিক্ট লিডার প্রার্থী ইশতেহাক চৌধুরী ও ফারজানা চৌধুরী। প্রযুক্তিবিদ ইশতেহাক চৌধুরী বলেন, হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ সমর্থকেরা তাঁর পক্ষে প্রচারে যোগ দিয়েছেন। নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি খুব আশাবাদী। অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-২৪ আসন থেকে লড়ছেন মাহতাব খান। একই আসন থেকে ডিস্ট্রিক্ট লিডার (ওমেন) পদে আলোচিত প্রার্থী মৌমিতা আহমেদ। তিনি ডিস্ট্রিক্ট-২৪–এ একজন শক্ত প্রার্থী। নানা কাজের জন্য কমিউনিটিতে তাঁর রয়েছে বাড়তি পরিচিতি। অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৮৭ থেকে লড়ছেন এন মজুমদার। তিনি কমিউনিটিতে খুবই পরিচিত। নির্বাচনে তাঁর পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে ১০ দিন আগে থেকেই আগাম ভোটের ব্যবস্থা করা হয়। ১৩ জুন থেকে অনেকেই আগাম ভোট দিয়েছেন। ডাকযোগেও ভোট দিয়েছেন অনেকেই। ২৩ জুন কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন বাকি ভোটাররা। নির্বাচনের ফল অন্যান্যবারের মতো দ্রুতই জানা যাবে না। আগাম ভোট ও ডাকযোগে পাওয়া ভোটের ফল যোগ হয়ে কেন্দ্রের ফল পুরো পাল্টে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির একজন বলেন, আমাদের দাবির জন্য আমাদেরই সোচ্চার হতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পথ তৈরি করতে হবে। নিজ নিজ প্রার্থীর জন্য ভোটকেন্দ্রে যাওয়া এবং অন্যদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।


রাজনীতিতে অনাগ্রহী আমেরিকানদের কাছে নির্বাচন নিয়ে আমাদের চেনা উত্তেজনার কোনোটাই থাকে না। দিনের অধিকাংশ সময়ই ভোটকেন্দ্র ফাঁকা থাকে। খুব ভালো অংশগ্রহণ হলে ভোট গ্রহণের হার ৩০ শতাংশ অতিক্রম করে। এবারে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারি নির্বাচন হচ্ছে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে নিউইয়র্ক নগরীর প্রায় ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৫ হাজারের বেশি। মাত্র তিন মাসে হাজারো মানুষের মৃত্যুর স্মৃতি নিয়ে এ রাজ্যের মানুষের কাছে রাজনীতির অনেক অচেনা দিক উন্মোচিত হয়েছে। 

করোনায় নগরীর অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মৃত্যু হয়েছে বেশি। আক্রান্তও বেশি হয়েছে এসব প্রান্তিক লোকজন। জীবনমানের ব্যাপক তারতম্যকেই দায়ী করা হচ্ছে এসবের জন্য। এর মধ্যেই শুরু হয়েছে নাগরিক আন্দোলনের ঢেউ। পুলিশ সংস্কার হচ্ছে। নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এর মধ্যে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার সচেতন কাজে কতসংখ্যক মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে বা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে, এ নিয়েও বিরাজ করছে নানা সংশয়। বাংলাদেশিরা নিউইয়র্কের নির্বাচনে এখনো মুখ্য কোনো শক্তি না হলেও এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা শক্ত ভীত চলে আসবে। কোনো একজনের জয়ও স্বদেশিদের আনন্দ উল্লাসের জন্য যথেষ্ট হিসেবে ধরে নেওয়া হবে।

এলএ বাংলা টাইমস/এম/বিএইচ

বিস্তারিত খবর

যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে নতুন করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ

 প্রকাশিত: ২০২০-০৬-২৩ ০৯:১২:৪৭


পুরো যুক্তরাষ্ট্র করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমের এলাকাগুলোয় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির হার লক্ষ করা যাচ্ছে। টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে প্রায় ২০ হাজার মানুষের সংক্রমিত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে এ সংখ্যা দিনে ৩০ হাজারে বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। দেশটিতে তিন মাসে করোনায় সংক্রমিত হয়ে ১ লাখ ২২ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশ করোনার সংক্রমণ কমিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক ভালো পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতালি ও স্পেনের চেয়ে আমেরিকা করোনা পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনায় পিছিয়ে আছে। ইউরোপের দেশগুলোয় এখনো সংক্রমণ হলেও দেশগুলো সংক্রমিতের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। অল্পসংখ্যক মানুষ এখন ওই সব দেশে নতুন করে সংক্রমিত হচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে ঘটছে তার উল্টো। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের করোনায় আক্রান্ত দেশগুলোয় এখন দিনে গড়ে তিন হাজারেরও কম মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে। আর আমেরিকায় সংক্রমিত হচ্ছে তার ১০ গুণ বেশি। অথচ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোয় আমেরিকার চেয়ে ১০০ মিলিয়ন বেশি মানুষের বসবাস।

ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স গত সপ্তাহে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, করোনাভাইরাস স্তিমিত হয়ে আসছে। সংক্রমিতের সংখ্যা দিনে ৩০ হাজার ছিল। মে মাসে দিনে তা ২৫ হাজারে নেমে এসেছে। আর গত সপ্তাহে দিনে ২০ হাজার সংক্রমিতের কথা তিনি উল্লেখ করে স্বস্তির কথা শুনিয়েছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভ্যাকসিন ছাড়াই করোনাভাইরাস স্তিমিত হয়ে যাবে। ২০ জুন নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি করোনার টেস্টিং কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ নিয়ে পরদিন ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী জো বাইডেন বেশি করে টেস্টিং করার আহ্বান জানান। সমালোচনা শুরু হয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। পরে হোয়াইট হাউস থেকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কৌতুক করেই এ কথা বলেছিলেন।

করোনাভাইরাসে নাজুক হওয়া নিউইয়র্কের অবস্থা ক্রমাগত উন্নতির দিকে। তিন মাসের লকডাউনের পর ধীরে ধীরে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। আমেরিকার দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পশ্চিমের রাজ্যগুলোয় সংক্রমণ বাড়ছে। অ্যারিজোনা, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, সাউথ ও নর্থ ক্যারোলাইনার মতো রাজ্যে সংক্রমণ বাড়ছে। এটাকে দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ হিসেবেও দেখতে শুরু করছেন কেউ কেউ। সামাজিক ব্যবধান কড়াকড়িভাবে না মানার কারণে অনেক এলাকাতেই সংক্রমণের হার বাড়ছে। এ নিয়ে স্বাস্থ্যসেবীদের রীতিমতো উৎকণ্ঠায় পড়তে হচ্ছে।

এলএ বাংলা টাইমস/এম/বিএইচ

বিস্তারিত খবর

মিশিগানে ট্রাম্পের নির্বাচনী সভা আটকে দিচ্ছে গভর্নর

 প্রকাশিত: ২০২০-০৬-২৩ ০৯:০৫:৩১


পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে চলছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। সারা বিশ্বে করোনায় এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি লোক মারা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। কৃষ্ণাঙ্গদের আন্দোলনের পর এখন হটাৎ করে আবার করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা যুক্তরাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতি আবার ভয়াবহ হতে যাচ্ছে। কিন্তু এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করে দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ট্রাম্পের এমন নির্বাচনী প্রচারণায় এবার বাধা হয়ে দাঁড়ালেন মিশিগান মেয়র। 


মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্রিচেন হুইটমার বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে মিশিগানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জনসভা করতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে তিনি খুব গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন। ওকলাহামায় ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচার সমাবেশ করার আগে মিশিগানের ডেমোক্রেটিক গভর্নর হুইটমার এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কীভাবে এখানে সম্ভাব্য সমাবেশটিতে বাধা দেওয়া হবে—এ ব্যাপারে এখনো তিনি নিশ্চিত নন। তবে এই মহামারির মধ্যে মাস্ক ছাড়া জড়ো হওয়া ঠিক নয়।

৫ জুন ইস্যু করা হুইটমারের এক নির্বাহী আদেশে মিশিগানে ঘরের ভেতর ৫০ জন এবং ঘরের বাইরে ২৫০ জনের বেশি মানুষ সমাবেশ করতে পারবে না। ১৮ জুন মিশিগানের গভর্নর রাজ্যে জরুরি অবস্থার মেয়াদ আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। গভর্নরের মুখপাত্র ইফনি ব্রাউন বলেন, গভর্নরের মন্তব্যে তাঁর নতুন কিছু যোগ করার নেই। সিডিসির নির্দেশিকা অনুযায়ী মহামারি চলাকালে কোনো অনুষ্ঠান বা সমাবেশের আকার রাষ্ট্র, স্থানীয়, আঞ্চলিক বা উপজাতি সুরক্ষা আইন এবং বিধিবিধানের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা উচিত।

১৯৮৮ সালের পর ২০১৬ সালে মিশিগানে প্রথম রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্প ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে ১০ হাজার ৭০৪ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। মিশিগান অঙ্গরাজ্য সব সময়ই ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত। রিপাবলিকানরা মিশিগানে তাঁদের জয় ধরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন। এদিকে হুইটমার করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের মুখপাত্র ক্রিস গুস্তাফসন বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স নিরাপদে মিশিগানে অনুষ্ঠান করার অপেক্ষায় আছেন। 

এলএ বাংলা টাইমস/এম/বিএইচ

বিস্তারিত খবর

এবার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হল দাসপ্রথা অবসান

 প্রকাশিত: ২০২০-০৬-২১ ০৯:৫৫:৩২


বর্ণবাদী হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে শহরে শহরে আগে থেকেই বিক্ষোভ চলছিল। সেই বিক্ষোভে নতুন মাত্রা যোগ করে দাসপ্রথা অবসান বা জুনটিনথ দিবস। দিনটি উপলক্ষে শুক্রবার শহরে শহরে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভ কারীরা এ সময় বর্ণবাদের বিচার চান। তাঁরা মধ্যরাতের দিকে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এক দাস মালিকের ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দেন, বলে জানা যায়। ১৮৬৫ সালের ১৯ জুন টেক্সাস অঙ্গরাজ্যর গালভিস্টনে সব বন্দীদের দাসত্ব থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে গোটা যুক্তরাষ্ট্র থেকে দাসপ্রথার অবসান ঘটে। যদিও ষোড়শতম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন আড়াই বছর আগেই টেক্সাস ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্যে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করেছিলেন। 


সবশেষ গালভিস্টন থেকে দাসপ্রথা বিলুপ্তির দিনটিকে জুনটিনথ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য মাইলফলক এই দিনটিকে সাধারণত প্রার্থনা, পারিবারিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করে থাকেন মানুষ। কিন্তু এবারে এই দিনটির তাৎপর্য বেড়ে গেছে। গত ২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ শ্বেতাঙ্গ এক পুলিশ কর্মকর্তার হাতে নৃশংসভাবে খুন হন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গোটা যুক্তরাষ্ট্রে ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ–বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে ১২ জুন জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা শহরে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা পেছন থেকে গুলি করে রেশার্ড ব্রুকস নামের আরেক কৃষ্ণাঙ্গকে হত্যা করেন। যা বিক্ষোভকে আরও উসকে দেয়। পুলিশ সংস্কারের দাবিও জোরালো হয়ে ওঠে। ফলে জুনটিনথ দিবসে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে গতি আসে।

দিবসটি উপলক্ষে হাজারো মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। শহরে শহরে হয় সমাবেশ, পদযাত্রা। সবচেয় বড় পদযাত্রা ও সমাবেশ হয়েছে জর্জিয়ার আটলান্টা, ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগো, ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলস, নিউইয়র্ক সিটি ও ওয়াশিংটন ডিসিতে। নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ব্রিজ থেকে ম্যানহাটন পর্যন্ত পদযাত্রা করেন কয়েক হাজার মানুষ। এ সময় তাঁরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুলিশের হাতে নিহত নারী ও পুরুষের নাম ধরে স্লোগান দেন। এ সময় বিক্ষোভকারী তাবাথা বার্নাড (৩৮) বলেন, এই বছর সমগ্র দেশ পরিবর্তনের পক্ষে সোচ্চার। আমাদের পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত এটা (বিক্ষোভ) চালিয়ে যেতে হবে। শহরে শহরে বিক্ষোভ, ওয়াশিংটন ডিসিতে এক দাসমালিকের ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দেন বিক্ষোভ কারীরা

রেশার্ড ব্রুকসকে যে শহরে গুলি করে হত্যা করা হয়, সেই আটলান্টায় হাজারো বিক্ষোভকারী পদযাত্রা করেন। সবচেয়ে বড় সমাবেশ হয় ওয়াশিংটনের লিঙ্কন মেমোরিয়ালের সামনে ও হোয়াইট হাউসের কাছে। পদযাত্রার আয়োজন করা হয় শিকাগোতে। উৎসবমুখর পরিবেশে এমন শোভাযাত্রা হয় দক্ষিণ লস এঞ্জেলেসেও। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন না জানিয়ে উল্টো বিতর্কিত মন্তব্য করে তা উসকে দিচ্ছেন। জুনটিনথ দিবসেই বর্ণবাদী সংঘাতের জন্য স্মরণীয় ওকলাহামা অঙ্গরাজ্যের তুলসা শহরে লকডাউন পরবর্তী পুনর্নির্বাচনী জনসভা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

এলএ বাংলা টাইমস/এম/বিএইচ

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কে ২৪ ঘণ্টায় গুলিবিদ্ধ ২১ জন

 প্রকাশিত: ২০২০-০৬-২১ ০৯:৩৭:১৪


নিউইয়র্কে পৃথক পৃথক ঘটনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুজন নিহত হয়েছেন। হঠাৎ করেই নিউইয়র্কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটেছে। লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসার মুহূর্তে গ্রীষ্মের প্রথম সপ্তাহান্তেই এমন ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ১৯ জুন রাত থেকে ২০ জুন সকাল পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক এই গুলির ঘটনা ঘটে। প্রতিটি ঘটনাই পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।


পুলিশ জানায়, ২০ জুন বেলা ১১টায় ইস্ট নিউইয়র্কের মিলফোর্ড স্ট্রিটে হাঁটছিলেন এক ব্যক্তি। আরেকজন বাড়ির সামনে গাড়ি ধোয়ার কাজ করছিলেন। হঠাৎ করে তাঁদের গুলি করে দুর্বৃত্তরা। দুজনের অবস্থা সংকটজনক। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া ঘটনার আধা মাইল দূরে সড়কপথে দাঁড়ানো একজন গুলির শব্দ শুনে টের পেয়ে দেখেন তাঁর নিজের শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। ১৯ জুন বিকেলে ইস্ট নিউইয়র্কে ২৭ বছর বয়সী একজন তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ওই দিন রাত সাড়ে তিনটার দিকে ব্রঙ্কসের ক্লিয়ারমন্ট পার্কের কাছে তিন নারীসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

এ ঘটনায় নগরীর মেয়র বিল ডি ব্লাজিও বলেন, সহিংসতা ও সংকট ব্যবস্থাপনায় বর্ধিত প্রয়াস নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি নগরীর পুলিশ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাদা পোশাকে পুলিশের টহল ও তল্লাশি থেকে এনওয়াইপিডিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতা রোধে লোকবল নিয়োগ এবং কর্মসূচি পরিচালনার জন্য মেয়র ১০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘোষণা করেন। জ্যামাইকা, কেনার্সি ও ক্রাউন হাইটসের মতো এলাকায় সহিংসতা বন্ধে প্রয়াস জোরদার করা হয়েছে।

শুধু মে মাসেই নগরীতে খুনের সংখ্যা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রুকলিনের বরো প্রেসিডেন্ট এরিক অ্যাডামস। এর মধ্যে সিটি কাউন্সিল পুলিশের বাজেট থেকে এক বিলিয়ন ডলার কমিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে। অন্যান্য সামাজিক খাতে এ অর্থ ব্যয় করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এরিক অ্যাডামস বলেন, এ অর্থ সামনের দিকে ব্যয় করলে সংকট সামাল দেওয়া সহজ হবে। অপরাধ সংঘটনের আগে নানা সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের কথা তিনি বলে আসছেন।

এলএ বাংলা টাইমস/এম/বিএইচ

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কে পাঁচটি সড়কের নাম হচ্ছে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’

 প্রকাশিত: ২০২০-০৬-২০ ০৯:৫৫:৪৩


নিউইয়র্ক নগরীতে পাঁচটি পৃথক স্থানে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’–এর ভাস্কর্য স্থাপন করা হচ্ছে। এতে নগরীর পাঁচটি সড়কপথে শোভা পাবে সাম্প্রতিক নাগরিক আন্দোলনের সাফল্যের প্রতিকৃতি। মেয়র বিল ডি ব্লাজিও সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্কের নাগরিকদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের শক্তিকে চিহ্নিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক নগরী জোরের সঙ্গে নিয়মিত বলছে 'ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার'। আমরা একের পর এক এমন কাজ দিয়ে নগরীর স্পন্দন ফিরিয়ে আনব।


জানা যায়, নগরীর পাঁচটি সড়কপথের মধ্যে ম্যানহাটনের ওয়ার্থ স্ট্রিট এবং রিড স্ট্রিটের মধ্যবর্তী অংশ, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের হ্যামিল্টন অ্যাভিনিউ ও টার্মিনাল ভিয়াডাক এলাকা, ব্রুকলিনের অ্যাডাম স্ট্রিট এবং কোর্ট স্ট্রিটের মধ্যবর্তী জোরেলমোন স্ট্রিট এলাকা, কুইন্সের জ্যামাইকা ও আর্চার অ্যাভিউনিউর মধ্যবর্তী ১৫৩ স্ট্রিট এবং ব্রঙ্কসের ১৬১ ও ১৬২ স্ট্রিটের মধ্যবর্তী মরিস অ্যাভিনিউ এখন থেকে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ সড়ক হিসেবে পরিচিত হবে। এসব এলাকায় একটি করে আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হবে। সড়কপথে হলুদ রং দিয়ে লেখা থাকবে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’। করোনায় নাকাল হওয়া নগরীতে সাম্প্রতিক নাগরিক আন্দোলন অনেক কিছুই পাল্টে দিচ্ছে। ২৫ মে মিনিয়াপোলিসে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড পুলিশের হাতে নিহত হওয়ার পর আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলন-বিক্ষোভে নিউইয়র্কও উত্তাল হয়ে ওঠে। এ আন্দোলন শুধু কৃষ্ণাঙ্গদের আন্দোলন থাকেনি, উদারনৈতিক নাগরিক আন্দোলনে রূপ নেওয়া বিক্ষোভ এখনো চলছে। ১৯ জুনও নিউইয়র্কে বড় বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। প্রতিবাদে, স্লোগানে বিক্ষোভকারীদের উচ্চারণ ছিল সব বৈষম্যের বিরুদ্ধে, পুলিশের সহিংসতার বিরুদ্ধে।

করোনায় বিপর্যস্ত নিউইয়র্কের রাজ্য গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো ১৯ জন করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর প্রতিদিনের প্রেস ব্রিফিংয়ের সমাপ্তি টেনেছেন। ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে টানা ১১১ দিনের প্রতিদিনই গভর্নর কুমো উপস্থিত ছিলেন নাগরিকদের সামনে। কঠিন সময় পেরিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে গভর্নর কুমো বলেন, আমরা এক অসম্ভবকে সম্ভব করেছি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে নিউইয়র্ক খুলছে। গভর্নর তাঁর শেষ সংবাদ সম্মেলনেও বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখনো হচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। 

এলএ বাংলা টাইমস/এম/বিএইচ

বিস্তারিত খবর

নিউ ইয়র্কে নির্বাচনী লড়াইয়ে এক ঝাঁক বাংলাদেশি

 প্রকাশিত: ২০২০-০৬-১২ ১১:২৪:৪২

১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই ২০০১ সালে ১৬ নভেম্বর মেরি জোবাইদা বাংলাদেশের একটি গ্রাম থেকে কুইন্সে চলে আসনে। সেই সময় তিনি বোরকা পড়তেন, তবে তখন তার কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো প্রতিবেশীদের জন্য সামান্য ইসলামফোবিয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে।

জোবায়দা বলেছেন, এখানকার সম্প্রদায়গুলো আমার সঙ্গে যে আচরণ করেছিল এবং আমাকে যেভাবে গ্রহণ করেছিল, ৯/১১-এর পরে তারা আমাকে মুসলিম হিসেবে অপমান করেনি। তারা আমার প্রতি খুব প্রতিরক্ষামূলক ছিল।

এ মাসে ২৩ জুন গণতান্ত্রিক প্রাথমিকের সংসদ সদস্য ক্যাথি নোলানের বিপক্ষে মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি। অনুপস্থিত ভোটদান ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে; প্রথম ভোটগ্রহণ শনিবার শুরু হবে।

জোবায়দা বলেছেন, আমেরিকায় এসে তার প্রথম প্রথম যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাই মূলত দেশটিতে তার রাজনীতিকে গড়ে দিয়েছে। তাকে বিরোধিতা করার জন্য প্ররোচিত করেছে। সেই সঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গ মৃত্যুর প্রতিবাদে একজন সোচ্চার সমর্থক হতে প্ররোচিত করেছে। শুধু জোবায়দা একা নন, তার মতো নিউ ইয়র্কে অবস্থানরত কমপক্ষে আটজন বাংলাদেশী বর্তমানে স্থানীয়, রাজ্য এবং কংগ্রেশনাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে এমন অনেক মহিলা আছেন যারা নারীবাদী এবং মুসলমান হিসাবে চিহ্নিত।

শিয়ান আমেরিকান ফেডারেশনের আদমশুমারি বিশেষজ্ঞ হাওয়ার্ড শিহের মতে, ২০১৮ সাল পর্যন্ত নিউ ইয়র্কে ৮৪ হাজার ২৪৮ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। ন্যাশনাল এশিয়ান আমেরিকান সমীক্ষা বলছে, জাতীয়ভাবে ৯০ শতাংশ আমেরিকান বাংলাদেশি হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে ভোট দিয়েছে যা যে কোনও এশীয় উপগোষ্ঠীর চেয়ে বেশি। এই মানুষদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি তেমন সমর্থন ছিলনা বললেও চলে।

সদ্য গঠিত তৃণমূল দল বাংলাদেশী আমেরিকান ফর পলিটিকাল প্রগ্রেস (বিএপিপি) এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা থাহিতুন মরিয়াম বলেছেন, অনেক তরুণ বাংলাদেশী আমেরিকান রেপ আলেকজান্ডারিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এবং টিফনি ক্যাবনকে সমর্থন করেছিল এবং এটি তাকে কুইন্স জেলার অ্যাটর্নি বানাতে ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু বর্তমানে তারই একজন প্রাথমিক প্রতিপক্ষ হলেন নিউ ইয়র্কবাসী বাংলাদেশি বদরুন খান। সংগঠন এবং প্রার্থীদের মতে, এখানে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক উত্থানের জন্য দুইটি ঐতিহাসিক মঞ্চ তৈরি হয়েছে। প্রথমটি হল, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, যা এটা ব্যাখ্যা দেয় যে কোন সংকল্পিত জাতির কাছে অতীতের অতীত বিমূর্ততা নয়।

মেরিয়াম বলেছিলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ কেমন হবে তা আমাদের বেঁছে নিতে হবে।প্রবীণ অভিবাসীদেরা এটির অর্থ হিসেবে একটি মুক্ত বাংলাদেশ ছিল। কিন্তু আমাদের জন্য, এর অর্থ সাদা আধিপত্যের মধ্যে জড়িত সিস্টেমগুলি থেকে দূরে সরে যাওয়া।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার এক দশক পরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন জোবাইদা। তিনি বলেছেন, আমাদের সময়ে অশান্তি হয়েছে। কারণ তখন একটি সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যপুস্তকও পরিবর্তন হয়। তখন আমাদের মনে প্রশ্ন আসে, ইতিহাস আসলে কোনটা?

১১ সেপ্টেম্বরের হামলা নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশী বাসিন্দাদের উপর আরও সাম্প্রতিক ও তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছিল। কয়েক হাজার মুসলমান ফেডারেল এনএসইইআরএস রেজিস্ট্রিতে প্রবেশ করেছিল, যার ফলে হাজার হাজার নির্বাসন এবং গভীর ক্ষয়ক্ষতির বোধ হয়েছে।

তবে মরিয়ম বলেছেন, বাংলাদেশের সাধরণ ‘চাচা’ সম্পর্কের প্রবীণ পুরুষ সদস্যরা, স্বাধীনতার পক্ষে আক্রমণাত্মকভাবে লড়াই করেননি। এবং তারা ‘উগ্রবাদী’ লেবেলযুক্ত হওয়ার ভয়ে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অগ্রসর হননি।

মরিয়ম বলেছিলেন, আমরা মুসলিম ক্ষমাবিদ হয়ে উঠলাম। আমরা সেই মুসলমান নই যে, মুসলিম সম্প্রদায়গুলিকে আমাদের রক্ষা করতে হয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে অনেক তরুণ প্রজন্মের নেতাকর্মীরা জেগে উঠেছেন এবং যাদের মধ্যে অনেকেই সাম্প্রদায়িক চাচাদের প্রশ্ন করেছেন। বর্ণবাদিদের দলে যেতে খুব কম ঝুঁকেছেন।

জোবায়দা বলেছেন, প্রথম লড়াইটি ছিল চাচাদের বিরুদ্ধে। আর ট্রাম্পের যুগের লড়াইয়ে অনেক প্রবীণরা দেখছেন যে রাজনীতিবিদরা তাদের বিশ্বাসের মর্জাদা রাখেনি। যা একটি নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথ প্রশস্ত করেছে।

তবে নতুন তরঙ্গের সর্বাধিক আলোচিত সদস্য হলেন শাহানা হানিফ, একজন ব্রুকলিনাইট কাউন্সিলম্যান ব্র্যাড ল্যান্ডারের উত্তরসূরি হতে চলেছেন তিনি।

তিনি বলেন, আমি ১৭ বছর বয়সে লুপাসে আক্রান্ত হয়েছি। এবং তাত্ক্ষণিকভাবে আমার যত্ন এবং নিজের অনুভূতির জন্য আমার সম্প্রদায়ের দিকে চেয়ে থাকতে হয়েছিল।

হানিফ স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশি মহিলাদের সাথে যোগাযোগ করছেন। তিনি বলেছেন, আমি শ্রমজীবীদের​সংহতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং বর্ণবাদী সম্প্রদায়ের মধ্যে জোটবদ্ধতা গড়ে তোলার এবং স্বাধীনতার লড়াইয়ে যোগ দেওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে দেখিনি।

এছাড়াও অন্যান্য বাংলাদেশি প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন একজন উবার চালক ও শ্রম সংগঠক জয় চৌধুরী, যিনি সংসদ সদস্য মাইকেল ডেনডেকারকে অপ্রত্যাশিতভাবে হারানোর প্রত্যাশী; মাহফুজুল ইসলাম, যিনি সংসদ সদস্য ডেভিড ওয়েপ্রিনকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছেন; শনিয়ত চৌধুরী, কংগ্রেস সদস্য গ্রেগরি মিকসের বিরুদ্ধে লড়ছেন।


এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এনওয়াই

বিস্তারিত খবর

টেক্সাসের সান অ্যান্তিনিওতে পরিবারের ৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার

 প্রকাশিত: ২০২০-০৬-০৫ ০৭:১২:২৭


একই পরিবারের ছয় সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে টেক্সাসের সান অ্যান্তিনিও থেকে। মৃতদের মধ্যে চারজন শিশুর। তাদের বয়স ১১ মাস থেকে ৪ বছর। সান অ্যান্তিনিও হোম কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার জানায়, গ্যারাজের পিছন থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।


সান অ্যান্তিনিও পুলিশপ্রধান উইলিয়াম ম্যাকমেনাস বলেন, পুলিশ অফিসার সেখানে পৌঁছালে কার্বন মনোক্সাইডের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন। 

পুলিশ প্রথমে ভেবেছিল কোনো বিস্ফোরণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে পরবর্তীতে তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দুইটি বিড়ালেরও মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ঘটনাস্থল থেকে।

ম্যাকমেনাস বলেন, শিশু, বয়স্ক, পোষা প্রাণীর লাশ। এটা বর্ণনার ভাষা নেই। পুরো চিত্রটা এমনই।

পুলিশ ধারণা করছে এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়। তবে পরিবারের বাইরে কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে এখনো প্রমাণ পাওয়া যয়নি। বাবা-মায়ের বয়স ত্রিশের কোটায়। তবে তাদের পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। এ বছরের জানুয়ারিতে পরিবারটি এখানে আসে।

এর বেশি তথ্য জানায়নি পুলিশ।


/এলএল/ বাংলা টাইমস/এন/এইচ



বিস্তারিত খবর

বিক্ষোভ মিছিলে নিউ ইয়র্কের মেয়রের মেয়ে

 প্রকাশিত: ২০২০-০৬-০১ ১৪:৪১:২৮

পুলিশ হেফাজতে এক কৃষ্ণাঙ্গকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর মেয়ে। শনিবার রাতে চিয়ারা ডি ব্লাসিওকে অবৈধ সমাবেশে যোগ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত সোমবার মিনিপোলিস শহরে ফ্লয়েড নামে ৪৬ বছরের এক কৃষ্ণাঙ্গকে হত্যা করে ডেরেক চাওভিন নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ফ্লয়েডের গলায় হাঁটু গেড়ে বসে আছেন ডেরেক। এর প্রতিবাদে গত ছয় দিন ধরে প্রতিবাদে ফুঁসছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ৪০ টি শহরে কারফিউ জারি করা হলেও তা ভেঙে রাস্তায় নেমেছে বিক্ষোভকারীরা। একাধিক শহরে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। গত কয়েক দিনে অন্তত চার হাজার ১০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র ডি ব্লাসিওকে বিক্ষোভকারীদের পক্ষে বেশ সরব থাকতে দেখা গেছে।

এক টুইটে তিনি বলেছেন, ‘কাঠামোগত বর্ণবাদ ভিন্ন বর্ণের মানুষের জীবনকে শিকার করছে। আমরা যা দেখছি তা হচ্ছে, দশকের পর দশকের অবিচারের প্লাবন। আমি আমার নিজের সুবিধাকে দেখছি এবং কেবল অনেক বেশি বুঝছি। কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের জন্য প্রতিটি দিন বর্ণবাদে পরিব্যাপ্ত বলার মতো যথেষ্ঠ জানি আমি। আমরা আরও ভালো করব।’

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এনওয়াই

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কে করোনায় আক্রান্ত আরও ২ বাংলাদেশির মৃত্যু

 প্রকাশিত: ২০২০-০৫-১৪ ০৭:৫৬:১৫

বুধবার নিউইয়র্কে ৩৮ বছর বয়সী দুই যুবক করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ নিয়ে নিউইয়র্কে এ পর্যন্ত ২৩৫ জন মারা গেলেন এই মহামারীতে। আর ৫৮ দিন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের ৬টি রাজ্যে মারা গেছেন মোট ২৫৬ জন বাংলাদেশি।

লং আইলান্ডের বাসিন্দা গৌরাঙ্গ বিশ্বাস ৪০ দিন এই মরণঘাতী জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে হেরে যান।  লং আইল্যান্ড জ্যুইশ হাসপাতালে গৌরাঙ্গের সঙ্গে তার ছোট ভাই প্রদীপ বিশ্বাসও করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গৌরাঙ্গ কুইন্সের জেএফকে এয়ারপোর্ট সংলগ্ন হোটেল নাইনটি ফাইভে কাজ করতেন।

ওজন পার্কের বাসিন্দা সৈয়দ মোহাম্মদ রশিদ মুন্না কুইন্স হাসপাতালে তিন সপ্তাহ করোনার সঙ্গে লড়ে মারা যান।

দুই সন্তানের জনক মুন্না বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের ভাইয়ের ছেলে ও নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ চৌধুরীর বড় বোনের ছেলে। ম্যানহাটনের একটি রেস্টুরেন্টের কর্মী ছিলেন মুন্না।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এওয়াই

বিস্তারিত খবর

করোনায় এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা মুজিব চৌধুরীর মৃত্যু

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-২০ ০৯:৫০:১১

নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট)-এর সেকশন কমান্ডার মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। তার বয়স হয়েছিলো ৬৪ বছর। রোববার, ১৯ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টায় তিনি নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি। এক সপ্তাহ পূর্বে তিনি এই হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাকালীন সময়ে তিনি আইসিইউ-তে ভেন্টিলেশনে ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন কন্যা, চার ভাই, এক বোন এবং পরিবারের বিপুল সংখ্যক সদস্য, আতœীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব রেখে গেছেন। তার মেঝো কন্যা এবছরই ডাক্তারী পাশ করেছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশী আমেরিকানদের মধ্যে তিনিই প্রথম এবং এনওয়াইপিডি-তে সর্বোচ্চ সেকশন কমান্ডার পদে আসীন ছিলেন। তার মৃত্যু সংবাদে বাংলাদেশী কমিউনিটি এবং এনওয়াইপিডি’র সদস্যদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান চৌধুরী দীর্ঘদিন চাকুরীকালে নিষ্ঠা ও কর্তব্যপরায়নতার জন্য এনওয়াইপিডি থেকে সম্মানিত হয়েছেন। তার পরিবারের সবাই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। তিনি ১৯৮২ সালে অভিবাসী হন। আদি বাড়ী ব্রক্ষাণবাড়িয়া হলেও তাঁর জন্ম ও বেড়ে উঠা ঢাকার রাজাবাজারে। মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের পঞ্চম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন মুজিব চৌধুরী। পরিবার ও তার বন্ধুমহলে ‘নিনি’ নামে পরিচিত ছিলেন।

জানা গেছে, মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান চৌধুরী ১৯৯০ সালে নিউইয়র্ক পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে যোগ দেন। তিনি প্রথম দিকের একজন বাংলাদেশী-আমেরিকান ট্রাফিক এজেন্ট। তিনি-ই একমাত্র বাংলাদেশী যিনি এখন পর্যন্ত এনওয়াইপিডি’র এনফোর্সমেন্ট কমান্ডার-এর সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৯৯৬ সালে তিনি সিটির ট্রাফিক সুপারভাইজার হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। পরবর্তীতে নিজের কর্ম দক্ষতায় ২০০৯ সালে ট্রাফিক ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০১৬ সালে চাকুরী জীবনের ২০ বছরে সঠিক উপস্থিতির জন্য তিনি সম্মাণনা পদক লাভ করেন। ২০১৮ সালে তিনি সেকশন কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।

মরহুম মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান চৌধুরী ব্যক্তিগত জীবনে একজন ধর্মপরায়ন ও পরোপকারী ছিলেন। সন্তান, পরিবার ও আতœীয়-স্বজনদের প্রতি ছিলো তার সীমাহীন ভালোবাসা ও মমত্ববোধ। কুইন্স জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত তার ছোট ভাই ডা. সাইদুর রহমান চৌধুরী মৃত্যু পর্যন্ত সার্বক্ষনিক তার পাশে ছিলেন। মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে তার রুহের শান্তি কামনায় সবার দোয়া চেয়েছেন।  

শোক প্রকাশ: মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান চৌধুরীর ইন্তেকালে তার আতœীয়, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ও নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি ডা. ওয়াজেদ এ খান গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের তার সহপাঠি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীগণও শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

অপরদিকে বাংলাদেশ পুলিশ কমিউনিটির ‘আইকন’ হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ-আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন (বাপা)। দোহার উপজেলা সমিতি ইউএসএ ইনক’র সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক দেওয়ান ময়েজ সোহেলের ভায়রা ভাই মোহাম্মদ চৌধুরীর ইন্তেকালে দোহার উপজেলা সমিতির পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্বার মাগফেরাত কামনা সহ শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এনওয়াই

বিস্তারিত খবর

করোনায় মারা যাওয়া বাংলাদেশিদের গণকবর দেওয়া হচ্ছে না: বাংলাদেশ সোসাইটি

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-১৯ ১১:৩৫:১২

নিউইয়র্কে কোন বাংলাদেশির লাশ গণকবর দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার।

ঢাকার একটি জাতীয় পত্রিকায় ‘নিউইয়র্কে করোনায় নিহত বাংলাদেশিদের গণকবর দেওয়া হচ্ছে’ শীর্ষক সংবাদ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ সোসাইটির কবরস্থানে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত বাংলাদেশির ৬০টি মৃতদেহ সমাহিত করেছি, বাকি করোনা আক্রান্ত মৃত দেহগুলো নিউইর্য়কের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো তাঁদের কবরস্থানে এবং বিভিন্ন মসজিদের কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। তাছাড়া কিছু মৃতদেহ তাদের নিজস্ব ক্রয়কৃত কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ধারা চালু আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশা আল্লাহ্। যদি কোন মৃতদেহ ১৩ দিন পর্যন্ত হাসপাতালের মর্গে থাকার পর কেউ ক্লেম না করে তাহলে সিটি ঐ মৃত দেহ গণকবর দিয়ে থাকে।

কোন বাংলাদেশির মৃতদেহ এ অবস্থায় পড়েছে, এটা আমি বিশ্বস করি না। আব্দুর রহিম হাওলাদার বলেন, সকলের অবগতির জন্য বলছি, যদি কোন বাংলাদেশীর মৃতদেহ কোন হাসপাতালের থাকলে কেউ ক্লেম না করলে বাংলাদেশ সোসাইটির যে কোন কর্মকতার সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরাধ করছি।

আমরা ইনশাআল্লাহ্ সমস্ত দায়িত্ব নিয়ে সমাহিত করব। আমরা জানতে পারলে একটি মৃত দেহও গণকবর দিতে দেব না  ইনশাআল্লাহ। সত্যতা যাচাই না করে এ ধরনের খবর না ছাপানোর অনুরাধ করছি। -আব্দুর রহিম হাওলাদার। ফোন নাম্বার ৯১৭-৩০১-২০৬৩।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এনওয়াই

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পুলিশ অফিসারের সপরিবারে করোনা জয়ের গল্প!

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-১৮ ০৫:৩৮:৩৯

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আমেরিকায় মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে বাংলাদেশিদের নাম ।একেকজন করোনায় প্রাণ হারাচ্ছেন, শোক গ্রাস করছে পুরো পরিবারকে, পুরো কমিউনিটিকে।

এই আতংক আর শোকের মাঝে মিলল অবাক করা নতুন এক গল্প।জুয়েল মাহবুবুর বাংলাদেশ-আমেরিকান এনওয়াইপিডি পুলিশ অফিসার। কর্মরত অবস্থায় হলেন করোনা আক্রান্ত। অন্যদিকে পৃথিবীতে আসবে নতুন অতিথি। সেই সুখের মুহূর্তে ঘটল অঘটন। নিজের ভাইরাসে নিয়ে যখন আতঙ্কে তখন করোনায় আক্রান্ত হলেন তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী ও নতুন অতিথির মামা।
 
ধীরে ধীরে তিনি সুস্থ হতে লাগলেন কিন্তু তখনও জীবনের সবকিছু উলট-পালট। কারণ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত স্ত্রী নতুন অতিথিকে বাঁচাতে হাসপাতালে ভর্তি। দিন যায় রাত আসে কিন্তু আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় পুরো পরিবার। স্ত্রী একদিকে, মামা এক দিকে, আর আগামীর পৃথিবী আরেকদিকে। করোনার সঙ্গে যুদ্ধ অপরদিকে স্রষ্টার কাছে চলছে প্রার্থনা।শেষমেশ সেটাই জন্য সত্যি হলো!
 
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস নর্থ হাসপাতালে নতুন অতিথি পৃথিবীর আলোর মুখ দেখলো, মাও করোনামুক্ত হলেন সঙ্গে বাবা। নতুন অতিথির মামার অবস্থাও উন্নতির দিকে। রচিত হলো করোনা যুদ্ধের মাঝে নতুন এক ইতিহাস। মরণঘাতি করোনা জয়ের নতুন এক গল্প।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এনওয়াই

বিস্তারিত খবর

করোনা: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি চিকিৎসকসহ আরও ৮ জনের মৃত্যু

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-১৫ ০৩:৩১:০১

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনাভাইরাসে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র।ভেঙে পড়েছে দেশটির অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবা খাত।

করোনায় বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। মঙ্গলবার এই মরণব্যাধি ভাইরাসে প্রাণ গেল বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক নিউইয়র্ক ব্রুকলিন হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: মামুন আলির। এছাড়া মারা গেছেন শরীফ আহমদ, এনাম উদ্দিন, বীণা মজুমদার,এম রহমান মুক্তা, রানা বেগম, বুলবুল আহমদ ও নব্বই উর্ধ্ব এক বাংলাদেশি নারী।
 
যুক্তরাষ্ট্রে এ নিয়ে ১৩৫ জন বাংলাদেশির করোনায় মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে তিনজন চিকিৎসক রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের সবগুলোতেই করোনা হানা দিয়েছে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্ক। সেখানেই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

এদিকে, ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৮৬। অপরদিকে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ২৬ হাজার ৪৭ জনের।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এনওয়াই

বিস্তারিত খবর

করোনা: নিউইয়র্কে বাংলাদেশি চিকিৎসকের মৃত্যু

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৭ ০২:৩৬:৩২

নিউইয়র্কে চলছে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি।করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা।
 
প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চিকিৎসক মোঃ ইফতেখার নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস নর্থ হাসপাতালে মারা গেছেন। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে নিউইয়র্ক সাস্থ্য বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ইফতেখারের দেশের বাড়ি মানিকগঞ্জে।
এদিকে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নার্স। তিনি নিউইয়র্কের আইনস্টাইন ও মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে কর্মরত। হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত এক রোগীকে আইসিউতে ভেন্টিলেটর লাগানোর সময় ওই রোগীর মাধ্যমে তিনি সংক্রমিত হন। বর্তমানে তিনি চিকৎসাধীন আছেন। 
সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট ৮২ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। দেশটির নিউইয়র্কেই ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি মারা গেছেন।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এনওয়াই

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কে করোনায় বাংলাদেশি দুই ভাইয়ের মৃত্যু

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৫ ০৪:১২:০৫

নিউইয়র্কে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক প্রবাসী পরিবারের দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। ৪ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হয়ে এস্টোরিয়ার বাসিন্দা ইকবাল হক ভূঁইয়া প্রিন্সের নিউজার্সি রাজ্যের আটলান্টিক শহরের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয়। এর এক সপ্তাহ আগে প্রিন্সের বড় ভাই শিপন আহমদেরও নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়।

এই দুই ভাইয়ের বাড়ি ঢাকার গোপীবাগে। এ নিয়ে আমেরিকায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৬৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হলো। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন অনেক বাংলাদেশি। আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক শতাধিক।

এদিকে নিউইয়র্কে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তাহের আহামদ পাটোয়ারী নামের আরেকজন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। ৩ এপ্রিল স্থানীয় সময় পাঁচটায় নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মরহুমের শ্যালক ব্যবসায়ী আজম সোহাগ এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। মরহুম তাহেরের সহধর্মিণী করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্কের আরেকটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

করোনাভাইরাস নিউইয়র্ক রাজ্যকে লন্ডভন্ড করে দিচ্ছে। পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্য নিউজার্সির অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। মিশিগান রাজ্যের অবস্থাও ভালো নয়। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। দেশটির নিউইয়র্ক রাজ্যে হাসপাতালে রোগী ধারণ করার জায়গা নেই। তাই অস্থায়ীভাবে ম্যানহাটনের সেন্ট্রাল পার্কের পর কুইন্সের ইউএস ওপেন ভেন্যুতেও করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল খোলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সামনের দিনে আরও অনেক মানুষের মৃত্যু হবে। নিউইয়র্কের জন্য জরুরি ভিত্তিতে এক হাজার সামরিক চিকিৎসাকর্মী পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।

নিউইয়র্কের রাজ্য গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো ৪ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, গত একদিনে সেখানে করোনায় আক্রান্ত ৬৩০ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে শুধু নিউইয়র্কেই মৃতের সংখ্যা এখন ৩ হাজার ৫৬৫ জন।

শুধু মৃত্যু নয় আক্রান্তের দিক দিয়েও নিউইয়র্কের অবস্থান সবার ওপরে। কোভিড-১৯ রোগী হিসেবে শনাক্ত মানুষের সংখ্যা এখন ১ লাখ ১৩ হাজার ৭০৪ জন। এর মধ্যে শুধু নিউইয়র্ক নগরীতেই আক্রান্ত ৬৩ হাজার ৩০৬; মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৬২৪ জনের।

করোনাভাইরাস নিয়ে প্রতিদিন ব্রিফিং করছেন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো। কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্য চাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। গভর্নর ব্রিফিংয়ে বলেছেন, আগামী ৪ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে বিশ্বের যেকোনো স্থানের চেয়ে নিউইয়র্কে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ হতে পারে। যদিও নিউইয়র্ক শহরে কিছুটা উন্নতি হয়েছে তবে রাজ্যের লং আইল্যান্ড কাউন্টিতে দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

৩ এপ্রিল নিউইয়র্ক রাজ্যের হাসপাতাল থেকে ১ হাজার ৫৯২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়া পেয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার হার আগের দিনের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি। কুমো জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত নিউইয়র্কে করোনাভাইরাসের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মানুষের পুরো দুই-তৃতীয়াংশ বাড়িতে ফিরেছেন সুস্থ হয়ে। যদিও নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

বাংলাদেশি একজন চিকিৎসক পরামর্শ দিয়েছেন, করোনাভাইরাসে ভালো হয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরলেও যেন সবাই নিজেকে অন্তত এক সপ্তাহ বিচ্ছিন্ন রাখেন। হাসপাতালে স্থান সংকুলান সামাল দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ নিরাময় হওয়ার আগেই অনেককে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে নিউইয়র্কে হাসপাতালের বিভিন্ন সরঞ্জামের সংকটে পড়া নগরীতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে চীন। চীন থেকে জন কেনেডি এয়ারপোর্টে এক হাজার ভেন্টিলেটর এসে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন রাজ্য গভর্নর।

আমেরিকায় করোনায় মৃতের সংখ্যা বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ। শেষ খবর অনুযায়ী, দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৮ হাজার ৪৯৯ জন মারা গেছেন। সুস্থ হয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪ এপ্রিল বলেছেন, সামনের সপ্তাহে আরও খারাপ সময় আসছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি অনেক মানুষ মারা যাবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়েই দেশের এ বিষয়ে শীর্ষ চিকিৎসক ডেবোরাহ ব্রিকস বলেছেন, পরের দুই সপ্তাহ হবে ভয়াবহ। তিনি বলেন, এখন গ্রোসারি বাজার বা ফার্মেসিতে কেনাকাটায় যাওয়ার সময় নয়। জীবন রক্ষা করার জন্য নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখতেই হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের করোনাভাইরাস টাস্ক ফোর্সের সদস্য অ্যান্থনি ফাউসি বলেছেন, নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখা কাজ করছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন পরিস্থিতির উন্নতি হবে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, কোনো কোনো সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। দেশকে আবার তিনি সহসাই উন্মুক্ত করে দিতে চান।

নিউইয়র্কের বাংলাদেশি চিকিৎসক মোহাম্মদ আলম নগরীর তিনটি নার্সিং হোমে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নামের ওষুধ দিয়ে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় সফল হয়েছেন। তাঁর এ সাফল্য নিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট ৪ এপ্রিল একটি প্রতিবেদনে বলেছে ৮১ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ওষুধটি কাজ করছে।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কুইন্স, ব্রঙ্কস ও ব্রুকলিনের হাসপাতালে ঠাঁই নেই অবস্থা। একাধিক বাংলাদেশি চিকিৎসক বলেছেন অসুস্থতা নিয়ে ঘরে বসার অবকাশ নেই। অবস্থা খারাপ হলে ৯১১ কল করা, পরামর্শের জন্য যেকোনো বাংলাদেশি চিকিৎসকের সঙ্গে বাংলায় কথা বলার জন্য তাঁরা পরামর্শ দিয়েছেন। অ্যাম্বুলেন্স আসলে, ম্যানহাটনের হাসপাতালের মধ্যে কলম্বিয়া হাসপাতাল বা অন্য কোনো বড় হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেই চিকিৎসকেরা আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বলছেন। এ রোগে মৃত্যুর হার এখনো চার পাঁচ শতাংশের নিচে। আমেরিকায় এখন এর চিকিৎসার জন্য কোনো স্বাস্থ্যবিমার দরকার হচ্ছে না। বাংলাদেশিদের মধ্যে কেউ মানসিক দুশ্চিন্তায় থাকলে bengalimentalhealth.org বা অন্য এ রকম কোনো সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

নিউইয়র্ক নগরীর শিক্ষা বিভাগ থেকে তৈরি খাবার দেওয়া হচ্ছে। যে কেউ স্কুল থেকে এসব খাবার সংগ্রহ করতে পারবেন। ঘরে খাবার সংকট থাকলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা নানা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকেও খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।-প্রথম আলো

বিস্তারিত খবর

প্রতি আড়াই মিনিটে এক জনের মৃত্যু নিউ ইয়র্কে, এক দিনে মৃত ৫৬২

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৪ ০৬:৪১:০১

প্রতি মুহূর্তেই মৃত্যুর গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে নিউ ইয়র্কে। ইতিমধ্যেই সেখানে মৃত্যু হয়েছে ২৯৩৫ জনের। গত ২ থেকে ৩ এপ্রিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫৬২ জন করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে সেখানে। যা এক দিনে সর্বোচ্চ।  নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো জানিয়েছেন, ওই সময়ের মধ্যে প্রতি আড়াই মিনিটে মৃত্যু হয়েছে  এক জন করোনা-আক্রান্তের।

গোটা আমেরিকার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা নিউ ইয়র্কের। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত গোটা আমেরিকায় মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজারের বেশি মানুষের। তার মধ্যে ২৯৩৫ জনই নিউ ইয়র্কের। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। গোটা আমেরিকায় আক্রান্তের প্রায় অর্ধেক সংখ্যা উঠে এসেছে এই নিউ ইয়র্ক থেকেই। আমেরিকায় এই মুহূর্তে আক্রান্ত ২ লক্ষ ৭৮ হাজার। সেখানে নিউ ইয়র্কের আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ ২ হাজার ৮৬৩।

এক দিকে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে, মৃত্যুও ঠেকানো যাচ্ছে না, এমন পরিস্থিতিতে চিকিত্সা সরঞ্জামের আকাল নিউ ইয়র্কের পরিস্থিতিতে আরও সঙ্কটময় করে তুলেছে। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুয়োমো। তিনি বলেন, অত্যন্ত সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি আমরা। এই পরিস্থিতিকে দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। যে ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে শহরে, তাতে ভেন্টিলেশন সিস্টেমের জোগান দিয়েও কুলনো যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন কুয়োমো।


এলএবাংলাটাইমস/এম/এইচ/টি

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত