মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগের মুখে বিষয় ঘোরাতে চাইছে ক্যালিফোর্নিয়া
UCLA ও UC Irvine-এর ভর্তি নীতিতে ফেডারেল তদন্ত শুরু
ছবি: এলএবাংলাটাইমস
মার্কিন বিচার বিভাগ UCLA এবং UC Irvine-এর ভর্তি নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে, যাতে যাচাই করা হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তির (DEI) নীতিগুলো ব্যবহার করছে কি না।
বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেল পামেলা বন্ডি এই তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। ২০২৩ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, জাতিগত সচেতন স্বীকৃতি (অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশন) প্রোগ্রাম—যা ভর্তি প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর জাতিগত পরিচয়কে একটি ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচনা করে—সেটি অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।
বন্ডি এক বিবৃতিতে বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমি যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে অবৈধ বৈষম্য দূর করতে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তাদের কঠোর পরিশ্রম, বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিত্বের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা উচিত, গাত্রবর্ণের ভিত্তিতে নয়।"
বিচার বিভাগের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জাতিগত কোটাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে, যা সমতার পরিবর্তে বৈষম্য সৃষ্টি করছে। তারা দাবি করেছে, পূর্ববর্তী প্রশাসন DEI নীতিকে উৎসাহিত করেছে এবং আমেরিকান শিক্ষার্থীদের নাগরিক অধিকারের সুরক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
বিচার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত অ্যাসোসিয়েট অ্যাটর্নি জেনারেল চ্যাড মিজেল এক বিবৃতিতে বলেন, "বিচার বিভাগ এমন একটি লজ্জাজনক ব্যবস্থার অবসান ঘটাবে, যেখানে কারও জাতিগত পরিচয় তার যোগ্যতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।" তিনি আরও বলেন, "যে কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় যদি অবৈধ বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করে, তাহলে সেটি তদন্ত করে নির্মূল করা হবে।"
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, UCLA ও UC Irvine-এর বিরুদ্ধে তদন্ত কেবল শুরু মাত্র। পুরো দেশ জুড়ে অবৈধ DEI নীতি নির্মূল করতে তারা আরও পদক্ষেপ নেবে।
এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দপ্তর (UC Office of the President) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৯৯৬ সালে Proposition 209 পাস হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তিতে জাতিগত পরিচয় বিবেচনা করে না। তবে, আমরা যোগ্য সব শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ প্রসারিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। UC-এর আবেদনপত্রে শিক্ষার্থীদের জাতিগত পরিচয় সংগ্রহ করা হয় শুধুমাত্র পরিসংখ্যানগত উদ্দেশ্যে। এটি আবেদন পর্যালোচনাকারীদের সঙ্গে ভাগ করা হয় না এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয় না।"
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন